রবিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:১০ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
পুলিশের আইনগত ক্ষমতা থাকতে পেশী শক্তি কেন, প্রশ্ন আইজিপির শাহ্আলী থানার এস.আই মাসুদ রানার রমরমা ফুটপাত বানিজ্য ঢাকা-১৬ আসনের এমপি আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্ ৫৬তম জন্মদিন পালিত মিরপুরের নামধারী সাংবাদিক চাঁদাবাজ বাবুলের বিরুদ্ধে মিরপুর প্রেসক্লাবের মানববন্ধন পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)-এর নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহম্মদ- মউদুদউর রশীদ সফদার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে পিডিবিএফ এর নব যোগদানকৃত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুষ্পস্তবক অর্পণ পল্লবীতে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা পেলেন স্বীকৃতি সম্মাননা স্মারক দুলাল মিয়ার এ অবদান কেউ দেখে না! অবশেষে সারা আনসারিকে উদ্ধার করলো খবর বাংলাদেশ টিম
হযরত শাহ কবির (রহঃ) ৪০০ বছরেও অমলিন

হযরত শাহ কবির (রহঃ) ৪০০ বছরেও অমলিন

ঐতিহ্যবাহী শাহ কবির (রহঃ) মাজার নিয়ে বিশেষ আয়োজন
বিশেষ প্রতিবেদন
হযরত শাহ কবির (রহঃ) (কাবির খান্দেশ) ভারতবর্ষের উত্রেখান প্রদেশ হইতে ১৬০১ সালে এখানে আগমন করেন এবং এই উত্তরখানে এসে বসতি ও ধর্ম প্রচার শুরু করেন। যেহেতু উনি উত্রেরখান হইতে এখানে এসেছেন সেই কারনে অত্র এলাকার নামকরণ করা হয় উত্তরখান। এই ধর্মভীরু আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহ্ কবির (রহ:) (কাবির খান্দেশ) ওনার মৃত্যুর পর এই স্থানে ভক্তরা তার মাজার শরিফ তৈরি করেন। ২০১টি তফসিলভুক্ত দরগাহ্ বা মাজারসমূহের মধ্যে হযরত শাহ্ কবির (রহঃ) (কাবির খান্দেশ) মাজারের অবস্থান ১৮নং, এবং ওয়াকফ্ প্রশাসকের তালিকা ভুক্তি নম্বর: ৬৫৯। হযরত শাহ কবির (রহ:) (কাবির খান্দেশ) এর মৃত্যুকালে দুই পুত্র সন্তান ছিল- একজন হযরত পাহাড়শাহ/পাগলাশাহ যিনি বাবার মতই আধ্যাত্মিক সাধক ছিলেন। তিনি কোন সংসার জীবনযাপন করেন নাই। অন্য ছেলের নাম হযরত কায়সার খান/বাহারশাহ, তিনি সংসার জীবন যাপন করেন। পরবর্তীকালে (কাবির খান্দেশ) পরলোকগমন করার পর ভাওয়াল জমিদারগণ কায়সার গংদের এই জায়গা থেকে অন্যায়ভাবে উৎখাত করতে চাইলেন। কায়সার গং জনাব আনোয়ার রশিদকে অবহিত করলেন যে, বাদশাহ আকবর এই মৌজা পূর্বেই হযরত শাহ্ কবির (রহ:) (কাবির খান্দেশ) কে লাখেরাজ হিসাবে দান করেছিলেন। এই বিষয়টি মুক্তাগাছায় নিযুক্ত আমিন যাচাই বাছাই করে এই সিদ্ধান্ত দিলেন যে, এই জমি পূর্ব থেকেই ঐ প্রতিনিধির (কায়সারের) দখলে ছিল, যা লাখেরাজ হিসাবে চিহ্নিত। এই ব্যাপারে ১০৬৬ (হিজরি) ১৬৫৬ খ্রি: তাকে সরকারিভাবে চিঠি দেয়া হয়, চিঠির ফায়সালার নির্দেশ মতে শাসকেরা,কর্মচারীরা ও জমিদাররা এই পরগণার ও মৌজার ব্যাপারে এই নির্দেশ মান্য করবেন। পরবর্তীতে বাদশাহ আকবরে মৃত্যুর পর সম্রাট শাহজাহান এর দ্বিতীয় পুত্র