ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে মন্দিরের সেবায়েতকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা!

স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বর কেন্দ্রীয় মন্দিরের সেবায়েত পরিক্ষিত দাসকে রাতের আধারে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেবার অভিযোগ পাওয়াগেছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় মন্দির পরিচালনা কমিটির শীর্ষ ৩ নেতার বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলা নং ২৬ তাং ২০/০৮/২০২২ ইং। ধারা ৩০৬ ধ:বি:আইন।
শনিবার পরিক্ষিত দাসের ছেলে ভক্ত দাস বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার আসামিরা হলেন- কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি বিপ্লব বিজয় হাওলাদর, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সাহা ও দপ্তর সম্পাদক বাদল সাহা।
গত মঙ্গলবার পরিক্ষিত দাসের লাশ মিরপুর ১৪ নম্বর মন্দির থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় লাশ মন্দিরের সিঁড়ির দ্বিতীয় তলার রেলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।
মামলার অভিযোগে ভক্ত দাস বলেন, আমার বাবা মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মন্দিরের ভেতর একটি রুমে আরও ২ জনের সঙ্গে থাকতেন। ঘটনার দিন লোক মুখে শুনতে পাই আমার বাবা মন্দিরের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি শুনে আমরা গ্রাম থেকে ঢাকায় আসি। এরপর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে বাবার লাশ দেখতে পাই।
তিনি বলেন, আমার বাবা আত্মহত্যা করতে পারেন না। এরপর একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাই ১৫ আগস্ট রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আমার বাবা ব্যাগ হাতে মন্দির থেকে বের হলে আসামী সুমন সাহা আমার বাবাকে বাধা দেন। এর কিছু সময় পর ১ ও ৩ নম্বর আসামি মন্দিরে এসে আমার বাবাকে নানা প্রকার হুমকি দেন । একপর্যায়ে আমার বাবা তাদের হাত-পা ধরে মাফ চান। কিন্তু আসামিরা আমার বাবাকে মন্দিরে রেখে চলে যান।
এর পরের দিন মন্দিরের লোকজন আমার বাবাকে মন্দিরের ২য় তলায় গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। ভক্ত দাস আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না আমার বাবা আত্মহত্যা করতে পারেন। আমার ধারণা, আমার বাবাকে আসামীরা হত্যা করে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখে অথবা এমন চাপ প্রযোগ করে যে, সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে িিতনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।
কাফরুল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায় যে, এই মন্দিরের কমিটি নিয়ে ৬ মাস ধরে দুটি পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছিলো। তারা বারবার কমিটি বদল করে মন্দিরের দখল নিতে চাইছিলো। একবার স্থানীয় এমপি একটি কমিটি করে দিয়েছিলেন। আবার স্থানীয় কাউন্সিলর একটি কমিটি গঠন করে দেন। সর্বশেষ মহানগর পূঁজা উদযাপন কমিটি একটি কমিটি গঠন করে দেয়। কিন্তু কোন কমিটিই মন্দির পরিচালনার গঠনতন্ত্র মোতাবেক না হওয়ায় আরো জটিলতা দেখা দেয়।
সর্বশেষ মহানগর পূজা উদযাপন কমিটি প্রদত্ত কমিটি জোরপুর্ব্বক মন্দিরের ক্ষমতা দখলে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ান সেবায়েত পরিক্ষিত দাস। আর এ কারণেই তাকে রাতের আঁধারে হত্যা করা হতে পারে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতা শুভাশিষ বিশ্বাস সাধনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই মন্দিরের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ঝামেলা চলছিলো। সেটি নিরসনে আমরা বহুবার চেষ্টা করে অবশেষে জুলাই মাসে একটি নতুন কমিটি করে দেই। এর বেশি কিছু আর আমার জানা নেই। সেবায়েত পরিক্ষিত দাসের মৃত্যুকে তিনি আত্মহত্যা বলেই মনে করেন। কিন্তু কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করলেন তার কোন ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। এ দিকে আত্মহত্যার প্ররোচনার ধারায় কেন থানার মামলা হলো? এ প্রসংগে বাদী ভক্ত দাস বলেন,প্রভাবশালী কোন মহলের চাপে প্রথমে থানা মামলাই নিতে চায়নি। পরবর্তীতে সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলা নিতে বাধ্য হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্দিরের আশে পাশে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান , সেবায়েত পরিক্ষিত দাসকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর এই হত্যার নেপথ্যে ঢাকা মহানগর পূঁজা উদযাপন কমিটির কয়েকজন নেতা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। ডিবি অথবা সিআইডির মাধ্যমে তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

ট্যাগস

মিরপুরে মন্দিরের সেবায়েতকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা!

আপডেট টাইম : ০৫:১৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২

স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বর কেন্দ্রীয় মন্দিরের সেবায়েত পরিক্ষিত দাসকে রাতের আধারে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেবার অভিযোগ পাওয়াগেছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় মন্দির পরিচালনা কমিটির শীর্ষ ৩ নেতার বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলা নং ২৬ তাং ২০/০৮/২০২২ ইং। ধারা ৩০৬ ধ:বি:আইন।
শনিবার পরিক্ষিত দাসের ছেলে ভক্ত দাস বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার আসামিরা হলেন- কেন্দ্রীয় মন্দিরের সভাপতি বিপ্লব বিজয় হাওলাদর, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সাহা ও দপ্তর সম্পাদক বাদল সাহা।
গত মঙ্গলবার পরিক্ষিত দাসের লাশ মিরপুর ১৪ নম্বর মন্দির থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় লাশ মন্দিরের সিঁড়ির দ্বিতীয় তলার রেলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।
মামলার অভিযোগে ভক্ত দাস বলেন, আমার বাবা মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি মন্দিরের ভেতর একটি রুমে আরও ২ জনের সঙ্গে থাকতেন। ঘটনার দিন লোক মুখে শুনতে পাই আমার বাবা মন্দিরের দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি শুনে আমরা গ্রাম থেকে ঢাকায় আসি। এরপর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে বাবার লাশ দেখতে পাই।
তিনি বলেন, আমার বাবা আত্মহত্যা করতে পারেন না। এরপর একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাই ১৫ আগস্ট রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আমার বাবা ব্যাগ হাতে মন্দির থেকে বের হলে আসামী সুমন সাহা আমার বাবাকে বাধা দেন। এর কিছু সময় পর ১ ও ৩ নম্বর আসামি মন্দিরে এসে আমার বাবাকে নানা প্রকার হুমকি দেন । একপর্যায়ে আমার বাবা তাদের হাত-পা ধরে মাফ চান। কিন্তু আসামিরা আমার বাবাকে মন্দিরে রেখে চলে যান।
এর পরের দিন মন্দিরের লোকজন আমার বাবাকে মন্দিরের ২য় তলায় গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। ভক্ত দাস আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না আমার বাবা আত্মহত্যা করতে পারেন। আমার ধারণা, আমার বাবাকে আসামীরা হত্যা করে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখে অথবা এমন চাপ প্রযোগ করে যে, সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে িিতনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।
কাফরুল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায় যে, এই মন্দিরের কমিটি নিয়ে ৬ মাস ধরে দুটি পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছিলো। তারা বারবার কমিটি বদল করে মন্দিরের দখল নিতে চাইছিলো। একবার স্থানীয় এমপি একটি কমিটি করে দিয়েছিলেন। আবার স্থানীয় কাউন্সিলর একটি কমিটি গঠন করে দেন। সর্বশেষ মহানগর পূঁজা উদযাপন কমিটি একটি কমিটি গঠন করে দেয়। কিন্তু কোন কমিটিই মন্দির পরিচালনার গঠনতন্ত্র মোতাবেক না হওয়ায় আরো জটিলতা দেখা দেয়।
সর্বশেষ মহানগর পূজা উদযাপন কমিটি প্রদত্ত কমিটি জোরপুর্ব্বক মন্দিরের ক্ষমতা দখলে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ান সেবায়েত পরিক্ষিত দাস। আর এ কারণেই তাকে রাতের আঁধারে হত্যা করা হতে পারে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতা শুভাশিষ বিশ্বাস সাধনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এই মন্দিরের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ঝামেলা চলছিলো। সেটি নিরসনে আমরা বহুবার চেষ্টা করে অবশেষে জুলাই মাসে একটি নতুন কমিটি করে দেই। এর বেশি কিছু আর আমার জানা নেই। সেবায়েত পরিক্ষিত দাসের মৃত্যুকে তিনি আত্মহত্যা বলেই মনে করেন। কিন্তু কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করলেন তার কোন ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। এ দিকে আত্মহত্যার প্ররোচনার ধারায় কেন থানার মামলা হলো? এ প্রসংগে বাদী ভক্ত দাস বলেন,প্রভাবশালী কোন মহলের চাপে প্রথমে থানা মামলাই নিতে চায়নি। পরবর্তীতে সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ দেখে মামলা নিতে বাধ্য হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্দিরের আশে পাশে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানান , সেবায়েত পরিক্ষিত দাসকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর এই হত্যার নেপথ্যে ঢাকা মহানগর পূঁজা উদযাপন কমিটির কয়েকজন নেতা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। ডিবি অথবা সিআইডির মাধ্যমে তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে।