ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
আদমদীঘিতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ: গ্রেফতার-১ মহম্মদপুরে হত্যার মামলার আসামি জামিনে এসে বাদিকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি, পরে মারধর আ.লীগ নেতার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় আইসক্রিম ফাক্টরি মালিক কালিহাতীতে লিঙ্গ কাটার অভিযোগ স্ত্রী’র বিরুদ্ধে ফিটনেস বিহীন নৌযানে সয়লাব সদরঘাট,নেই পর্যাপ্ত দক্ষ নাবিক! ৫০ কোটি টাকার মামলা থেকে বাঁচতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পাল্টা মামলা! ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় রশুনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নব সভাপতি হলেন আবু সাঈদ মির্জাগঞ্জে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ মাগুরার হৃদয়পুরে ফসলি জমির টপসয়েল মাটিকাটার অভিযোগ, ইউএনওর হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ

চাকুরী জীবনের ২০ বছরই ঢাকায়: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পিডি অসীম দাসের অপকর্ম সমাচার!

রোস্তম মল্লিক :
দীর্ঘ দশ বছর ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানায় ডেপুটি ডিরেক্টরের পদে থেকে টেন্ডারবাজী এবং সিন্ডিকেট করে শত কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন তিনি। ২০ বছর চাকুরি জীবনের পুরোটাই কাটিয়েছেন ঢাকায়। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাদের ম্যানেজ করে হয়েছেন বৃহত্তর একটি প্রকল্পের পিডি। এই প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করে গুছিয়ে নিয়েছেন নিজের আখের। সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণে” “সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক তিনি । ৩৯১ কোটি ৫২ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই যাচ্ছে অসীম কুমার দাসের পকেটে। সরকার যে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে বেকলমাত্র দুর্নীতির কারলে সে লক্ষ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। সাবেক ডিজি ডাঃ হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক এর সহায়তায় ‘ সমতল ভুমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জন গোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্প’ এর প্রকল্প পরিচালক হয়েই অসীম কুমার দাস মহীরুহ রুপ ধারন করেছেন।
নিজেকে সাবেক ছাত্র লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে অবিশ^াস্য দাপট প্রতর্শণ করেন। গোটা অধিদপ্তরে চলছে তার দাদাগিরি। সরকারি চাকুরিতে যেখানে টানা ৩ বছরের বেশি একই স্টেশনে কর্মরত থাকার বিধান নেই সেখানে নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে বিদায় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত টানা নয় বছর ‘ জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র,ঢাকা তে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করেন তিনি। শাস্তিমূলক বদলি হিসাবে জাতীয় চিড়িয়াখানা মিরপুরে যোগদানের পর টানা এগার বছর ধরে কর্মরত থেকে তার অসীম ক্ষমতা, দেখান। কূটকৌশলে ডিএলএস ও মন্ত্রণালয়ের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে লোপাট করেন কোটি কোটি টাকা। ঊনিশতম বিসিএস কর্মকর্তা অসীম কুমার, প্রয়াত আওয়ামী লীগ কেšিদ্রয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর নিকট আত্মীয় হওয়ার সুবাদে, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই ঢাকা শহরে কাটাচ্ছেন ।
