ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে বাড্ডা থানার অপরাধীদের আতঙ্কের নাম ওসি ইয়াসীন গাজী কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র নেতৃত্বে সাজ্জাদ-মোশাররফ স্বামীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে থানায় স্ত্রীর আত্মসমর্পণ কোটালীপাড়ায় তিন দিনব্যাপী কবি সুকান্ত মেলার উদ্বোধন বেইলি রোডে আগুনে নিহত ৪৬ জয়পুরহাটে ৭ মামলার কুখ্যাত সন্ত্রাসী অস্ত্র ও মাদকসহ র‍্যাবের জালে আটক উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিম উদ্দিনের কোলে শিশু মো. লাকিত হোসেন ধর্ষণ মামলার প্রধান একমাত্র পলাতক আসামি অবশেষে আটক মির্জাগঞ্জে দরিদ্র এক নিঃসন্তান বৃদ্ধের খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ড

এমপির সুপারিশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রাজাকারের নাম!

রাজশাহী ব্যুরো :

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সরকার দলীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সুপারিশে স্থানীয় একজন চিহ্নিত রাজাকারের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় উঠেছে। বাগমারার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলেছেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা ওই ব্যক্তির সনদ বাতিলের দাবি জানান।

ওই ব্যক্তির নাম ইসমাইল হোসেন গাইন। বাড়ি শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। তার বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত বেসামরিক গেজেট নম্বর-২৬৩। ইসমাইলের ছেলে এক ছেলে এমপি এনামুল হকের মিডিয়া কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি এখন শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা। ইসমাইল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত পরিবারগুলোর সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন মিলমালত। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন রাজাকার বাহিনীর অন্যতম সদস্য ইসমাইল হোসেন গাইন। ২০২১ সালের ১৫ জুন বাগমারা উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি রাজাকার ইসমাইল হোসেন গাইনের নাম জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) পাঠায়। ইসমাইলের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আমি বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব ও জামুকার মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বাগমারার শতাধিক স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা স্বাক্ষর করেছেন।

ইসমাইল হোসেন গাইনকে গত বছরের ১৬ জুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ঢাকায় ডাকেন। এরপর মন্ত্রী উভয়পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানির সময় ইসমাইল হোসেন গাইনের স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তৎকালীন ইউএনও ফারুক সুফিয়ান তদন্ত শুরু করেন। তিনি যুদ্ধকালীন কমান্ডার আলী খাজা এমএম মজিদসহ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের লিখিত জবানবন্দি গ্রহণ করেন। নির্যাতিতরা ইসমাইল হোসেন গাইনের স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ড সর্ম্পকে লিখিতভাবে জানান। এরপর ইউএনও ফারুক সুফিয়ান নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বদলি হয়ে যান। তিনি বদলি হওয়ার পর তদন্তের গতি থেমে যায়। নতুন ইউএনও সাইদা খানম যোগদান করেন। তিনি নতুন করে তদন্ত শুরু করেন। তবে ইউএনও সাইদা খানম তার রিপোর্ট সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেননি।

ওই তদন্তের সময় বাগমারার যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী খাজা এমএ মজিদ তার সাক্ষ্যে বলেন, ‘ইসমাইল হোসেন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে- কী না সেটি আমার জানা নেই। আমিও তাকে চিনতাম না। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ডেপুটি কমান্ডার খয়বার হোসেনও জানিয়েছেন, তিনিও রাজাকার সদস্য ইসমাইল হোসেন গাইনকে চিনেন না।’