শাহজাদা মোঃ শাহ সুজা অত্র এলাকার শাসক ছিলেন। যখন খাজনা নির্ধারনের জন্য বলা হয় তখন আল মামালিকের মন্ত্রী এতেমাদুদৌল্লা কামারুদ্দিন খান বাহাদুর এই খাজনা সংক্রান্ত দেওয়ানী মামলায় নিযুক্ত হন। সরফরাজ খান বাহাদুর, ১১৩১ হিজরী, (১৭১৯ খ্রি:) সুজারুদ্দৌলা এই অঞ্চলের সুবেদার ছিলেন এর সময়কালে (বাদশা মাগফুর শাহ রেদোয়ান) দৈনিক ২০ রুপি খাজনা দিতে বলেন, কিন্তু দেওয়ানী মামলার বিচারকগন এই জমি খাজনাকে দৈনিক ২০ রুপি পরবর্তীতে দৈনিক ৩০ রুপি হারে খাজনা নির্ধারণ করেন এবং সেই মতে একটি চিঠি কাবির খান্দেশের পুত্র কায়সার গংদের প্রেরণ করেন।
হযরত শাহ্ কবির (রহঃ) (কাবির খান্দেশ) পরলোক গমনের পর ১৯১৬ থেকে ২০০৪ ইং তারিখ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে তাঁর বংশধরগন উক্ত মাজার এস্টেট্টি পরিচালনা করেন। সি,এস (ঈঝ) জরিপের সময় বংশধরদেরই একজন সুফিয়া বানু’র নাম সেবায়েত (মোতাওয়াল্লী) হিসাবে রেকর্ডভুক্ত হয়। তবে যেহেতু সুফিয়া বানু ধর্মপ্রাণ একজন মহিলা মাজার রক্ষণাবেক্ষন করা কষ্টসাধ্য বিধায় তিনি তারই চাচা আব্দুল লতিফ খানকে মাজার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য সম্মতি দেন। তবে ২০০৪ সালে বংশীয় লোকজন থেকে মাজার পরিচালনার বিষয়টি বহিরাগতরা ছিনিয়ে নেয়।

শাহ কবিরের সম্পদ যেভাবে
ওয়াকফ এস্টেটের হয়
পরবর্তীতে ১৯৩৪ সালের বঙ্গীয় ওয়াকফ্ আইনে ১৯৩৪/৪৪ ধারা সৃষ্টি হইলে হযরত শাহ্ কবির (রহঃ) (কাবির খান্দেশ) এর পরবর্তী বংশধর আবদুল রকিব খান বিগত ৪/৬/১৯৩৫ইং সালে কলিকাতা ওয়াকফ্ কার্যালয়ে এই সম্পত্তি ওয়াকফ্ এর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি দরখাস্ত করেন যাহার পরিপ্রেক্ষিতে এই এস্টেটটি ওয়াকফ হয় যার ইসি নং-৬৫৯ এবং তখনকার আমলে এই এস্টেট এর মোতায়াল্লী ছিলেন আব্দুল রকিব খান, পিতা : আব্দুল লতিফ খান, উক্ত দরখাস্তটিতে স্পষ্ট লিপিবদ্ধ আছে যে আমার অবর্তমানে যিনি এই বংশে উপযুক্ত থাকিবেন এবং যাহার এই সম্পত্তি পরিচালনার ক্ষমতা ও পারদর্শিতা থাকিবে তিনি মোতাওয়াল্লী থাকিবেন। পরবর্তীতে এস.এ (ঝঅ) রেকর্ড এর সময় মোতাওয়াল্লী হিসাবে আবদুল রকিব খান এর নাম রেকর্ড ভূক্ত হয়। আর,এস (জঝ) রেকর্ড এর সময় মোতাওয়াল্লী হিসাবে আবদুল রকিব খান এর নাম রেকর্ড ভূক্ত হয়। আব্দুল রকিব খান এর পর উক্ত এই এস্টেট এর মোতাওয়াল্লী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহার ভ্রাতা পুত্র আব্দুল রাজ্জাক খান। এখানে দেখা যায় যে, সরকারী জরিপ অনুযায়ী সি,এস (ঈঝ) রেকর্ড হইতে (১৯১৬ সালে হইতে ২০০৪ সাল) অনুমানিক ৯০ বছর এই দীর্ঘ সময়ে হয়রত শাহ কবির শাহ্ (কবির খান্দেশ) ওনার বংশীয় লোকেরা পর্যায়ক্রমে উক্ত ওয়াকফ্ এস্টেট এর মোতাওয়াল্লী (সেবায়েত) এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

                মাজার লুটেরা চক্রের ধর্মীয় উন্মাদনা!
শিবির-জঙ্গি সমন্বয়ে বড় ধরনের নাশকতার শঙ্কা
বিশেষ প্রতিবেদন