তাঁর বিরুদ্ধে বহু দুর্নীতি, লুটপাট এবং নারী কেলেঙ্কারির তথ্য প্রমাণ থাকা সত্বেও কোন বিভাগীয় ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি । তিনি তার অধীনস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্নীতিতে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন । অন্যথায় চাকরিচ্যুত করারও হুমকি দিয়ে থাকেন । অধীনস্থ নারী কর্মীদের নির্দ্বিধায় যৌন সঙ্গী হওয়ার আহ্বান জানান । তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে অভিযোগ করেও লাভ হয়নি । ঢাকা চিড়িয়খিানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি ডেপুটি ডিরেক্টর হলেও ডিরেক্টরকে তার কথা মতই উঠা বসা করতে বাধ্য করতেন। পশু খাদ্য ক্রয় সহ চিড়িয়াখানায় যত ধরনের বরাদ্দ হতো সবগুলোর টেন্ডার তিনি নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতেন। বিনিময়ে নিতেন মোটা অঙ্কের অর্থ কমিশন। ১৩জন বিসিএস কর্মকর্তা থাকলেও তিনি নিজেই সকল সিদ্ধান্ত নিতেন এবং দিতেন । তার মতের বিরুদ্ধে গেলেই তাকে, চাকরিচ্যুত, বদলি করিয়ে দিতেন। তার সিন্ডিকেটের নিকট খোদ ডিরেক্টরও অসহায় ছিলেন । তিনি নাকি সচিব এবং মন্ত্রীদের অর্থ এবং নারী দিয়ে তুষ্ট রাখতে সক্ষম ।
এদিকে তার নারী কেলেঙ্কারি ইস্যুতে যাদের তদন্ত ভার দেওয়া হয়েছিল, তারা তারই অধীনস্থ কর্মকর্তা । অসীম কুমার দাসের ক্ষমতার সীমা এতোই বিশাল যে, অতীতে তিনি নিজেকে কখনো ঢাকা চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা, কখনো আইন কর্মকর্তা, কখনো-বা এস্টেট অফিসার সহ নানান পরিচয় দিয়ে মানুষের সাথে ধোঁকাবাজী করতেন । সহপাঠী বা অধীনস্থদের সাথে তুই সম্বোধন করতেও দ্বিধা বোধ করতেন না। ভিজিটিং কার্ডেও তিনি একাধিক পদের উল্লেখ করছেন।
একটি ভিজিটিং কার্ডে দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজেকে ‘ল এফেয়ার্স অফিসার’ ডিপার্টমেন্ট অব লাইভস্টক সার্ভিসেস, আবার একই ভিজিটিং কার্ডে ঢাকার মিরপুরস্থ জাতীয় চিড়িয়াখানার ‘এস্টেট অফিসার’ বলে উল্লেখ করেছেন। ওই ভিজিটিং কার্ডেই তিনি আবার আলাদাভাবে নিজেকে ‘মিনিস্ট্রি অব ফিসারিজ এন্ড লাইভস্টক’ এর অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছেন। এ ধরনের আরো একাধিক পরিচয়ের ভিজিটিং কার্ড অসীম কুমার দাস ব্যবহার করছেন। প্রভাব বিস্তার করে জাল-জালিয়াতি, অনিয়ম-দুর্নীতি, করাই তার পেশা ও নেশা বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারাও তার ভয়ে তটস্থ থাকেন। দুর্নীতি দমন কমিশন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে অসীম কুমার দাসের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ জমা পড়লেও, এমনকি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এক পর্যায়ে তা থেমে যায়। আসলেই অসীম কুমার দাসের ক্ষমতাও অসীম। আর এ কারণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হলেও একটানা ১৩ বছর ধরে ঘুরেফিরে রাজধানী ঢাকাতেই পোস্টিং নিয়ে আছেন।
বিগত দশম সংসদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অসীমের দুর্নীতি-অপকর্ম ও অবৈধ ক্ষমতার ব্যবহার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করার নির্দেশনা দেয়া হলেও তা দীর্ঘদিনেও কার্যকর হয়নি। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে রাজধানীতেই থেকে যান দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তা। এর আগে রাজধানীর আলাউদ্দিন রোডস্থ দফতরে কর্মরত থাকাকালে নারীঘটিত কেলেঙ্কারির কারণে সেখান থেকে তাকে বদলি করা হয়। পোস্টিং হয় ঢাকা চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানায় পোস্টিং পেয়েই যেন লুটপাটের রাজত্ব পেয়ে যান অসীম কুমার। অধিদফতর ও চিড়িয়াখানার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে লুটপাটের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তিনি। এই সিন্ডিকেটের সুবিধা নিয়ে চিড়িয়াখানার প্রত্যেকটি দরপত্র কমিটির সদস্য হয়ে যান অসীম। সেই সুবাদে সব দরপত্র তার নিয়ন্ত্রণে রেখে কাজ ভাগাভাগি করে সরকারের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।
সে সময় অর্গ্রানোগ্রামে না থাকলেও এস্টেট অফিসার, আইন কর্মকর্তা, দরপত্র কমিটির সদস্য হিসেবে একেক সময়ে একেক পদ-পরিচয় ব্যবহার করতেন। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটি পদের উল্লেখ করে আলাদা আলাদা সিলও বানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। যখন যেটি লাগে তখন সেটি কাজে লাগাতেন।
