ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আদমদীঘিতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ: গ্রেফতার-১ মহম্মদপুরে হত্যার মামলার আসামি জামিনে এসে বাদিকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি, পরে মারধর আ.লীগ নেতার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় আইসক্রিম ফাক্টরি মালিক কালিহাতীতে লিঙ্গ কাটার অভিযোগ স্ত্রী’র বিরুদ্ধে ফিটনেস বিহীন নৌযানে সয়লাব সদরঘাট,নেই পর্যাপ্ত দক্ষ নাবিক! ৫০ কোটি টাকার মামলা থেকে বাঁচতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পাল্টা মামলা! ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নব সভাপতি হলেন আবু সাঈদ মির্জাগঞ্জে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ মাগুরার হৃদয়পুরে ফসলি জমির টপসয়েল মাটিকাটার অভিযোগ, ইউএনওর হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

মুল নায়ক মো: সহিদুল ইসলাম অধরা: বিসিআইসির সার কেলেঙ্কারীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষতি ছয়’শ কোটি টাকা!

রোস্তম মল্লিক :

ব্যাপারটা এক-দুই টাকার নয়, প্রায় ছয় শত কোটি টাকার। সুইপিং সারের হিসাব না হয় বাদই দিলাম। পোটন ট্রেডার্সের ৫শত ৮৬ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সার লোপাটের পর প্রকৃত দায়ীদের খুঁজতে সার আমদানি ও পরিবহন ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সকল চুক্তি গভীরভাবে পর্যালোচনায় দেখা যায় সার পরিবহন চুক্তি অনুযায়ী বিসিআইসি’র বাল্ক ইউরিয়া সার বস্তাবন্দী করে ৫০ দিনের মধ্যে ডেলিভারী পয়েন্টে পৌঁছে দিতে হবে। লিকুইডিটি ড্যামেজসহ (এলডি) ৭১ দিনের মধ্যে বস্তাবন্দী উইরিয়া সার ডেলিভারী পয়েন্টে পৌঁছে দিতে না পারলে চুক্তি বাতিলসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করার শর্ত চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। কোন পয়েন্টে কতটুকু সার ডেলিভারী দেয়া হয়েছে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক ভিত্তিতে এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ক্রয় বিভাগীয় প্রধান, বিপণন বিভাগীয় প্রধান, মংলা শিপিং অফিস ও চট্টগ্রাম শিপিং অফিসকে দেয়ার বিষয়টিও বিসিআইসি’র চুক্তিতে উল্লেখ আছে। রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ক্রয় বিভাগীয় প্রধানের মূখ্য দায়িত্ব চুক্তির বিষয়গুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন। তাছাড়া চুক্তি ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী ক্রয়াদেশ ইস্যুকারী হিসেবে বিসিআইসি’র ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলামের দায়িত্বই মূখ্য। কিন্তু বিসিআইসি’র প্রধান কুশিলব সাবেক ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম অত্যন্ত সুকৌশলে মনিটরিং এর দায়িত্ব বিপণন বিভাগের দিকে ঠেলে দেয়। কন্ট্রাক ম্যানেজমেন্টের সমস্ত ক্ষমতা ক্রয় বিভাগের অনুকূলে। ঠিকাদার কি আদৌ বিপণন বিভাগের আদেশ নির্দেশ মেনে চলবে।

