ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত ৫ বছরের অধিক প্রেষনে দায়িত্ব পালন করছেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল কবীর! বিআইডব্লিউটিএর অতি: পরিচালক আরিফ উদ্দিনের সম্পদের পাহাড়! শাহআলীতে গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যাকারি পলাতক স্বামী গ্রেফতার  অতি:পরিচালক আরিফ উদ্দিন এখন বিআইডব্লিউটিএ‘র অঘোষিত “রাজা”! সাভারে এক ইউপি চেয়ারম্যানের সম্পদের পাহাড়! সিরাজদিখানে মঈনুল হাসান নাহিদকে বিকল্প ধরার সমর্থন মির্জাগঞ্জের ইউ,পি সচিব পরকীয়া প্রেমিকার হত্যাকাণ্ডে পুলিশ হেফাজতে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মানুষের ভালবাসায় আমি মুগ্ধ: চেয়ারম্যান প্রার্থী পলাশ মানবতার আড়ালে ভয়ংকর ফয়সাল বাহিনী, পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

তালায় ছাত্রলীগের টর্সার সেলে মাথা ন্যাড়া করে বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

মোঃ আজিজুল ইসলাম (ইমরান) :
সাতক্ষীরার তালায় কলেজ ছাত্রকে অপরহণ করে মারপিট, বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ ও মুক্তিপণ দাবি করেছে ছাত্রলীগের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ছাত্রলীগের ওই টর্সার সেলে টানা ৫ ঘন্টা আটকে রেখে চলে মারপিট-নির্যাতন। মাথা ন্যাড়া করে বিবস্ত্র ভিডিও ধারণা করা হয়। রোববার (২৪ এপ্রিল) দুপুর দেড়টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে এই নির্যাতন করে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দিয়েও প্রধান অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্র লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিবের ভয়ে এখন নিরাপত্তাহীনায় কলেজ ছাত্রের পরিবার। ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার কলেজ ছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময় (২০) তালা সদরের জাতপুর গ্রামের শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। চলতি বছর জাতপুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য খুলনায় কোচিং করছে তন্ময়। কলেজছাত্রে তন্ময়ের বাবা আজিজুর রহমান জানান, আমার ছেলের জীবনটা নষ্ট করে দিল। আমার ছেলের সাথে ওদের কোন বিরোধ নেই। একসঙ্গে পড়েও না। আকষ্মিক রোববার (২৪ এপ্রিল) দুপুর একটার দিকে আমার ছেলের পূর্ব পরিচিত নাহিদ হাসান উৎস্য নামের একটি ছেলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায় তালা কলেজের সামনে। সেখান থেকে ছেলে তন্ময়কে ধরে নিয়ে যায় কলেজের মধ্যে একটি রুমে। সেখানে নিয়ে মারপিট, মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া ও উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ করে। তারপর আমার স্ত্রীর কাছে ফোন করে ছেলেকে ফিরে পেতে এখুনি দুই লাখ টাকা নিয়ে কলেজের সামনে যাওয়ার কথা বলে। ওপ্রান্ত থেকে ছেলেকে মারপিটের চিৎকার শোনাচ্ছিল তারা। আজিজুর রহমান আরও বলেন, সন্ধ্যার দিকে ছেলেকে উদ্ধার করার পর তালা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাতে থানার মধ্যেই আমাকে হুমকি