ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মিরপুরে ৬৫০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার মির্জাগঞ্জে ইসি সচিব’র সাথে মতবিনিময় সভা তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলা তথা বাউফল, বাড়ছে বিভিন্ন রোগবালাই নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু মৌজাভেদে আবারও কমলো জমির নিবন্ধন খরচ রাজউকের নতুন চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সিদ্দিকুর রহমান গোপীবাগে ৩৫ কোটি টাকার খাস জমি উদ্ধার বগুড়ায় আইআরআইবি ফ্যান ক্লাব এর উদ্যোগে শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ-সামগ্রী বিতরণ ব্যাংক ডাকাতিতে ব্যবহৃত গাড়িসহ কেএনএফের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার ছাতিয়ান গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ’র  চাল বিতরন
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এসব হচ্ছে কি?

দদুকের তদন্ত থাকা কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক ডিজি নিয়োগের তোড়জোড়!

বিশেষ প্রতিবেদক :
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডা. মো: এমদাদুল হক তালুকদারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। সংসদ সদস্যের প্যাডে প্রদত্ত এই অভিযোগটি গ্রহন করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। যার দুদক প্রধান কার্যালয়ের স্মারক নং ০০.০১.০০০০.৫০৩.২৬.৫৪৫.২৩.৪৩১৪৩ তারিখ: ০৯/১২/২০২৩ ইং এবং দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় ঢাকার ই/আর নং তদন্ত ১/৪০৮/২০২৩/প্রকা,ঢাকা। অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য পরিচালক (অনু: ও তদন্ত-১ কে তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক (অনু ও তদন্ত) নারগিস সুলতানা স্বাক্ষরিত এই সংক্রান্ত পত্রও জারি করা হয়েছে।
সুত্রমতে,গত ২৪/৪/২০২৩ ইং তারিখে সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম দুদকে এ অভিযোগটি দায়ের করেন। কিন্তু দুদকের এই তদন্ত কার্যক্রমের তথ্য গোপন করে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভাপপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদারেকে পুণ: চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে তোড়জোড় চলছে। চালানো হচ্ছে হাই ভোল্টেজ তদবীর া তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে ১০ কোটি টাকার মিশনে নেমেছেন বলেও গুঞ্জন চলছে। দুদকের অভিযোগে বলা হয়-ছাত্রজীবনে তিনি কোন দিনও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না । কথিত আছে প্রধানমন্ত্রীর হত্যা প্রচেষ্টায় জড়িত মুফতি হান্নানের পাশের গ্রামে তার বাড়ী। প্রকৃতপক্ষে তিনি বর্তমান সরকারের সুবিধা নিলেও তার ব্যক্তিগত অবস্থান পরিষ্কার নয়। তাঁর মামা শ্বশুর ড.ফজলে রাব্বি চৌধুরী,তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ছিলেন। ডা. মো. এমদাদুল হক তালুকদার সাবেক প্রকল্প পরিচালক,সক্ষমতা জোরদারকরন প্রকল্প । তার প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কে ধারনা এতই কম যে তাঁর তিন বছর কর্মকালিন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ৫% । তবে এই ৫% এর মধ্যে মুল কাজ না করে শুধু কেনা কাটাই করেছেন। অথচ এই কাজগুলো করার কথা ছিল প্রকল্পের অবকাঠামো কাজ শেষ করার পর। তিনি অনুমোদিত এপিপি অনুযায়ী ৩০ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহবান করেছিলেন। ক) ভবিষ্যাতে নির্মিত হবে ভবনের জন্য আসবাব পত্র ক্রয় বাবদ – ৪,০০০০০০০/ ( চার কোটি টাকা । খ) ৫৬ টি জেলায় ট্রেনিং রুম,মাটি ভরাট , ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ বাবদ -২৫ কোটি টাকা গ) বিভিন্ন দপ্তরে ফ্রিজ সরবরাহ করার জন্য – ৩,৪০,৮০,০০০/- ঘ) বিভিন্ন দপ্তরে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ৪,০৬,৫০,০০০/- ঙ) ২৬ জেলায় কোল্ডরুম স্থাপন বাবদ – ৪,৫৫,০০,০০০/- চ) বিভিন্ন দপ্তরে ডেক্সটপ কম্পিউটার সরবরাহ ১,৫৯,২০,০০০/- ছ) এসি ,ফটোকপিয়ার,ল্যাপটপ,বইপত্র ৫০,০০,০০০/- জ) ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে নির্মাণ সহ অন্যান্য ৫৫,০০,০০০,০০/- এবং অন্যান্য মোট ৪০,০০,০০,০০০০/- খরচ করেছেন।

প্রকল্প পরিচালক ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার জন্য ৩৩.০১.০০০০.৮৩৬.০৭.০২৫.২২-৩১৭ স্মারকে ৫/১২/২২ তারিখে জিডি -৯ নং প্যাকেজে ,৪ কোটি টাকার আসবাবপত্র ক্রয়ে দরপত্র আহবান করে ,যার আইডি নং ৭৬২২২০ । ডটসৃ ফার্ণিচার নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জণ্য টেন্ডার ডাটা সিটে ফার্ণিচার মার্ট লাইসেন্স চাওয়া হয় । বাংলাদেশে ২০,০০০ হাজার আসবাবপ্রত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আছে যাদের এই ধরনের লাইন্সে নেই। এমনকি প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠান হাতিল, আখতার .অটোবি,পারটেক্স ,নাভানা ,আরএফএল,নাদিয়ার মত প্রতিষ্ঠান ফার্ণিচার মার্ট লাইসেন্স নেই। ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ডটসৃ ফার্ণিচার নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছ্। দুদুক থেকে একটি অভিযোগের বিষয়ে ০০.০১.০০০০.৫০৩.২৬.০৯৩.২৩-৯৭০৪ স্মারকে ১২/০৩/২০২৩ তারিখে পত্র প্রদান করা হয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়কে (কপি সংযুক্ত। এই বিষয়ে এখনও কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়াও প্রয়োজন ব্যতিরেখে এবং কোন স্থাপনা নির্মিত না হলেও গত ২৪/৪/২২ তারিখে মোট ৪,০৬,৫০,০০০/- টাকার দরচত্র আহবান করা হয়। তদন্ত করলে সকল অনিয়ম ও দুর্ণিতী বের হয়ে আসবে।

২৬ জেলায় কোল্ডরুম স্থাপন :

২৬ জেলায় কোল্ডরুম স্থাপন এর জণ্য ১০/২/২১ তারিথে দরপত্র আহবান করা হয় । দরপত্র আহবানের আগে ভোলা , মানিকগঞ্জ,বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলা অফিসের জন্য ৪টি কোল্ডরুম স্থাপন কোন দরপত্র আহবান ছাড়াই বিশেষ ঠিকাদারকে দ্বারা কাজ করানো হয। পিডি নির্ধারিত ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জণ্য কোল্ডরুম স্থাপনে জেনারেটর/ বয়লার স্থাপনের বিশেষ শর্ত প্রদান করা হয়। উক্ত দরপত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ঠিকাদার বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ প্রতিটি কোল্ডরুমের জন্য ১০,৫০,০০০/-দর প্রদান করেন। কিন্তু পিডির নির্দেশে সর্বোচ্চ দরদাতা মেসার্স জেনটেক ইন্টারন্যাশনার কে ১৪,০৬,২৫৭/- টাকা করে কার্যাদেশ প্রদান করেন। এখানে প্রতিটি কোল্ডরুম এরজন্য ৩,৫৬,২৫৭/- হিসাবে ২৬টি কোল্ড রুমের জন্য ৯২,৬২,৭০২ টাকা আর্থিক লাভবান হয়ে জেনটেক ইন্টারন্যাশনার কে কার্যাদেশ প্রদান করেন।