বিপণন বিভাগ বিপাকে পড়লেও কুশিলব মোঃ সহিদুল ইসলাম চাতুরতার সাথে নিরব থাকেন। লক্ষাধিক টাকা সরকারি বেতন উত্তোলনকারী সাবেক ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলামের মূখ্য দায়িত্ব চুক্তি ব্যবস্থাপনা হলেও বিভিন্ন সময় তার নিরবতা বিসিআইসি তথা সরকারের জন্য কাল হয়েছে। চুক্তিটি গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় বৈদেশিক লোর্ড পোর্ট থেকে বাংলাদেশের বন্দর পর্যন্ত এবং অভ্যন্তরীণ বন্দর থেকে ডেলিভারী পয়েন্ট পর্যন্ত সার পরিবহনের কাজকে একটি প্যাকেজের আওতায় নিয়ে একটি চুক্তির আওতায় দুই ধরণের ঠিকাদারের সাথে পরিবহন চুক্তি করা হয়েছে। একটি প্যাকেজের আওতায় একজনের সাথে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও বিসিআইসি’র প্রধান কুশিলব সাবেক ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য একটি প্যাকেজের আওতায় বৈদেশিক এবং অভ্যন্তরীণ দুই ধরণের ঠিকাদারের সাথে পরিবহন চুক্তি করে। বিসিআইসি কর্তৃপক্ষকে মিস গাইড করে বিসিআইসি’র প্রধান কুশিলব সাবেক ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলামের এই চুক্তি পিপিআর কতটা সমর্থন করে।

এ বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হলে সিপিটিইউ এর প্রতিনিধি বলেন- বিসিআইসি’র সার ব্যবস্থাপনায় ২০১৫ সালের আগে ও ২০১৫ সালের পরে কিছু সময়ে জিটুজি এর আওতায় এফওবি ডেলিভারী টার্ম এর সার সংশ্লিষ্ট মধ্যপ্রাচ্যের তিনিটি দেশের লোড পোর্ট থেকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসার জন্য আলাদা টেন্ডার করা হতো। তৎকালীন বিদেশ থেকে আমদানি করা সারে সুইপিং হিসেবে পাওয়া যেত প্রায় ৫০০ থেকে ১২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে সার পৌঁছানোর পর অভ্যন্তরীণভাবে বিভিন্ন ডেলিভারী পয়েন্টে আমদানিকৃত সার পৌঁছানোর জন্য বিসিআইসি’র বিপণন বিভাগ থেকে পরিবহন কাজের জন্য আলাদা দরপত্র আহ্বান করা হতো।চার থেকে পাঁচটি ঠিকাদার সার পরিবহনের কাজ করত আর সুইপিং সারের মালিকানা থাকতো বিসিআইসি’র। ২০১৫ সালে মোঃ সহিদুল ইসলাম (তৎকালীন ডিজিএম) বিসিআইসি’র ক্রয় বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদানের পর থেকে কৌশলে সার পরিবহনের টেন্ডার বিপণন বিভাগ থেকে কেড়ে নিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবহন প্যাকেজকে একটি প্যাকেজে রূপান্তর করে। এর ফলে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা পরিবহন ঠিকাদারি কাজের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। সার পরিবহনের কাজ চলে যায় গুটি কয়েক ঠিকাদারের সিন্ডিকেটে।

ডেলিভারী পয়েন্টে মূল আমদানি করা সার পৌঁছানো পর্যন্ত পরিবহন ঠিকাদারের দায়িত্ব শেষ হচ্ছে। আমদানিতে ফ্রি পাওয়া সুইপিং সারের হিসাব আর কেউ রাখে না। বস্তার হিসাবও আর রাখা হচ্ছে না। সে টাকার ভাগ হয়, বাটোয়ারা হয়। আর মোঃ সহিদুল ইসলামের মত কুশিলব, জ্ঞানপাপীদের জন্যই প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ হয় বিসিআইসি, ক্ষতিগ্রস্থ হয় বাংলার মানুষ। ঠিকাদার সুযোগ পায় সার লোপাটের। মোঃ সহিদুল ইসলাম ক্রয় বিভাগে থাকাকালীন সার পরিবহন সংক্রান্ত টেন্ডারের প্রায় সবগুলিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চুক্তি ব্যবস্থাপনার মূখ্য দায়িত্বও তার।

