ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মির্জাগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও  শহীদ  দিবসে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির শ্রদ্ধা নিবেদন  ৫২’র ভাষা শহীদদের প্রতি মিরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের শ্রদ্ধা নিবেদন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন ডিজি ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার! বাসাবো এলাকায় রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান; ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা দুই সাব-রেজিস্ট্রারের বদলী উপলক্ষে বিদায় সংবর্ধনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীল হবেন দুদক কর্মকর্তারা বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে ভূমি অফিস পরিচালনা করুন: ভূমিমন্ত্রী বাসাবো এলাকায় রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান; ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা মাগুরায় মাদরাসার সভাপতির ধমকে সুপার অজ্ঞান  মাগুরায় সাকিবের পৃষ্ঠপোষকতায় মহান একুশ উপলক্ষে শহরে আলপনার উদ্যোগ 

৪ বছর ঝুলে আছে কেআইবির নির্বাচন: সর্ব্বোচ আদালতের রায়ও মানছেন না মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতারা!

রোস্তম মল্লিক
সর্ব্বোচ্য আদালতের রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে অনতিবিলম্বে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি)এর নির্বাচনী তপসিল ঘোষণার দাবী তুলেছেন সাধারণ ভোটাররা। তারা মনে করেন যে, উচ্চ আদালতের রায়ের পর আর কাল বিলম্ব করা ঠিক হবে না। এমনিতেই আদালতে মামলা দায়েরের কারণে ৪ বছরের অধিক সময় অনির্বাচিতরা অবৈধভাবে পরিচালনা করছেন সংগঠনটিকে। দীর্ঘ এই সময়ে নির্বাচিত নেতা না থাকায় কতিপয় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতারা সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নানাবিধ সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। তারা আর্থিকভাবেও লাভবান হয়েছেন। সে কারণেই তারা ক্ষমতা ছাড়তে চাইছেন না। নির্বাচনেও রয়েছে অনিহা। তারা সর্ব্বোচ্য আদালতের রায়ের পরও নিচ্ছেন না নির্বাচনের উদ্যোগ। ফলে সাধারন ভোটাররা ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। তারা অনতিবিলম্বে কেআইবির নির্বাচন চান। সুত্রমতে ২০১৭-১৮ মেয়াদে গঠিত কমিটি মেয়াদোতীর্ণ হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে। নতুন কমিটি গঠনের জন্য ০১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ নির্বাচনী তপসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্ত নির্বাচনের আগের রাতে ভোটারদের ওপর সন্ত্রাষী হামলায় রক্তাক্ত করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভোট গ্রহনের পরিবেশ না থাকায় ও ভুয়া ভোটার তালিকা এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট ২২ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ রাতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীকালে এই মামলাও নিস্পত্তি হয়ে যায়। অথচ: সুস্পষ্ট বিধান থাকার পরও কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে বিগত ৪ বছরের অধিক সময় ধরে নানান অজুহাতে কেআইবির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন কেšদ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাছাড়া সমাজ সেবা অধিদপ্তর মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের আলোকে ০৩/১১/২০২২ তারিখে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ আদেশ জারি করেন। অন্যদিকে গত ০৯/০১/২০২৩ তারিখে আইনী প্রক্রিয়ায় সর্বশেষ ধাপ দায়েরকৃত লিভ টু আপীল মামলায় মহামান্য আদালত মাননীয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপীল বিভাগের পূর্ণাংগ বেঞ্চ বিদ্যমান মেয়াদ উত্তির্ণ কমিটি বাতিল করে প্রফেসর ড. শহীদুর রশীদ ভুইয়া কর্তৃক দাখিলকৃত লিভ-টু-আপিল আবেদন খারিজ করেন। সিভিল লিভ –টু –আপীল নং ৩০৬৬/২০২২।
