ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত ৫ বছরের অধিক প্রেষনে দায়িত্ব পালন করছেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল কবীর! বিআইডব্লিউটিএর অতি: পরিচালক আরিফ উদ্দিনের সম্পদের পাহাড়! শাহআলীতে গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যাকারি পলাতক স্বামী গ্রেফতার  অতি:পরিচালক আরিফ উদ্দিন এখন বিআইডব্লিউটিএ‘র অঘোষিত “রাজা”! সাভারে এক ইউপি চেয়ারম্যানের সম্পদের পাহাড়! সিরাজদিখানে মঈনুল হাসান নাহিদকে বিকল্প ধরার সমর্থন মির্জাগঞ্জের ইউ,পি সচিব পরকীয়া প্রেমিকার হত্যাকাণ্ডে পুলিশ হেফাজতে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মানুষের ভালবাসায় আমি মুগ্ধ: চেয়ারম্যান প্রার্থী পলাশ মানবতার আড়ালে ভয়ংকর ফয়সাল বাহিনী, পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রতিশ্রুতি অনেক, বাস্তবায়ন কম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র হিসেবে আজ থেকে ঠিক চার বছর আগে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. আতিকুল ইসলাম। তখন বিশ^জুড়ে চলছিল করোনা মহামারী। তার দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন পরই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব নেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। নির্বাচনের আগে নগরবাসীকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন উত্তর ও দক্ষিণের এই নগরপিতাদ্বয়। চার বছর পর সেসব প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, কতটা হয়নি- এমন প্রশ্নে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেই তুলনায় বাস্তবায়ন হয়েছে খুবই কম। ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা নগরীর উন্নয়নে যে প্রত্যাশা ছিল, সেই তুলনায় প্রাপ্তি তেমন নেই বলেই মনে করছেন অধিকাংশ অধিবাসীও।

এদিকে দুই মেয়রই বলছেন, প্রতিশ্রুতি পূরণে তাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। কিন্তু করোনার অভিঘাত ছাড়াও নানারকম সীমাবদ্ধতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রসঙ্গত, চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ সোমবার ডিএনসিসি নগর ভবনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

দুই মেয়রের প্রতিশ্রুতিতেই প্রাধান্য পেয়েছিল সচল ঢাকা। অর্থাৎ যানজটের স্থবিরতা থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করে সচল ঢাকা উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা।

দুজনের প্রতিশ্রুতিতে আরেকটি সাদৃশ্য ছিল সুন্দর ঢাকা উপহার দেওয়ার।

ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাধান্য পেয়েছিল সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা। অন্যদিকে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের ইশতেহারে প্রাধান্য পেয়েছিল ঐতিহ্যের ঢাকা; সুন্দর, সচল, সুশাসিত ও উন্নত ঢাকা। ইশতেহার ঘোষণার সময় দুই মেয়রই তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখাও তুলে ধরেছিলেন।

দায়িত্ব গ্রহণের চার বছরে এসে দেখা যাচ্ছে, ‘সচল ঢাকা’ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উভয়েই ব্যর্থ হয়েছেন। ঢাকায় যানজট কমেনি বরং বেড়েছে। এর নেপথ্যে অবশ্য কিছু কারণও রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ঢাকায় এলিভেটেড এক্সেপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেলের নির্মাণযজ্ঞের কারণে দুই সিটির অনেক সড়কেই চলে কাটাছেঁড়া। এ কারণেই যানজট আরও বেড়ে যায়। তবে মেট্রোরেল চালু হওয়ায় গণপরিবহনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বিশ্লেষকরা অবশ্য এটিও বলছেন যে, মেট্রোরেল প্রকল্পে দুই সিটির কোনো ভূমিকা নেই।

সুন্দর ও আধুনিক ঢাকা গড়ার ক্ষেত্রে দুই মেয়র অনেকটাই সফল হলেও এর সুফল নগরবাসী কতটুকু পাচ্ছে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। দুই সিটিই অত্যাধুনিক কমান্ড সেন্টার স্থাপন করেছে। তাই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার সব তথ্যাদি ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির কন্ট্রোলরুম থেকে নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা ও আলোক স্বল্পতা চিহ্নিতকরণ, মশককর্মীদের কার্যক্রম মনিটরিং, আবহাওয়া পরিস্থিতি ও এআই প্রযুক্তির মাধমে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি। অবশ্য এসব বিষয় এখনো শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