৩৮ জেলায় কোল্ডরুম স্থাপন :
একই ভাবে পরবর্তীতে অবশিষ্ট ৩৮জেলায় কোল্ডরুম স্থাপনের জণ্য দরপত্র আহবান করা হয়েছিল ১৮/৮/২০২১ তারিখে । হয়। উক্ত দরপত্রে অভিঞ্জতা সম্পন্ন ঠিকাদার বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ প্রতিটি কোল্ডরুমের জন্য ১১,৫০,০০০/-দর প্রদান করেন। কিন্তু পিডির নির্দেশে সর্বোচ্চ দরদাতা মেসার্স জেনটেক ইন্টারন্যাশনার কে ১৭.১৩,০০০/-/- টাকা করে কার্যাদেশ প্রদান করেন। প্রখানে প্রতিটি কোল্ডরুম এর জন্য ৫,৬৩,০০,০৫০/- হিসাবে ৩৮টি কোল্ড রুমের জন্য ২,১৩,৯৫,৯০০ /- টাকা আর্থিক লাভবান হয়েছে পিডি। এখানে সমুদয় টাকাই পিডি এবং ঠিকাদার ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। তদন্ত করলে সকল সত্য বের হয়ে আসবে।
রেফ্রিজারেটর ক্রয় :
প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি উপজেলায় ডীপ ফ্রীজ সরবরাহ করা হয়েছে। পুর্ব হতে প্রতি উপজেলায় ২টি করে সচল ফ্রিজ বিদ্যমান আছ্ে প্রকল্প পরিচালক আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ডিপিপির দোহাই দিয়ে ৫৬৮টি ফ্রিজ ক্রয় করে সরবরাহ দিয়েছে । এপিপি অনুযায়ী ৩,৪০,৮০,০০০/- টাকার ফ্রিজ কেনার জন্য ১৪/৮/২০২১ তারিখে টেন্ডার করা হয় এবং ২৯/১১/২১ তারিখে ওয়ালটনকে নোয়া প্রদান করা হয়। ডিপিপিতে ১৫ সিএফটি ফ্রিজক্রয়ের সংস্থান আছে । কিন্তু প্রকল্প পরিচালক সকল নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে তার পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য সংশোধন করে ১৫ সিএফটি কথাটি উঠিয়ে দেন । ফলে প্রকল্প পরিচালক ৮০ লক্ষ টাকা আর্থিক লাভবান হয়ে ওয়ালটনকে কার্যাদেশ প্রদান করেন। তদন্ত করলে সকল সত্য বের হয়ে আসবে

অবকাঠামো নির্মাণ :
সম্প্রতি স্মারক নং৩৩.০১.০০০০.৮৩৬.০৭.০২৬.২২-৮১-এ ১২/০২/২০২৩ তারিখে (২৩+১২) মতে ৩৫টি নির্মাণ প্যাকেজে দরপত্র আহবান করা হয়েছে । প্রতিটি প্যাকেজের নির্মাণ কাজের বিওকিউ কষ্ট এস্টিমেট এর দ্বিগুন করে বিওকিউ তৈরী করা হয়েছে। গণপুর্তের একজন জেলা পর্যায়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা ৩৫টি নির্মাণ প্যাকেজে বিওকিউ সহ সরোজমিনে তদন্ত করলে দূর্নীতির আসল চিত্র জনা যাবে।নির্মাণ কাজের যেখানে বাউন্ডারী ওয়ালের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে ৪,০০,০০,০০০ (চার কোটি) টাকা। কিন্তু উক্ত প্যাকেজে ৪ কোটি টাকার মধ্যে তিন কোটি টাকা মাটি ভরাট এর কাজ । এখানে প্রায় ২ কোটি টাকা পিডি ও ঠিকাদার ভাগাভাগি করে নেবেন। এমনি ভাবে প্রকল্প পরিচালক ১৮ কোটি টাকার কাজের মধ্যে ১২% হারে ঠিকাদার থেকে ২ কোটি টাকার অধিক উৎকোচ গ্রহন করেছেন। তদন্ত করলে সকল বিষয় জানা যাবে ।উল্লেখিত দুর্নীতির বিষয়ে নাগরিক টেলিভিশনে সম্প্রতি সংবাদ প্রচার হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তার নিজস্ব তদন্ত দল দ্বারা সম্পদের অনুসন্ধান করলে অবৈধ সম্পদের উৎস বের হবে ।একজন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা কি পরিমান সরকারী অর্থের লুটপাট করছে যে,তার ছেলেকে লেখাপড়ার জন্য কানাডার সাসকুসিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরন করেছে। তদন্ত করলে সকল সত্য বের হয়ে আসবে। ডা.আনিছ টাংগাইল সদরের পাইকমুরির গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে কি আলাদিনের চেরাগ হাতে পেল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং ঠিকাদারদের কাছে এটাই প্রশ্ন।

এলডিডিপি প্রকল্পে লুটপাট:
ভা: মহাপরিচালক ডা. মো.এমদাদুল হক তালুকদার এলডিডিপি প্রকল্প ৫১০০ কোটি টাকার প্রকল্প এর আওতায় ১০০০ কোট টাকার অনুদানের ক্ষেত্রে ১০% হারে ১০০ কোটি টাকা লুটপাট করেছেন । কোন টেন্ডারই তার ১০% না আসলে কাজ হয় না । প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ১৪ টি প্রকল্পের নির্ধারিত হারে মাসে টাকা না দিলে প্রকল্পের কোন কাজ করতে দেননা। বিদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার মেডিসিন,ভ্যাকসিন,প্রোটিন কনসেন্ট্রট যাহা কোন প্রকার মান যাচাই ছাড়াই ১০-২০% আর্থিক সহযোগিতায় এনওসি প্রদান করা হয় । জনবল নিয়োগে ব্যপক অনিয়ম এর মাধ্যমে , রাজস্ব ও আউট সোর্সিং মিলে ৪৫০ লোক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। রাজস্ব জনপ্রতি ১৫- ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ (১২ কোটি টাকা) এবং আউট সোর্সিং জনপ্রতি ২-৩ লক্ষ টাকা ঘুষ ( সাড়ে আট কোটি টাকা) নিয়ে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডা. মাহবুব (ডিডি প্রশাসন) টাকা কালেকশনের মুল দায়িত্ব পালন করেন ডা মলয় কুমার সুর। মহাপরিচালক ডা: এমদাদ এনওসি প্রদান করা থেকে প্রতিমাসে ৫ কোটি টাকা আদায় করে থাকেন । টাকা প্রদানে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলী করে দেওয়া হয় । প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মচারী-কর্মকর্তা বদলীতে সর্বনিম্ন ২ লক্ষ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা প্রদান না করলে কাঙ্খিত জায়গায় বদলি পাওয়া যায় না । এখনে কালেকটারের দায়িত্ব পালন করে কর্মচারী মো. হাফিজুর রহমান। বর্তমান মহাপরিচালক ডা.এমদাদুল হক তালুকদার মহাঘুষখোর হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে ১০০-৫০ কোটি টাকার অবৈধ অথ ও সম্পদের উৎস বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন ।
গড়েছেন সম্পদের পাহাড়:
১। বনানী ডিওএইচ ২২০০ বর্গফুটের এবং গুলশান-২ এর ৯৬ নং রোডে ২২৫০ বর্গফটের মোট ২টি ফ্য¬াট আছে। ২। স্কাটনে ১৬৫০ বর্গফুটের ১টি ফ্য¬াট আছে। ৩। মন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ৬ বিঘা জমি আছে । ৪। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় উপজেলা সংলগ্ন ১ বিঘা জায়গার উপর বিশাল বাড়ী। ৫। ১টি প্রাইভেট কার ও তার স্ত্রী বিধিবহিভূত ভাবে একটি পাজেরো জীপ ব্যবহার করেন। ৬। তার নামে বেনামে ব্যাংক ও পোষ্ট অফিসে কোটি কোটি টাকা এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে যা তদন্ত করলে বের হবে। ডিজির জন্য কোন পিএসএর পদ না থাকলেও তিনি সুবিধা গ্রহনের লক্ষ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন ঘুসখোর কর্মকর্তাকে নিজেই পিএস নিয়োগ দিয়েছেন।
সর্বশেষ জানাগেছে, তার চাকুরীর মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ শেষ হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আজঅব্দি গ্রেড-১ পদে পদন্নোতি হয়নি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মহাপরিচালকের অফিসে কয়েকদফা ফোন করলে তার পিএস বলেন,স্যার মন্ত্রণালয়ে আছেন।

ট্যাগস

মিরপুরে ৬৫০ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এসব হচ্ছে কি?

দদুকের তদন্ত থাকা কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক ডিজি নিয়োগের তোড়জোড়!

আপডেট টাইম : ১২:০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বিশেষ প্রতিবেদক :
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডা. মো: এমদাদুল হক তালুকদারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। সংসদ সদস্যের প্যাডে প্রদত্ত এই অভিযোগটি গ্রহন করে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। যার দুদক প্রধান কার্যালয়ের স্মারক নং ০০.০১.০০০০.৫০৩.২৬.৫৪৫.২৩.৪৩১৪৩ তারিখ: ০৯/১২/২০২৩ ইং এবং দুর্নীতি দমন কমিশন প্রধান কার্যালয় ঢাকার ই/আর নং তদন্ত ১/৪০৮/২০২৩/প্রকা,ঢাকা। অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য পরিচালক (অনু: ও তদন্ত-১ কে তদারকি কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক (অনু ও তদন্ত) নারগিস সুলতানা স্বাক্ষরিত এই সংক্রান্ত পত্রও জারি করা হয়েছে।
সুত্রমতে,গত ২৪/৪/২০২৩ ইং তারিখে সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম দুদকে এ অভিযোগটি দায়ের করেন। কিন্তু দুদকের এই তদন্ত কার্যক্রমের তথ্য গোপন করে অভিযুক্ত দুর্নীতিবাজ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভাপপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদারেকে পুণ: চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে তোড়জোড় চলছে। চালানো হচ্ছে হাই ভোল্টেজ তদবীর া তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে ১০ কোটি টাকার মিশনে নেমেছেন বলেও গুঞ্জন চলছে। দুদকের অভিযোগে বলা হয়-ছাত্রজীবনে তিনি কোন দিনও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না । কথিত আছে প্রধানমন্ত্রীর হত্যা প্রচেষ্টায় জড়িত মুফতি হান্নানের পাশের গ্রামে তার বাড়ী। প্রকৃতপক্ষে তিনি বর্তমান সরকারের সুবিধা নিলেও তার ব্যক্তিগত অবস্থান পরিষ্কার নয়। তাঁর মামা শ্বশুর ড.ফজলে রাব্বি চৌধুরী,তিনি জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ছিলেন। ডা. মো. এমদাদুল হক তালুকদার সাবেক প্রকল্প পরিচালক,সক্ষমতা জোরদারকরন প্রকল্প । তার প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পর্কে ধারনা এতই কম যে তাঁর তিন বছর কর্মকালিন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ৫% । তবে এই ৫% এর মধ্যে মুল কাজ না করে শুধু কেনা কাটাই করেছেন। অথচ এই কাজগুলো করার কথা ছিল প্রকল্পের অবকাঠামো কাজ শেষ করার পর। তিনি অনুমোদিত এপিপি অনুযায়ী ৩০ কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহবান করেছিলেন। ক) ভবিষ্যাতে নির্মিত হবে ভবনের জন্য আসবাব পত্র ক্রয় বাবদ – ৪,০০০০০০০/ ( চার কোটি টাকা । খ) ৫৬ টি জেলায় ট্রেনিং রুম,মাটি ভরাট , ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ বাবদ -২৫ কোটি টাকা গ) বিভিন্ন দপ্তরে ফ্রিজ সরবরাহ করার জন্য – ৩,৪০,৮০,০০০/- ঘ) বিভিন্ন দপ্তরে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ৪,০৬,৫০,০০০/- ঙ) ২৬ জেলায় কোল্ডরুম স্থাপন বাবদ – ৪,৫৫,০০,০০০/- চ) বিভিন্ন দপ্তরে ডেক্সটপ কম্পিউটার সরবরাহ ১,৫৯,২০,০০০/- ছ) এসি ,ফটোকপিয়ার,ল্যাপটপ,বইপত্র ৫০,০০,০০০/- জ) ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে নির্মাণ সহ অন্যান্য ৫৫,০০,০০০,০০/- এবং অন্যান্য মোট ৪০,০০,০০,০০০০/- খরচ করেছেন।

