বৃহস্পতিবার, ২২ Jul ২০২১, ১১:১১ পূর্বাহ্ন

টিসি মোতালেব প্রকাশ্যে গুনেগুনে ঘুষ নেন

টিসি মোতালেব প্রকাশ্যে গুনেগুনে ঘুষ নেন

মানিকগঞ্জ, সিংগাইর প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। সরকারি এই কার্যালয়টি ঘুষ, অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এমন পরিচিতিই ছড়িয়েছে ওই এলাকার সবার মধ্যে! ভুক্তভোগীরা বলছেন, সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু সিংগাইর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা টিসি মোতালেবের অবস্থান এর বিপরীতে। ফলে প্রকাশ্যে তিনি গুনেগুনে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকার ঘুষ! এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় দৈনিক খবর বাংলাদেশ পত্রিকায় পূর্বে সংবাদ প্রকাশ করলেও কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলাটি অবস্থিত। জনমানুষের দলিল রেজিস্ট্রারের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে একটি সাব রেজিস্ট্রি অফিস রয়েছে উপজেলাটিতে। যেখানে বসতবাড়ী, আবাদী ও ফসলী জমি-জমাসহ স্থানীয় শিল্প কারখানার দলিল রেজিস্ট্রার সেবা সমূহের সরকারি রাজস্ব আদায় করার কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। এসকল অফিস গুলোতে সরকারের দলিল রেজিষ্ট্রারের রাজস্ব আদায়ের বেশ কিছু বিধি নিষেধ রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটা অজানা। কিছু নিয়মের দূর্নীতি প্রতিরোধকল্পে ও স্বচ্ছতার কারণে অফিসের বাহিরে সাইনবোর্ড টাঙানো থাকে। তন্মধ্যে দলিল রেজিস্ট্রারের রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি অন্যতম গুরুত্ববরণ করে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিংগাইর সাব রেজিস্ট্রারের রঙিন পোষ্টার ঝুলানো রয়েছে দলিল রেজিস্ট্রার সেবা গ্রহণের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি আদায়ের তালিকা অনুযায়ী সাব কবলা দলিল ৮৫০০ টাকা ও এনএনফি ৩৬০ টাকা, বায়না নামা দলিল ১৩৪০ টাকা ও এনএনফি ৩৬০ টাকা, হেবার ঘোষনা দলিল ৮০০ টাকা, পাওয়ার নামা দলিল ৮০০ টাকা রয়েছে। উন্নয়ন কর নির্ধারিত থাকলেও সিংগাইর সাব রেজিস্ট্রার অফিসের চিত্র ভিন্ন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সাব রেজিস্ট্রারে অনগোচরে অফিসের কেরানী ও মহরা যোগসাজশে পদ্ধতি অনুসরণ করে সিংগাইর সাব রেজিস্ট্রার অফিসকে টিসি মোতালেব মিলিয়েছেন ঘুষের হাট। অনুসন্ধানে জানা যায়, হেবার ঘোষনা দলিলে জামশা ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের আমের বেপারীর পুত্র মোঃ চানবর আলী তিনি তার তিন ছেলেকে দলিল করে দিতে চাইলে, দলিল লেখক দলিল খরচ ৫০ হাজার চেয়েছে। আমি ২৮ হাজার টাকা দিয়েছে, বাকী টাকা আমার ভাতিজাকে নিয়ে বাড়ীতে যেয়ে দিবো। তাকে জিজ্ঞাসা করলে দলিল লেখকের নাম কী, তিনি বলেন মান্নান, গ্রামঃ জামশা। অনুসন্ধানে জানা যায় দলিল লেখক মান্নানকে মোঃ চানবর আলী দলিল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এই দলিলের নাম হেবার ঘোষনা। তার হেবার ঘোষনা দলিলে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে কেন? তিনি বলেন, আমাকে ২৮ হাজার হাজার টাকা দিয়েছে, বাকী টাকা পরে দিবে। দলিল রেজিস্ট্রার করতে গেলে মেলা টাকা লাগে। দলিল লেখক মান্নান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলিল গ্রহীতা অপস্থিত না থাকলে ৫০০ টাকা, সইমহরীর পর্চা না থাকলে ভিতরে বাড়তি টাকা দিতে হয়। হেবার ঘোষনায় খারিজ না থাকলে দিতে হয় এক হাজার টাকা করে। আজকে যে হেবার ঘোষনা পত্র দলিল করেছেন এই দলিলের সরকারি খরচ কত দিতে হয়? দলিল লেখক মান্নান বলেন, সরকার পায় ৭০০/৮০০ টাকা। কিন্তু আপনি এতো টাকা নিয়েছেন কেন? দলিল লেখক মান্নান বলেন, প্রতি শতাংশে সরকারি খরচের বাহিরে এই দলিলে আমাকে ২০০ টাকা করে দিতে হবে টিসি মোতালেবকে। দলিল লেখক মান্নান কে জিজ্ঞাস করা হয়, আপনি কত শতাংশ রেজিস্ট্রী করলেন? তিনি বলেন, ১৮০ শতাংশ। ২০০ টাকা করে দিলে ৩৬০০ টাকা আমাকে টিসি মোতালেব কে দিতে হবে, তা নাহলে আমার দলিল সম্পাদন হবে না। দলিল নং-১১৬২, ৯ই ফেব্রুয়ারিতে সম্পাদন হয়। সাব কবলা দলিলে সরকারি খরচের বাহিরে প্রতি লাখে টিসি মোতালেব কে ৫০০/৩০০ টাকা এবং হেবার ঘোষনায় দিতে হয় প্রতি শতাংশে ২০০ টাকা করে দিতে হয়। দলিল লেখক মান্নান কে আরও জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলেন, আপনি যদি ২০ লক্ষ টাকার দলিল করেন তাহলে টিসি মোতালেব কে কত টাকা দিতে হয়? তিনি বলেন, ৮ হাজার টাকা দিতে হয়। টিসি মোতালেব কে আপনি কত দিন যাবৎ ঐ চেয়ারে দেখেন? তিনি বলেন, ২ বছর যাবৎ ঐ চেয়ারে বসে সরকারি টাকার বাহিরে ঘুষের টাকা কালেকশন করেন। টিসি মোতালেবকে টাকা না দিলে কোন ভাবেই দলিল সম্পাদন করা যায় না। জানা যায় টিসি মোতালেব সরকারি ৩% ট্যাক্স আদায়কারী। কিন্তু তার স্থানীয় কর ৩% ট্যাক্স পে-অর্ডারের মাধ্যমে দলিল লেখকরা এনআরবিসি ব্যাংককে পরিশোধ করে থাকে। টিসি মোতালেবকে ঘুষের টাকা লেনদেনের বিষয়টি জিজ্ঞাসা করিলে তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি আমার অফিসের টাকা গণনা করছিলাম।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দলিল দাতা-গ্রহীতাদের কাছ থেকে দলিলের টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির মতোও অভিযোগ রয়েছে টিসি মোতালেবের বিরুদ্ধে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দূর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষে সকলকে নির্দেশ দিলেও টিসি মোতালেব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে দিনের পর দিন ঘুষ বানিজ্য করে যাচ্ছেন।
সুশীল সমাজ দূর্নীতি মুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে টিসি মোতালেবের বিরুদ্ধ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2018 khoborbangladesh.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com