ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত ৫ বছরের অধিক প্রেষনে দায়িত্ব পালন করছেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল কবীর! বিআইডব্লিউটিএর অতি: পরিচালক আরিফ উদ্দিনের সম্পদের পাহাড়! শাহআলীতে গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যাকারি পলাতক স্বামী গ্রেফতার  অতি:পরিচালক আরিফ উদ্দিন এখন বিআইডব্লিউটিএ‘র অঘোষিত “রাজা”! সাভারে এক ইউপি চেয়ারম্যানের সম্পদের পাহাড়! সিরাজদিখানে মঈনুল হাসান নাহিদকে বিকল্প ধরার সমর্থন মির্জাগঞ্জের ইউ,পি সচিব পরকীয়া প্রেমিকার হত্যাকাণ্ডে পুলিশ হেফাজতে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মানুষের ভালবাসায় আমি মুগ্ধ: চেয়ারম্যান প্রার্থী পলাশ মানবতার আড়ালে ভয়ংকর ফয়সাল বাহিনী, পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বিতর্কিত ও আলোচিত রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জল মল্লিক

মোঃ সোহেল রানা :
উজ্জল মল্লিকের উত্থান বিএনপির ছত্রছায়ায়। রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এমদাদুর ইসলাম বিএনপির মন্ত্রী নোমানের জামাইয়ের হাত ধরে চাকুরীতে যোগদান করেন। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় বিএনপির আর এক নেতা নিতাই রায় চৌধুরীর সুপারিশ ও তদবিরে ওই সময় সহকারী প্রকৌশলী পদ খালি না থাকায় উজ্জল মল্লিক কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে মাষ্টাররুল হিসেবে রাজউকে যোগদান করেন।
সুত্রে আরো জানা যায় পরবর্তীতে নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে বিশেষ ব্যবস্থায় তৎকালীন বিএনপির গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী উজ্জল মল্লিক কে রাজউকের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেন। আর ওই নিয়োগ যেন উজ্জল মল্লিক এর কপাল খুলে যায়। বিএনপির আর এক নেতা মির্জা আব্বাসের সুদৃষ্টিতে পড়ে যায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করতে ভুল করেনি উজ্জল মল্লিক। তাই বিএনপির আমলে অনৈতিক সবরকম সুবিধা লাভ করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে উজ্জল মল্লিক ভোল পাল্টে পুরো আওয়ামীলীগ বনে যান। সুত্রে জানা যায় বর্তমানে উজ্জল মল্লিক এর পদোন্নতি সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে। একাধিক সিনিয়র কে ডিঙিয়ে কোন এক হাইকমান্ডের নির্দেশে বর্তমানে রাজউকের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রকৌশলী পদ বাগিয়ে নিয়েছেন , এজন্য খরচ হয়েছে কয়েক কোটি টাকা পদে বসেই তিনি সেই টাকা সুদে আসলে তুলেছেন বলে একাধিক ব্যাক্তি প্রতিবেদক কে জানান। আর ওই করিৎকর্মা ব্যাক্তির নাম উজ্জল মল্লিক যিনি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী পদে রয়েছেন ।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় শুধু রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী পদই না বিভিন্ন প্রকল্প থেকে টেন্ডার বাণিজ্যে অযোগ্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কে কাজ দেওয়া সহ বিভিন্ন ভাবে কয়েক শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে । অনুসন্ধানে আরো জানা যায় পূর্বাচল প্রকল্পের তিন কাঠার প্লট ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাড়ে আট কাঠার প্লটে রুপান্তরিত করে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া ও পূর্বাচল প্রকল্পের তৈল পাম্পের জায়গা নিয়েছেন নামে বেনামে।২০০৭-২০০৮ বিজয় সরণির মুখে রেলক্রসিংয়ের উপর ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যাবস্থাপক থাকা কালীন ১৩ শ্রমিক হত্যা কান্ডে জড়িয়ে রয়েছে উজ্জল মল্লিকের নাম। উজ্জল মল্লিকের অদক্ষতায় এতবড় হত্যাকান্ড সংঘটিত হলেও পর্দার অন্তরালে থেকে যান ওই প্রকল্প পরিচালক উজ্জল মল্লিক। ভুল নকশায় ৩৬ সেতু যার খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা যা নির্মিত ঠিকই কিন্তু বর্তমানে অকেজো। বিভিন্ন সময়ে কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে প্রকল্প ব্যাবস্থাপক-সহ একাধিক ব্যক্তিকে ওই প্রকল্প থেকে বদলি করা হলেও উজ্জ্বল মল্লিককে কখনো বদলি করা হয়নি।
