ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত ৫ বছরের অধিক প্রেষনে দায়িত্ব পালন করছেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল কবীর! বিআইডব্লিউটিএর অতি: পরিচালক আরিফ উদ্দিনের সম্পদের পাহাড়! শাহআলীতে গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যাকারি পলাতক স্বামী গ্রেফতার  অতি:পরিচালক আরিফ উদ্দিন এখন বিআইডব্লিউটিএ‘র অঘোষিত “রাজা”! সাভারে এক ইউপি চেয়ারম্যানের সম্পদের পাহাড়! সিরাজদিখানে মঈনুল হাসান নাহিদকে বিকল্প ধরার সমর্থন মির্জাগঞ্জের ইউ,পি সচিব পরকীয়া প্রেমিকার হত্যাকাণ্ডে পুলিশ হেফাজতে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মানুষের ভালবাসায় আমি মুগ্ধ: চেয়ারম্যান প্রার্থী পলাশ মানবতার আড়ালে ভয়ংকর ফয়সাল বাহিনী, পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

অবশেষে প্রধান প্রকৌশলীর ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলো গণপূর্ত মন্ত্রনালয়

রোস্তম মল্লিক :

গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একটি সরকারকে নিজ দেশের জনগনের সুবিধার্থে অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হয়। এক্ষেত্রে অধিকাংশ উন্নয়নকাজই গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে থাকে সরকার। সরকারের গৃহীত ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য অন্যতম একটি কর্মসূচী হলো টেকসই উন্নয়ন। টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে অবকাঠামো ও নির্মান খাত। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বাস্তবায়নে মূখ্য ভূমিকা পালন করে গনপূর্ত অধিদপ্তর।
বিধিমতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তার অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদক্রম অনুযায়ী সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যন্ত বদলির এখতিয়ার রাখেন। কিন্তু ২০২২ সালের ১২ই ডিসেম্বর গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের জারিকৃত স্মারক নং- ২৫.০০.০০০০.০১৩.৯৯.০১৩.১২-৭২১ এর মাধ্যমে গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ক্ষমতা খর্ব করা হয়। তিনি অধিদপ্তরের কোনো ধরনের বদলির সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না; এই মর্মে চিঠি দিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতারের বিষয়ে তদন্ত করতেও নির্দেশনা দিয়েছিল প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়কে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি করা নিয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্র্কের ফাটল ধরে প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের। সেই সূত্রেই তার নানা অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। সেই সঙ্গে সংস্থা প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছিল। যা ছিল গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের জন্য বেদনাদায়ক। একাধিক জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞের মতে, গণপূর্তে গ্রেড-৫ বা নির্বাহী প্রকৌশলীরা মাঠপর্যায়ের কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই সংস্থার প্রধান প্রকৌশলীই ভালো জানেন, কাকে কোথায় রাখলে কাজ ভালো হবে। এজন্য এই ক্ষমতা প্রধান প্রকৌশলীর হাতে থাকা যুক্তিযুক্ত। তাদের মতে, মন্ত্রণালয় নীতিমালা করে প্রধান প্রকৌশলীর কাছ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলী/পদায়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা কেড়ে নিলে মাঠপর্যায়ের কাজের সমন্বয়, বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণে বড় ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়া এবং অধীনস্থদের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করতে খুব অসুবিধা হবে। মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা।

অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবং নিন্দুকের মুখে কালিমা লেপন করে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব শেখ নূর মোহাম্মদ সাক্ষরিত স্মারক নং- ২৫.০০.০০০০.০১৩.৯৯.০০২.২৩-৭৩৪ জারি করার মাধ্যমে গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ‘গনপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সকল প্রকার বদলী/পদায়ন সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গণপূর্র্তের বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম রয়েছে এটা সত্য। তেমনি এটাও সত্য যে, অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৌশলীগন ঘুষ গ্রহন, দুর্নীতি ও নানাবিধ অনিয়ম করে থাকেন যার ফলশ্রুতিতে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয় এবং তার ফলস্বরূপ সরকারের ব্যয় বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে কঠোর হতে হয় তার অধীনস্থদের নিয়ন্ত্রণ করতে। আর যখনই তিনি কঠোর হতে গেলেন, তখনই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীরা অধিদপ্তরকে পাশ কাটিয়ে মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের এখতিয়ার মোতাবেক তার অধীনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলী/পদায়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা খর্ব করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে সচেষ্ট হয়।

