ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন: ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি :

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ শামীম আখতারের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গত ২ জানুয়ারি ২০২৩ এই কমিটি গঠন করা হয়। যার স্মারক নং ২৫.০০.০০০০.০১৩.১৩.০১৪.২১-৭৬০। কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো: আশফাকুল ইসলাম বাবুলকে। অন্য দুইজন সদস্য হলেন: যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ সোহেল হাসান ও যুগ্ম সচিব মো: জহিরুল ইসলাম খান। এই কমিটিকে আগামী ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৩ আব্দুল্লাহ আল খায়রুম স্বাক্ষরিত চিঠি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। চিঠিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং এইচবিআরআই এর সাবেক মহাপরিচালক লেবাসধারী ভন্ডপীর শামীম আখতারের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে কার্যালকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তদন্তের নির্দেশনা দেয়া চিঠি পাওয়া গেছে। তদপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রেরিত দশ পাতার অভিযোগে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার। তার আরেকটি পরিচয়ও রয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের ভূঁইগড়ের হাকিমাবাদ খানকা-ই-মোজাদ্দেদিয়ার ‘পীর সাহেব’। পীর হিসেবে তার নাম আল্লামা হযরত মোহাম্মদ শামীম আখতার ( মাদ্দাজিল্লুহুল আলিয়াহ )।
কম্বোডিয়াসহ বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানেও রয়েছে এ খানকার শাখা। পীরের মুরিদরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার। বাস্তবায়ন করছেন মোটা অংকের উন্নয়নকাজ। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা থেকে সুযোগ-সুবিধাও আদায় করে নিচ্ছেন। গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর পদে আসার আগে মোহাম্মদ শামীম আখতার ছিলেন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) মহাপরিচালকের দায়িত্বে। সেখানে কখনো কখনো প্রকল্প পাস না করে, কখনো টেন্ডার হওয়ার আগে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজ পেয়ে যান মুরিদ ঠিকাদাররা। মাসে লাখ টাকা বেতনে প্রকল্পের পরামর্শক, কর্মকর্তা-প্রকৌশলী থেকে বাবুর্চি-মালির মতো পদগুলোয় মুরিদরা পান নিয়োগ। মুরিদদের সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন মহাপরিচালকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে এইচবিআরআই থেকে একটি তদন্ত কমিটি। মুরিদদের ঠিকাদারিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ নিয়ে স¤প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে এইচবিআরআইয়ের এ তদন্ত প্রতিবেদন। মোহাম্মদ শামীম আখতার গণপূর্তের শীর্ষ পদে যোগ দেন ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। এরপর গণপূর্ত প্রশিক্ষণ একাডেমি, একটি পূর্ত ভবনের উন্নয়ন, প্রধান প্রকৌশলীর বাসভবন সংস্কারসহ একাধিক প্রকল্পের কাজ পেতে শুরু করেন মুরিদরা। এরই মধ্যে তারা জায়গা করে নিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তর ঠিকাদার সমিতিতে। সর্বশেষ গত ১৬ নভেম্বর প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ঠিকাদারদের মতবিনিময় সভায়ও দুনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ঠিকাদারা। গত ২০১৯ সালের এপ্রিলে ‘নন ফায়ার ব্রিক প্লান্ট’ নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিংডম বিল্ডার্সের সঙ্গে চুক্তি করে এইচবিআরআই। আইন অনুযায়ী, ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এমনকি এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে এইচবিআরআইয়ের বাজেটও নেই। তার পরও ‘নন ফায়ার ব্রিক প্লান্ট’ নির্মাণের প্রায় ১৪ কোটি টাকার কাজ কিংডম বিল্ডার্সকে দেন সংস্থাটির তৎকালীন মহাপরিচালক, যার কাজ এখনো শুরু হয়নি। কিংডম বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুসরত হোসেনকে পীর সাহেবের ঘনিষ্ঠ মুরিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এইচবিআরআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে। কিংডম বিল্ডার্স, কিংডম হাউজিং, কিংডম কনস্ট্রাকশনসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নুসরত হোসেন। সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নে লিপ্তথাকা গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তরগুলোর মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর অন্যতম। কিন্তু গত প্রায় ২ বছরের মতো সময় ধরে দায়িত্ব পালনে সীমাহীন অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার। তার স্বজনপ্রীতি ও নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ভেঙে পড়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের চেইন অব কমান্ড। এখন কোন প্রকৌশলীই তার আদেশ নির্দেশ পালন করেন না। এতেকরে গণপূর্ত অধিদপ্তরে এক লেজেগোবুরে অবস্থার বিরাজ করছে। দায়িত্ব পালনের ২ বছরে তিনি সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর পাশ করা প্রকল্পগুলোর কাজ ছাড়া নিজ প্রস্তাবনায় নতুন কোন প্রকল্প পাশ করাতে পারেননি। এমন কি সরকারের নতুন নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজের সংস্কার কাজ এবং সাতক্ষীরা ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল হাসপাতালের কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দিয়ে না করিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিজেই সে কাজ করার জন্য লিখিত আবেদন করার পর থেকেই বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
এছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজ কমিশনের মাধ্যমে পাইয়ে দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদ শামীম আখতারের আরেকটি পরিচয়ও রয়েছে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা থেকে সুযোগ-সুবিধাও আদায় করে নিচ্ছেন। এ সংক্রান্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে তা অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি বিএনপি –জামায়াত ঘরাণার প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে আর্ধিক সহযোগিতা করছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে।

গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর পদে আসার আগে মোহাম্মদ শামীম আখতার ছিলেন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) মহাপরিচালকের দায়িত্বে। সেখানে কখনো কখনো প্রকল্প পাস না করে, কখনো টেন্ডার হওয়ার আগে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজ পেয়ে যান মুরিদ ঠিকাদাররা। মাসে লাখ টাকা বেতনে প্রকল্পের পরামর্শক, কর্মকর্তা-প্রকৌশলী থেকে বাবুর্চি-মালির মতো পদগুলোয় পান নিয়োগ। মুরিদদের সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন মহাপরিচালকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে এইচবিআরআই থেকে একটি তদন্ত কমিটি। আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে এইচবিআরআইয়ের এ তদন্ত প্রতিবেদন।
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এইচবিআরআইয়ের গবেষণা খাতে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। এ গবেষণা খাতের এ টাকা থেকে ১ কোটি ১১ লাখ টাকায় ‘অটোমেটিক বøক মেকিং প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হয়। এ কাজও পায় কিংডম বিল্ডার্স। ঠিকাদারকে সব বিল প্রদান করা হলেও প্লান্টটির কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এ ধরনের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংস্থার অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রকৌশলীদের নিয়ে কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও সে ধরনের কোনো কমিটিই হয়নি। এছাড়া তিনি যোগদানের পরে ৫/৬ শতাধিক কর্মকর্তার বদলী করেছেন।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের হট লাইনে অভিযোগ করার পর দুদকের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছে।

 

ট্যাগস

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন: ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ

আপডেট টাইম : ০২:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৩

বিশেষ প্রতিনিধি :

