শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন

ভাগ্য খুলেছে জমজ শিশু সাফিয়া-মারিয়ার

ভাগ্য খুলেছে জমজ শিশু সাফিয়া-মারিয়ার

শেখ রিজাউল ইসলাম বাবলু, জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
ভাগ্য খুলছে সেই বহুল আলোচিত জমজ শিশু সাফিয়া ও মারিয়ার। বাবার আর্থিক অনটনে পড়ে দুধের বদলে ময়দা গোলা পানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। ভর্তি করা হয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। এরপরই মানবিক এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। তবে এখন আর দুধের অভাব নেই তাদের। রয়েছে বাসস্থানের সমস্যা। তবে সেটিও দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মানবদরদী নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী এই প্রতিবেদিককে জানান, শিশু সাফিয়া ও মারিয়ার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি তাদের নিজস্ব জমি আছে তবে ঘর নেই। তারা খুব অসহায় পরিবার। ঘটনাটি জানার পরই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রকল্প কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। তাছাড়া মঙ্গলবার তাদেরকে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা করা হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যে দুই কক্ষের ঘর বরাদ্দ আসবে প্রথম ধাপেই দুই শিশু মনির জন্য দুই কক্ষের একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। শিশু সাফিয়া ও মারিয়ার বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে। বাবা আনিসুর রহমান ভ্যানচালক। মা স্বপ্না বেগম গৃহিণী। গত ৩১ জুলাই ‘৫ মাস ধরে ময়দা গোলা পানি খায় যমজ শিশু’ শিরোনামে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানসহ বহু হৃদয়বান মানুষ এই পরিবারের পাশে দাঁড়ান। আর্থিকভাবে সহায়তা করেন। শিশু দুটির মা স্বপ্না বেগম জানান, ইউএনও স্যার আমাদের ডেকে নিয়ে আমাদের পরিবার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। সবকিছু শোনার পর তিনি ১০ হাজার টাকা সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া ওদের বাবার পৈত্তিকসূত্রে পাওয়া দুই শতক জমির উপর ঘর তৈরি করে দেবেন বলেছেন স্যার। আমরা খুব খুশী হয়েছি। স্যারের জন্য দোয়া করি পরিবার নিয়ে ভালো থাকুক সব সময়। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শিশু দুটিকে চিকিৎসা দেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. অসীম কুমার সরকার। তিনি বলেন, ময়দা গোলা পানি খেয়েই মূলত অপুষ্টিজনিত কারণে ভুগছিল। তবে এখন শিশু দুটি সুস্থ হয়েছে। এখন তারা বাচ্চাদের জন্য যে স্বাভাবিক খাবার সেগুলো খেতে পারবে। অন্যদিকে, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সহকর্মীদের সহযোগিতায় উদ্যোগ নিয়েছেন পরিবারটিকে স্বাবলম্বী করার জন্য। দৈনন্দিন রোজগারের জন্য শিশু দুটির বাবাকে একটি ইজিবাইক কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন তিনি সম্মিলিতভাবে। সেটিও দ্রুত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন ওই শিক্ষক। তাছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষক জানান, এছাড়া প্রতি মাসে ওই বাচ্চাদুটিকে খাওয়ার জন্য কিছু টাকাও আমরা দেব।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2018 khoborbangladesh.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com