ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভূল অসত্য সংবাদ পরিবেশন করায় ব্যবসায়ীর  সংবাদ সম্মেলন কেটালী পাড়ায় দিনে দুপুরে সরকারী কোয়াটারে চুরি জনবান্ধব ভূমি সংস্কারে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: ভূমিমন্ত্রী ভূমি অফিসে যেন কোনো দালাল না থাকে: মন্ত্রী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহীন আলম বিলাশবহুল ৮তলা বাড়ীর মালিক! মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নিয়ে এতো অনাসৃষ্টি কেন? চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা: শোভন দত্তের বিরুদ্ধে সরকারী টাকা আত্মসাত,বিদেশে টাকা পাচার,অবৈধ সম্পদ অর্জন ও নারী কেলেংকারীর অভিযোগ! দদুকের তদন্ত থাকা কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক ডিজি নিয়োগের তোড়জোড়! গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহত, মহাসড়ক অবরোধ মির্জাগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও  শহীদ  দিবসে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির শ্রদ্ধা নিবেদন 

১০ মাসেও দেওয়া হয়নি বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন: মতিঝিল থানা ওসিকে শোকজ!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিআইডব্লিউটিএর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন-সিবিএর বহিষ্কৃত সভাপতি মো. আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় ১০ মাসেও তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়ায় মতিঝিল থানার ওসিকে শোকজ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন কোর্ট নং ১৫। আগামী ১৫/১২/২০২২ ইং তারিখে ১০ মাস বিলম্বের কারণের লিখিত ব্যাখ্যা ও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১২/১০/২০২২ ইং তারিখে ঢাকা মেট্রোপলিটন ১৫ নং আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী এই আদেশ দেন। মামলা নং সিআর ১৫১৬/২০২১। স্মারক নং ৯৮৫ তারিখ:০১/১১/২০২২ইং।
আদালত সুত্রে জানাগেছে, বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরসহ নানা অভিযোগে  বিআইডব্লিউটিএর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন-সিবিএর বহিষ্কৃত সভাপতি মো. আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে মামলা করা হয়। যার মামলা নং- ১৫১৬/২০২১। ধারা ৫০০/৫০৬ দঃ বিঃ। মামলাটি করেছেন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার বড়লক্ষিপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের পুত্র মো. ওসমান গনি। ওসমান গনি বিআইডব্লিউটি ‘র ফ্লোটিং ওয়ার্কস ইউনিয়নের সভাপতি ও বিআইডব্লিউটিএর ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার। যার রেজিঃ বি-১২৩০ (জাতীয় শ্রমিকলীগের অন্তর্ভুক্ত) ১৪১-১৪৩। আসামি আবুল হোসেনের বাড়ি রাজধানীর সবুজবাগ থানার কাঠেরপুল এলাকার মৃত শিরু মিয়ার ছেলে। এছাড়াও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ ইং তারিখে এই পিটশন মামলাটি আদালত কর্তৃক গ্রহন করার পর ঘটনাটি সত্য কি না তা তদন্ত করে মতিঝিল থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সম্পূর্ণ অজ্ঞাত কারণে মতিঝিল থানার ওসি দীর্ঘ ১০ মাসেও তদন্ত রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করেন নি। মামলার বাদী বারবার ওসির নিকট এসে আবেদন নিবেদন করলেও তিনি সেটি কর্ণপাত করেন নি। যা আদালতের আদেশ অমান্য ও দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃত অবহেলা জনিত অপরাধ।

মামলার বাদী ওসমান গনি জানান, বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে গত ৩০ ডিসেম্বর আমি মামলা দায়ের করেছি। এজন্য আবুল হোসেন আমার ওপর রেগে গিয়ে সিবিএ নেতা রফিকুল ইসলাম ও তার বাহিনী দিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় আমি প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। এ সময় ওই মামলার ১নং সাক্ষী মো. সুমনকেও ওরা মারধর করেছে। সুমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। ওই সময় হামলাকারীরা মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় আমার সাথে থাকা মামলার কাগজপত্র ও দুটি মোবাইল ফোনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও জিনিসও ছিনিয়ে নিয়েছে।
মামলার অভিযোগ মতে, আবুল হোসেন বিআইডব্লিউটিএর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন সিবিএ রেজিঃ নং- বি- ২১৭৬ এর বহিষ্কৃত সভাপতি। তিনি বিআইডব্লিউটিএর হিসাব শাখায় অফিস সহকারী কাম কোষাধ্যক্ষ পদে কর্মরত আছেন। ট্রেড ইউনিনের নিয়ম অনুযায়ী কোষাধ্যক্ষ পদে কর্মরত থেকে কোন কর্মচারী ট্রেড ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে পারেন না। তারপরও সে উক্ত নিয়ম ভঙ্গ করে বিধি বহির্ভূতভাবে অবৈধ অর্থ বিনিয়োগ করে এবং অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে অর্থ প্রতিপত্তির জোরে সিবিএ ট্রেড রাজনীতিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। সভাপতির পদ ধরে রেখে বিআইডব্লিউটিএর কর্মচারীদের ওপর অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিত্তের মালিক হন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিত্তের মালিক হওয়ার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
তার অপরাধ ও দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৭ সালে উক্ত সংগঠনের উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংগঠনের সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২১ জুলাই নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার স্মারক নং- ১৮০১৬.০২৭.০০.০০.০০২.২০১০-১২৩৩ মোতাবেক ঢাকার বাইরে বদলীসহ ৫টি শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।
মতিঝিল থানার ওসি কেন ১০ মাসেও আদালতের নির্দেশ পালন করেন নি। তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও মহা পুলিশ পরিদর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল অসত্য সংবাদ পরিবেশন করায় ব্যবসায়ীর  সংবাদ সম্মেলন

১০ মাসেও দেওয়া হয়নি বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন: মতিঝিল থানা ওসিকে শোকজ!