ইসমাইল হোসেন গাইন রাজকার বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেনের অন্যতম সহযোগী ছিলেন উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাগমারায় মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন ইসমাইল হোসেন মৃধা। ওই সময়ে স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে ইসমাইল গাইন, ইয়াসিন এবং ইসাহাকসহ ওই এলাকার রাজাকাররা বাগমারায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন মৃধার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মছির উদ্দিন গাইন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শমসের উদ্দিন, ইউসুফ বকসের বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালায়। এসময় বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন করেন। ইসমাইল হোসেন গাইন এবং তার সহযোগীদের কারণে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগমারা এলাকার মানুষ ভয়ে তটস্থ থাকতেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের স্থানীয় প্রশিক্ষক দীপপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদও জানিয়েছেন, ইসমাইল হোসেন গাইন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি প্রশিক্ষণে অংশও নেননি। এছাড়াও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়ানুচ আলীও লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ইসমাইল হোসেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেন এবং লুটপাট চালান। একইভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী, আব্দুস সালাম, ইউসুফ আলী খন্দকার বুলবুল ও আব্দুল খালেক শাহানাও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ইসমাইল হোসেন গাইন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন মিলমালত বলেন, ‘সর্বশেষ ইসমাইল হোসেন গাইনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে আধা সরকারি চিঠি (ডিও) লেটার দেন বাগমারার এমপি এনামুল হক। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জামুকায় শুনানির দিন ধার্য করা হয়।’

আমরা সেখানে উপস্থিত হলে সেখানকার কর্মকর্তারা জানান, এমপি এনামুলের উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আমরা সেখান থেকে ফিরে আসি। একজন রাজাকারকে বীর মুক্তিযোদ্ধার গেজেটে অর্ন্তভুক্ত করা আমাদের জন্য অত্যন্ত অমর্যাদাকার। আমরা তার গেজেট বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী, আব্দুস সালাম, ইউসুফ আলী খন্দকার বুলবুল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান খোদা বক্স, ফজুলর রহমান, আলী, আজাজুল ইসলাম প্রমুখ।

যোগাযোগ করা হলে ইসমাইল হোসেন গাইন বলেন, ‘একজন রাজাকার কখনো মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না। সরকারি নিয়মকানুন মেনে ২০১৭ সালেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় আমার নাম আসে। তারপর থেকে আমি সরকারি ভাতাও পেয়ে আসছি। এখন রাজনৈতিক কারণে আমার নামে এসব বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তবে সুপারিশের বিষয়ে এমপি এনামুল হক বলেন, ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাছে শুনেছিলাম তিনি মুক্তিযোদ্ধা। আর অন্তর্ভুক্তির জন্য যারাই আমার সুপারিশ নিতে এসেছে, আমি সবার জন্যই সুপারিশ করেছি। শুধু ইসমাইলের একার জন্য সুপারিশ করা হয়নি।’

ট্যাগস

ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে

এমপির সুপারিশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রাজাকারের নাম!

আপডেট টাইম : ০৭:৪৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

রাজশাহী ব্যুরো :

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সরকার দলীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের সুপারিশে স্থানীয় একজন চিহ্নিত রাজাকারের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় উঠেছে। বাগমারার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলেছেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা ওই ব্যক্তির সনদ বাতিলের দাবি জানান।

ওই ব্যক্তির নাম ইসমাইল হোসেন গাইন। বাড়ি শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। তার বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত বেসামরিক গেজেট নম্বর-২৬৩। ইসমাইলের ছেলে এক ছেলে এমপি এনামুল হকের মিডিয়া কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি এখন শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা। ইসমাইল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত পরিবারগুলোর সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন মিলমালত। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন রাজাকার বাহিনীর অন্যতম সদস্য ইসমাইল হোসেন গাইন। ২০২১ সালের ১৫ জুন বাগমারা উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি রাজাকার ইসমাইল হোসেন গাইনের নাম জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) পাঠায়। ইসমাইলের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আমি বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব ও জামুকার মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বাগমারার শতাধিক স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা স্বাক্ষর করেছেন।

