বৃহস্পতিবার, ২২ Jul ২০২১, ০৬:৩৫ অপরাহ্ন

মাগুরা আজিজুর হত্যা রহস্য উদঘাটন ঘাতক আশরাফের স্বীকারউক্তিতে খন্ডিত মাথা ও পা উদ্ধার

মাগুরা আজিজুর হত্যা রহস্য উদঘাটন ঘাতক আশরাফের স্বীকারউক্তিতে খন্ডিত মাথা ও পা উদ্ধার

মাগুরা প্রতিনিধি 

মাগুরার মহম্মদপুরের কালুকান্দি গ্রামে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার আজিজুর রহমানের (৩০) বিছিন্ন মাথা ও একটি পা ৮দিন পর সোমবার সন্ধ্যায় মাগুরা সদরের ঘোড়ানাছ এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৬। মাত্র তিন হাজার টাকার জন্য ঘাতক আশরাফ তাকে হত্যার পর শরীর থেকে মাথা, হাত ও পা বিছিন্ন করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। র‌্যাব খুলনার অধিনায়ক লে. কর্ণেল রওশনুল ফিরোজের নের্তৃত্বে র‌্যাব-৬ এর একটি দল সোমবার সন্ধ্যায় ওই এলাকার একটি কালভার্টের ভিতর থেকে এ গুলো উদ্ধার করে। তিনি জানান,  হত্যাকান্ডের মুল আসামী আশরাফ হোসেনকে সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের শার্শা থেকে গ্রেপ্তার করলে তার স্বীকারোক্তিতে ঘোড়ানাছ এলাকা থেকে নিহত আজিজুরের মাথা ও পা উদ্ধার করা হয়।  আজিজুর রহমান (৩০) মাগুরা সদর উপজেলার সংকোচখালি গ্রামের মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে। ছোটবেলায় তার বাবা মা মারার যাওয়ার পর থেকেই বিনোদপুর ইউনিয়নের কালুকান্দি গ্রামে তার নানা আবুল কাশেমের বাড়িতে থেকে বড় হয়েছে। সে ঢাকার একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গত ৫ জুন আজিজুর সকালে বাসা থেকে যশোরের উদ্যেশে রওনা হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে ৬ জুন সকালে কালুকান্দি গ্রামের মতিয়ার মোল্যার পুকুরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত একটি বস্তা দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বস্তাটি উদ্ধার করলে তার ভিতর মাথা ও একটি পা বিহীন লাশ পাওয়া যায়। পরে লাশের পরিহিত পোষাক দেখে এটি আজিজুর রহমানের মরদেহ বলে দাবি করে তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান। ওই দিন হাবিবুর রহমান মহম্মদপুর থানায় বাদী হয়ে হত্যা ও আলামত গোপনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আসামী গ্রেপ্তারসহ বিচ্ছিন্ন মাথা ও পায়ের সন্ধানে নামে যশোর র‌্যাব। পাশাপাশি গতকাল সোমবার দুপুরে আজিজুরের খুনী আশরাফকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় সে র‌্যাবের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘোড়ানাছ ওই এলাকা থেকে নিহত আজিজুরের দেহের খন্ডিত মাথা ও একটি পা উদ্ধার করে র‌্যাব। র‌্যাব কর্মকর্তা রওশনুল ফিরোজ এ বিষয়ে জানান, ঘাতক আশরাফ সদর উপজেলার মালিকগ্রামের আহম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে। মাগুরা শহরের বেলতলায় তার হোমিও প্যাথির ব্যবসা আছে। পাশাপাশি সে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং-এমএলএম ব্যবসা করে। এই ব্যবসার সূত্রেই আজিজুরের সাথে তার সম্পর্ক। আশরাফ আজিজুরের কাছে ব্যবসায়ীক ৩ হাজার টাকা পেত। কিন্তু আজিজুর সেটি ৫ শত টাকা বলে দাবী করে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরেই ৫ জুন আশরাফ আজিজুরকে নিজ হোমিও দোকানে ডেকে এনে হত্যা করে। পরে দেহ থেকে মাথা ও পা খন্ডিত করে ঘোড়ানাছ মাঠের এশটি ব্রীজের নিচে ফেলে দেয়। দেহের বাকি অংশ বস্তাবন্দি করে আজিজুরের মামা বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুরের কালুকান্দি একটি পুকুরে ফেলে আত্মগোপন করে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2018 khoborbangladesh.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com