ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভূল অসত্য সংবাদ পরিবেশন করায় ব্যবসায়ীর  সংবাদ সম্মেলন কেটালী পাড়ায় দিনে দুপুরে সরকারী কোয়াটারে চুরি জনবান্ধব ভূমি সংস্কারে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: ভূমিমন্ত্রী ভূমি অফিসে যেন কোনো দালাল না থাকে: মন্ত্রী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহীন আলম বিলাশবহুল ৮তলা বাড়ীর মালিক! মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নিয়ে এতো অনাসৃষ্টি কেন? চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা: শোভন দত্তের বিরুদ্ধে সরকারী টাকা আত্মসাত,বিদেশে টাকা পাচার,অবৈধ সম্পদ অর্জন ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগ! দদুকের তদন্ত থাকা কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক ডিজি নিয়োগের তোড়জোড়! গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত, মহাসড়ক অবরোধ মির্জাগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও  শহীদ  দিবসে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির শ্রদ্ধা নিবেদন 

দুদকের তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছেন গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার!

বিশেষ প্রতিবেদক
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: শামীম আখতারের পুর্ব কর্মস্থলের যাবতীয় অনিয়ম -দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সংক্রান্তে গত ৬ নভেম্বর ২০২২ ইং তারিখে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আফরোজা হক খান পত্র নং ৭৯০ এর মাধ্যমে এইচবিআরআই এর বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন ও জেনারেটর বসানো,অটোমেটিক ব্লক মেকিং প্লান্ট এবং নিরাপত্তা কর্মীর বেতন সংক্রাংন্ত অনিয়মের বিভাগীয় প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার জন্য বিভাগীয় তদন্তের ছায়ালিপি সরবরাহের জন্য মহাপরিচালক হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনষ্টিটিউটকে অনুরোধ করেন। দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের স্মারক নং ০০.০১.০০০০.১০৯.২৮.০০১.২২.১৬৬৪ তাং ০৩/১১/২০২২ ইং মোতাবেক এই পত্র ইস্যু করা হয়।
দুদকের সহকারি পরিচালকের উক্ত পত্রের আলোকে হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনষ্টিটিউট এর স্মারক নং ২৫.৪৪.২৬০০.০০.০০০০.১০.০৪৭.২২-৩৭০৪ মোতাবেক চাহিদামত তিনটি বিভাগীয় তদন্তের ছায়ালিপি দুদকে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো: শামীম আখতার হাউজিং বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক থাকাকালে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেন । এসময় তিনি কিংডম বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিধি বহির্ভুতভাবে কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারী কাজ দিয়ে বিল প্রদান করে সরকারের আর্থিক অপচয় করেন এবং অনৈতিক উপায়ে নিজে লাভবান হন।
এ ছাড়া ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিসেস নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গার্ড,সিকিউরিটি সুপারভাইজার ও সিকিউরিটি ইনচার্জ পদে ১৭ মাস যাবৎ জনবল সেবা গ্রহন করে ৪৩ লক্ষ ৬০ হাজার পঞ্চাশ টাকা বকেয়া বিল প্রদান না করা ও তাদের কার্যাদেশ বাতিল করে বিধি বহির্ভুতভাবে পিপিআর ও আউটসোর্সিং নীতিমালা ভংগ করে নেটওয়ার্ক এলিমেন্টস অফ সিকিউরিটি এন্ড ট্রাষ্টকে কার্যাদেশ প্রদান করায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শেখ আমিনুল হক লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদন্ত করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যার স্মারক নং ২৫.৪৪.২৬০০.০০.০০০০.০৪২.০৮.২১-৩৬৮৯ তারিখ ২৬/১০/২০২২ ইং। এর আগে এইচবিআরআই এ ঠিকাদারী কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত আরেকটি বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন (৩৭৩ পাতা) গণপুর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এমন কি দুদককে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ বা নির্দেশও দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা দুদক চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সর্বশেষ ৬৬৬ এ কল করে বিষয়টি তদন্তের দাবী জানান। তদপ্রেক্ষিতেই দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের স্মারক নং ০০.০১.০০০০.১০৯.২৮.০০১.২২.১৬৬৪ তাং ০৩/১১/২০২২ ইং মোতাবেক বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে দুদকের সহকারি পরিচালক আফরোজা হক খানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম -দুর্নীতির তদন্ত করছি। তদন্ত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
উপরোক্ত অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্তের অনেক প্রকৌশলীই মন্তব্য করেন যে, স্যার এবার ফেঁসে যেতে পারেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মো: শামীম আখতারের অফিসে ফোন করলে তার স্টাফ অফিসার বলেন,স্যার মন্ত্রণালয়ে মিটিং এ আছেন।

ট্যাগস

ভূল অসত্য সংবাদ পরিবেশন করায় ব্যবসায়ীর  সংবাদ সম্মেলন

দুদকের তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছেন গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার!

আপডেট টাইম : ১২:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ নভেম্বর ২০২২

বিশেষ প্রতিবেদক
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: শামীম আখতারের পুর্ব কর্মস্থলের যাবতীয় অনিয়ম -দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সংক্রান্তে গত ৬ নভেম্বর ২০২২ ইং তারিখে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আফরোজা হক খান পত্র নং ৭৯০ এর মাধ্যমে এইচবিআরআই এর বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন ও জেনারেটর বসানো,অটোমেটিক ব্লক মেকিং প্লান্ট এবং নিরাপত্তা কর্মীর বেতন সংক্রাংন্ত অনিয়মের বিভাগীয় প্রতিবেদন পর্যালোচনা করার জন্য বিভাগীয় তদন্তের ছায়ালিপি সরবরাহের জন্য মহাপরিচালক হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনষ্টিটিউটকে অনুরোধ করেন। দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের স্মারক নং ০০.০১.০০০০.১০৯.২৮.০০১.২২.১৬৬৪ তাং ০৩/১১/২০২২ ইং মোতাবেক এই পত্র ইস্যু করা হয়।
দুদকের সহকারি পরিচালকের উক্ত পত্রের আলোকে হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনষ্টিটিউট এর স্মারক নং ২৫.৪৪.২৬০০.০০.০০০০.১০.০৪৭.২২-৩৭০৪ মোতাবেক চাহিদামত তিনটি বিভাগীয় তদন্তের ছায়ালিপি দুদকে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানাগেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো: শামীম আখতার হাউজিং বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক থাকাকালে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেন । এসময় তিনি কিংডম বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিধি বহির্ভুতভাবে কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারী কাজ দিয়ে বিল প্রদান করে সরকারের আর্থিক অপচয় করেন এবং অনৈতিক উপায়ে নিজে লাভবান হন।
এ ছাড়া ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিসেস নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গার্ড,সিকিউরিটি সুপারভাইজার ও সিকিউরিটি ইনচার্জ পদে ১৭ মাস যাবৎ জনবল সেবা গ্রহন করে ৪৩ লক্ষ ৬০ হাজার পঞ্চাশ টাকা বকেয়া বিল প্রদান না করা ও তাদের কার্যাদেশ বাতিল করে বিধি বহির্ভুতভাবে পিপিআর ও আউটসোর্সিং নীতিমালা ভংগ করে নেটওয়ার্ক এলিমেন্টস অফ সিকিউরিটি এন্ড ট্রাষ্টকে কার্যাদেশ প্রদান করায় উক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শেখ আমিনুল হক লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদন্ত করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যার স্মারক নং ২৫.৪৪.২৬০০.০০.০০০০.০৪২.০৮.২১-৩৬৮৯ তারিখ ২৬/১০/২০২২ ইং। এর আগে এইচবিআরআই এ ঠিকাদারী কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি সংক্রান্ত আরেকটি বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন (৩৭৩ পাতা) গণপুর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এমন কি দুদককে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ বা নির্দেশও দেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা দুদক চেয়ারম্যান বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সর্বশেষ ৬৬৬ এ কল করে বিষয়টি তদন্তের দাবী জানান। তদপ্রেক্ষিতেই দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের স্মারক নং ০০.০১.০০০০.১০৯.২৮.০০১.২২.১৬৬৪ তাং ০৩/১১/২০২২ ইং মোতাবেক বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে দুদকের সহকারি পরিচালক আফরোজা হক খানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম -দুর্নীতির তদন্ত করছি। তদন্ত প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
উপরোক্ত অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্তের অনেক প্রকৌশলীই মন্তব্য করেন যে, স্যার এবার ফেঁসে যেতে পারেন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মো: শামীম আখতারের অফিসে ফোন করলে তার স্টাফ অফিসার বলেন,স্যার মন্ত্রণালয়ে মিটিং এ আছেন।