ঢাকা ০৬:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে বাড্ডা থানার অপরাধীদের আতঙ্কের নাম ওসি ইয়াসীন গাজী কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র নেতৃত্বে সাজ্জাদ-মোশাররফ স্বামীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে থানায় স্ত্রীর আত্মসমর্পণ কোটালীপাড়ায় তিন দিনব্যাপী কবি সুকান্ত মেলার উদ্বোধন বেইলি রোডে আগুনে নিহত ৪৬ জয়পুরহাটে ৭ মামলার কুখ্যাত সন্ত্রাসী অস্ত্র ও মাদকসহ র‍্যাবের জালে আটক উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিম উদ্দিনের কোলে শিশু মো. লাকিত হোসেন ধর্ষণ মামলার প্রধান একমাত্র পলাতক আসামি অবশেষে আটক মির্জাগঞ্জে দরিদ্র এক নিঃসন্তান বৃদ্ধের খড়ের গাদায় অগ্নিকাণ্ড

বন্ধ হচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন, লোডশেডিং আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কয়লার তীব্র সংকটের মুখে আগামী সপ্তাহে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পায়রায় অবস্থিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন। কয়লার পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় এর আগে গত ২৫ মে থেকে বন্ধ হয়ে যায় ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট। মোট দুটি ইউনিটের দ্বিতীয় যে ইউনিটটি এখনো স্বল্প উৎপাদন সক্ষমতায় চলছে, সেটিও আগামী মাসের ৩-৪ তারিখের দিকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশব্যাপী চলমান লোডশেডিং আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন বছর আগে উৎপাদনে আসার পর এই প্রথম কয়লাসংকটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হচ্ছে। নতুন কয়লা আমদানি না করা পর্যন্ত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ দিন বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। আর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় দেশব্যাপী চলমান লোডশেডিংয়ের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে।

এর আগে ডলারের সংকটে কয়লা আমদানি করতে না পারার কারণে দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বেশ কয়েকবার। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র গত ১৫ মে থেকে আংশিক চালু হলেও কয়লার অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় এখনো চালানো যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) বা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী মাসে ৩-৪ তারিখের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা যদি আজকেই কয়লা আনার জন্য ঋণপত্র খুলি, তাও কয়লা আসতে কমপক্ষে ২০-২৫ দিন সময় লাগবে। সেই হিসাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কমপক্ষে চার সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে।’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কয়লা সরবরাহকারীদের ডলারের সংকটে বকেয়া পরিশোধ করতে না পারার কারণে সরবরাহকারী কয়লা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এর ফলে কয়লার পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় পায়রা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দুটি ইউনিটের একটি বন্ধ রাখে।

এদিকে পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, ‘কয়লা সরবরাহকারীদের বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। পাওনা টাকা দিব-দিচ্ছি করে দিতে না পারায় কয়লা সরবরাহ বন্ধ করে দেয় চীনা প্রতিষ্ঠান। বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিডিবিকে অনুরোধ করা হয়েছে। পিডিবি গত বৃহস্পতিবার ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার দিলেও সেটা পর্যাপ্ত নয়। পিডিবির কাছ থেকে আমরা এই মাসের মধ্যে আরও ১০ কোটি ডলার পাব বলে আশা করি।’

পিডিবির পরিচালক (জনসংযোগ) সামিমুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন দুইটা ইউনিটের মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াটের একটা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আরেকটা এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটটি একেবারে বন্ধ করে না দিয়ে এখন ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র একবার বন্ধ করে দিলে চার-পাঁচ দিন লাগে পুনরায় চালু করতে। কয়লার সরবরাহ আবার শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করা যায়, সে জন্য দ্বিতীয় ইউনিট থেকে অল্প অল্প করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর মতো এখন পর্যাপ্ত কয়লার মজুত নাই। যে কয়লার মজুত আছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই দিন পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাবে।

বাংলাদেশ ও চীনের অর্থায়নে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানির ৫০ শতাংশ শেয়ার আছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে। বিসিপিসিএল গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায়, চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত আর কয়লা সরবরাহ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।

ট্যাগস

ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে

বন্ধ হচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন, লোডশেডিং আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট টাইম : ০৭:৪৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ মে ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কয়লার তীব্র সংকটের মুখে আগামী সপ্তাহে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পায়রায় অবস্থিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন। কয়লার পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় এর আগে গত ২৫ মে থেকে বন্ধ হয়ে যায় ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট। মোট দুটি ইউনিটের দ্বিতীয় যে ইউনিটটি এখনো স্বল্প উৎপাদন সক্ষমতায় চলছে, সেটিও আগামী মাসের ৩-৪ তারিখের দিকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশব্যাপী চলমান লোডশেডিং আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন বছর আগে উৎপাদনে আসার পর এই প্রথম কয়লাসংকটের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ হচ্ছে। নতুন কয়লা আমদানি না করা পর্যন্ত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ দিন বন্ধ থাকবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। আর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় দেশব্যাপী চলমান লোডশেডিংয়ের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে।

এর আগে ডলারের সংকটে কয়লা আমদানি করতে না পারার কারণে দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বেশ কয়েকবার। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র গত ১৫ মে থেকে আংশিক চালু হলেও কয়লার অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় এখনো চালানো যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) বা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আগামী মাসে ৩-৪ তারিখের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা যদি আজকেই কয়লা আনার জন্য ঋণপত্র খুলি, তাও কয়লা আসতে কমপক্ষে ২০-২৫ দিন সময় লাগবে। সেই হিসাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কমপক্ষে চার সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে।’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কয়লা সরবরাহকারীদের ডলারের সংকটে বকেয়া পরিশোধ করতে না পারার কারণে সরবরাহকারী কয়লা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এর ফলে কয়লার পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় পায়রা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ দুটি ইউনিটের একটি বন্ধ রাখে।

এদিকে পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, ‘কয়লা সরবরাহকারীদের বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। পাওনা টাকা দিব-দিচ্ছি করে দিতে না পারায় কয়লা সরবরাহ বন্ধ করে দেয় চীনা প্রতিষ্ঠান। বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিডিবিকে অনুরোধ করা হয়েছে। পিডিবি গত বৃহস্পতিবার ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার দিলেও সেটা পর্যাপ্ত নয়। পিডিবির কাছ থেকে আমরা এই মাসের মধ্যে আরও ১০ কোটি ডলার পাব বলে আশা করি।’

পিডিবির পরিচালক (জনসংযোগ) সামিমুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন দুইটা ইউনিটের মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াটের একটা ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আরেকটা এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটটি একেবারে বন্ধ করে না দিয়ে এখন ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র একবার বন্ধ করে দিলে চার-পাঁচ দিন লাগে পুনরায় চালু করতে। কয়লার সরবরাহ আবার শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করা যায়, সে জন্য দ্বিতীয় ইউনিট থেকে অল্প অল্প করে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর মতো এখন পর্যাপ্ত কয়লার মজুত নাই। যে কয়লার মজুত আছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই দিন পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাবে।

বাংলাদেশ ও চীনের অর্থায়নে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানির ৫০ শতাংশ শেয়ার আছে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে। বিসিপিসিএল গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে জানায়, চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত আর কয়লা সরবরাহ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে।