ঢাকা ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নির্বাচন ঘিরে চলছে নিরব চাঁদাবাজী

বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বইছে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নির্বাচনী আমেজ। প্রার্থীদের ব্যানার ফেস্টুনে ভরে গেছে হাসপাতাল এলাকা। অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাদাঁবাজি অভিযোগ উঠেছে। এ সব চাদাঁ আদায় করছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ও ডায়গণস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি সদস্যদের কাজ থেকে  এবং হাসপাতালের বর্হিরাগত এ্যাম্বুলেন্সের মালিকদের কাছ থেকে নির্বাচনের কথা তারা টাকা আদায় করছে। এমন কি হাসপাতালের আশপাশের দোকান গুলোতেও বাদ নেই। হাসপাতালের সাধারণ কর্মচারীদের কাছ থেকে এ সব অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, সভাপতি পদ প্রার্থী মো. রমিজ,  মো.আলম ওরফে ভাগ্নে আলম ও মো. দিনাসহ ডজন খানেক প্রার্থী এই চাঁদাবাজিতে নিপ্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের আনাছে কানাছে প্রচারণার জন্য প্রার্থীদের প্লাকার্ড এমনভাবে রাখা হয়েছে যে, চিকিৎসকের নেমপ্লেটও সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। অথচ জরুরি বিভাগে রাত দিন ২৪ ঘন্টা রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে তৎক্ষণিকভাবে এর ছবি তুলতে গেলে প্রার্থীরা সেগুলো সরিয়ে ফেলেন। এছাড়া হাসপাতালের ভিতরের দেওয়ালে পোস্টার লাগানো নিষেধ থাকলেও কেউ কেউ সেখানেও পোস্টার লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সোমবার ঢামেক হাসপাতালের তিনটি ভবনের সামনে ও বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ জরুরি বিভাগে প্রার্থীদের বিভিন্ন রঙয়ের ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচার করতে দেখা যায়। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামী ৮ ডিসেম্বর এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেন। ২৭ টি পদে ১০৪ জন পদ প্রার্থী।  এরপরই শুরু হয়েছে হাসপাতালে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। এ নির্বাচনের কমিশন জানিয়েছেন, কারো প্রচার-প্রচারণায় আচরণ বিধি লঙ্ঘন হলেই সেই প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেশ কয়েকটি আচরণবিধির মধ্যে একটি হচ্ছে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করে তারপর নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে হবে। যদি নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে- এরকম প্রমাণ পেলে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন ৯২৩ জনের খসড়া ভোটার তালিকা হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের বোর্ডে টাঙিয়ে দিয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর এক সিনিয়র কর্মচারী জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছি। প্রচারণার সময় কোনো রোগী যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেটি সবার আগে মাথায় রেখে আমরা প্রচার চালাচ্ছি। এছাড়া আচরণবিধির মধ্যেও এটা আছে। এর পাশাপাশি অনেকগুলো আচরণ বিধির মধ্যে যেমন কোনো প্রার্থী হাসপাতালে ভিতরের দেয়ালে পোস্টার লাগাতে পারবে না। হয়তো নির্বাচনী আনন্দে আত্মহারা হয়ে দুয়েকজন লাগাতে পারে, কিন্তু  সব প্রার্থীই আচরণবিধির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী সমিতি: ঢামেক হাসপাতালের সাংগঠনিক সংসদের নির্বাচনের প্রধান কমিশনার হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. মো. আসরাফুল আলম জানান, নভেম্বর মাসের শুরুতেই প্রার্থীদের কাছে ফরম বিক্রি শুরু হবে। ৬ নভেম্বর প্রার্থীরা ফরম জমা দিবে। ৮ ডিসেম্বর ঢামেকের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, কোনো প্রার্থীর নামে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণে পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আচরণ বিধির মধ্যে সর্বপ্রথম কঠোরভাবে নির্দেশনা আছে হাসপাতালে আগে রোগিদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে, তারপরে প্রচার-প্রচারণা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নির্বাচন ঘিরে চলছে নিরব চাঁদাবাজী