এমতাবস্থায় ড. শহীদুর রশিদ ভুইয়ার নেতৃত্বে বিদ্যমান কমিটি সর্ব্বোচ্য আদালত কর্তৃক বাতিল হওয়ায় ও প্রশাসক নিয়োগ করায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সকল কার্যক্রম আইনত অবৈধ এবং এই কমিটি কর্তৃক যে কোন কর্মসুচি সৃজন ও পালন অবৈধ বা আদালতের আদেশ অমান্যের শামিল। কেআইবির গঠনতšের ৬ষ্ট অধ্যায়ের ৩৪ (চ) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে, যদি অনিবার্য কারণবশত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করতে না পারে ,তাহলে ইসি নির্বাচনের একটি নতুন তারিখ নির্দ্ধারণ করবে,তবে কোন অজুহাতেই তা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ (নব্বই) দিন অতিক্রম করবে না এবং ৯০(নব্বই) দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব না হয় ,তাহলে জরুরী সাধারণ সভায় গঠিত ৫ (পাঁচ) সদস্যের একটি অন্তরবর্ত্তীকালীন কমিটি পরবর্তী ৯০(নব্বই) দিনের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। কিন্তু ২০১৭/১৮ মেয়াদে গঠিত মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গঠনতন্ত্রের এই ধারা লংঘণ করে গত ৪ বছর যাবত অবৈধভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। উল্লেখ্য যে, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) ২০১৯-২০ মেয়াদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়েছিল। ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে একজন কৃষিবিদের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগের রাতে আদালত ওই স্থগিতাদেশ দেন। তদপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন।
ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে বাকৃবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট অবসরপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা ও কেআইবি নির্বাচন কমিশনের সদস্য কৃষিবিদ মজিবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক সারোয়ার মোর্শেদ জাস্টিস, বাকৃবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি এম আনোয়ারুল হকসহ অনেকের ওপর সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের অনুসারীরা। বাকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান খোকন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ নিয়ে কেআইবিতে গেলে তা প্রথমে নিতে চাওয়া হয়নি এবং সিনিয়র কৃষিবিদ মুজিবর রহমানকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বিএআরসির সামনে সারোয়ার মোর্শেদ জাস্টিস, এম আনোয়ারুল হকসহ অনেকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কেআইবি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের (অস্ট্রেলিয়ার একটি কেন্দ্রসহ) ৫২টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ভোটারের ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। নির্বাচনে ছালেহ আহমদ-মোয়াজ্জেম হোসেন ও নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের পক্ষ থেকে একটি করে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও মেট্রোপলিটন কমিটি নির্বাচনের জন্য সারা দেশে প্রচারও চালানো হয়। কিন্তু ছালেহ আহমদ-মোয়াজ্জেম হোসেন পরিষদের পক্ষে ড. আজিজুল ইসলাম ও সুজিত রায় কেআইবির গঠনতন্ত্র না মেনে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা ও ভুয়া ভোটার তালিকার অভিযোগ তুলে ঢাকা জজ কোর্টে আবেদন করলে নির্বাচনের একদিন আগে আদালত নির্বাচন স্থগিত করার আদেশ দেন। এ বিষয়ে কথা বললে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির মহাসচিব খাইরুল আলম প্রিন্স বলেন, আমি নিজেও চাই দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তাহলে সংগঠনের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। অপরদিকে অন্যতম নেতা ড. শহীদুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, নির্বাচনের আগে দুই পক্ষের সমঝোতা আগে প্রয়োজন। বর্তমান কমিটির সভাপতি সালেহ আহমদ বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক দ্রুততম সময়ে কেআইবির নির্বচন তপসিল ঘোষণা করা জরুরী।