রাজধানীর উত্তরখান এলাকার ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহ কবির (রহঃ) মাজারকে ঘিরে তুলকালাম কান্ড ঘটে চলেছে। সেখানে সংঘবদ্ধ মাজার ব্যবসায়ি চক্র নিজেদের দুর্নীতি-লুটপাট ধামাচাপা দিতে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়েছে। চক্রটি জামায়াত শিবিরের ক্যাডারসহ চিহ্নিত জঙ্গিদের সহায়তায় বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোরও ফন্দি আঁটছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শাহ কবির (রহঃ) মাজারসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। এলাকার বাসিন্দারা উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাজারটি বিপুল পরিমাণ জায়গা জমির ব্যবহার এবং ভক্তদের দান-অনুদানে ফি বছর লাখ লাখ টাকা ছড়াছড়ির ঘাটিতে পরিনত হয়েছে। বিগত ২০০৪ সাল থেকে উত্তরখান ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ও মাজার মসজিদের ইমাম বশির মিয়াসহ তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিরা টানা ১৫ বছর একচ্ছত্রভাবে মাজার পরিচালনা করেছে। এসময়ে তারা নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীসহ শাহ কবির (রহঃ) ভক্তদের কাছে কামাল চেয়ারম্যান-ইমাম বশির গ্রুপটি মাজার ব্যবসায়ি চক্র হিসেবেই সমধিক পরিচিত। ২০১৮ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাজার ব্যবসায়ি চক্রকে হটিয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে দেয়ার পর থেকেই সেখানে নানারকম ঝক্কি ঝামেলার সূত্রপাত ঘটতে থাকে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। নয়া ব্যবস্থাপনা কমিটির একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মাত্র দুই বছর মাজার পরিচালনাকালেই তারা সকল ব্যয় মিটিয়েও ৩৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যাংকে জমা রেখেছেন। অথচ বিগত ১৫ বছরের আয় ব্যয়ের কোন হিসাব নিকাশই তারা পাচ্ছেন না।
‘এ নিয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা দীর্ঘদিন মাজার পরিচালনাকারী কামাল চেয়ারম্যান-ইমাম বশির গ্রুপের কাছে ১৫ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা দানা বাধতে থাকে। এর জের ধরেই মূলত মসজিদের ভেতরে থাকা বিবি সাহেবার কবর ভাঙ্গাসহ ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির সূত্রপাত ঘটানো হয়।’ কথাগুলো বলছিলেন গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাজার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকা দায়িত্বশীল একজন সদস্য। মাজার মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করা গোলাম আলী, একাব্বর মিয়া, জয়নাল আবেদীন, মিরাজ আহমেদসহ কয়েকজন মুসুল্লি জানান, বিবি সাহেবার (শাহ কবির (রহঃ) এর সহধর্মিনী) কবর থেকে বেশ দূরেই ছিল মসজিদের অবস্থান। কিন্তু কামাল চেয়ারম্যান-ইমাম বশিরের পরিচালনা কমিটি কবরটি মাঝে রেখেই