পরিবহন ঠিকাদারের পারফরমেন্স একের পর এক দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ও কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন করে বারং বার একই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ও কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের দায়িত্ব সদস্য-সচিব হিসেবে মোঃ সহিদুল ইসলামের। তিনি নিজ স্বার্থে লাভবান হওয়ার জন্য তথ্য গোপন করলে দিনশেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ও কর্তৃপক্ষের কিছুই করার থাকে না। এ বিষয়ে বিসিআইসি’র ক্রয় ও বিপণন বিভাগ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলেন, ভেতরের কর্মকর্তারা জড়িত না থাকলে পরিবহন ঠিকাদারের একার পক্ষে সার লোপাট সম্ভব হতনা। আজ যদি চুক্তি অনুযায়ী লিকুইডিটি ড্যামেজসহ (এলডি) ৭১ দিনের মধ্যে বস্তাবন্দী ইউরিয়া সার ডেলিভারী পয়েন্টে বুঝে না পেয়ে চুক্তি বাতিলসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করা হতো তবে রাষ্ট্রকে এই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো না। বিসিআইসি’র তৎকালীন ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম নিজে লাভবান হওয়ার জন্য রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ক্ষতি করেছেন সে বিষয়টি এখন স্পষ্ট চুক্তি ব্যবস্থাপনায় যথাযথ মনিটরিং, তথ্য গোপন ও ব্যক্তি স্বার্থই শত শত কোটি টাকার সার লোপাট হওয়ার মূল কারণ।

পরিবহন ঠিকাদারের দায়িত্ব ছিল ট্রাকে করে সে সার সরকারি হেফাজতে এনে রাখা। দেড় বছর পর জানা গেল, তারা দায়িত্ব পালনের বদলে সে সার গায়েব করে দিয়েছে। যে ঠিকাদারি কোম্পানিকে সার পরিবহনে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, এর আগেও সেই একই ঠিকাদার আমদানি করা সার লোপাট করেছিলেন। অপরাধী জেনেও সেই একই কোম্পানিকে কেন বারবার দায়িত্ব দেওয়া হয়? কোনো ব্যবস্থাই-বা নেয়া হয় না কেন? কুশিলব মোঃ সহিদুল ইসলাম নিশ্চয়ই এ বিষয়ে বলবেন, আমার বিষয়টি জানা ছিল না। এই লোককে কোন দায়িত্বশীল পদে পদায়ন করলে রাষ্ট্র আবার ক্ষতিগ্রস্থ হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এখন মনেহয় মোঃ সহিদুল ইসলামের চাকুরীতে ঢোকার ইতিহাস পর্যালোচনা করার সময়ও এসেছে। বিসিআইসি’র তৎকালীন চেয়ারম্যান শাহ্ মোঃ ইমদাদুল হক বিষয়গুলো কিছুটা অনুধাবন করে প্রথমে বিপণন বিভাগীয় প্রধানকে স্ব-অবস্থান থেকে বদলী করতে পেরেছিলেন।সারের পিক সিজনের দোহাই দিয়ে বিপণন বিভাগীয় প্রধান মঞ্জুর রেজা কিছু দিনের মধ্যে স্ব-অবস্থানে অর্থাৎ বিপণন বিভাগে ফেরত আসেন। অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রতিমন্ত্রী শিল্প মন্ত্রণালয় কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি সঠিক প্রমাণিত হলো। প্রতিমন্ত্রী এডিপি মিটিং এ বলেছিলেন সার লোপোটে ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম জড়িত।

এখানে একটা বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের স্ব-অবস্থান থেকে সরিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান এর প্রতি আহ্বান জানান। বিসিআইসি’র বর্তমান চেয়ারম্যান সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম-কে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বদলী করেন। কিন্তু বিসিআইসি’র ক্রয় কেলেঙ্কারির মূল কুশিলব মোঃ সহিদুল ইসলাম এর বদলী কি যথার্থ হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার কেনা কাটার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সে পদে মোঃ সহিদুল ইসলামের আসীন হওয়া রাষ্ট্রের জন্য হুমকী নয় কি? এ বিষয়ে বিসিআইসির অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারি মনে করেন ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম এই ঝটনার সাথে ওতপ্রতভাবে জড়িত। অথচ: তিনি কোন প্রকার শাস্তির মুখোমুখি হননি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর আর্শীবাদ থাকায় তিনি সব মুশকিল আসান করে মহাআরামে চাকুরীতে বহাল রয়েছেন। এ দিকে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়ে গেছে প্রায় ছয় শত কোটি টাকা। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ক্রয় বিভাগীয় সাবেক প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলামের সেল ফোনে বারবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

আদমদীঘিতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ: গ্রেফতার-১

মুল নায়ক মো: সহিদুল ইসলাম অধরা: বিসিআইসির সার কেলেঙ্কারীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষতি ছয়’শ কোটি টাকা!