দিতে থাকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্ত্রাসীর বাবা। কি কারণে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি ধারণা করছি আমার ছেলের নতুন মোটরসাইকেলটি তারা নিয়ে নিতে চেয়েছিল। সেকারণেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা হলেন, তালার মাঝিয়াড়া গ্রামের দালাল নামে খ্যাত সৈয়দ ইদ্রিসের ছেলে সৈয়দ আকিব, হরিশচন্দ্রকাটি গ্রামের গণেশ চক্রবর্তীর ছেলে সৌমিত্র চক্রবর্তী (৩২), তালা গার্লস স্কুলের পেছনের বাসিন্দা জে.আর সুমন (২৫), তালার মহান্দি গ্রামের জয় (২৪) ও তালা সদরের নজির শেখের ছেলে নাহিদ হাসান উৎস (২৪)। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সৈয়দ ্আকিব তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠণিক সম্পাদক ও সৌমিত্র চক্রবর্তী উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠণিক সম্পাদক পদে দায়িত্বে রয়েছে। বাকিরা ছাত্রলীগের কর্মী। নির্যাতনের শিকার কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময় বলেন, নাহিদ হাসান উৎস্য আমার পূর্ব পরিচিত। তালা বাজারে যাতায়াত সুবাদে পরিচয়। আমাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে আকষ্মিক মারপিট শুরু করে আকিবসহ অন্যরা। কলেজের পশ্চিম পাশে একটি রুমের মধ্যে নিয়ে টানা ৫ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। হাতে, পায়ে নির্মমভাবে মারপিট করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। তারপর বাড়িতে ফোন দিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। এরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। ছেলেটি আরও জানায়, যে রুমের মধ্যে আমাকে আটকে রেখেছিল সেটা সম্ভবত কলেজের ছাত্রবাস কক্ষ। সেটি কলেজের মধ্যেই অবস্থিত। ওই রুমের মধ্যে মারপিট করার জন্য বেল্ট, লাঠিসোটা এখনো রয়েছে। ওখানে নিয়ে টর্সার করে বলে মনে হয়েছে। সেখান থেকে আমার চাচাতো ভাইয়েরা আমাকে উদ্ধার করে।
তালা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর সেখ মো. হুমায়ূন কবীর জানান, আমরা এ ধরণের কোন ঘটনা খবর জানি না। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজে টর্সার সেল করেছে এটি আমার জানা নেই। এদিকে, তালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় সোমবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময়কে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে হুমকি ধামকি দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলে জানান তন্ময়ের বাবা আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। গত রাতে থানাতেও আমাকে মামলা না করার জন্য হুমকি দিয়েছিল। তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) আবুল কালাম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে এখনো মামলা হয়নি। মামলার বাদী আর্জির সঙ্গে ভোটার আইডি কার্ড জমা না দেওয়া মামলাটি রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি। হুমকি ধামকি দিচ্ছে এমন ঘটনা আমরা জানা নেই।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত

তালায় ছাত্রলীগের টর্সার সেলে মাথা ন্যাড়া করে বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

আপডেট টাইম : ০৭:১৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ এপ্রিল ২০২২

মোঃ আজিজুল ইসলাম (ইমরান) :
সাতক্ষীরার তালায় কলেজ ছাত্রকে অপরহণ করে মারপিট, বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ ও মুক্তিপণ দাবি করেছে ছাত্রলীগের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ছাত্রলীগের ওই টর্সার সেলে টানা ৫ ঘন্টা আটকে রেখে চলে মারপিট-নির্যাতন। মাথা ন্যাড়া করে বিবস্ত্র ভিডিও ধারণা করা হয়। রোববার (২৪ এপ্রিল) দুপুর দেড়টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে এই নির্যাতন করে। এই ঘটনায় থানায় মামলা দিয়েও প্রধান অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্র লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিবের ভয়ে এখন নিরাপত্তাহীনায় কলেজ ছাত্রের পরিবার। ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার কলেজ ছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময় (২০) তালা সদরের জাতপুর গ্রামের শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। চলতি বছর জাতপুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য খুলনায় কোচিং করছে তন্ময়। কলেজছাত্রে তন্ময়ের বাবা আজিজুর রহমান জানান, আমার ছেলের জীবনটা নষ্ট করে দিল। আমার ছেলের সাথে ওদের কোন বিরোধ নেই। একসঙ্গে পড়েও না। আকষ্মিক রোববার (২৪ এপ্রিল) দুপুর একটার দিকে আমার ছেলের পূর্ব পরিচিত নাহিদ হাসান উৎস্য নামের একটি ছেলে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায় তালা কলেজের সামনে। সেখান থেকে ছেলে তন্ময়কে ধরে নিয়ে যায় কলেজের মধ্যে একটি রুমে। সেখানে নিয়ে মারপিট, মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া ও উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণ করে। তারপর আমার স্ত্রীর কাছে ফোন করে ছেলেকে ফিরে পেতে এখুনি দুই লাখ টাকা নিয়ে কলেজের সামনে যাওয়ার কথা বলে। ওপ্রান্ত থেকে ছেলেকে মারপিটের চিৎকার শোনাচ্ছিল তারা। আজিজুর রহমান আরও বলেন, সন্ধ্যার দিকে ছেলেকে উদ্ধার করার পর তালা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাতে থানার মধ্যেই আমাকে হুমকি দিতে থাকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্ত্রাসীর বাবা। কি কারণে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি ধারণা করছি আমার ছেলের নতুন মোটরসাইকেলটি তারা নিয়ে নিতে চেয়েছিল। সেকারণেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা হলেন, তালার মাঝিয়াড়া গ্রামের দালাল নামে খ্যাত সৈয়দ ইদ্রিসের ছেলে সৈয়দ আকিব, হরিশচন্দ্রকাটি গ্রামের গণেশ চক্রবর্তীর ছেলে সৌমিত্র চক্রবর্তী (৩২), তালা গার্লস স্কুলের পেছনের বাসিন্দা জে.আর সুমন (২৫), তালার মহান্দি গ্রামের জয় (২৪) ও তালা সদরের নজির শেখের ছেলে নাহিদ হাসান উৎস (২৪)। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত সৈয়দ ্আকিব তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠণিক সম্পাদক ও সৌমিত্র চক্রবর্তী উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠণিক সম্পাদক পদে দায়িত্বে রয়েছে। বাকিরা ছাত্রলীগের কর্মী। নির্যাতনের শিকার কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময় বলেন, নাহিদ হাসান উৎস্য আমার পূর্ব পরিচিত। তালা বাজারে যাতায়াত সুবাদে পরিচয়। আমাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে আকষ্মিক মারপিট শুরু করে আকিবসহ অন্যরা। কলেজের পশ্চিম পাশে একটি রুমের মধ্যে নিয়ে টানা ৫ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। হাতে, পায়ে নির্মমভাবে মারপিট করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এরপর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে। তারপর বাড়িতে ফোন দিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। এরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। ছেলেটি আরও জানায়, যে রুমের মধ্যে আমাকে আটকে রেখেছিল সেটা সম্ভবত কলেজের ছাত্রবাস কক্ষ। সেটি কলেজের মধ্যেই অবস্থিত। ওই রুমের মধ্যে মারপিট করার জন্য বেল্ট, লাঠিসোটা এখনো রয়েছে। ওখানে নিয়ে টর্সার করে বলে মনে হয়েছে। সেখান থেকে আমার চাচাতো ভাইয়েরা আমাকে উদ্ধার করে।
তালা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর সেখ মো. হুমায়ূন কবীর জানান, আমরা এ ধরণের কোন ঘটনা খবর জানি না। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজে টর্সার সেল করেছে এটি আমার জানা নেই। এদিকে, তালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় সোমবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময়কে বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে হুমকি ধামকি দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলে জানান তন্ময়ের বাবা আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। গত রাতে থানাতেও আমাকে মামলা না করার জন্য হুমকি দিয়েছিল। তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) আবুল কালাম জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে এখনো মামলা হয়নি। মামলার বাদী আর্জির সঙ্গে ভোটার আইডি কার্ড জমা না দেওয়া মামলাটি রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি। হুমকি ধামকি দিচ্ছে এমন ঘটনা আমরা জানা নেই।