সাম্প্রতিক আলোচিত চরিত্র দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত রাজউকের দুর্বত্তায়নে নতুন মহাকাব্য রচনা করেছেন উজ্জল মল্লিক। রাজউকের সকল কর্মকর্তার বিদেশ সফরের সমষ্ঠির চেয়ে ও অধিক সংখ্যক একাই সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমন করেছেন। রাজউকে কমর্রত একাধিক ব্যক্তি জানান দুর্নীতি আর অনিয়ম যেন উজ্জল মল্লিক এর পদোন্নতির মুল উৎস। একাধিক অভিযোগ ও কয়েক জন সিনিয়রকে ডিঙিয়ে উজ্জল মল্লিক রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ তার খুঁটির জোর কোথায়? রাজউকের একাধিক ব্যক্তি জানান অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেওয়ার হুমকি সহ অকথ্যভাষায় গালাগালি করেন সিনিয়রদের। গত ১৬/০৪/২০২৩ ইং তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে রাজউকের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থের লাগামহীন অপচয়, দুর্নীতির মাধ্যমে পূর্বাচল প্রকল্পের হাজার কোটি টাকা লুটপাট অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধান এর জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে যাহার স্বারক নং ০০.০১০০০০.৫০১.০১.১৩০.১৮/১৪৬৮৭এবং ১৪৬৮৫ ।
এছাড়া ও গত ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক তথ্য প্রেরণ করে উল্লেখ জনাব উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা অনুসন্ধানী রয়েছে। এছাড়া উজ্জল মল্লিকের প্রধান প্রকৌশলী পদ নিয়ে রয়েছে জটিলতা। এসিয়ার ছাড়া পদোন্নতি যা তথ্যসুত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ম ভঙ্গ,জ্যেষ্ঠতা নির্ণয় জটিলতা , চলতি দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পদোন্নতির জন্য প্রণীত জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত তালিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করিতে হইবে এবং এই ক্ষেত্রে চাকরি সন্তোষজনক থাকিলে জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে কনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা যাইবে না। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকুরী বিধিমালা ২০১৩ অনুযায়ী ১ম শ্রেণির কর্মকর্তাগনের হালনাগাদ চুড়ান্ত জোষ্ঠতা তালিকায় উজ্জল মল্লিক তিন নাম্বারে আছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রধান প্রকৌশলী পদ সিনিয়র থেকে জুনিয়র কিন্তূ উজ্জল মল্লিকের বিষয়ে উল্টো তাই উজ্জল মল্লিককে প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগে রাজউকের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।
তথ্য সুত্রে জানা গেছে প্রধান প্রকৌশলী পদের জন্য একাধিক ব্যাক্তি আদালতে মামলা দায়ের করেন তবে আদালতের রায় উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে থাকলে ও কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে উজ্জল মল্লিক এখনো প্রধান প্রকৌশলী পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে একাধিক কর্মকর্তা জানান। এছাড়া আদালতের রায় কার্যকর হলে ও রাজউকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ, অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সত্যতা নিশ্চিত করতে সরেজমিনে গেলে উজ্জল মল্লিক সাংবাদিক এর সাথে কথা বলতে রাজি হননি তবে তিনি তার হাইকমান্ডের সাথে কথা বলতে বলেছেন।
অবশেষে উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ সেই বিষয়ে জানতে রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিয়ার কাছে গেলে তিনি ও উজ্জল মল্লিকের বিষয়ে কোন তথ্য বা কথা বলতে রাজি হননি। এ যেন সেই পুরনো প্রবাদ বাক্য শস্যার মধ্যে ভুত আর সেই কারণেই উজ্জল মল্লিকের দাপট একটু বেশিই। কারণ একাধিক অভিযোগ অনিয়ম দুর্নীতি থাকা সত্ত্বেও উজ্জল মল্লিক এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা কথা বলার কেউ যেন বর্তমানে রাজউকে নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন বর্তমানে রাজউকের আর এক রাজা উজ্জল মল্লিক তাই প্রধান প্রকৌশলীর নিয়ম অনুযায়ী সবাই কে চলতে হয়। কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে আদালতের রায় কে ও অমান্য করে একাধিক অভিযোগ অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও উজ্জল মল্লিক এখনো প্রধান প্রকৌশলীর পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন আমাদের অনুরোধ থাকবে উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ অনিয়ম দুর্নীতি এবং নিয়ম ভঙ্গ করে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলীর পদে বহাল রয়েছে সেই বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত

বিতর্কিত ও আলোচিত রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী উজ্জল মল্লিক

আপডেট টাইম : ০৫:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৩

মোঃ সোহেল রানা :
উজ্জল মল্লিকের উত্থান বিএনপির ছত্রছায়ায়। রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এমদাদুর ইসলাম বিএনপির মন্ত্রী নোমানের জামাইয়ের হাত ধরে চাকুরীতে যোগদান করেন। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় বিএনপির আর এক নেতা নিতাই রায় চৌধুরীর সুপারিশ ও তদবিরে ওই সময় সহকারী প্রকৌশলী পদ খালি না থাকায় উজ্জল মল্লিক কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে মাষ্টাররুল হিসেবে রাজউকে যোগদান করেন।
সুত্রে আরো জানা যায় পরবর্তীতে নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে বিশেষ ব্যবস্থায় তৎকালীন বিএনপির গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী উজ্জল মল্লিক কে রাজউকের সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেন। আর ওই নিয়োগ যেন উজ্জল মল্লিক এর কপাল খুলে যায়। বিএনপির আর এক নেতা মির্জা আব্বাসের সুদৃষ্টিতে পড়ে যায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করতে ভুল করেনি উজ্জল মল্লিক। তাই বিএনপির আমলে অনৈতিক সবরকম সুবিধা লাভ করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে উজ্জল মল্লিক ভোল পাল্টে পুরো আওয়ামীলীগ বনে যান। সুত্রে জানা যায় বর্তমানে উজ্জল মল্লিক এর পদোন্নতি সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে। একাধিক সিনিয়র কে ডিঙিয়ে কোন এক হাইকমান্ডের নির্দেশে বর্তমানে রাজউকের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রকৌশলী পদ বাগিয়ে নিয়েছেন , এজন্য খরচ হয়েছে কয়েক কোটি টাকা পদে বসেই তিনি সেই টাকা সুদে আসলে তুলেছেন বলে একাধিক ব্যাক্তি প্রতিবেদক কে জানান। আর ওই করিৎকর্মা ব্যাক্তির নাম উজ্জল মল্লিক যিনি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী পদে রয়েছেন ।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় শুধু রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী পদই না বিভিন্ন প্রকল্প থেকে টেন্ডার বাণিজ্যে অযোগ্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কে কাজ দেওয়া সহ বিভিন্ন ভাবে কয়েক শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে । অনুসন্ধানে আরো জানা যায় পূর্বাচল প্রকল্পের তিন কাঠার প্লট ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাড়ে আট কাঠার প্লটে রুপান্তরিত করে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এছাড়া ও পূর্বাচল প্রকল্পের তৈল পাম্পের জায়গা নিয়েছেন নামে বেনামে।২০০৭-২০০৮ বিজয় সরণির মুখে রেলক্রসিংয়ের উপর ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যাবস্থাপক থাকা কালীন ১৩ শ্রমিক হত্যা কান্ডে জড়িয়ে রয়েছে উজ্জল মল্লিকের নাম। উজ্জল মল্লিকের অদক্ষতায় এতবড় হত্যাকান্ড সংঘটিত হলেও পর্দার অন্তরালে থেকে যান ওই প্রকল্প পরিচালক উজ্জল মল্লিক। ভুল নকশায় ৩৬ সেতু যার খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা যা নির্মিত ঠিকই কিন্তু বর্তমানে অকেজো। বিভিন্ন সময়ে কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে প্রকল্প ব্যাবস্থাপক-সহ একাধিক ব্যক্তিকে ওই প্রকল্প থেকে বদলি করা হলেও উজ্জ্বল মল্লিককে কখনো বদলি করা হয়নি।
