শুক্রবার, ১৮ Jun ২০২১, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

শ্রীপুরে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে পৌরসভার তিনজন ‘কর’ কর্মকর্তা 

শ্রীপুরে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে পৌরসভার তিনজন ‘কর’ কর্মকর্তা 

মো. মোজাহিদ,  স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ১কোটি ৬০ লাখ ২৫ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে তিনজন কর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
টাকা আত্মসাতের সাথে  জড়িত তিনজন হলেন, কর আদায়কারী মো. শফিউল আলম, সহকারী কর আদায়কারী ফাহিমা সানজিদা, কর সহায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস।
জানা যায়, এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শ্রীপুর পৌরসভার কর আদায়কারী শফিউল আলম রায়হানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে বরখাস্ত করে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পৃথক অভিযোগ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার গড়জরিপ গ্রামের আজগর আলীর ছেলে ছাগল ব্যবসায়ী শামসুল হককে অপহরণ করা হয়। অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। শ্রীপুর পৌরসভার কর আদায়কারী শফিউল আলম রায়হানের মোবাইল ফোন থেকে কল দিয়ে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রী মরিয়মের কাছে মুক্তিপণ দাবি করলে শ্রীবরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
এ ঘটনায় ১১ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব ১৪ শ্রীপুর পৌরসভার কর আদায়কারী শফিউল আলম রায়হান (৪০), আনিছুর রহমান (৩৭) ও ফরহাদ হোসেনকে (২৩) আটক করে। এ সময় অপহূত ব্যবসায়ী শামসুল হককেও উদ্ধার করা হয়।
পরে পৌর সচিব দলিল উদ্দিনের নেতৃত্বে কার্যালয়ে আলমারি খুলে কর আদায় রশিদের কয়েকটি পাতায় গরমিল দেখা যায়। শফিউল রশিদগুলোর মাধ্যমে আদায়কৃত রাজস্ব পৌর তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়।
পৌর হিসাবরক্ষক ইদ্রিস আলী জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরের আদায়কৃত রশিদ জমা দেয়ার জন্য কর আদায়কারী শফিউলকে লিখিতভাবে আদেশ দিলেও জমা দেননি। তাছাড়া তিনি হিসাব শাখার প্রত্যয়ন ব্যতীত রশিদ বই ইস্যু না করার জন্যও স্টোরকিপার তৌফিককে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা তা মানেননি।
এ বিষয়ে পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো. আনিছুর রহমান জানান, সোমবার (৩১ মে) অভিযোগ তদন্ত কমিটি একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এতে উল্লেখ আছে পৌরসভার ১ কোটি ৬০ লাখ ২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। টাকা আত্মসাৎ করেছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযুক্তরা কেউ না থাকায় এখনো প্রমাণ হয়নি। তবে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে জানা যাবে তারা কত টাকা কোষাগারে জমা দিয়েছে আর কত টাকা তাদের কাছে আছে। যদি টাকা আত্মসাৎ করে থাকে তাহলে টাকা আদায় করার পর তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2018 khoborbangladesh.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com