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশের প্রেক্ষিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ শামীম আখতারের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গত ২ জানুয়ারি ২০২৩ এই কমিটি গঠন করা হয়। যার স্মারক নং ২৫.০০.০০০০.০১৩.১৩.০১৪.২১-৭৬০। কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো: আশফাকুল ইসলাম বাবুলকে। অন্য দুইজন সদস্য হলেন: যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ সোহেল হাসান ও যুগ্ম সচিব মো: জহিরুল ইসলাম খান। এই কমিটিকে আগামী ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৩ আব্দুল্লাহ আল খায়রুম স্বাক্ষরিত চিঠি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো হয়। চিঠিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং এইচবিআরআই এর সাবেক মহাপরিচালক লেবাসধারী ভন্ডপীর শামীম আখতারের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে কার্যালকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তদন্তের নির্দেশনা দেয়া চিঠি পাওয়া গেছে। তদপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রেরিত দশ পাতার অভিযোগে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার। তার আরেকটি পরিচয়ও রয়েছে। তিনি নারায়ণগঞ্জের ভূঁইগড়ের হাকিমাবাদ খানকা-ই-মোজাদ্দেদিয়ার ‘পীর সাহেব’। পীর হিসেবে তার নাম আল্লামা হযরত মোহাম্মদ শামীম আখতার ( মাদ্দাজিল্লুহুল আলিয়াহ )।
কম্বোডিয়াসহ বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানেও রয়েছে এ খানকার শাখা। পীরের মুরিদরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার। বাস্তবায়ন করছেন মোটা অংকের উন্নয়নকাজ। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা থেকে সুযোগ-সুবিধাও আদায় করে নিচ্ছেন। গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর পদে আসার আগে মোহাম্মদ শামীম আখতার ছিলেন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) মহাপরিচালকের দায়িত্বে। সেখানে কখনো কখনো প্রকল্প পাস না করে, কখনো টেন্ডার হওয়ার আগে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজ পেয়ে যান মুরিদ ঠিকাদাররা। মাসে লাখ টাকা বেতনে প্রকল্পের পরামর্শক, কর্মকর্তা-প্রকৌশলী থেকে বাবুর্চি-মালির মতো পদগুলোয় মুরিদরা পান নিয়োগ। মুরিদদের সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন মহাপরিচালকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে এইচবিআরআই থেকে একটি তদন্ত কমিটি। মুরিদদের ঠিকাদারিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ নিয়ে স¤প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে এইচবিআরআইয়ের এ তদন্ত প্রতিবেদন। মোহাম্মদ শামীম আখতার গণপূর্তের শীর্ষ পদে যোগ দেন ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। এরপর গণপূর্ত প্রশিক্ষণ একাডেমি, একটি পূর্ত ভবনের উন্নয়ন, প্রধান প্রকৌশলীর বাসভবন সংস্কারসহ একাধিক প্রকল্পের কাজ পেতে শুরু করেন মুরিদরা। এরই মধ্যে তারা জায়গা করে নিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তর ঠিকাদার সমিতিতে। সর্বশেষ গত ১৬ নভেম্বর প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ঠিকাদারদের মতবিনিময় সভায়ও দুনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ঠিকাদারা। গত ২০১৯ সালের এপ্রিলে ‘নন ফায়ার ব্রিক প্লান্ট’ নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিংডম বিল্ডার্সের সঙ্গে চুক্তি করে এইচবিআরআই। আইন অনুযায়ী, ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এমনকি এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে এইচবিআরআইয়ের বাজেটও নেই। তার পরও ‘নন ফায়ার ব্রিক প্লান্ট’ নির্মাণের প্রায় ১৪ কোটি টাকার কাজ কিংডম বিল্ডার্সকে দেন সংস্থাটির তৎকালীন মহাপরিচালক, যার কাজ এখনো শুরু হয়নি। কিংডম বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুসরত হোসেনকে পীর সাহেবের ঘনিষ্ঠ মুরিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এইচবিআরআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে। কিংডম বিল্ডার্স, কিংডম হাউজিং, কিংডম কনস্ট্রাকশনসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার নুসরত হোসেন। সরকারি অবকাঠামো উন্নয়নে লিপ্তথাকা গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তরগুলোর মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর অন্যতম। কিন্তু গত প্রায় ২ বছরের মতো সময় ধরে দায়িত্ব পালনে সীমাহীন অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার। তার স্বজনপ্রীতি ও নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ভেঙে পড়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের চেইন অব কমান্ড। এখন কোন প্রকৌশলীই তার আদেশ নির্দেশ পালন করেন না। এতেকরে গণপূর্ত অধিদপ্তরে এক লেজেগোবুরে অবস্থার বিরাজ করছে। দায়িত্ব পালনের ২ বছরে তিনি সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর পাশ করা প্রকল্পগুলোর কাজ ছাড়া নিজ প্রস্তাবনায় নতুন কোন প্রকল্প পাশ করাতে পারেননি। এমন কি সরকারের নতুন নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজের সংস্কার কাজ এবং সাতক্ষীরা ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল হাসপাতালের কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দিয়ে না করিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিজেই সে কাজ করার জন্য লিখিত আবেদন করার পর থেকেই বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
এছাড়া প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাজ কমিশনের মাধ্যমে পাইয়ে দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদ শামীম আখতারের আরেকটি পরিচয়ও রয়েছে। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা থেকে সুযোগ-সুবিধাও আদায় করে নিচ্ছেন। এ সংক্রান্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে তা অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া তিনি বিএনপি –জামায়াত ঘরাণার প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করে সরকার বিরোধী কর্মকান্ডে আর্ধিক সহযোগিতা করছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে।

গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর পদে আসার আগে মোহাম্মদ শামীম আখতার ছিলেন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) মহাপরিচালকের দায়িত্বে। সেখানে কখনো কখনো প্রকল্প পাস না করে, কখনো টেন্ডার হওয়ার আগে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজ পেয়ে যান মুরিদ ঠিকাদাররা। মাসে লাখ টাকা বেতনে প্রকল্পের পরামর্শক, কর্মকর্তা-প্রকৌশলী থেকে বাবুর্চি-মালির মতো পদগুলোয় পান নিয়োগ। মুরিদদের সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন মহাপরিচালকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে এইচবিআরআই থেকে একটি তদন্ত কমিটি। আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে এইচবিআরআইয়ের এ তদন্ত প্রতিবেদন।
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এইচবিআরআইয়ের গবেষণা খাতে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। এ গবেষণা খাতের এ টাকা থেকে ১ কোটি ১১ লাখ টাকায় ‘অটোমেটিক বøক মেকিং প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হয়। এ কাজও পায় কিংডম বিল্ডার্স। ঠিকাদারকে সব বিল প্রদান করা হলেও প্লান্টটির কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এ ধরনের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংস্থার অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা প্রকৌশলীদের নিয়ে কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও সে ধরনের কোনো কমিটিই হয়নি। এছাড়া তিনি যোগদানের পরে ৫/৬ শতাধিক কর্মকর্তার বদলী করেছেন।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের হট লাইনে অভিযোগ করার পর দুদকের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছে।