ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আদমদীঘিতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ: গ্রেফতার-১ মহম্মদপুরে হত্যার মামলার আসামি জামিনে এসে বাদিকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি, পরে মারধর আ.লীগ নেতার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় আইসক্রিম ফাক্টরি মালিক কালিহাতীতে লিঙ্গ কাটার অভিযোগ স্ত্রী’র বিরুদ্ধে ফিটনেস বিহীন নৌযানে সয়লাব সদরঘাট,নেই পর্যাপ্ত দক্ষ নাবিক! ৫০ কোটি টাকার মামলা থেকে বাঁচতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পাল্টা মামলা! ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নব সভাপতি হলেন আবু সাঈদ মির্জাগঞ্জে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ মাগুরার হৃদয়পুরে ফসলি জমির টপসয়েল মাটিকাটার অভিযোগ, ইউএনওর হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

নাটোরের নলডাঙ্গায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদের মারপিটে আহত জীবন মারা গেছে

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ও তারসহযোগিদের মারপিটে আহত ছাত্রলীগ নেতা জামিউল আলীম জীবন মারা গেছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া দুইটার সময় রামেক কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার পর রামেক মর্গে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় স্থানীয় আমতলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল নিহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জামিউল আলীম জীবনের পরিবারকে সান্তনা দিতে গিয়ে বলেন, জীবন মঙ্গলবারই মারা গেছে। চেয়ারম্যান আসাদকে বাঁচাতে নাটক সাজিয়ে জীবনকে মৃত ঘোষণা না করে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রেখে দেয়া হয়েছিল। মরদেহ নিয়ে এই নাটক কারা সাজিয়েছে তা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। জেলা আওয়ামীলীগ আসাদকে বাঁচানোর চেষ্ঠা করছে বলেও তিনি দাবী করেন। এমপি শিমুল নিহত ছাত্রলীগ নেতা জীবনের বাড়িতে যাওয়ার সময় হাজার হাজার নেতাকর্মী চেয়ারম্যান আসাদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ করে। এদিকে গত সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নলডাঙ্গা উপজেলার রামশার কাজীপুর আমতলী বাজার সংলগ্ন চারমাথা মোড়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ও তার লোকজনের মারপিটে গুরুতর আহত হন জামিউল আলীম জীবন ও তার বাবা ফরহাদ হোসেন শাহ। এ অবস্থায় তাদের প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বাবা ফরহাদ হোসেন শাহকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করে তোলা হলেও জীবনকে আইসিইউতে লাইফ সার্পোটে রাখা হয়।
সেখানে গত ৫ দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে ছিলেন জীবন। এ অবস্থায় তার মৃত্যু নিয়ে চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল তার মৃত্যু হয়েছে আগেই কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর বিষয়টি কখনই নিশ্চিত করেননি। বরং আরো ৭২ ঘন্টার নিবির পর্যবেক্ষনে আইসিইউতে লাইফ সার্পোটে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত জীবনের জীবন দিয়ে প্রমাণ করলো তার নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে। এরআগে দুই দফা মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আওয়ামীলীগ-যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এনিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষ মিছিল-সমাবেশ করে উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী জানানো হয়। এমনকি তাকে এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণাও করা হয়।
এব্যাপারে জীবনের পরিবারের অভিযোগ, জীবন অনেক আগেই মারা গেছে। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য ঘটনায় জামিউল আলীম জীবনকে আইসিইউতে লাইফ সার্পোটে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৭২ ঘন্টার নিবির পর্যবেক্ষনে রাখার কথা বলে আবারও আইসিইউতে রাখা হয়। আজ দুপুর একটার সময় জীবনের মৃত্যু নিশ্চিত করে তাদের কাছে সোয়া দুইটার সময় মরদেহ হস্তান্তর করেন। পরে তার ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি ফের মর্গে নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামিউল আলীম জীবনের বড় চাচা অধ্যাপক এমএম ফিরোজসহ তার পরিবারের লোকজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শনিবার রামশার কাজীপুর আমতলী বাজারের জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর মসজিদের ভিতর থেকে মাইকের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ওই গ্রামের কয়েক জনকে চুরির সাথে জড়িত বলে সন্দেহ করেন। এ নিয়ে চেয়ারম্যান শালিশী বৈঠক বসিয়ে সন্দেহ ভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান তার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই জামিউল আলিম জীবনকে জোড়পূর্বক দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামিউল আলিম জীবন নিজেকে নির্দোষ দাবী করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে স্ট্যটাস দেয়। এ বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যটাস দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদ।
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে জামিউল আলিম জীবন আমতলী বাজার সংলগ্ন চারমাথা মোড়ে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদসহ তার লোকজন তাকে ডেকে পাঠায়। এক পর্যায়ে তার সাথে ফেসবুকে স্ট্যটাস দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং চেয়ারম্যান আসাদ, তার বড় ভাই ফয়সাল ও ছোট ভাই আলিম আল রাজি এবং তার লোকজন জীবনকে কিল ঘুষিসহ মারপিট করতে থাকে। খবর পেয়ে তার বাবা ফরহাদ হোসেন ছেলেকে ছাড়াতে এগিয়ে আসলে তাকেও মারপিট করতে থাকে চেয়ারম্যান। হামলা কারীরা রড, বাঁশেরলাঠি ও ধারালো হাসুয়া দিয়ে তাদের আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে স্থানীয় লোকজনসহ স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং আহত জামিউল আলীম জীবনকে মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে রাখা হয়। পরে এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আহত ফরহাদ হোসেন শাহ এর স্ত্রী জাহানারা বেগম বাদী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদ, তার ছোট দুইভাই ও অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনের নামে নলডাঙ্গা থানায় তার স্বামী-সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা দায়েরের পর উপজেলা চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আলিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ও তার ভাই ফয়সাল হোসেন শাহ (ফটিক) পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আহত ফরহাদ হোসেন শাহ ওই গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিন শাহের ছেলে এবং নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম ফিরোজের আপন ভাই। নিহত জামিউল আলীম জীবন নলডাঙ্গা শহীদ নজমুল হক ডিগ্রি কলেজের বিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ছিলেন। দেড় বছর আগে বিয়ে করা জামিউল আলীম জীবনের তিন মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। জামিউল আলীম জীবন আগে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বিয়ে ও বাচ্চা হওয়ার কারনে ছাত্রলীগের কর্মকান্ড থেকে সে অব্যহতি নিয়েছিল।
নলডাঙ্গা থানার বারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ফরহাদ হোসেন শাহ এর স্ত্রী জাহানারা বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, তার ছোট দুই ভাই ফয়সাল ও আলিম আল রাজিসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মারপিটের মামলা দায়ের করেছেন। এখন এই মামলাই হত্যা মামলা হিসেবে গন্য হবে।
এদিকে জীবনের মতৃ্যুর সংবাদ পেয়ে জীবনের বাড়িতে দলের নেতাকর্মী ছাড়াও এলাকার শতশত মানুষ ভিড় জমিয়েছে। অপরদিকে জীবনের বাড়িতে চলছে আহাজারি। স্বজনদের কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।
নিহত জীবনের চাচা এসএম ফকরুদ্দিন ফুটু জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান সরকারি লোক হয়েও নিজের আক্রোশ মেটাতে তিন ভাই ও অন্য লোকজন নিয়ে তাদের নির্মম ভাবে মারপিট করেছে। যার জেরে সদ্য বিবাহিত যুবক জামিউল আলীম জীবন মারা গেলো। তিন মাস বয়সী সন্তান রুপমকে নিয়ে তার কলেজ পড়ুয়া স্ত্রী বিধবা হয়ে গেল। আমি দ্রুত চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

আদমদীঘিতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ: গ্রেফতার-১

নাটোরের নলডাঙ্গায় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদের মারপিটে আহত জীবন মারা গেছে

আপডেট টাইম : ০৫:১৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ও তারসহযোগিদের মারপিটে আহত ছাত্রলীগ নেতা জামিউল আলীম জীবন মারা গেছে। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া দুইটার সময় রামেক কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার পর রামেক মর্গে ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় স্থানীয় আমতলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুল নিহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জামিউল আলীম জীবনের পরিবারকে সান্তনা দিতে গিয়ে বলেন, জীবন মঙ্গলবারই মারা গেছে। চেয়ারম্যান আসাদকে বাঁচাতে নাটক সাজিয়ে জীবনকে মৃত ঘোষণা না করে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রেখে দেয়া হয়েছিল। মরদেহ নিয়ে এই নাটক কারা সাজিয়েছে তা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। জেলা আওয়ামীলীগ আসাদকে বাঁচানোর চেষ্ঠা করছে বলেও তিনি দাবী করেন। এমপি শিমুল নিহত ছাত্রলীগ নেতা জীবনের বাড়িতে যাওয়ার সময় হাজার হাজার নেতাকর্মী চেয়ারম্যান আসাদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ করে। এদিকে গত সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নলডাঙ্গা উপজেলার রামশার কাজীপুর আমতলী বাজার সংলগ্ন চারমাথা মোড়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ও তার লোকজনের মারপিটে গুরুতর আহত হন জামিউল আলীম জীবন ও তার বাবা ফরহাদ হোসেন শাহ। এ অবস্থায় তাদের প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বাবা ফরহাদ হোসেন শাহকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করে তোলা হলেও জীবনকে আইসিইউতে লাইফ সার্পোটে রাখা হয়।
সেখানে গত ৫ দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে ছিলেন জীবন। এ অবস্থায় তার মৃত্যু নিয়ে চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল তার মৃত্যু হয়েছে আগেই কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর বিষয়টি কখনই নিশ্চিত করেননি। বরং আরো ৭২ ঘন্টার নিবির পর্যবেক্ষনে আইসিইউতে লাইফ সার্পোটে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত জীবনের জীবন দিয়ে প্রমাণ করলো তার নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে। এরআগে দুই দফা মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আওয়ামীলীগ-যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ সাধারন মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এনিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষ মিছিল-সমাবেশ করে উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী জানানো হয়। এমনকি তাকে এলাকায় অবাঞ্চিত ঘোষণাও করা হয়।
এব্যাপারে জীবনের পরিবারের অভিযোগ, জীবন অনেক আগেই মারা গেছে। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য ঘটনায় জামিউল আলীম জীবনকে আইসিইউতে লাইফ সার্পোটে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৭২ ঘন্টার নিবির পর্যবেক্ষনে রাখার কথা বলে আবারও আইসিইউতে রাখা হয়। আজ দুপুর একটার সময় জীবনের মৃত্যু নিশ্চিত করে তাদের কাছে সোয়া দুইটার সময় মরদেহ হস্তান্তর করেন। পরে তার ময়না তদন্তের জন্য মরদেহটি ফের মর্গে নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামিউল আলীম জীবনের বড় চাচা অধ্যাপক এমএম ফিরোজসহ তার পরিবারের লোকজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শনিবার রামশার কাজীপুর আমতলী বাজারের জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর মসজিদের ভিতর থেকে মাইকের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ওই গ্রামের কয়েক জনকে চুরির সাথে জড়িত বলে সন্দেহ করেন। এ নিয়ে চেয়ারম্যান শালিশী বৈঠক বসিয়ে সন্দেহ ভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান তার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই জামিউল আলিম জীবনকে জোড়পূর্বক দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামিউল আলিম জীবন নিজেকে নির্দোষ দাবী করে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে স্ট্যটাস দেয়। এ বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যটাস দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদ।
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে জামিউল আলিম জীবন আমতলী বাজার সংলগ্ন চারমাথা মোড়ে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদসহ তার লোকজন তাকে ডেকে পাঠায়। এক পর্যায়ে তার সাথে ফেসবুকে স্ট্যটাস দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং চেয়ারম্যান আসাদ, তার বড় ভাই ফয়সাল ও ছোট ভাই আলিম আল রাজি এবং তার লোকজন জীবনকে কিল ঘুষিসহ মারপিট করতে থাকে। খবর পেয়ে তার বাবা ফরহাদ হোসেন ছেলেকে ছাড়াতে এগিয়ে আসলে তাকেও মারপিট করতে থাকে চেয়ারম্যান। হামলা কারীরা রড, বাঁশেরলাঠি ও ধারালো হাসুয়া দিয়ে তাদের আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। পরে স্থানীয় লোকজনসহ স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং আহত জামিউল আলীম জীবনকে মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে রাখা হয়। পরে এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আহত ফরহাদ হোসেন শাহ এর স্ত্রী জাহানারা বেগম বাদী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদ, তার ছোট দুইভাই ও অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনের নামে নলডাঙ্গা থানায় তার স্বামী-সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা দায়েরের পর উপজেলা চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আলিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অন্যদিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ও তার ভাই ফয়সাল হোসেন শাহ (ফটিক) পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আহত ফরহাদ হোসেন শাহ ওই গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দিন শাহের ছেলে এবং নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম ফিরোজের আপন ভাই। নিহত জামিউল আলীম জীবন নলডাঙ্গা শহীদ নজমুল হক ডিগ্রি কলেজের বিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ছিলেন। দেড় বছর আগে বিয়ে করা জামিউল আলীম জীবনের তিন মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। জামিউল আলীম জীবন আগে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বিয়ে ও বাচ্চা হওয়ার কারনে ছাত্রলীগের কর্মকান্ড থেকে সে অব্যহতি নিয়েছিল।
নলডাঙ্গা থানার বারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ফরহাদ হোসেন শাহ এর স্ত্রী জাহানারা বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, তার ছোট দুই ভাই ফয়সাল ও আলিম আল রাজিসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মারপিটের মামলা দায়ের করেছেন। এখন এই মামলাই হত্যা মামলা হিসেবে গন্য হবে।
এদিকে জীবনের মতৃ্যুর সংবাদ পেয়ে জীবনের বাড়িতে দলের নেতাকর্মী ছাড়াও এলাকার শতশত মানুষ ভিড় জমিয়েছে। অপরদিকে জীবনের বাড়িতে চলছে আহাজারি। স্বজনদের কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে।
নিহত জীবনের চাচা এসএম ফকরুদ্দিন ফুটু জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান সরকারি লোক হয়েও নিজের আক্রোশ মেটাতে তিন ভাই ও অন্য লোকজন নিয়ে তাদের নির্মম ভাবে মারপিট করেছে। যার জেরে সদ্য বিবাহিত যুবক জামিউল আলীম জীবন মারা গেলো। তিন মাস বয়সী সন্তান রুপমকে নিয়ে তার কলেজ পড়ুয়া স্ত্রী বিধবা হয়ে গেল। আমি দ্রুত চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।