মসজিদ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন। অথচ ঘটনার দিন নামাজ শেষে হঠাৎই ইমাম বশির মসজিদের ভেতরে কবর থাকা নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে মুসুল্লিদের মধ্যে ধর্মীয় উন্মাদনার সৃষ্টি করেন। পরক্ষণেই ইমামের নেতৃত্বে কতিপয় মাদ্রাসা ছাত্রসহ অজ্ঞাতনামা যুবকেরা কবরটির উপর হামলে পড়ে এবং বেপরোয়া ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোগল আমল হইতে এই শাহ কবির(রঃ) মাজারের জায়গা জমি খাজনা খারিজ মওকুফ ছিল। ২০১৮ সালের পূর্বে এই মাজারের লুটপাটের কারনে তেমন কোন কাজ হয়নি বললেই চলে। গত ১৪ ই নভেম্বর যোহর নামাজ শেষে উত্তরখান হযরত শাহ কবির (রহ:) কেন্দ্রীয় মসজিদের ভিতরে উচ্চস্বরে স্লোাগান দিয়ে মসজিদের ভিতরে অবস্থিত ৩ শ’ ৭০ বছরের পুরনো বিবি সাহেবার মাজারে হামলা চালানো হয়। মসজিদের খতিব, মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যাল জামাত নেতা লেহাজ উদ্দিন এবং ইমাম ও মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপ্যাল বশির উদ্দিন, গফুর মুন্সি, ফরিদ মাস্টার, জামান, নাজিমউদ্দিন, আবুল কালাম, নজরুল, সাইফুলসহ ১০/১২ জনের নেতৃত্বে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা হয়।
লেহাজ উদ্দিন ও গফুরমুন্সির পরিচালিত জামাত-শিবিরের আস্তানা থেকে আনা শতাধিক মাদ্রাসার ছাত্র মিলে বিবি সাহেবার কবরে লাথি মেরে হাতুরি ও লোহার রডের সাহায্যে মাজারটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। যারা এ কবর গুড়িয়ে দেয়ার অপকর্মে যোগান দিয়েছে তারা বহুদিন ধরে মাজারের আশেপাশে গড়ে উঠা দোকানপাট থেকে বেশুমার চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। মাজারের জায়গা জমি জবর দখল, ভাড়া প্রদান, পুকুরের মাছ বিক্রিসহ মাজারের নির্মান-সংস্কারের নামে তহবিলের টাকা পয়সাও লুটে নিতো তারা।
সম্প্রতি স্থানীয় মুরুব্বীদের দাবির প্রেক্ষিতে হযরত শাহ্ কবিরের (রহঃ) বংশধর এনামুল হক শহিদ সিআইপি ব্যক্তিগত অর্থায়নের মাধ্যমে মাজারের সার্বিক উন্নয়নের কাজ শুরু করতেই চিহ্নিত লুটেরাচক্র মাজার ভাঙ্গাসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাবেক চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিনসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা মাজারকে পুঁজি করে বহুমুখী স্বার্থসিদ্ধি করে আসলেও ইদানিং সেসব অপকর্ম আর চালাতে পারছে না তারা। ফলে মাজারের উপরই তাদের সীমাহীন আক্রোশ মেটাতে উঠেপড়ে লেগেছে বলে মন্তব্য করছেন কেউ কেউ। ওয়াকফ্ এস্টেটটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, ’এটি (শাহ্ কবির (রহঃ) ওয়াকফ্ এস্টেট) একটি লাখারেজ সম্পত্তি, কোন ব্যক্তির না। আর ওদের (শহিদ) ফ্যামিলির তো নয়ই। ওর বাবার নামে কাগজ দেখাইতে কন। জমির রেকর্ডপত্র তোমার বাপ-দাদার নামে কিনা, দেখাইতে কন। একটা কাগজে লেইখা আনলেইতো হবেনা, আমার নাম ওমুক, আমার বাবার নাম ওমুক, দাদার নাম ওমুকৃ..’