সাম্প্রতিক আলোচিত চরিত্র দুর্নীতির বরপুত্র খ্যাত রাজউকের দুর্বত্তায়নে নতুন মহাকাব্য রচনা করেছেন উজ্জল মল্লিক। রাজউকের সকল কর্মকর্তার বিদেশ সফরের সমষ্ঠির চেয়ে ও অধিক সংখ্যক একাই সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমন করেছেন। রাজউকে কমর্রত একাধিক ব্যক্তি জানান দুর্নীতি আর অনিয়ম যেন উজ্জল মল্লিক এর পদোন্নতির মুল উৎস। একাধিক অভিযোগ ও কয়েক জন সিনিয়রকে ডিঙিয়ে উজ্জল মল্লিক রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ তার খুঁটির জোর কোথায়? রাজউকের একাধিক ব্যক্তি জানান অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেওয়ার হুমকি সহ অকথ্যভাষায় গালাগালি করেন সিনিয়রদের। গত ১৬/০৪/২০২৩ ইং তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে রাজউকের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থের লাগামহীন অপচয়, দুর্নীতির মাধ্যমে পূর্বাচল প্রকল্পের হাজার কোটি টাকা লুটপাট অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধান এর জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে যাহার স্বারক নং ০০.০১০০০০.৫০১.০১.১৩০.১৮/১৪৬৮৭এবং ১৪৬৮৫ ।
এছাড়া ও গত ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক তথ্য প্রেরণ করে উল্লেখ জনাব উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটা অনুসন্ধানী রয়েছে। এছাড়া উজ্জল মল্লিকের প্রধান প্রকৌশলী পদ নিয়ে রয়েছে জটিলতা। এসিয়ার ছাড়া পদোন্নতি যা তথ্যসুত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়ম ভঙ্গ,জ্যেষ্ঠতা নির্ণয় জটিলতা , চলতি দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে পদোন্নতির জন্য প্রণীত জ্যেষ্ঠতা সংক্রান্ত তালিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করিতে হইবে এবং এই ক্ষেত্রে চাকরি সন্তোষজনক থাকিলে জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে কনিষ্ঠ কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা যাইবে না। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকুরী বিধিমালা ২০১৩ অনুযায়ী ১ম শ্রেণির কর্মকর্তাগনের হালনাগাদ চুড়ান্ত জোষ্ঠতা তালিকায় উজ্জল মল্লিক তিন নাম্বারে আছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রধান প্রকৌশলী পদ সিনিয়র থেকে জুনিয়র কিন্তূ উজ্জল মল্লিকের বিষয়ে উল্টো তাই উজ্জল মল্লিককে প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগে রাজউকের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা।
তথ্য সুত্রে জানা গেছে প্রধান প্রকৌশলী পদের জন্য একাধিক ব্যাক্তি আদালতে মামলা দায়ের করেন তবে আদালতের রায় উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে থাকলে ও কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে উজ্জল মল্লিক এখনো প্রধান প্রকৌশলী পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে একাধিক কর্মকর্তা জানান। এছাড়া আদালতের রায় কার্যকর হলে ও রাজউকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ, অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে। সত্যতা নিশ্চিত করতে সরেজমিনে গেলে উজ্জল মল্লিক সাংবাদিক এর সাথে কথা বলতে রাজি হননি তবে তিনি তার হাইকমান্ডের সাথে কথা বলতে বলেছেন।
অবশেষে উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ সেই বিষয়ে জানতে রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিয়ার কাছে গেলে তিনি ও উজ্জল মল্লিকের বিষয়ে কোন তথ্য বা কথা বলতে রাজি হননি। এ যেন সেই পুরনো প্রবাদ বাক্য শস্যার মধ্যে ভুত আর সেই কারণেই উজ্জল মল্লিকের দাপট একটু বেশিই। কারণ একাধিক অভিযোগ অনিয়ম দুর্নীতি থাকা সত্ত্বেও উজ্জল মল্লিক এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বা কথা বলার কেউ যেন বর্তমানে রাজউকে নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন বর্তমানে রাজউকের আর এক রাজা উজ্জল মল্লিক তাই প্রধান প্রকৌশলীর নিয়ম অনুযায়ী সবাই কে চলতে হয়। কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে আদালতের রায় কে ও অমান্য করে একাধিক অভিযোগ অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও উজ্জল মল্লিক এখনো প্রধান প্রকৌশলীর পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন আমাদের অনুরোধ থাকবে উজ্জল মল্লিকের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ অনিয়ম দুর্নীতি এবং নিয়ম ভঙ্গ করে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলীর পদে বহাল রয়েছে সেই বিষয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি।