ঢাকা ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মির্জাগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও  শহীদ  দিবসে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির শ্রদ্ধা নিবেদন  ৫২’র ভাষা শহীদদের প্রতি মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের শ্রদ্ধা নিবেদন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন ডিজি ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার! বাসাবো এলাকায় রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান; ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা দুই সাব-রেজিস্ট্রারের বদলী উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীল হবেন দুদক কর্মকর্তারা বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে ভূমি অফিস পরিচালনা করুন: ভূমিমন্ত্রী বাসাবো এলাকায় রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান; ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা মাগুরায় মাদরাসার সভাপতির ধমকে সুপার অজ্ঞান  মাগুরায় সাকিবের পৃষ্ঠপোষকতায় মহান একুশ উপলক্ষে শহরে আলপনার উদ্যোগ 

লক্ষীপুরের অন্যতম অর্থকরী ফসল সুপারী, রপ্তানী হচ্ছে বিদেশেও

মোঃ মামুন হোসাইন, লক্ষীপুর:
উপকূলীয় জনপদ লক্ষীপুরের সবচেয়ে বেশি সুপারি উৎপাদন হয়। এখানকার সুপারি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই লক্ষীপুরের বাজারগুলোতে সুপারির কেনাবেচা দেখা যায়, তবে জেলার এক একটি বাজার ভিন্ন দিবসে বাজার বসে। তারমধ্যে, দালালবাজার, হায়দারগঞ্জ বাজার , রায়পুর বাজার ও লক্ষীপুর উত্তর তেহমুনী বাজার সুপারীর বড়বাজার গুলোর মধ্যে অন্যতম।

বর্তমান সময়ে সুপারি ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে বস্তাভরে প্রক্রিয়াজাত করছেন। সুপারি প্রতি পণ (৮০ টি)বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়। প্রতিটি কাহন (১৬ পণ) সুপারি এখন বিক্রি হচ্ছে ২২শ থেকে ২৪ শ ৫০ টাকায়।
এ ছাড়া লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার উপশহর হায়দারগঞ্জ, মোল্লারহাট, রাখালিয়া বাজার, সদর উপজেলা পোদ্দার বাজার, বশিকপুর পাটওয়ারি হাট , সোনাপুর সমবায় বাজার, জকসিন, চন্দ্রগঞ্জ ও ভবানীগঞ্জ । রামগঞ্জ উপজেলার মিরগঞ্জ রামগঞ্জ বাজার সহ কমলনগর ও রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার চরফলকন, তোরাবগঞ্জ বাজার ও রামগতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সুপারি কেনা-বেচা হয় জমজমাট।

গত বছর সুপারিতে ৯৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে পাঁচ হাজার ৫০০ কাহনসুপারি ক্রয় করেন দালাল বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন। একই বছর জেলার বিভিন্ন স্থানে সুপারি ব্যবসা করে তিনি লাভ করেন ১৯ লাখ টাকার উপরে।তিনি বলেন লক্ষীপুর জেলা সুপারির ব্যপক চাহিদা এই জেলায় সুপারির উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক বেশি।জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষীপুরে সাতহাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যে এবার সুপারি থেকে হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। গেল বছর প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা আয় করেছে লক্ষীপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
২০১০-১১ অর্থবছরে জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৬ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ১২ হাজার ৮৬২ টন সুপারি উৎপাদন হয়। সে তুলনায় ২০২০-২১ অর্থবছরে এসে সাত হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ১৭ হাজার টন সুপারি উৎপাদন হয় । পাঁচবছরে এখানকার উৎপাদিত সুপারি থেকে ৩০০ কোটি টাকা আয় হলেও চলতি বছর দ্বিগুণ আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এক মাস ধরে বাগান থেকে জেলার বাজারগুলোতে পাকাসুপারি কৃষকরা আনতে শুরু করেছেন। এ অঞ্চলের সুপারি সাইজে বড় ও সুস্বাদু  হওয়ায় জেলার বাইরে সুপারির চাহিদা বেশি। এখন জমজমাট বেচা-কেনাচলছে লক্ষীপুরের বাজারগুলোতে।
লক্ষীপুরের সুপারির বড়বাজার দালালবাজার, হায়দারগঞ্জ বাজারও লক্ষীপুর উত্তর তেমুহনী সুপারি বাজার ঘুরে দেখাযায়, বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বেপারীরা সুপারি কিনে বস্তা ভরছেন। চাষীরাও দর কষাকষি করে সুপারি বিক্রি করছেন। প্রতিপণ (৮০টি) সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়। মানে ভালো হলে বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়। প্রতিকাহন (১৬ পণ) সুপারি এখানে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২৪০ টাকায়।
গত বছর সুপারিতে ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ছয় হাজার কাহন সুপারি ক্রয় করেন লক্ষীপুর পৌর শহরের বাসিন্দা সুপারি বেপারি আলমগীর হোসেন। জেলার বাইরে সুপারি সরবরাহ করে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ করেন। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সুপারির ব্যাপক চাহিদা। তবে এবার চাহিদার তুলনায় সুপারির উৎপাদন বেশি, তাই দাম একটু কম। তবুও লাভের আশায় সুপারি কেনা-বেচা করছেন তিনি।
তবে আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় এ বছর সুপারির আকার অনেকটা ছোট। বেশি দামে কিনলেও পরে বিক্রি করতে গেলে দাম কমে যাওয়ার শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষিবিপণন অধিদপ্তর লক্ষীপুর মার্কেটিং অফিসার মনির হোসেনের তথ্যমতে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় এবার সাতহাজার হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদন হয় ১৭ হাজারটন, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। সে হারে গত ১০ বছরের তুলনায় চলতি বছর ৪ হাজার ১৩৮ টন উৎপাদন বেড়েছে।