এভাবে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। সূত্র জানায়, অসীম কুমার পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হওয়ার পরেও নিয়মবহির্ভূতভাবে ঢাকা চিড়িয়াখানার বিভাগীয় মামলার খোঁজ খবর নেয়া দায়িত্ব হলেও মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে সরকারি মামলার নানা নথি ও তথ্য বেদখলকারীদের কাছে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে অসীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অসীম প্রতিপক্ষের লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে মামলার গোপন খবরাখবর জানিয়ে দেন এমনকি কখন কোন মামলা/ আপিল দায়ের করতে হবে সেই পরামর্শও দিয়ে দিতেন আগেভাগে। সূত্র জানায়, অতীতে অসীম কুমার দাস ঢাকা চিড়িয়খিানার এস্টেট অফিসার হিসেবে সিল ব্যবহার করে চিড়িয়াখানাসহ অধিদফতরের অন্যান্য দফতরের মামলা খরচ বাবদ প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।
একই সাথে আইন কর্মকর্তা হিসেবে সিল ব্যবহার করে আইনজীবী এবং আদালতের খরচ বাবদ লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। সূত্রগুলো আরো জানায়, এর আগে সরকারি জমি আত্মসাত ও পশুখাদ্য থেকে বিপুল অংকের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অসীমের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন এবং চিড়িয়াখানার জমি উদ্ধারের জন্য ভূমি জরিপ অধিদফতরকে পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বিষয়টি অসীম জানার পরে সংশ্লিষ্ট এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে তদবির করে নোটসিট পরিবর্তনের ব্যবস্থা করেন। এরপর শুধুমাত্র ভূমি জরিপ অধিদফতরকে পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ বিভাগের এই কর্মকর্তা বর্তমানে কোটি কোটি টাকার অবেধ সম্পদের মালিক। গ্রামের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ জমিজমা, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও ব্যাংকে কোটি টাকার এফডিআর/ সঞ্চয়পত্র লগ্নী রয়েছে তার। অসীমের নানা রকমের দুর্নীতি-জালিয়াতি, অপকর্র্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগও জমা পড়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত অন্তে তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করে তার দুর্নীতিগুলো সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আগামী পর্বে পড়–ন: সমতল ভুমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণে গৃহিত “সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের“ লুটপাট কাহিনী (চলবে)
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

আদমদীঘিতে শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ: গ্রেফতার-১

চাকুরী জীবনের ২০ বছরই ঢাকায়: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পিডি অসীম দাসের অপকর্ম সমাচার!

আপডেট টাইম : ০৯:১৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩
রোস্তম মল্লিক :
দীর্ঘ দশ বছর ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানায় ডেপুটি ডিরেক্টরের পদে থেকে টেন্ডারবাজী এবং সিন্ডিকেট করে শত কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন তিনি। ২০ বছর চাকুরি জীবনের পুরোটাই কাটিয়েছেন ঢাকায়। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাদের ম্যানেজ করে হয়েছেন বৃহত্তর একটি প্রকল্পের পিডি। এই প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করে গুছিয়ে নিয়েছেন নিজের আখের। সমতল অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণে” “সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক তিনি । ৩৯১ কোটি ৫২ লক্ষ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের সিংহভাগ টাকাই যাচ্ছে অসীম কুমার দাসের পকেটে। সরকার যে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে বেকলমাত্র দুর্নীতির কারলে সে লক্ষ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। সাবেক ডিজি ডাঃ হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক এর সহায়তায় ‘ সমতল ভুমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জন গোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্প’ এর প্রকল্প পরিচালক হয়েই অসীম কুমার দাস মহীরুহ রুপ ধারন করেছেন।
