ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আদমদীঘিতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ: গ্রেফতার-১ মহম্মদপুরে হত্যার মামলার আসামি জামিনে এসে বাদিকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি, পরে মারধর আ.লীগ নেতার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় আইসক্রিম ফাক্টরি মালিক কালিহাতীতে লিঙ্গ কাটার অভিযোগ স্ত্রী’র বিরুদ্ধে ফিটনেস বিহীন নৌযানে সয়লাব সদরঘাট,নেই পর্যাপ্ত দক্ষ নাবিক! ৫০ কোটি টাকার মামলা থেকে বাঁচতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পাল্টা মামলা! ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নব সভাপতি হলেন আবু সাঈদ মির্জাগঞ্জে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ মাগুরার হৃদয়পুরে ফসলি জমির টপসয়েল মাটিকাটার অভিযোগ, ইউএনওর হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

তদন্ত চেয়ে মহাপরিচালককে চিঠি: নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ!

বিশেষ প্রতিবেদক :

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের নৌযান ড্রাইভার ও মাষ্টার পরীক্ষার অনিয়ম,দুর্নীতি,প্রশ্নপত্র ফাঁস , প্যাকেজ পাশ, কোচিং বাণিজ্য কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। দালালদের পাশাপাশি অধিদপ্তরের বড় বড় কর্মকর্তারাই জড়িয়ে পড়ছেন এই অনৈতিক কর্মকান্ডে। তারা কেবলমাত্র এই পরীক্ষা খাত থেকেই প্রতিবছর শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কথিত আছে শস্যে যতি ভুত থাকে তবে আর ভুত তাড়াবে কে? ঠিক একই অবস্থা চলছে এই অধিদপ্তরে।
অভিযোগ পাওয়াগেছে যে, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের ৪/৫ জন কর্মকর্তা অনিয়ম-দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তারা ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। একজন প্রথম শ্রেণির ড্রাইভার ও মাষ্টার প্যাকেজ চুক্তিতে পাশ করাতে তারা মাথাপিছু ১ লক্ষ টাকা আদায় করছেন । এভাবে সেকেন্ড ক্লাস এবং থার্ড ক্লাসে নিচ্ছেন ৭০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। প্যাকেজ চুক্তিতে প্রতিটি পরীক্ষায় ৭০/৮০ জন পাশ করিয়ে তারা ৪০/৫০ লাখ টাকা উপার্জন করছেন।
এ বিষয়ে গত দশ বছর ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রতিবেদন ছাপা হলেও সেগুলো আমলে নেয়নি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। ফলে সেটি এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট হয়ে পড়েছে। এখন ড্রাইভারশীপ ও মাষ্টারশীপ পরীক্ষা মানেই টাকা যার পাশ তার। আর এই বাণিজ্যকে নিরাপদ করতে গড়ে তোলা হয়েছে শক্তিদশালী একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সাথে কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদেরও দহরম মহরম সম্পর্ক রয়েছে।
সম্প্রতি এ ধরনের একটি লিখিত অভিযোগ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। মহাপরিচালক বরাবরে প্রেরিত উক্ত অভিযোগের বর্ণনায় জানাগেছে, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের চীফ নটিক্যাল অফিসার ও মাষ্টারশীপ পরীক্ষার প্রধান পরীক্ষক ক্যাপ্টেন মো: গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ তার অধিনস্থ সহকারী পরিচালক ( প্রশাসন) মো: শাহাদত হোসেন সরকার , সহকারী মো: নজরুল ইসলাম, বহিরাগত দালাল সাগর ,মুন্না ও তুষারের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে প্রার্থীদের পাশ করিয়ে প্রতি পরীক্ষার দিন ৪০/৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। পরীক্ষার্থীদের আবাসিক হোটেলে রেখে সুরক্ষিত পরিবেশে কোচিং করাবার জন্য মতিঝিল এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলও তারা ক্রয় করেছেন। এই হোটেলের নাম হোটেল আল রাব্বী। হোটেলটির মালিক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) শাহাদাত হোসেন বলে শোনা যাচ্ছে।
অভিযোগের বর্ণনামতে, গত ১০ জুলাই প্রথম শ্রেণীর মাষ্টারশীপ পরীক্ষায় সহকারী পরিচালক শাহাদাতের ৭ জন- যার রোল নং ১৫২,১৫৩,১৫৬,১৬০,১৭০,১৭২,১৮৫ , সহকারী নজরুলের ৩ জন- যার রোল নং ১৪৯,১৫৫,১৭৯, দালাল সাগরের ১ জন- যার রোল নং ১৮৫,দালাল মুন্নার ১ জন- যার রোল নং ১৭৪ চুক্তির ভিত্তিতে লিখিত ও মৌখিক পাশ করানো হয়েছে। এসব প্রার্থীর কাছ থেকে মাথাপিছু ১ লাখ টাকা নিয়েছেন ক্যাপ্টেন মো: গিয়াস উদ্দিন।
বিষয়টি তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন জানিয়েছে অভিযোগকারী সঞ্জয় কুমার বিশ^াস।
অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য কথা বললে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করলে তিনি লিখিত অভিযোগটি পেয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা চীফ নটিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন মো: গিয়াস উদ্দিন বলেন, এই লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছূ জানেন না। অপরদিকে সহকারী পরিচালক( প্রশাসন) মো: শাহাদাত হোসেন ফোন কলই রিসিভ করেন নি।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

আদমদীঘিতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ: গ্রেফতার-১

তদন্ত চেয়ে মহাপরিচালককে চিঠি: নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ!

আপডেট টাইম : ০৭:২২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ অগাস্ট ২০২৩

বিশেষ প্রতিবেদক :

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের নৌযান ড্রাইভার ও মাষ্টার পরীক্ষার অনিয়ম,দুর্নীতি,প্রশ্নপত্র ফাঁস , প্যাকেজ পাশ, কোচিং বাণিজ্য কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। দালালদের পাশাপাশি অধিদপ্তরের বড় বড় কর্মকর্তারাই জড়িয়ে পড়ছেন এই অনৈতিক কর্মকান্ডে। তারা কেবলমাত্র এই পরীক্ষা খাত থেকেই প্রতিবছর শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কথিত আছে শস্যে যতি ভুত থাকে তবে আর ভুত তাড়াবে কে? ঠিক একই অবস্থা চলছে এই অধিদপ্তরে।
অভিযোগ পাওয়াগেছে যে, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের ৪/৫ জন কর্মকর্তা অনিয়ম-দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তারা ঢাকাসহ দেশের নানা স্থানে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। একজন প্রথম শ্রেণির ড্রাইভার ও মাষ্টার প্যাকেজ চুক্তিতে পাশ করাতে তারা মাথাপিছু ১ লক্ষ টাকা আদায় করছেন । এভাবে সেকেন্ড ক্লাস এবং থার্ড ক্লাসে নিচ্ছেন ৭০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। প্যাকেজ চুক্তিতে প্রতিটি পরীক্ষায় ৭০/৮০ জন পাশ করিয়ে তারা ৪০/৫০ লাখ টাকা উপার্জন করছেন।
এ বিষয়ে গত দশ বছর ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রতিবেদন ছাপা হলেও সেগুলো আমলে নেয়নি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়। ফলে সেটি এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট হয়ে পড়েছে। এখন ড্রাইভারশীপ ও মাষ্টারশীপ পরীক্ষা মানেই টাকা যার পাশ তার। আর এই বাণিজ্যকে নিরাপদ করতে গড়ে তোলা হয়েছে শক্তিদশালী একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সাথে কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদেরও দহরম মহরম সম্পর্ক রয়েছে।
সম্প্রতি এ ধরনের একটি লিখিত অভিযোগ নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। মহাপরিচালক বরাবরে প্রেরিত উক্ত অভিযোগের বর্ণনায় জানাগেছে, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের চীফ নটিক্যাল অফিসার ও মাষ্টারশীপ পরীক্ষার প্রধান পরীক্ষক ক্যাপ্টেন মো: গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ তার অধিনস্থ সহকারী পরিচালক ( প্রশাসন) মো: শাহাদত হোসেন সরকার , সহকারী মো: নজরুল ইসলাম, বহিরাগত দালাল সাগর ,মুন্না ও তুষারের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে প্রার্থীদের পাশ করিয়ে প্রতি পরীক্ষার দিন ৪০/৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। পরীক্ষার্থীদের আবাসিক হোটেলে রেখে সুরক্ষিত পরিবেশে কোচিং করাবার জন্য মতিঝিল এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলও তারা ক্রয় করেছেন। এই হোটেলের নাম হোটেল আল রাব্বী। হোটেলটির মালিক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) শাহাদাত হোসেন বলে শোনা যাচ্ছে।
অভিযোগের বর্ণনামতে, গত ১০ জুলাই প্রথম শ্রেণীর মাষ্টারশীপ পরীক্ষায় সহকারী পরিচালক শাহাদাতের ৭ জন- যার রোল নং ১৫২,১৫৩,১৫৬,১৬০,১৭০,১৭২,১৮৫ , সহকারী নজরুলের ৩ জন- যার রোল নং ১৪৯,১৫৫,১৭৯, দালাল সাগরের ১ জন- যার রোল নং ১৮৫,দালাল মুন্নার ১ জন- যার রোল নং ১৭৪ চুক্তির ভিত্তিতে লিখিত ও মৌখিক পাশ করানো হয়েছে। এসব প্রার্থীর কাছ থেকে মাথাপিছু ১ লাখ টাকা নিয়েছেন ক্যাপ্টেন মো: গিয়াস উদ্দিন।
বিষয়টি তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আবেদন জানিয়েছে অভিযোগকারী সঞ্জয় কুমার বিশ^াস।
অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য কথা বললে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করলে তিনি লিখিত অভিযোগটি পেয়েছেন বলে স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা চীফ নটিক্যাল অফিসার ক্যাপ্টেন মো: গিয়াস উদ্দিন বলেন, এই লিখিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছূ জানেন না। অপরদিকে সহকারী পরিচালক( প্রশাসন) মো: শাহাদাত হোসেন ফোন কলই রিসিভ করেন নি।