আপডেট টাইম : ০৬:৫৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৩

রোস্তম মল্লিক :

ব্যাপারটা এক-দুই টাকার নয়, প্রায় ছয় শত কোটি টাকার। সুইপিং সারের হিসাব না হয় বাদই দিলাম। পোটন ট্রেডার্সের ৫শত ৮৬ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সার লোপাটের পর প্রকৃত দায়ীদের খুঁজতে সার আমদানি ও পরিবহন ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সকল চুক্তি গভীরভাবে পর্যালোচনায় দেখা যায় সার পরিবহন চুক্তি অনুযায়ী বিসিআইসি’র বাল্ক ইউরিয়া সার বস্তাবন্দী করে ৫০ দিনের মধ্যে ডেলিভারী পয়েন্টে পৌঁছে দিতে হবে। লিকুইডিটি ড্যামেজসহ (এলডি) ৭১ দিনের মধ্যে বস্তাবন্দী উইরিয়া সার ডেলিভারী পয়েন্টে পৌঁছে দিতে না পারলে চুক্তি বাতিলসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করার শর্ত চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। কোন পয়েন্টে কতটুকু সার ডেলিভারী দেয়া হয়েছে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক ভিত্তিতে এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ক্রয় বিভাগীয় প্রধান, বিপণন বিভাগীয় প্রধান, মংলা শিপিং অফিস ও চট্টগ্রাম শিপিং অফিসকে দেয়ার বিষয়টিও বিসিআইসি’র চুক্তিতে উল্লেখ আছে। রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ক্রয় বিভাগীয় প্রধানের মূখ্য দায়িত্ব চুক্তির বিষয়গুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন। তাছাড়া চুক্তি ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী ক্রয়াদেশ ইস্যুকারী হিসেবে বিসিআইসি’র ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলামের দায়িত্বই মূখ্য। কিন্তু বিসিআইসি’র প্রধান কুশিলব সাবেক ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম অত্যন্ত সুকৌশলে মনিটরিং এর দায়িত্ব বিপণন বিভাগের দিকে ঠেলে দেয়। কন্ট্রাক ম্যানেজমেন্টের সমস্ত ক্ষমতা ক্রয় বিভাগের অনুকূলে। ঠিকাদার কি আদৌ বিপণন বিভাগের আদেশ নির্দেশ মেনে চলবে।

বিপণন বিভাগ বিপাকে পড়লেও কুশিলব মোঃ সহিদুল ইসলাম চাতুরতার সাথে নিরব থাকেন। লক্ষাধিক টাকা সরকারি বেতন উত্তোলনকারী সাবেক ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলামের মূখ্য দায়িত্ব চুক্তি ব্যবস্থাপনা হলেও বিভিন্ন সময় তার নিরবতা বিসিআইসি তথা সরকারের জন্য কাল হয়েছে। চুক্তিটি গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় বৈদেশিক লোর্ড পোর্ট থেকে বাংলাদেশের বন্দর পর্যন্ত এবং অভ্যন্তরীণ বন্দর থেকে ডেলিভারী পয়েন্ট পর্যন্ত সার পরিবহনের কাজকে একটি প্যাকেজের আওতায় নিয়ে একটি চুক্তির আওতায় দুই ধরণের ঠিকাদারের সাথে পরিবহন চুক্তি করা হয়েছে। একটি প্যাকেজের আওতায় একজনের সাথে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও বিসিআইসি’র প্রধান কুশিলব সাবেক ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য একটি প্যাকেজের আওতায় বৈদেশিক এবং অভ্যন্তরীণ দুই ধরণের ঠিকাদারের সাথে পরিবহন চুক্তি করে। বিসিআইসি কর্তৃপক্ষকে মিস গাইড করে বিসিআইসি’র প্রধান কুশিলব সাবেক ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলামের এই চুক্তি পিপিআর কতটা সমর্থন করে।

এ বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হলে সিপিটিইউ এর প্রতিনিধি বলেন- বিসিআইসি’র সার ব্যবস্থাপনায় ২০১৫ সালের আগে ও ২০১৫ সালের পরে কিছু সময়ে জিটুজি এর আওতায় এফওবি ডেলিভারী টার্ম এর সার সংশ্লিষ্ট মধ্যপ্রাচ্যের তিনিটি দেশের লোড পোর্ট থেকে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর পর্যন্ত নিয়ে আসার জন্য আলাদা টেন্ডার করা হতো। তৎকালীন বিদেশ থেকে আমদানি করা সারে সুইপিং হিসেবে পাওয়া যেত প্রায় ৫০০ থেকে ১২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে সার পৌঁছানোর পর অভ্যন্তরীণভাবে বিভিন্ন ডেলিভারী পয়েন্টে আমদানিকৃত সার পৌঁছানোর জন্য বিসিআইসি’র বিপণন বিভাগ থেকে পরিবহন কাজের জন্য আলাদা দরপত্র আহ্বান করা হতো।চার থেকে পাঁচটি ঠিকাদার সার পরিবহনের কাজ করত আর সুইপিং সারের মালিকানা থাকতো বিসিআইসি’র। ২০১৫ সালে মোঃ সহিদুল ইসলাম (তৎকালীন ডিজিএম) বিসিআইসি’র ক্রয় বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদানের পর থেকে কৌশলে সার পরিবহনের টেন্ডার বিপণন বিভাগ থেকে কেড়ে নিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবহন প্যাকেজকে একটি প্যাকেজে রূপান্তর করে। এর ফলে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা পরিবহন ঠিকাদারি কাজের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। সার পরিবহনের কাজ চলে যায় গুটি কয়েক ঠিকাদারের সিন্ডিকেটে।

ডেলিভারী পয়েন্টে মূল আমদানি করা সার পৌঁছানো পর্যন্ত পরিবহন ঠিকাদারের দায়িত্ব শেষ হচ্ছে। আমদানিতে ফ্রি পাওয়া সুইপিং সারের হিসাব আর কেউ রাখে না। বস্তার হিসাবও আর রাখা হচ্ছে না। সে টাকার ভাগ হয়, বাটোয়ারা হয়। আর মোঃ সহিদুল ইসলামের মত কুশিলব, জ্ঞানপাপীদের জন্যই প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ হয় বিসিআইসি, ক্ষতিগ্রস্থ হয় বাংলার মানুষ। ঠিকাদার সুযোগ পায় সার লোপাটের। মোঃ সহিদুল ইসলাম ক্রয় বিভাগে থাকাকালীন সার পরিবহন সংক্রান্ত টেন্ডারের প্রায় সবগুলিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চুক্তি ব্যবস্থাপনার মূখ্য দায়িত্বও তার।

পরিবহন ঠিকাদারের পারফরমেন্স একের পর এক দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ও কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন করে বারং বার একই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ও কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের দায়িত্ব সদস্য-সচিব হিসেবে মোঃ সহিদুল ইসলামের। তিনি নিজ স্বার্থে লাভবান হওয়ার জন্য তথ্য গোপন করলে দিনশেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি ও কর্তৃপক্ষের কিছুই করার থাকে না। এ বিষয়ে বিসিআইসি’র ক্রয় ও বিপণন বিভাগ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলেন, ভেতরের কর্মকর্তারা জড়িত না থাকলে পরিবহন ঠিকাদারের একার পক্ষে সার লোপাট সম্ভব হতনা। আজ যদি চুক্তি অনুযায়ী লিকুইডিটি ড্যামেজসহ (এলডি) ৭১ দিনের মধ্যে বস্তাবন্দী ইউরিয়া সার ডেলিভারী পয়েন্টে বুঝে না পেয়ে চুক্তি বাতিলসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করা হতো তবে রাষ্ট্রকে এই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো না। বিসিআইসি’র তৎকালীন ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম নিজে লাভবান হওয়ার জন্য রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ক্ষতি করেছেন সে বিষয়টি এখন স্পষ্ট চুক্তি ব্যবস্থাপনায় যথাযথ মনিটরিং, তথ্য গোপন ও ব্যক্তি স্বার্থই শত শত কোটি টাকার সার লোপাট হওয়ার মূল কারণ।

পরিবহন ঠিকাদারের দায়িত্ব ছিল ট্রাকে করে সে সার সরকারি হেফাজতে এনে রাখা। দেড় বছর পর জানা গেল, তারা দায়িত্ব পালনের বদলে সে সার গায়েব করে দিয়েছে। যে ঠিকাদারি কোম্পানিকে সার পরিবহনে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, এর আগেও সেই একই ঠিকাদার আমদানি করা সার লোপাট করেছিলেন। অপরাধী জেনেও সেই একই কোম্পানিকে কেন বারবার দায়িত্ব দেওয়া হয়? কোনো ব্যবস্থাই-বা নেয়া হয় না কেন? কুশিলব মোঃ সহিদুল ইসলাম নিশ্চয়ই এ বিষয়ে বলবেন, আমার বিষয়টি জানা ছিল না। এই লোককে কোন দায়িত্বশীল পদে পদায়ন করলে রাষ্ট্র আবার ক্ষতিগ্রস্থ হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এখন মনেহয় মোঃ সহিদুল ইসলামের চাকুরীতে ঢোকার ইতিহাস পর্যালোচনা করার সময়ও এসেছে। বিসিআইসি’র তৎকালীন চেয়ারম্যান শাহ্ মোঃ ইমদাদুল হক বিষয়গুলো কিছুটা অনুধাবন করে প্রথমে বিপণন বিভাগীয় প্রধানকে স্ব-অবস্থান থেকে বদলী করতে পেরেছিলেন।সারের পিক সিজনের দোহাই দিয়ে বিপণন বিভাগীয় প্রধান মঞ্জুর রেজা কিছু দিনের মধ্যে স্ব-অবস্থানে অর্থাৎ বিপণন বিভাগে ফেরত আসেন। অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রতিমন্ত্রী শিল্প মন্ত্রণালয় কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি সঠিক প্রমাণিত হলো। প্রতিমন্ত্রী এডিপি মিটিং এ বলেছিলেন সার লোপোটে ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম জড়িত।

এখানে একটা বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের স্ব-অবস্থান থেকে সরিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিসিআইসি’র চেয়ারম্যান এর প্রতি আহ্বান জানান। বিসিআইসি’র বর্তমান চেয়ারম্যান সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম-কে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বদলী করেন। কিন্তু বিসিআইসি’র ক্রয় কেলেঙ্কারির মূল কুশিলব মোঃ সহিদুল ইসলাম এর বদলী কি যথার্থ হয়েছে। যেখানে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার কেনা কাটার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সে পদে মোঃ সহিদুল ইসলামের আসীন হওয়া রাষ্ট্রের জন্য হুমকী নয় কি? এ বিষয়ে বিসিআইসির অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারি মনে করেন ক্রয় বিভাগীয় প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলাম এই ঝটনার সাথে ওতপ্রতভাবে জড়িত। অথচ: তিনি কোন প্রকার শাস্তির মুখোমুখি হননি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর আর্শীবাদ থাকায় তিনি সব মুশকিল আসান করে মহাআরামে চাকুরীতে বহাল রয়েছেন। এ দিকে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়ে গেছে প্রায় ছয় শত কোটি টাকা। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ক্রয় বিভাগীয় সাবেক প্রধান মোঃ সহিদুল ইসলামের সেল ফোনে বারবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।