অন্যদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলীরাই মূলত মাঠ পর্যায়ে সরকারের গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে মূখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলীর স্পষ্ট ধারনা থাকে যে, কাকে কোথায় রাখলে কাজ ভালো হবে। আবার কেউ যদি অনিয়ম করে সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও প্রধান প্রকৌশলীর হাতে থাকা যুক্তিযুক্ত। এজন্য নীতিমালা করে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া কোনো বিবেচনায় সঠিক হয়নি, যা ইতোমধ্যে প্রমানিত হয়ে গেছে। মন্ত্রনালয় যখন অধিদপ্তরের স্বাভাবিক কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ করবে তখন চেইন অব কমান্ড লংঘিত হবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, অধিদপ্তরের কর্মরত সবাই মন্ত্রণালয়কে খুশি করার চেষ্টা করবে। এতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্থ হবে। বাস্তবে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ে হয়েছেও তাই। মন্ত্রনালয়ের এই একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারনে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছিল।

স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত গনপূর্ত অধিদপ্তর এবং গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ে পদে পদে এত লড়াই করতে হয়নি এই সংস্থার অন্য কোন প্রধান প্রকৌশলীকে। প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার গনপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ব্যবসায়ী-প্রকৌশলী সিন্ডিকেটকে লন্ডভন্ড করে দেন। আর এরপর থেকেই মূলত তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অপপ্রচার শুরু হয়। ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর মোহাম্মদ শামীম আখতার গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এসেই বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের ১৭টি প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করে পুনঃদরপত্র কার্যক্রম শুরু করেন। এমন নজির গণপূর্তের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি।

প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই মোহাম্মদ শামীম আখতার গনপূর্ত অধিদপ্তরের সব বদনাম ঘোচানোর পাশাপাশি ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করেন। বিতর্কিত প্রকৌশলীদের মোখিক ও লিখিতভাবে সতর্কবার্তা প্রেরনের পাশাপাশি শাস্তিমূলক বদলী করেন। ঠিকাদারী সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে ধরার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে নিয়ম মেনে সব ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার ব্যবস্থা করেন। আর এই কারনেই মূলত তিনি অনেকের চক্ষুশূল হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, মোহাম্মদ শামীম আখতার রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৪ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ১৯৯১ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি আইসিটি বিষয়ে ২০০২ সালে বুয়েট থেকে পোস্ট গ্রাজ্যুয়েট ডিপ্লোমা এবং ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিসিএস (পাবলিক ওয়ার্কস) ক্যাডারে ১৫তম (১৯৯৫) ব্যাচের একজন কর্মকর্তা।
তিনি ১৯৯৮ সালে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ২০০৮ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ২০১৮ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি গত ২০১৮ সালের ৮ মে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং পরে পদোন্নতি পেয়ে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত

অবশেষে প্রধান প্রকৌশলীর ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলো গণপূর্ত মন্ত্রনালয়

আপডেট টাইম : ০৯:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

রোস্তম মল্লিক :

গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একটি সরকারকে নিজ দেশের জনগনের সুবিধার্থে অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হয়। এক্ষেত্রে অধিকাংশ উন্নয়নকাজই গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে থাকে সরকার। সরকারের গৃহীত ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য অন্যতম একটি কর্মসূচী হলো টেকসই উন্নয়ন। টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে অবকাঠামো ও নির্মান খাত। আর এই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বাস্তবায়নে মূখ্য ভূমিকা পালন করে গনপূর্ত অধিদপ্তর।
বিধিমতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী তার অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদক্রম অনুযায়ী সর্বোচ্চ নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যন্ত বদলির এখতিয়ার রাখেন। কিন্তু ২০২২ সালের ১২ই ডিসেম্বর গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের জারিকৃত স্মারক নং- ২৫.০০.০০০০.০১৩.৯৯.০১৩.১২-৭২১ এর মাধ্যমে গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ক্ষমতা খর্ব করা হয়। তিনি অধিদপ্তরের কোনো ধরনের বদলির সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না; এই মর্মে চিঠি দিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধান প্রকৌশলী মো. শামীম আখতারের বিষয়ে তদন্ত করতেও নির্দেশনা দিয়েছিল প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়কে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি করা নিয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্র্কের ফাটল ধরে প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের। সেই সূত্রেই তার নানা অনিয়ম নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। সেই সঙ্গে সংস্থা প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেয়া হয়েছিল। যা ছিল গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের জন্য বেদনাদায়ক। একাধিক জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞের মতে, গণপূর্তে গ্রেড-৫ বা নির্বাহী প্রকৌশলীরা মাঠপর্যায়ের কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই সংস্থার প্রধান প্রকৌশলীই ভালো জানেন, কাকে কোথায় রাখলে কাজ ভালো হবে। এজন্য এই ক্ষমতা প্রধান প্রকৌশলীর হাতে থাকা যুক্তিযুক্ত। তাদের মতে, মন্ত্রণালয় নীতিমালা করে প্রধান প্রকৌশলীর কাছ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলী/পদায়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা কেড়ে নিলে মাঠপর্যায়ের কাজের সমন্বয়, বাস্তবায়ন ও নিয়ন্ত্রণে বড় ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়া এবং অধীনস্থদের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করতে খুব অসুবিধা হবে। মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা।

অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবং নিন্দুকের মুখে কালিমা লেপন করে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের যুগ্ন সচিব শেখ নূর মোহাম্মদ সাক্ষরিত স্মারক নং- ২৫.০০.০০০০.০১৩.৯৯.০০২.২৩-৭৩৪ জারি করার মাধ্যমে গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের ‘গনপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের সকল প্রকার বদলী/পদায়ন সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গণপূর্র্তের বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম রয়েছে এটা সত্য। তেমনি এটাও সত্য যে, অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৌশলীগন ঘুষ গ্রহন, দুর্নীতি ও নানাবিধ অনিয়ম করে থাকেন যার ফলশ্রুতিতে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয় এবং তার ফলস্বরূপ সরকারের ব্যয় বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে কঠোর হতে হয় তার অধীনস্থদের নিয়ন্ত্রণ করতে। আর যখনই তিনি কঠোর হতে গেলেন, তখনই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীরা অধিদপ্তরকে পাশ কাটিয়ে মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের এখতিয়ার মোতাবেক তার অধীনস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলী/পদায়ন সংক্রান্ত ক্ষমতা খর্ব করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে সচেষ্ট হয়।

অন্যদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলীরাই মূলত মাঠ পর্যায়ে সরকারের গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে মূখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলীর স্পষ্ট ধারনা থাকে যে, কাকে কোথায় রাখলে কাজ ভালো হবে। আবার কেউ যদি অনিয়ম করে সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও প্রধান প্রকৌশলীর হাতে থাকা যুক্তিযুক্ত। এজন্য নীতিমালা করে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া কোনো বিবেচনায় সঠিক হয়নি, যা ইতোমধ্যে প্রমানিত হয়ে গেছে। মন্ত্রনালয় যখন অধিদপ্তরের স্বাভাবিক কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ করবে তখন চেইন অব কমান্ড লংঘিত হবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, অধিদপ্তরের কর্মরত সবাই মন্ত্রণালয়কে খুশি করার চেষ্টা করবে। এতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্থ হবে। বাস্তবে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ে হয়েছেও তাই। মন্ত্রনালয়ের এই একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারনে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছিল।

স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত গনপূর্ত অধিদপ্তর এবং গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ে পদে পদে এত লড়াই করতে হয়নি এই সংস্থার অন্য কোন প্রধান প্রকৌশলীকে। প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার গনপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ব্যবসায়ী-প্রকৌশলী সিন্ডিকেটকে লন্ডভন্ড করে দেন। আর এরপর থেকেই মূলত তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অপপ্রচার শুরু হয়। ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর মোহাম্মদ শামীম আখতার গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এসেই বিতর্কিত ঠিকাদার জিকে শামীমের ১৭টি প্রকল্পের চুক্তি বাতিল করে পুনঃদরপত্র কার্যক্রম শুরু করেন। এমন নজির গণপূর্তের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি।

প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই মোহাম্মদ শামীম আখতার গনপূর্ত অধিদপ্তরের সব বদনাম ঘোচানোর পাশাপাশি ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করেন। বিতর্কিত প্রকৌশলীদের মোখিক ও লিখিতভাবে সতর্কবার্তা প্রেরনের পাশাপাশি শাস্তিমূলক বদলী করেন। ঠিকাদারী সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে ধরার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে নিয়ম মেনে সব ঠিকাদারকে কাজ দেয়ার ব্যবস্থা করেন। আর এই কারনেই মূলত তিনি অনেকের চক্ষুশূল হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, মোহাম্মদ শামীম আখতার রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৪ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ১৯৯১ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (সিভিল) ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি আইসিটি বিষয়ে ২০০২ সালে বুয়েট থেকে পোস্ট গ্রাজ্যুয়েট ডিপ্লোমা এবং ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স বিষয়ে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিসিএস (পাবলিক ওয়ার্কস) ক্যাডারে ১৫তম (১৯৯৫) ব্যাচের একজন কর্মকর্তা।
তিনি ১৯৯৮ সালে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ২০০৮ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ২০১৮ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি গত ২০১৮ সালের ৮ মে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং পরে পদোন্নতি পেয়ে মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।