প্রকল্প পরিচালক ব্যক্তিগত লাভবান হওয়ার জন্য ৩৩.০১.০০০০.৮৩৬.০৭.০২৫.২২-৩১৭ স্মারকে ৫/১২/২২ তারিখে জিডি -৯ নং প্যাকেজে ,৪ কোটি টাকার আসবাবপত্র ক্রয়ে দরপত্র আহবান করে ,যার আইডি নং ৭৬২২২০ । ডটসৃ ফার্ণিচার নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জণ্য টেন্ডার ডাটা সিটে ফার্ণিচার মার্ট লাইসেন্স চাওয়া হয় । বাংলাদেশে ২০,০০০ হাজার আসবাবপ্রত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আছে যাদের এই ধরনের লাইন্সে নেই। এমনকি প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠান হাতিল, আখতার .অটোবি,পারটেক্স ,নাভানা ,আরএফএল,নাদিয়ার মত প্রতিষ্ঠান ফার্ণিচার মার্ট লাইসেন্স নেই। ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ডটসৃ ফার্ণিচার নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছ্। দুদুক থেকে একটি অভিযোগের বিষয়ে ০০.০১.০০০০.৫০৩.২৬.০৯৩.২৩-৯৭০৪ স্মারকে ১২/০৩/২০২৩ তারিখে পত্র প্রদান করা হয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়কে (কপি সংযুক্ত। এই বিষয়ে এখনও কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এছাড়াও প্রয়োজন ব্যতিরেখে এবং কোন স্থাপনা নির্মিত না হলেও গত ২৪/৪/২২ তারিখে মোট ৪,০৬,৫০,০০০/- টাকার দরচত্র আহবান করা হয়। তদন্ত করলে সকল অনিয়ম ও দুর্ণিতী বের হয়ে আসবে।

২৬ জেলায় কোল্ডরুম স্থাপন :

২৬ জেলায় কোল্ডরুম স্থাপন এর জণ্য ১০/২/২১ তারিথে দরপত্র আহবান করা হয় । দরপত্র আহবানের আগে ভোলা , মানিকগঞ্জ,বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলা অফিসের জন্য ৪টি কোল্ডরুম স্থাপন কোন দরপত্র আহবান ছাড়াই বিশেষ ঠিকাদারকে দ্বারা কাজ করানো হয। পিডি নির্ধারিত ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জণ্য কোল্ডরুম স্থাপনে জেনারেটর/ বয়লার স্থাপনের বিশেষ শর্ত প্রদান করা হয়। উক্ত দরপত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ঠিকাদার বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ প্রতিটি কোল্ডরুমের জন্য ১০,৫০,০০০/-দর প্রদান করেন। কিন্তু পিডির নির্দেশে সর্বোচ্চ দরদাতা মেসার্স জেনটেক ইন্টারন্যাশনার কে ১৪,০৬,২৫৭/- টাকা করে কার্যাদেশ প্রদান করেন। এখানে প্রতিটি কোল্ডরুম এরজন্য ৩,৫৬,২৫৭/- হিসাবে ২৬টি কোল্ড রুমের জন্য ৯২,৬২,৭০২ টাকা আর্থিক লাভবান হয়ে জেনটেক ইন্টারন্যাশনার কে কার্যাদেশ প্রদান করেন।

