ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জাদুকরি গোলে ব্রাজিল

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চটা সেজেছিল আকাশি-সাদার মিশেলে। সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হারে লুসাইল হয়ে যায় নীল। সে মাঠটাই কাল দখল করে নিয়েছিল হলুদ। চিরবৈরী আর্জেন্টিনার মতো ব্রাজিলকে হতাশ করেনি লুসাইল। উপস্থিত ৮০ হাজার দর্শকের সামনে নান্দনিক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে সার্বিয়াকে সেলেসাওরা হারিয়েছে ২-০ ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধে রিচার্লিসনের চমকে মাতোয়ারা হয়ে উঠে লুসাইল। টটেনহ্যাম স্ট্রাইকার জোড়া গোলে একাই লেখেন ম্যাচের ভাগ্য।

ম্যাচটা ছিল স্থানীয় সময় রাত ১০টায়। অথচ ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা হাজির হতে শুরু করে দুপুর থেকেই। নেইমাররাও হতাশ করেননি। সার্বিয়াকে হয়তো গোলবন্যায় ভাসানো যায়নি। তবে গোলের জন্য তিতের তারায় ভরা অ্যাটাকিং ব্রিগেড দেখিয়েছে তাদের শক্তি। আক্রমণের সুনামি বইয়ে দিয়েছে তারা। তিতের ৪-২-৩-১ আগ্রাসী কৌশলে বাঁদিকে ভিনিসিয়ুস দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান। রাফিনহা খেলেন ডানদিকে। নাম্বার নাইনে রিচার্লিসনকে রেখে পেছন থেকে পাকেতাকে নিয়ে আক্রমণ গুছিয়েছেন প্রাণভ্রমরা নেইমার।

তবে এ ম্যাচের নায়ক হতে পারতেন সার্বিয়ার গোলকিপার ভানিয়া মিলিনকোভিচ সেভিচ। ব্রাজিলের জোগো বনিতো থামিয়েছেন পুরো প্রথমার্ধ। কখনো হতাশ করেছেন ভিনিসিয়ুসকে। কখনো পথ আগলে দাঁড়িয়েছেন নেইমার, রিচার্লিসন, পাকেতা, কাসেমিরোর সামনে। তিনটি নিশ্চিত গোল রুখে দিয়ে ব্রাজিলকে খালিহাতে বিরতিতে পাঠান মিলিনকোভিচ। তবে ব্রাজিলের আগ্রাসনের সামনে কতক্ষণ আর প্রতিরোধ ধরে রাখা যায়? ঘড়ির কাঁটা ঘণ্টা ছুঁতেই রক্ষণ প্রাচীন ভেঙে চুরমার। অ্যালেক্স সান্দ্রোর দূর থেকে নেওয়া শট পোস্ট কাঁপাতেই যেন টলে যায় সব দৃঢ়তা। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬২ মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন রিচার্লিসন। আর ১০ মিনিটর পর যে গোলটি করেন, তা নির্দ্বিধায় আসরের সেরা গোলের তালিকায় থাকবে ওপরের দিকে। বাঁদিক থেকে ভিনিসিয়ুসের একটু লাফিয়ে ওঠা পাসটা প্রথমে আয়ত্তে নিলেন রিচার্লিসন, এরপর পুরো শরীর ঘুরিয়ে ডান পায়ে নেন নিশানাভেদী বাইসাইকেল শট। ব্রাজিলের এ জয়ে অন্যদের নড়েচড়ে বসতেই হচ্ছে। তিতের দলকে জয়ের নেশায় পেয়ে বসলে ১৮ ডিসেম্বরও লুসাইলে হতে পারে হলুদ উৎসব।

ট্যাগস

জাদুকরি গোলে ব্রাজিল

আপডেট টাইম : ০৬:৩২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০২২

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চটা সেজেছিল আকাশি-সাদার মিশেলে। সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হারে লুসাইল হয়ে যায় নীল। সে মাঠটাই কাল দখল করে নিয়েছিল হলুদ। চিরবৈরী আর্জেন্টিনার মতো ব্রাজিলকে হতাশ করেনি লুসাইল। উপস্থিত ৮০ হাজার দর্শকের সামনে নান্দনিক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে সার্বিয়াকে সেলেসাওরা হারিয়েছে ২-০ ব্যবধানে। দ্বিতীয়ার্ধে রিচার্লিসনের চমকে মাতোয়ারা হয়ে উঠে লুসাইল। টটেনহ্যাম স্ট্রাইকার জোড়া গোলে একাই লেখেন ম্যাচের ভাগ্য।

ম্যাচটা ছিল স্থানীয় সময় রাত ১০টায়। অথচ ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা হাজির হতে শুরু করে দুপুর থেকেই। নেইমাররাও হতাশ করেননি। সার্বিয়াকে হয়তো গোলবন্যায় ভাসানো যায়নি। তবে গোলের জন্য তিতের তারায় ভরা অ্যাটাকিং ব্রিগেড দেখিয়েছে তাদের শক্তি। আক্রমণের সুনামি বইয়ে দিয়েছে তারা। তিতের ৪-২-৩-১ আগ্রাসী কৌশলে বাঁদিকে ভিনিসিয়ুস দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান। রাফিনহা খেলেন ডানদিকে। নাম্বার নাইনে রিচার্লিসনকে রেখে পেছন থেকে পাকেতাকে নিয়ে আক্রমণ গুছিয়েছেন প্রাণভ্রমরা নেইমার।

তবে এ ম্যাচের নায়ক হতে পারতেন সার্বিয়ার গোলকিপার ভানিয়া মিলিনকোভিচ সেভিচ। ব্রাজিলের জোগো বনিতো থামিয়েছেন পুরো প্রথমার্ধ। কখনো হতাশ করেছেন ভিনিসিয়ুসকে। কখনো পথ আগলে দাঁড়িয়েছেন নেইমার, রিচার্লিসন, পাকেতা, কাসেমিরোর সামনে। তিনটি নিশ্চিত গোল রুখে দিয়ে ব্রাজিলকে খালিহাতে বিরতিতে পাঠান মিলিনকোভিচ। তবে ব্রাজিলের আগ্রাসনের সামনে কতক্ষণ আর প্রতিরোধ ধরে রাখা যায়? ঘড়ির কাঁটা ঘণ্টা ছুঁতেই রক্ষণ প্রাচীন ভেঙে চুরমার। অ্যালেক্স সান্দ্রোর দূর থেকে নেওয়া শট পোস্ট কাঁপাতেই যেন টলে যায় সব দৃঢ়তা। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬২ মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন রিচার্লিসন। আর ১০ মিনিটর পর যে গোলটি করেন, তা নির্দ্বিধায় আসরের সেরা গোলের তালিকায় থাকবে ওপরের দিকে। বাঁদিক থেকে ভিনিসিয়ুসের একটু লাফিয়ে ওঠা পাসটা প্রথমে আয়ত্তে নিলেন রিচার্লিসন, এরপর পুরো শরীর ঘুরিয়ে ডান পায়ে নেন নিশানাভেদী বাইসাইকেল শট। ব্রাজিলের এ জয়ে অন্যদের নড়েচড়ে বসতেই হচ্ছে। তিতের দলকে জয়ের নেশায় পেয়ে বসলে ১৮ ডিসেম্বরও লুসাইলে হতে পারে হলুদ উৎসব।