আপডেট টাইম : ০৯:২৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ নভেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিআইডব্লিউটিএর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন-সিবিএর বহিষ্কৃত সভাপতি মো. আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় ১০ মাসেও তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়ায় মতিঝিল থানার ওসিকে শোকজ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন কোর্ট নং ১৫। আগামী ১৫/১২/২০২২ ইং তারিখে ১০ মাস বিলম্বের কারণের লিখিত ব্যাখ্যা ও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১২/১০/২০২২ ইং তারিখে ঢাকা মেট্রোপলিটন ১৫ নং আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরী এই আদেশ দেন। মামলা নং সিআর ১৫১৬/২০২১। স্মারক নং ৯৮৫ তারিখ:০১/১১/২০২২ইং।
আদালত সুত্রে জানাগেছে, বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরসহ নানা অভিযোগে  বিআইডব্লিউটিএর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন-সিবিএর বহিষ্কৃত সভাপতি মো. আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে মামলা করা হয়। যার মামলা নং- ১৫১৬/২০২১। ধারা ৫০০/৫০৬ দঃ বিঃ। মামলাটি করেছেন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার বড়লক্ষিপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের পুত্র মো. ওসমান গনি। ওসমান গনি বিআইডব্লিউটি ‘র ফ্লোটিং ওয়ার্কস ইউনিয়নের সভাপতি ও বিআইডব্লিউটিএর ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার। যার রেজিঃ বি-১২৩০ (জাতীয় শ্রমিকলীগের অন্তর্ভুক্ত) ১৪১-১৪৩। আসামি আবুল হোসেনের বাড়ি রাজধানীর সবুজবাগ থানার কাঠেরপুল এলাকার মৃত শিরু মিয়ার ছেলে। এছাড়াও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ ইং তারিখে এই পিটশন মামলাটি আদালত কর্তৃক গ্রহন করার পর ঘটনাটি সত্য কি না তা তদন্ত করে মতিঝিল থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সম্পূর্ণ অজ্ঞাত কারণে মতিঝিল থানার ওসি দীর্ঘ ১০ মাসেও তদন্ত রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করেন নি। মামলার বাদী বারবার ওসির নিকট এসে আবেদন নিবেদন করলেও তিনি সেটি কর্ণপাত করেন নি। যা আদালতের আদেশ অমান্য ও দায়িত্ব পালনে ইচ্ছাকৃত অবহেলা জনিত অপরাধ।

মামলার বাদী ওসমান গনি জানান, বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে গত ৩০ ডিসেম্বর আমি মামলা দায়ের করেছি। এজন্য আবুল হোসেন আমার ওপর রেগে গিয়ে সিবিএ নেতা রফিকুল ইসলাম ও তার বাহিনী দিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় আমি প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। এ সময় ওই মামলার ১নং সাক্ষী মো. সুমনকেও ওরা মারধর করেছে। সুমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। ওই সময় হামলাকারীরা মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় আমার সাথে থাকা মামলার কাগজপত্র ও দুটি মোবাইল ফোনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও জিনিসও ছিনিয়ে নিয়েছে।
মামলার অভিযোগ মতে, আবুল হোসেন বিআইডব্লিউটিএর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন সিবিএ রেজিঃ নং- বি- ২১৭৬ এর বহিষ্কৃত সভাপতি। তিনি বিআইডব্লিউটিএর হিসাব শাখায় অফিস সহকারী কাম কোষাধ্যক্ষ পদে কর্মরত আছেন। ট্রেড ইউনিনের নিয়ম অনুযায়ী কোষাধ্যক্ষ পদে কর্মরত থেকে কোন কর্মচারী ট্রেড ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে পারেন না। তারপরও সে উক্ত নিয়ম ভঙ্গ করে বিধি বহির্ভূতভাবে অবৈধ অর্থ বিনিয়োগ করে এবং অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে অর্থ প্রতিপত্তির জোরে সিবিএ ট্রেড রাজনীতিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। সভাপতির পদ ধরে রেখে বিআইডব্লিউটিএর কর্মচারীদের ওপর অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিত্তের মালিক হন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ বিত্তের মালিক হওয়ার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
তার অপরাধ ও দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৭ সালে উক্ত সংগঠনের উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংগঠনের সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২১ জুলাই নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখার স্মারক নং- ১৮০১৬.০২৭.০০.০০.০০২.২০১০-১২৩৩ মোতাবেক ঢাকার বাইরে বদলীসহ ৫টি শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।
মতিঝিল থানার ওসি কেন ১০ মাসেও আদালতের নির্দেশ পালন করেন নি। তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও মহা পুলিশ পরিদর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।