৩৮ জেলায় কোল্ডরুম স্থাপন :
একই ভাবে পরবর্তীতে অবশিষ্ট ৩৮জেলায় কোল্ডরুম স্থাপনের জণ্য দরপত্র আহবান করা হয়েছিল ১৮/৮/২০২১ তারিখে । হয়। উক্ত দরপত্রে অভিঞ্জতা সম্পন্ন ঠিকাদার বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ প্রতিটি কোল্ডরুমের জন্য ১১,৫০,০০০/-দর প্রদান করেন। কিন্তু পিডির নির্দেশে সর্বোচ্চ দরদাতা মেসার্স জেনটেক ইন্টারন্যাশনার কে ১৭.১৩,০০০/-/- টাকা করে কার্যাদেশ প্রদান করেন। প্রখানে প্রতিটি কোল্ডরুম এর জন্য ৫,৬৩,০০,০৫০/- হিসাবে ৩৮টি কোল্ড রুমের জন্য ২,১৩,৯৫,৯০০ /- টাকা আর্থিক লাভবান হয়েছে পিডি। এখানে সমুদয় টাকাই পিডি এবং ঠিকাদার ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। তদন্ত করলে সকল সত্য বের হয়ে আসবে।
রেফ্রিজারেটর ক্রয় :
প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি উপজেলায় ডীপ ফ্রীজ সরবরাহ করা হয়েছে। পুর্ব হতে প্রতি উপজেলায় ২টি করে সচল ফ্রিজ বিদ্যমান আছ্ে প্রকল্প পরিচালক আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার জন্য ডিপিপির দোহাই দিয়ে ৫৬৮টি ফ্রিজ ক্রয় করে সরবরাহ দিয়েছে । এপিপি অনুযায়ী ৩,৪০,৮০,০০০/- টাকার ফ্রিজ কেনার জন্য ১৪/৮/২০২১ তারিখে টেন্ডার করা হয় এবং ২৯/১১/২১ তারিখে ওয়ালটনকে নোয়া প্রদান করা হয়। ডিপিপিতে ১৫ সিএফটি ফ্রিজক্রয়ের সংস্থান আছে । কিন্তু প্রকল্প পরিচালক সকল নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে তার পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য সংশোধন করে ১৫ সিএফটি কথাটি উঠিয়ে দেন । ফলে প্রকল্প পরিচালক ৮০ লক্ষ টাকা আর্থিক লাভবান হয়ে ওয়ালটনকে কার্যাদেশ প্রদান করেন। তদন্ত করলে সকল সত্য বের হয়ে আসবে

অবকাঠামো নির্মাণ :
সম্প্রতি স্মারক নং৩৩.০১.০০০০.৮৩৬.০৭.০২৬.২২-৮১-এ ১২/০২/২০২৩ তারিখে (২৩+১২) মতে ৩৫টি নির্মাণ প্যাকেজে দরপত্র আহবান করা হয়েছে । প্রতিটি প্যাকেজের নির্মাণ কাজের বিওকিউ কষ্ট এস্টিমেট এর দ্বিগুন করে বিওকিউ তৈরী করা হয়েছে। গণপুর্তের একজন জেলা পর্যায়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা ৩৫টি নির্মাণ প্যাকেজে বিওকিউ সহ সরোজমিনে তদন্ত করলে দূর্নীতির আসল চিত্র জনা যাবে।নির্মাণ কাজের যেখানে বাউন্ডারী ওয়ালের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে ৪,০০,০০,০০০ (চার কোটি) টাকা। কিন্তু উক্ত প্যাকেজে ৪ কোটি টাকার মধ্যে তিন কোটি টাকা মাটি ভরাট এর কাজ । এখানে প্রায় ২ কোটি টাকা পিডি ও ঠিকাদার ভাগাভাগি করে নেবেন। এমনি ভাবে প্রকল্প পরিচালক ১৮ কোটি টাকার কাজের মধ্যে ১২% হারে ঠিকাদার থেকে ২ কোটি টাকার অধিক উৎকোচ গ্রহন করেছেন। তদন্ত করলে সকল বিষয় জানা যাবে ।উল্লেখিত দুর্নীতির বিষয়ে নাগরিক টেলিভিশনে সম্প্রতি সংবাদ প্রচার হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তার নিজস্ব তদন্ত দল দ্বারা সম্পদের অনুসন্ধান করলে অবৈধ সম্পদের উৎস বের হবে ।একজন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা কি পরিমান সরকারী অর্থের লুটপাট করছে যে,তার ছেলেকে লেখাপড়ার জন্য কানাডার সাসকুসিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরন করেছে। তদন্ত করলে সকল সত্য বের হয়ে আসবে। ডা.আনিছ টাংগাইল সদরের পাইকমুরির গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হয়ে কি আলাদিনের চেরাগ হাতে পেল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং ঠিকাদারদের কাছে এটাই প্রশ্ন।