ট্যাগস

মির্জাগঞ্জে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও  শহীদ  দিবসে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির শ্রদ্ধা নিবেদন 

৪ বছর ঝুলে আছে কেআইবির নির্বাচন: সর্ব্বোচ আদালতের রায়ও মানছেন না মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতারা!

আপডেট টাইম : ০৩:১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

রোস্তম মল্লিক
সর্ব্বোচ্য আদালতের রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে অনতিবিলম্বে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি)এর নির্বাচনী তপসিল ঘোষণার দাবী তুলেছেন সাধারণ ভোটাররা। তারা মনে করেন যে, উচ্চ আদালতের রায়ের পর আর কাল বিলম্ব করা ঠিক হবে না। এমনিতেই আদালতে মামলা দায়েরের কারণে ৪ বছরের অধিক সময় অনির্বাচিতরা অবৈধভাবে পরিচালনা করছেন সংগঠনটিকে। দীর্ঘ এই সময়ে নির্বাচিত নেতা না থাকায় কতিপয় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতারা সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নানাবিধ সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। তারা আর্থিকভাবেও লাভবান হয়েছেন। সে কারণেই তারা ক্ষমতা ছাড়তে চাইছেন না। নির্বাচনেও রয়েছে অনিহা। তারা সর্ব্বোচ্য আদালতের রায়ের পরও নিচ্ছেন না নির্বাচনের উদ্যোগ। ফলে সাধারন ভোটাররা ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন। তারা অনতিবিলম্বে কেআইবির নির্বাচন চান। সুত্রমতে ২০১৭-১৮ মেয়াদে গঠিত কমিটি মেয়াদোতীর্ণ হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে। নতুন কমিটি গঠনের জন্য ০১ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ নির্বাচনী তপসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্ত নির্বাচনের আগের রাতে ভোটারদের ওপর সন্ত্রাষী হামলায় রক্তাক্ত করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে ভোট গ্রহনের পরিবেশ না থাকায় ও ভুয়া ভোটার তালিকা এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট ২২ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ রাতে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীকালে এই মামলাও নিস্পত্তি হয়ে যায়। অথচ: সুস্পষ্ট বিধান থাকার পরও কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে বিগত ৪ বছরের অধিক সময় ধরে নানান অজুহাতে কেআইবির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং নতুন কেšদ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাছাড়া সমাজ সেবা অধিদপ্তর মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের আলোকে ০৩/১১/২০২২ তারিখে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ আদেশ জারি করেন। অন্যদিকে গত ০৯/০১/২০২৩ তারিখে আইনী প্রক্রিয়ায় সর্বশেষ ধাপ দায়েরকৃত লিভ টু আপীল মামলায় মহামান্য আদালত মাননীয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপীল বিভাগের পূর্ণাংগ বেঞ্চ বিদ্যমান মেয়াদ উত্তির্ণ কমিটি বাতিল করে প্রফেসর ড. শহীদুর রশীদ ভুইয়া কর্তৃক দাখিলকৃত লিভ-টু-আপিল আবেদন খারিজ করেন। সিভিল লিভ –টু –আপীল নং ৩০৬৬/২০২২।
এমতাবস্থায় ড. শহীদুর রশিদ ভুইয়ার নেতৃত্বে বিদ্যমান কমিটি সর্ব্বোচ্য আদালত কর্তৃক বাতিল হওয়ায় ও প্রশাসক নিয়োগ করায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সকল কার্যক্রম আইনত অবৈধ এবং এই কমিটি কর্তৃক যে কোন কর্মসুচি সৃজন ও পালন অবৈধ বা আদালতের আদেশ অমান্যের শামিল। কেআইবির গঠনতšের ৬ষ্ট অধ্যায়ের ৩৪ (চ) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে, যদি অনিবার্য কারণবশত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করতে না পারে ,তাহলে ইসি নির্বাচনের একটি নতুন তারিখ নির্দ্ধারণ করবে,তবে কোন অজুহাতেই তা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে ৯০ (নব্বই) দিন অতিক্রম করবে না এবং ৯০(নব্বই) দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব না হয় ,তাহলে জরুরী সাধারণ সভায় গঠিত ৫ (পাঁচ) সদস্যের একটি অন্তরবর্ত্তীকালীন কমিটি পরবর্তী ৯০(নব্বই) দিনের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে। কিন্তু ২০১৭/১৮ মেয়াদে গঠিত মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গঠনতন্ত্রের এই ধারা লংঘণ করে গত ৪ বছর যাবত অবৈধভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। উল্লেখ্য যে, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) ২০১৯-২০ মেয়াদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়েছিল। ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে একজন কৃষিবিদের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগের রাতে আদালত ওই স্থগিতাদেশ দেন। তদপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনার কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন।
ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে বাকৃবি উপাচার্যের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট অবসরপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা ও কেআইবি নির্বাচন কমিশনের সদস্য কৃষিবিদ মজিবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক সারোয়ার মোর্শেদ জাস্টিস, বাকৃবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি এম আনোয়ারুল হকসহ অনেকের ওপর সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের অনুসারীরা। বাকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান খোকন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কায় হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ নিয়ে কেআইবিতে গেলে তা প্রথমে নিতে চাওয়া হয়নি এবং সিনিয়র কৃষিবিদ মুজিবর রহমানকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বিএআরসির সামনে সারোয়ার মোর্শেদ জাস্টিস, এম আনোয়ারুল হকসহ অনেকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কেআইবি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশের (অস্ট্রেলিয়ার একটি কেন্দ্রসহ) ৫২টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ভোটারের ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। নির্বাচনে ছালেহ আহমদ-মোয়াজ্জেম হোসেন ও নীতিশ-প্রিন্স প্যানেলের পক্ষ থেকে একটি করে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও মেট্রোপলিটন কমিটি নির্বাচনের জন্য সারা দেশে প্রচারও চালানো হয়। কিন্তু ছালেহ আহমদ-মোয়াজ্জেম হোসেন পরিষদের পক্ষে ড. আজিজুল ইসলাম ও সুজিত রায় কেআইবির গঠনতন্ত্র না মেনে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা ও ভুয়া ভোটার তালিকার অভিযোগ তুলে ঢাকা জজ কোর্টে আবেদন করলে নির্বাচনের একদিন আগে আদালত নির্বাচন স্থগিত করার আদেশ দেন। এ বিষয়ে কথা বললে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির মহাসচিব খাইরুল আলম প্রিন্স বলেন, আমি নিজেও চাই দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। তাহলে সংগঠনের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। অপরদিকে অন্যতম নেতা ড. শহীদুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, নির্বাচনের আগে দুই পক্ষের সমঝোতা আগে প্রয়োজন। বর্তমান কমিটির সভাপতি সালেহ আহমদ বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক দ্রুততম সময়ে কেআইবির নির্বচন তপসিল ঘোষণা করা জরুরী।