ইসমাইল হোসেন গাইনকে গত বছরের ১৬ জুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ঢাকায় ডাকেন। এরপর মন্ত্রী উভয়পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানির সময় ইসমাইল হোসেন গাইনের স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তৎকালীন ইউএনও ফারুক সুফিয়ান তদন্ত শুরু করেন। তিনি যুদ্ধকালীন কমান্ডার আলী খাজা এমএম মজিদসহ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের লিখিত জবানবন্দি গ্রহণ করেন। নির্যাতিতরা ইসমাইল হোসেন গাইনের স্বাধীনতাবিরোধী কর্মকাণ্ড সর্ম্পকে লিখিতভাবে জানান। এরপর ইউএনও ফারুক সুফিয়ান নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় বদলি হয়ে যান। তিনি বদলি হওয়ার পর তদন্তের গতি থেমে যায়। নতুন ইউএনও সাইদা খানম যোগদান করেন। তিনি নতুন করে তদন্ত শুরু করেন। তবে ইউএনও সাইদা খানম তার রিপোর্ট সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেননি।

ওই তদন্তের সময় বাগমারার যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী খাজা এমএ মজিদ তার সাক্ষ্যে বলেন, ‘ইসমাইল হোসেন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে- কী না সেটি আমার জানা নেই। আমিও তাকে চিনতাম না। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ডেপুটি কমান্ডার খয়বার হোসেনও জানিয়েছেন, তিনিও রাজাকার সদস্য ইসমাইল হোসেন গাইনকে চিনেন না।’

ইসমাইল হোসেন গাইন রাজকার বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেনের অন্যতম সহযোগী ছিলেন উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাগমারায় মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন ইসমাইল হোসেন মৃধা। ওই সময়ে স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর প্রধান ইব্রাহিম হোসেনের নেতৃত্বে ইসমাইল গাইন, ইয়াসিন এবং ইসাহাকসহ ওই এলাকার রাজাকাররা বাগমারায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন মৃধার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মছির উদ্দিন গাইন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শমসের উদ্দিন, ইউসুফ বকসের বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালায়। এসময় বাগমারার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন করেন। ইসমাইল হোসেন গাইন এবং তার সহযোগীদের কারণে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগমারা এলাকার মানুষ ভয়ে তটস্থ থাকতেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধাদের স্থানীয় প্রশিক্ষক দীপপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদও জানিয়েছেন, ইসমাইল হোসেন গাইন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি প্রশিক্ষণে অংশও নেননি। এছাড়াও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়ানুচ আলীও লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ইসমাইল হোসেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেন এবং লুটপাট চালান। একইভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী, আব্দুস সালাম, ইউসুফ আলী খন্দকার বুলবুল ও আব্দুল খালেক শাহানাও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ইসমাইল হোসেন গাইন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ময়েজ উদ্দিন মিলমালত বলেন, ‘সর্বশেষ ইসমাইল হোসেন গাইনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে আধা সরকারি চিঠি (ডিও) লেটার দেন বাগমারার এমপি এনামুল হক। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জামুকায় শুনানির দিন ধার্য করা হয়।’

আমরা সেখানে উপস্থিত হলে সেখানকার কর্মকর্তারা জানান, এমপি এনামুলের উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আমরা সেখান থেকে ফিরে আসি। একজন রাজাকারকে বীর মুক্তিযোদ্ধার গেজেটে অর্ন্তভুক্ত করা আমাদের জন্য অত্যন্ত অমর্যাদাকার। আমরা তার গেজেট বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান আলী, আব্দুস সালাম, ইউসুফ আলী খন্দকার বুলবুল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান খোদা বক্স, ফজুলর রহমান, আলী, আজাজুল ইসলাম প্রমুখ।

যোগাযোগ করা হলে ইসমাইল হোসেন গাইন বলেন, ‘একজন রাজাকার কখনো মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না। সরকারি নিয়মকানুন মেনে ২০১৭ সালেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় আমার নাম আসে। তারপর থেকে আমি সরকারি ভাতাও পেয়ে আসছি। এখন রাজনৈতিক কারণে আমার নামে এসব বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তবে সুপারিশের বিষয়ে এমপি এনামুল হক বলেন, ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের কাছে শুনেছিলাম তিনি মুক্তিযোদ্ধা। আর অন্তর্ভুক্তির জন্য যারাই আমার সুপারিশ নিতে এসেছে, আমি সবার জন্যই সুপারিশ করেছি। শুধু ইসমাইলের একার জন্য সুপারিশ করা হয়নি।’