মির্জাগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও  শহীদ  দিবসে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির শ্রদ্ধা নিবেদন 

লক্ষীপুরের অন্যতম অর্থকরী ফসল সুপারী, রপ্তানী হচ্ছে বিদেশেও

আপডেট টাইম : ০৯:৫৫:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর ২০২২

মোঃ মামুন হোসাইন, লক্ষীপুর:
উপকূলীয় জনপদ লক্ষীপুরের সবচেয়ে বেশি সুপারি উৎপাদন হয়। এখানকার সুপারি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই লক্ষীপুরের বাজারগুলোতে সুপারির কেনাবেচা দেখা যায়, তবে জেলার এক একটি বাজার ভিন্ন দিবসে বাজার বসে। তারমধ্যে, দালালবাজার, হায়দারগঞ্জ বাজার , রায়পুর বাজার ও লক্ষীপুর উত্তর তেহমুনী বাজার সুপারীর বড়বাজার গুলোর মধ্যে অন্যতম।

বর্তমান সময়ে সুপারি ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে বস্তাভরে প্রক্রিয়াজাত করছেন। সুপারি প্রতি পণ (৮০ টি)বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়। প্রতিটি কাহন (১৬ পণ) সুপারি এখন বিক্রি হচ্ছে ২২শ থেকে ২৪ শ ৫০ টাকায়।
এ ছাড়া লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার উপশহর হায়দারগঞ্জ, মোল্লারহাট, রাখালিয়া বাজার, সদর উপজেলা পোদ্দার বাজার, বশিকপুর পাটওয়ারি হাট , সোনাপুর সমবায় বাজার, জকসিন, চন্দ্রগঞ্জ ও ভবানীগঞ্জ । রামগঞ্জ উপজেলার মিরগঞ্জ রামগঞ্জ বাজার সহ কমলনগর ও রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার চরফলকন, তোরাবগঞ্জ বাজার ও রামগতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সুপারি কেনা-বেচা হয় জমজমাট।

গত বছর সুপারিতে ৯৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে পাঁচ হাজার ৫০০ কাহনসুপারি ক্রয় করেন দালাল বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন। একই বছর জেলার বিভিন্ন স্থানে সুপারি ব্যবসা করে তিনি লাভ করেন ১৯ লাখ টাকার উপরে।তিনি বলেন লক্ষীপুর জেলা সুপারির ব্যপক চাহিদা এই জেলায় সুপারির উৎপাদন আগের তুলনায় অনেক বেশি।জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষীপুরে সাতহাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যে এবার সুপারি থেকে হাজার কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। গেল বছর প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা আয় করেছে লক্ষীপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
২০১০-১১ অর্থবছরে জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৬ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ১২ হাজার ৮৬২ টন সুপারি উৎপাদন হয়। সে তুলনায় ২০২০-২১ অর্থবছরে এসে সাত হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ১৭ হাজার টন সুপারি উৎপাদন হয় । পাঁচবছরে এখানকার উৎপাদিত সুপারি থেকে ৩০০ কোটি টাকা আয় হলেও চলতি বছর দ্বিগুণ আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এক মাস ধরে বাগান থেকে জেলার বাজারগুলোতে পাকাসুপারি কৃষকরা আনতে শুরু করেছেন। এ অঞ্চলের সুপারি সাইজে বড় ও সুস্বাদু  হওয়ায় জেলার বাইরে সুপারির চাহিদা বেশি। এখন জমজমাট বেচা-কেনাচলছে লক্ষীপুরের বাজারগুলোতে।
লক্ষীপুরের সুপারির বড়বাজার দালালবাজার, হায়দারগঞ্জ বাজারও লক্ষীপুর উত্তর তেমুহনী সুপারি বাজার ঘুরে দেখাযায়, বিভিন্ন স্থান থেকে আগত বেপারীরা সুপারি কিনে বস্তা ভরছেন। চাষীরাও দর কষাকষি করে সুপারি বিক্রি করছেন। প্রতিপণ (৮০টি) সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়। মানে ভালো হলে বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকায়। প্রতিকাহন (১৬ পণ) সুপারি এখানে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২৪০ টাকায়।
গত বছর সুপারিতে ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ছয় হাজার কাহন সুপারি ক্রয় করেন লক্ষীপুর পৌর শহরের বাসিন্দা সুপারি বেপারি আলমগীর হোসেন। জেলার বাইরে সুপারি সরবরাহ করে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ করেন। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সুপারির ব্যাপক চাহিদা। তবে এবার চাহিদার তুলনায় সুপারির উৎপাদন বেশি, তাই দাম একটু কম। তবুও লাভের আশায় সুপারি কেনা-বেচা করছেন তিনি।
তবে আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় এ বছর সুপারির আকার অনেকটা ছোট। বেশি দামে কিনলেও পরে বিক্রি করতে গেলে দাম কমে যাওয়ার শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষিবিপণন অধিদপ্তর লক্ষীপুর মার্কেটিং অফিসার মনির হোসেনের তথ্যমতে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় এবার সাতহাজার হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদন হয় ১৭ হাজারটন, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। সে হারে গত ১০ বছরের তুলনায় চলতি বছর ৪ হাজার ১৩৮ টন উৎপাদন বেড়েছে।