নিজেকে সাবেক ছাত্র লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে অবিশ^াস্য দাপট প্রতর্শণ করেন। গোটা অধিদপ্তরে চলছে তার দাদাগিরি। সরকারি চাকুরিতে যেখানে টানা ৩ বছরের বেশি একই স্টেশনে কর্মরত থাকার বিধান নেই সেখানে নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে বিদায় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত টানা নয় বছর ‘ জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র,ঢাকা তে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করেন তিনি। শাস্তিমূলক বদলি হিসাবে জাতীয় চিড়িয়াখানা মিরপুরে যোগদানের পর টানা এগার বছর ধরে কর্মরত থেকে তার অসীম ক্ষমতা, দেখান। কূটকৌশলে ডিএলএস ও মন্ত্রণালয়ের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজসে লোপাট করেন কোটি কোটি টাকা। ঊনিশতম বিসিএস কর্মকর্তা অসীম কুমার, প্রয়াত আওয়ামী লীগ কেšিদ্রয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর নিকট আত্মীয় হওয়ার সুবাদে, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই ঢাকা শহরে কাটাচ্ছেন ।
তাঁর বিরুদ্ধে বহু দুর্নীতি, লুটপাট এবং নারী কেলেঙ্কারির তথ্য প্রমাণ থাকা সত্বেও কোন বিভাগীয় ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি । তিনি তার অধীনস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীদের দুর্নীতিতে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন । অন্যথায় চাকরিচ্যুত করারও হুমকি দিয়ে থাকেন । অধীনস্থ নারী কর্মীদের নির্দ্বিধায় যৌন সঙ্গী হওয়ার আহ্বান জানান । তার বিরুদ্ধে এ বিষয়ে অভিযোগ করেও লাভ হয়নি । ঢাকা চিড়িয়খিানায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি ডেপুটি ডিরেক্টর হলেও ডিরেক্টরকে তার কথা মতই উঠা বসা করতে বাধ্য করতেন। পশু খাদ্য ক্রয় সহ চিড়িয়াখানায় যত ধরনের বরাদ্দ হতো সবগুলোর টেন্ডার তিনি নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতেন। বিনিময়ে নিতেন মোটা অঙ্কের অর্থ কমিশন। ১৩জন বিসিএস কর্মকর্তা থাকলেও তিনি নিজেই সকল সিদ্ধান্ত নিতেন এবং দিতেন । তার মতের বিরুদ্ধে গেলেই তাকে, চাকরিচ্যুত, বদলি করিয়ে দিতেন। তার সিন্ডিকেটের নিকট খোদ ডিরেক্টরও অসহায় ছিলেন । তিনি নাকি সচিব এবং মন্ত্রীদের অর্থ এবং নারী দিয়ে তুষ্ট রাখতে সক্ষম ।
এদিকে তার নারী কেলেঙ্কারি ইস্যুতে যাদের তদন্ত ভার দেওয়া হয়েছিল, তারা তারই অধীনস্থ কর্মকর্তা । অসীম কুমার দাসের ক্ষমতার সীমা এতোই বিশাল যে, অতীতে তিনি নিজেকে কখনো ঢাকা চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা, কখনো আইন কর্মকর্তা, কখনো-বা এস্টেট অফিসার সহ নানান পরিচয় দিয়ে মানুষের সাথে ধোঁকাবাজী করতেন । সহপাঠী বা অধীনস্থদের সাথে তুই সম্বোধন করতেও দ্বিধা বোধ করতেন না। ভিজিটিং কার্ডেও তিনি একাধিক পদের উল্লেখ করছেন।
একটি ভিজিটিং কার্ডে দেখা যাচ্ছে, তিনি নিজেকে ‘ল এফেয়ার্স অফিসার’ ডিপার্টমেন্ট অব লাইভস্টক সার্ভিসেস, আবার একই ভিজিটিং কার্ডে ঢাকার মিরপুরস্থ জাতীয় চিড়িয়াখানার ‘এস্টেট অফিসার’ বলে উল্লেখ করেছেন। ওই ভিজিটিং কার্ডেই তিনি আবার আলাদাভাবে নিজেকে ‘মিনিস্ট্রি অব ফিসারিজ এন্ড লাইভস্টক’ এর অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছেন। এ ধরনের আরো একাধিক পরিচয়ের ভিজিটিং কার্ড অসীম কুমার দাস ব্যবহার করছেন। প্রভাব বিস্তার করে জাল-জালিয়াতি, অনিয়ম-দুর্নীতি, করাই তার পেশা ও নেশা বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারাও তার ভয়ে তটস্থ থাকেন। দুর্নীতি দমন কমিশন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে অসীম কুমার দাসের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ জমা পড়লেও, এমনকি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এক পর্যায়ে তা থেমে যায়। আসলেই অসীম কুমার দাসের ক্ষমতাও অসীম। আর এ কারণে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হলেও একটানা ১৩ বছর ধরে ঘুরেফিরে রাজধানী ঢাকাতেই পোস্টিং নিয়ে আছেন।
বিগত দশম সংসদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অসীমের দুর্নীতি-অপকর্ম ও অবৈধ ক্ষমতার ব্যবহার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করার নির্দেশনা দেয়া হলেও তা দীর্ঘদিনেও কার্যকর হয়নি। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে রাজধানীতেই থেকে যান দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তা। এর আগে রাজধানীর আলাউদ্দিন রোডস্থ দফতরে কর্মরত থাকাকালে নারীঘটিত কেলেঙ্কারির কারণে সেখান থেকে তাকে বদলি করা হয়। পোস্টিং হয় ঢাকা চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানায় পোস্টিং পেয়েই যেন লুটপাটের রাজত্ব পেয়ে যান অসীম কুমার। অধিদফতর ও চিড়িয়াখানার দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে লুটপাটের বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তিনি। এই সিন্ডিকেটের সুবিধা নিয়ে চিড়িয়াখানার প্রত্যেকটি দরপত্র কমিটির সদস্য হয়ে যান অসীম। সেই সুবাদে সব দরপত্র তার নিয়ন্ত্রণে রেখে কাজ ভাগাভাগি করে সরকারের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।
সে সময় অর্গ্রানোগ্রামে না থাকলেও এস্টেট অফিসার, আইন কর্মকর্তা, দরপত্র কমিটির সদস্য হিসেবে একেক সময়ে একেক পদ-পরিচয় ব্যবহার করতেন। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটি পদের উল্লেখ করে আলাদা আলাদা সিলও বানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। যখন যেটি লাগে তখন সেটি কাজে লাগাতেন।
এভাবে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। সূত্র জানায়, অসীম কুমার পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হওয়ার পরেও নিয়মবহির্ভূতভাবে ঢাকা চিড়িয়াখানার বিভাগীয় মামলার খোঁজ খবর নেয়া দায়িত্ব হলেও মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে সরকারি মামলার নানা নথি ও তথ্য বেদখলকারীদের কাছে সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে অসীমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অসীম প্রতিপক্ষের লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে মামলার গোপন খবরাখবর জানিয়ে দেন এমনকি কখন কোন মামলা/ আপিল দায়ের করতে হবে সেই পরামর্শও দিয়ে দিতেন আগেভাগে। সূত্র জানায়, অতীতে অসীম কুমার দাস ঢাকা চিড়িয়খিানার এস্টেট অফিসার হিসেবে সিল ব্যবহার করে চিড়িয়াখানাসহ অধিদফতরের অন্যান্য দফতরের মামলা খরচ বাবদ প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।
একই সাথে আইন কর্মকর্তা হিসেবে সিল ব্যবহার করে আইনজীবী এবং আদালতের খরচ বাবদ লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। সূত্রগুলো আরো জানায়, এর আগে সরকারি জমি আত্মসাত ও পশুখাদ্য থেকে বিপুল অংকের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অসীমের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন এবং চিড়িয়াখানার জমি উদ্ধারের জন্য ভূমি জরিপ অধিদফতরকে পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বিষয়টি অসীম জানার পরে সংশ্লিষ্ট এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে তদবির করে নোটসিট পরিবর্তনের ব্যবস্থা করেন। এরপর শুধুমাত্র ভূমি জরিপ অধিদফতরকে পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ বিভাগের এই কর্মকর্তা বর্তমানে কোটি কোটি টাকার অবেধ সম্পদের মালিক। গ্রামের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ জমিজমা, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও ব্যাংকে কোটি টাকার এফডিআর/ সঞ্চয়পত্র লগ্নী রয়েছে তার। অসীমের নানা রকমের দুর্নীতি-জালিয়াতি, অপকর্র্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগও জমা পড়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত অন্তে তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করে তার দুর্নীতিগুলো সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আগামী পর্বে পড়–ন: সমতল ভুমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণে গৃহিত “সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের“ লুটপাট কাহিনী (চলবে)