এলডিডিপি প্রকল্পে লুটপাট:
ভা: মহাপরিচালক ডা. মো.এমদাদুল হক তালুকদার এলডিডিপি প্রকল্প ৫১০০ কোটি টাকার প্রকল্প এর আওতায় ১০০০ কোট টাকার অনুদানের ক্ষেত্রে ১০% হারে ১০০ কোটি টাকা লুটপাট করেছেন । কোন টেন্ডারই তার ১০% না আসলে কাজ হয় না । প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ১৪ টি প্রকল্পের নির্ধারিত হারে মাসে টাকা না দিলে প্রকল্পের কোন কাজ করতে দেননা। বিদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার মেডিসিন,ভ্যাকসিন,প্রোটিন কনসেন্ট্রট যাহা কোন প্রকার মান যাচাই ছাড়াই ১০-২০% আর্থিক সহযোগিতায় এনওসি প্রদান করা হয় । জনবল নিয়োগে ব্যপক অনিয়ম এর মাধ্যমে , রাজস্ব ও আউট সোর্সিং মিলে ৪৫০ লোক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। রাজস্ব জনপ্রতি ১৫- ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ (১২ কোটি টাকা) এবং আউট সোর্সিং জনপ্রতি ২-৩ লক্ষ টাকা ঘুষ ( সাড়ে আট কোটি টাকা) নিয়ে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডা. মাহবুব (ডিডি প্রশাসন) টাকা কালেকশনের মুল দায়িত্ব পালন করেন ডা মলয় কুমার সুর। মহাপরিচালক ডা: এমদাদ এনওসি প্রদান করা থেকে প্রতিমাসে ৫ কোটি টাকা আদায় করে থাকেন । টাকা প্রদানে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলী করে দেওয়া হয় । প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মচারী-কর্মকর্তা বদলীতে সর্বনিম্ন ২ লক্ষ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা প্রদান না করলে কাঙ্খিত জায়গায় বদলি পাওয়া যায় না । এখনে কালেকটারের দায়িত্ব পালন করে কর্মচারী মো. হাফিজুর রহমান। বর্তমান মহাপরিচালক ডা.এমদাদুল হক তালুকদার মহাঘুষখোর হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে ১০০-৫০ কোটি টাকার অবৈধ অথ ও সম্পদের উৎস বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন ।
গড়েছেন সম্পদের পাহাড়:
১। বনানী ডিওএইচ ২২০০ বর্গফুটের এবং গুলশান-২ এর ৯৬ নং রোডে ২২৫০ বর্গফটের মোট ২টি ফ্য¬াট আছে। ২। স্কাটনে ১৬৫০ বর্গফুটের ১টি ফ্য¬াট আছে। ৩। মন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ৬ বিঘা জমি আছে । ৪। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় উপজেলা সংলগ্ন ১ বিঘা জায়গার উপর বিশাল বাড়ী। ৫। ১টি প্রাইভেট কার ও তার স্ত্রী বিধিবহিভূত ভাবে একটি পাজেরো জীপ ব্যবহার করেন। ৬। তার নামে বেনামে ব্যাংক ও পোষ্ট অফিসে কোটি কোটি টাকা এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে যা তদন্ত করলে বের হবে। ডিজির জন্য কোন পিএসএর পদ না থাকলেও তিনি সুবিধা গ্রহনের লক্ষ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন ঘুসখোর কর্মকর্তাকে নিজেই পিএস নিয়োগ দিয়েছেন।
সর্বশেষ জানাগেছে, তার চাকুরীর মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ শেষ হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আজঅব্দি গ্রেড-১ পদে পদন্নোতি হয়নি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মহাপরিচালকের অফিসে কয়েকদফা ফোন করলে তার পিএস বলেন,স্যার মন্ত্রণালয়ে আছেন।