সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০১:৫৫ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
শ্বাসরোধে ওই শিক্ষিকার মৃত্যু: গ্রামের বাড়িতে দাফন ভাঙ্গায় দুই দল গ্রামবাসীর মাঝে সংঘর্ষে আহত-১৫ কলেজ অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ পঞ্চগড়ে হিজাব কান্ড  সাময়িক বরখাস্ত শিক্ষক মহম্মদপুরে ফরম পূরণের টাকা ফেরত চেয়ে প্রধান শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ বিরোধী দলগুলো আন্দোলন করলে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য কখনও গন্তব্যে ঠেকাতে না পারলেও জীবনের বিনিময়ে ঠেকে গেল শিক্ষিকার প্রেমের গন্তব্য ছাত্রকে বিয়ে করে ভাইরাল সেই শিক্ষিকার লাশ উদ্ধার বাবার মৃত লাশ নিয়ে প্রতারকের বাড়িতে মিরপুরে মাদক সহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক
ভালো মৃৎশিল্পীরা নওগাঁর নেই

ভালো মৃৎশিল্পীরা নওগাঁর নেই

নাদিম আহমেদ অনিক ->>
নতুন নতুন প্রযুক্তির উপস্থিতিতে হারানোর তালিকায় প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে গ্রাম বাংলার পুরনো ঐতিহ্যের উদাহরণ। নতুন দিনের উন্নত প্রযুক্তি যেমন মানুষের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম, ঠিক তেমনি প্রাচীন প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পগুলোকে করছে বিলীন। কালের এই বিবর্তনে হাড়িয়ে যেতে বসেছে নওগাঁর মৃৎশিল্প।

নতুন প্রযুক্তির উপস্থিতিতে চাহিদা কমায়, ভালো নেই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মৃৎশিল্পের কারিগররা। পরিবার পরিজন নিয়ে অভাব অনটনের মাঝেই দিন কাটছে তাদের।

আম ও চালের রাজধানী খ্যাত উত্তরের বৃহত্তর জেলা নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী দাঁড়িয়ে থাকা ভবানীপুর পালপাড়া যেন শিল্পীর তুলিতে আকাঁ একটি স্বর্ণালী ছবি। এ উপজেলার ভবানীপুর, রাইপুর, মিরাপুর, সাহেবগঞ্জ, বহলা, পাঁচুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য কুটিরের নয়নাভিরাম মৃৎ শিল্পীদের বাসস্থান। যা সহজেই যে কারোর মনকে পুলকিত করে। কালের বিবর্তনে মৃৎশিল্প’র ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে পাল বংশের লোকদের টিকে থাকা যেন কঠিন হয়ে পড়েছে।

এক সময় এ গ্রামগুলিতে মৃৎশিল্প’র জৌলুস ছিল। এ শিল্পে জড়িয়ে ছিল এখানের শতাধিক পরিবার। হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার কষ্টে-শিষ্টে তাদের পূর্ব-পুর“ষদের এ পেশা ধরে রেখেছেন। কিন্তু বর্তমানে প্রাই বন্ধ হয়ে গেছে এ মাটির কাজ। তাই এই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই হতাশা হয়ে পড়েছে।

এক সময় উপজেলার এসব গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পরিবারও প্রত্যক্ষভাবে এ শিল্পের সাথে জড়িত ছিল। পালরা খোলা, হাড়ি, পাতিল, কলসি, ব্যাংক, পিঠা তৈরির ছাঁচ, পুতুলসহ ছোট-ছোট খেলনা ইত্যাদি সব জিনিসপত্র তৈরি করত। এখানকার তৈরি মৃৎশিল্পের অনেক সুনাম ও সুখ্যাতি থাকলেও এখন শুধুমাত্র দধির পাত্র ও পিঠার খোলা তৈরি করে কোন রকমের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এ অঞ্চলে খোলা পাত্রের কদর বেশী রয়েছে।

একটি খোলা তৈরিতে মাটি ও পোড়ানো বাবদ প্রায় ৫ টাকা খরচ হলেও তা বাজারে বিক্রি হয় ১০ টাকা। এর মধ্যেই রয়েছে শ্রম ও মাল বহনের খরচ। ফলে লাভের মুখ তারা দেখে না। অথচ ঐ একটি খোলা এক হাত ঘুরে বাজারে খুচরা ক্রেতা কিনছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। ফলে সহজেই অনুমেয় মূল মুনাফা চলে যাচ্ছে মধ্যত্ব ভোগীদের হাতে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় মৃৎশিল্পীরা এ পেশার প্রতি হতাশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান প্রজন্ম এ ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে।
মৃৎশিল্পের নিপুণ কারিগরেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে এখন অনেকটা অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেক পুরুষ এ পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় চলে গেছেন। মাটির তৈরি জিনিসপত্র আগের মত দামে বিক্রি করতে পারছে না। মাটির এ সকল পাত্রের চাহিদাও আগের মত নেই।
রাইপুর গ্রামের মৃৎশিল্পের কারিগর বিপ্লব কুমার পাল বলেন, ‘লাভ লসের হিসাব করি না। বাপ-দাদার কাজ ছাড়ি কি করি। করোনাভাইরাসের সহ নতুন প্রযুক্তির কারনে আমাদের পেশায় অনেক প্রভাব পড়েছে। ‘পূর্বপুরুষের পেশা বাঁচিয়ে রাখতে গিয়ে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে আমাদের।

এ ব্যাপারে আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর পালপাড়া গ্রামের মৃৎশিল্পী ধিরেন্দ্রনাথ পাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন মাটি সংগ্রহে অনেক খরচ করতে হয় তাদের। এ ছাড়াও জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে মিল না থাকায় প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হয় তাদের। তার মধ্যে আবার করোনার প্রভাব পড়েছে এখন কাজ কর্ম সব বন্ধ আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি।
এক কালের ঐতিহ্যের মাটির তৈরি বাসন, হাড়ি, পাতিল, কলসি, ব্যাংক, পিঠা তৈরির ছাঁচ, পুতুল এখন প্লাস্টিকের দখলে। ফলে নওগাঁয় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের জৌলুস আর নেই। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। ঐতিহ্যের কারণেই মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখা দরকার বলে মনে করেন জেলার সচেতন মহল।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2018-2022 khoborbangladesh.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com