আপডেট টাইম : ০৬:১৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর ২০২২
বিশেষ প্রতিনিধি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বইছে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নির্বাচনী আমেজ। প্রার্থীদের ব্যানার ফেস্টুনে ভরে গেছে হাসপাতাল এলাকা। অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাদাঁবাজি অভিযোগ উঠেছে। এ সব চাদাঁ আদায় করছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ও ডায়গণস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি সদস্যদের কাজ থেকে  এবং হাসপাতালের বর্হিরাগত এ্যাম্বুলেন্সের মালিকদের কাছ থেকে নির্বাচনের কথা তারা টাকা আদায় করছে। এমন কি হাসপাতালের আশপাশের দোকান গুলোতেও বাদ নেই। হাসপাতালের সাধারণ কর্মচারীদের কাছ থেকে এ সব অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, সভাপতি পদ প্রার্থী মো. রমিজ,  মো.আলম ওরফে ভাগ্নে আলম ও মো. দিনাসহ ডজন খানেক প্রার্থী এই চাঁদাবাজিতে নিপ্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের আনাছে কানাছে প্রচারণার জন্য প্রার্থীদের প্লাকার্ড এমনভাবে রাখা হয়েছে যে, চিকিৎসকের নেমপ্লেটও সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। অথচ জরুরি বিভাগে রাত দিন ২৪ ঘন্টা রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে তৎক্ষণিকভাবে এর ছবি তুলতে গেলে প্রার্থীরা সেগুলো সরিয়ে ফেলেন। এছাড়া হাসপাতালের ভিতরের দেওয়ালে পোস্টার লাগানো নিষেধ থাকলেও কেউ কেউ সেখানেও পোস্টার লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সোমবার ঢামেক হাসপাতালের তিনটি ভবনের সামনে ও বিভিন্ন ওয়ার্ডসহ জরুরি বিভাগে প্রার্থীদের বিভিন্ন রঙয়ের ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচার করতে দেখা যায়। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামী ৮ ডিসেম্বর এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেন। ২৭ টি পদে ১০৪ জন পদ প্রার্থী।  এরপরই শুরু হয়েছে হাসপাতালে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। এ নির্বাচনের কমিশন জানিয়েছেন, কারো প্রচার-প্রচারণায় আচরণ বিধি লঙ্ঘন হলেই সেই প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেশ কয়েকটি আচরণবিধির মধ্যে একটি হচ্ছে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করে তারপর নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে হবে। যদি নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে- এরকম প্রমাণ পেলে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন ৯২৩ জনের খসড়া ভোটার তালিকা হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের বোর্ডে টাঙিয়ে দিয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর এক সিনিয়র কর্মচারী জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছি। প্রচারণার সময় কোনো রোগী যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেটি সবার আগে মাথায় রেখে আমরা প্রচার চালাচ্ছি। এছাড়া আচরণবিধির মধ্যেও এটা আছে। এর পাশাপাশি অনেকগুলো আচরণ বিধির মধ্যে যেমন কোনো প্রার্থী হাসপাতালে ভিতরের দেয়ালে পোস্টার লাগাতে পারবে না। হয়তো নির্বাচনী আনন্দে আত্মহারা হয়ে দুয়েকজন লাগাতে পারে, কিন্তু  সব প্রার্থীই আচরণবিধির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী সমিতি: ঢামেক হাসপাতালের সাংগঠনিক সংসদের নির্বাচনের প্রধান কমিশনার হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. মো. আসরাফুল আলম জানান, নভেম্বর মাসের শুরুতেই প্রার্থীদের কাছে ফরম বিক্রি শুরু হবে। ৬ নভেম্বর প্রার্থীরা ফরম জমা দিবে। ৮ ডিসেম্বর ঢামেকের ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, কোনো প্রার্থীর নামে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণে পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আচরণ বিধির মধ্যে সর্বপ্রথম কঠোরভাবে নির্দেশনা আছে হাসপাতালে আগে রোগিদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে, তারপরে প্রচার-প্রচারণা।