মাজার মসজিদের ভেতরে কবর ভাঙ্গায় জড়িতদের আচার আচরণ ও পোশাক পরিচ্ছদে জঙ্গী তৎপরতার সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ফলে ঘটনার সময় অনেকে এগিয়ে গেলেও হামলাকারীদের আগ্রাসী আচরণ দেখে কেউ তাদের বাধা দিতেও সাহস করেনি। বিবি সাহেবার মাজারটি ভেঙ্গে ফেলায় আশেকে রাসুল, আশেকান পাগল-ফকির ও এলাকার ভক্তদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে। তারা জানান, ওলি আউলিয়াদের মাজারে যারা হামলা করে, আঘাত করে, লাথি মারে তারা কখনও মুসলমানদের প্রকৃত ইতিহাস ধারণ করে না। ক্ষুব্ধ ভক্তরা বলেছেন, ৩৭০ বছরের পুরনো বিবি সাহেবার মাজারটি যাদের মদদে ভাঙ্গা হয়েছে আমরা তাদের বিচার চাই। মাজারের আশেকান ভক্তরা আরোও বলেন, যারা বিবি সাহেবার মাজারটিকে ভিতরে রেখে ১৪ বছর আগে নতুনভাবে মসজিদ সম্প্রসারণের কাজ করেছেন-তারা কেন কবরটি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেননি? কিংবা মাজারটিকে বাইরে রেখেই মসজিদটি নির্মান কেন করেননি? সে সময় বর্তমান ইমাম ও খতিবই তো মাজার-মসজিদ পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন। এত বছর পর কেন তারাই বিবি সাহেবার মাজারটি ভাঙ্গলেন আমরা এর বিচার চাই। লালন ফকির ও শমশের ভান্ডারী বলেন, যারা ওলি আউলিয়াদের সম্মান করতে জানে না, যারা আল্লাহর ওলিদের মাজারে আঘাত করে তাদের বিচার অবশ্যই হবে, হতেই হবে।
এ বিষয়ে ৪৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান বিষয়টি আমি জানামাত্র মসজিদের ইমামসহ তাদের প্রতিনিধির সাথে কথা বলেছি। তবে বিবি সাহেবার মাজারটি ভেঙ্গে ফেলার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। মাজারটি পুন:নির্মানের ব্যাপারে তারা তিন দিনের সময় নিয়েছেন। আমি আশা করি, এলাকাবাসীর বৃহৎস্বার্থে শিগগিরই মাজারটি পুন:নির্মান করা হবে। মাজার ভাঙ্গার ঘটনায় উত্তরখান থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত জানান, কবর ভাংচুরের ঘটনা জানামাত্র জননিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের পুলিশি পদক্ষেপ নেয়া হয়। সেখানে নিয়মিত পুলিশের টহলও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সার্বক্ষণিক ভাবে সাদা পোশাকের পুলিশও নিরাপত্তার বিষয়াদি দেখভাল করছে। সুতরাং মাজার এলাকায় কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

শাহ কবিরের বংশধর সিআইপি সহিদের ক্ষোভ, প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার
বিগত ১৪ নভেম্বর একদল উগ্রবাদী ধর্মান্ধদের দ্বারা হযরত শাহ কবির (রহঃ) এর সহধর্মিনী বিবি সাহেবার কবর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী এনামুল হাসান খান শহিদ সিআইপি। প্রমি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে সমধিক পরিচিত সিআইপি সহিদ মূলত: হযরত শাহ কবিরের বংশধর। তিনি বলেন, বিবি সাহেবার কবর গুড়িয়ে দিয়ে চক্রটি আমাদের হৃদয় গুড়িয়ে দিয়েছে, লাখো ভক্তকে কাদিয়ে ছেড়েছে। তিনি মাজার কেন্দ্রীক সব ধরনের হুমকি-বিশৃঙ্খলা নিরসনের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সকল মহলের সার্বিক সহায়তা কামনা করেন।
মাজার ভাঙ্গা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে গত ১৬ নভেম্বর মাজার প্রাঙ্গনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহবান জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনামুল হাসান খান শহিদ জানান, ২০০৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তৎকালীন কামাল চেয়ারম্যান মসজিদের ইমাম বশির ও বশিরের ছোট ভাই নাজিরকে সাথে নিয়ে একচ্ছত্র কর্তৃত্বে শাহ্ কবির (রহঃ) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে মাজার শরীফকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা মসজিদ, মাদ্রাসা ও দোকানপাট থেকে উত্তোলনকৃত মোটা অংকের অর্থ অবৈধভাবে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ২০১৮ সালে এস্টেটের নতুন কমিটি হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সকল ব্যয় নির্বাহ করে ব্যাংক একাউন্টে ৩৫ (পঁয়ত্রিশ) লাখ টাকা জমা আছে। যদি দুই বছরে এস্টেট একাউন্টে পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা জমা হয়, তাহলে বিগত পনের বছরের হিসাব কোথায়? বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি। এই দীর্ঘসময় ধরে শাহ্ কবির (রহঃ) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনায় কোন হিসাব-নিকাশের বালাই ছিল না বলেও অভিযোগ করেন এনামুল হাসান খান শহিদ।
স্থানীয় মুরুব্বিয়ান ও মাজার আশেকানদের অনুরোধে ২০১৮ সাল থেকে নিজের ব্যক্তিগত তহবিলের টাকায় মাজারের উন্নয়ন সংস্কার কাজ শুরু করতেই সংঘবদ্ধ চক্রটি নানাভাবে তা বাধাগ্রস্ত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
কামালের ভাড়াটে দুর্বৃত্তরা এই হামলার সাথে জড়িত বলে দাবী করেন এনামুল হাসান খান শহিদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, ওই কবরটি মূলত শাহ্ কবির (রহঃ) এর সহধর্মিনীর কবর। মসজিদ নির্মাণ প্রারম্ভকালীন সময়ে কবরটিকে আলাদা রেখে মসজিদ নির্মাণ করলেও বর্তমানে কবরটিকে সরানোর বিষয়ে আলোচনা চলছিল। তবে, কবরের পবিত্রতা রক্ষায় এটিকে ঘিরে দেয়াল নির্মাণ করায় পরদিনই একদল বহিরাগত দুর্বৃত্ত লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্রহাতে কবরের স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় এক সাংবাদিককেও মারধর করা হয় বলে জানা যায়।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে এনামুল হাসান খান শহিদ বলেন, ‘শাহ্ কবির (রহঃ) ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা তৎকালীন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ও মসজিদের ইমাম বশিরের কাছে বিগত বছরগুলোর হিসাব চাওয়ায় তারা বিভিন্ন স্থানে আমার নামে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।’

ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত ১৯৯৪ থেকেই
স্টাফ রিপোর্টার: ১৯৯৪ সালে কিছু সংখ্যক কুচক্রী স্বার্থলোভী মহল এই এস্টেট সম্পত্তি ব্যবহার ও গ্রাস করার হীন মনমানসিকতা ও লোভ লালসার শিকার হয়ে একটি ষড়যন্ত্র তৈরি করেন এবং তখনকার মোতাওয়াল্লী ছিলেন মোঃ রাজ্জাক খান, তিনি দেশে ছিলেন না। তার আনুপস্থিতিতে তার ছোট ভাই আবদুল অদুদ খান কামালকে এই এস্টেট পরিচালনার জন্য দায়িত্বভার দিয়ে যান। সেই সময় থেকেই ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত শুরু হয়। মজির উদ্দিন এর অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়াকফ্ প্রশাসন বিগত ২২/০৩/১৯৯৪ইং তারিখে আদেশ শুনানী অন্তে মোতাওয়াল্লী আব্দুল রাজ্জাক খান এর সকল কার্যক্রম স্থগিত করতঃ জেলা প্রশাসক ঢাকাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলেন। পরবর্তীতে ০৫/০২/১৯৯৫ইং তারিখে মোতাওয়াল্লী অপসারনের মামলাটি চুড়ান্ত নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ঢাকা কে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমোদন প্রদান করেন। বিগত ১৬/০৩/১৯৯৭ তারিখের এক আদেশে মোঃ রাজ্জাক খানকে মোতাওয়াল্লী বহাল রেখে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ঢাকাকে সভাপতি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে সহ-সভাপতি ও ইউপি মেম্বার সহ ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে ওয়াকফ্ এস্টেটটি পরিচালনার জন্য অনুমতি দেয়। পরবর্তীতে কুচক্রী মহলের অদৃশ্য ক্ষমতার বলে মোঃ রাজ্জাক খানকে ০৪/০১/২০০৪ ইং তারিখে মোতাওয়াল্লী পদ থেকে সুকৌশলে অপসারন করেন। তখন অত্র এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর উত্তরখান থানার সভাপতি পদে বহাল ছিলেন মোঃ কামাল উদ্দিন।

ওয়াকফ্ এস্টেট এর নতুন কমিটির কার্যক্রম চলছে যেভাবে


সর্বশেষ ওয়াকফ্ প্রশাসন ৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ২৯/১১/২০১৮ ইং হতে পরবর্তী ৩ (তিন) বছরের মেয়াদে অনুমোদন দেয়া হয়। যাহার ১। সভাপতি ও অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ২। সদস্য সচিব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ক্যান্টনমেন্ট, ৩। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তরখান থানা ৪। মোঃ কামাল উদ্দিন, ৫। হাজী আব্দুল ওয়াসেক ৬। প্রধান শিক্ষক, উত্তরখান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, ৭। মাওলানা মোহাম্মদ বিল্লাল হাসান, চাঁনপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, নতুন কমিটি গঠন করেন এমনকি বিতর্কিত মোঃ কামাল উদ্দিন কোন এ অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতার বলে নতুন কমিটিতে ও নিজে সদস্য পদটি বহাল রাখেন। ২৯/১১/২০১৮ ইং তারিখে নতুন কমিটির সভাপতি মহোদয় (অফিসিয়াল মোতায়াল্লী) উক্ত ওয়াকফ্ এস্টেট -এর নামে ব্যাংক হিসাব খোলেন। দেখা যায় যে, বিগত ০২ (দুই) বছরে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন বোনাস, মাদ্রাসার ছাত্রদের খাওয়া খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ভার এর খরচ যার আনুমানিক (৪০ লক্ষ থেকে ৪৫ লক্ষ ) টাকা খরচ করার পরও আনুমানিক (৩৫ লক্ষ থেকে ৪০ লক্ষ) টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা আছে। কিন্তু এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে ০৪/১/২০০৪ ইং তারিখ হইতে ২৮/১১/২০১৮ ইং পর্যন্ত ১৪ বছরের অর্থের হিসাব কোথায় ? যা এখনও পর্যন্ত মোঃ কামাল উদ্দিন হিসাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।
মাজারকে পুঁজি বানিয়ে যারা হলেন ধনপতি? জানতে চোখ রাখুন খবর বাংলাদেশ’এ

 

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2018 khoborbangladesh.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com