ডিএনসিসি মেয়র সুস্থ ঢাকা গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এর কিছুটা বাস্তবায়ন হলেও এখনো অনেকটাই অধরা। বস্তিবাসীর নাগরিক সুবিধা বাড়েনি বরং বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। জলাশয় দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান। সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকায় নারীবান্ধব স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেয়র, সেটি এখনো হয়নি। মিরপুরে করপোরেশনের জমিতে বৃক্ষ ক্লিনিক ও পোষা প্রাণীর জন্য ক্লিনিক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেটি এখনো হয়নি। তবে প্রকল্প হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আধুনিক পশু জবাইকেন্দ্র স্থাপন হয়নি, যেগুলো ছিল তাও বন্ধ হয়ে গেছে। ডিএনসিসি এলাকায় প্রতিটি স্থাপনায় মাতৃদুগ্ধ পানের আলাদা কক্ষ তৈরি শতভাগ হয়নি। প্রতিটি ওয়ার্ডে নানান সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ওয়ার্ড কমপ্লেক্স তৈরি করার কথা ছিল, হয়নি। ঢাকা বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন চালু হলেও বিফলে গেছে। পথচারী পারাপারের জন্য ঢাকায় জেব্রা ক্রসিংগুলোতে ডিজিটাল পুশ বাটন সিগন্যাল স্থাপন করলেও ধরে রাখা যায়নি। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা সম্ভব হয়নি। স্মার্ট বাসস্টপ ও বাস-ট্রাক টার্নিমাল তৈরির বিষয়টি এখনো পরিকল্পনাধীন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য গণস্থাপনা ও গণপরিবহন নিশ্চিত করা যায়নি। ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে বহুদল ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং কমপ্লেক্স তৈরির প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।

দক্ষিণের মেয়র ঐতিহ্যের ঢাকা গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেগুলো বাস্তবায়নের কাজও চলমান। তবে ঢাকাবাসী এখনো এর সুফল পায়নি। ঐতিহ্য ফেরাতে তিনি প্রতিবছর সাকরাইন উৎসবের আয়োজন করেন। তিনি সুশাসিত ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় নিজেকে সফলও দাবি করেছেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তি স্বরূপ চাকরিচ্যুত করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।

সিটি করপোরেশনের কাছে নগরবাসীর সর্বাধিক প্রত্যাশা- মশামুক্ত পরিচ্ছন্ন নগরী। এ কাজে দুই সিটি করপোরেশনেরই দৃশ্যমান কোনো সফলতা নেই। এখনো সিটির অধিকাংশ এলাকা ময়লা আবর্জনায় ভরে থাকে। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু আর জলাবদ্ধতার ভয়। জলাধার উদ্ধার বা রক্ষা করতে না পারায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পর সমালোচনায়ও বিদ্ধ হতে হয়েছে মেয়রদের।

দুই নগরপিতার দায়িত্বগ্রহণের চার বছরে এসে সফলতা-ব্যর্থতার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ধরিত্রি রক্ষায় আমরা’র (ধরা) সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, আমরা সবসময়ই দেখে আসছি, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন, সেগুলো সাধারণত লোকদেখানো। প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা তারা বিবেচনায় রাখেন না। ঢাকার দুই মেয়রের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। মশক নিধন, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট থেকে মুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ প্রধান সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণে দুজনের কাউকেই সফল বলা যাবে না। যদিও আমাদের বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত কর্মযজ্ঞ চলছে। ভবিষ্যতই বলতে পারবে তারা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা সফল হয়েছেন।

এ ছাড়া বিশিষ্ট এক নগরপরিকল্পনাবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সত্য বলা কঠিন। প্রকৃত অর্থে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুই নগরপিতারই ব্যর্থতার পাল্লা ভারি। সফলতা নেই বললেই চলে।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রতিশ্রুতি অনেক, বাস্তবায়ন কম

আপডেট টাইম : ০২:২৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র হিসেবে আজ থেকে ঠিক চার বছর আগে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. আতিকুল ইসলাম। তখন বিশ^জুড়ে চলছিল করোনা মহামারী। তার দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন পরই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব নেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। নির্বাচনের আগে নগরবাসীকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন উত্তর ও দক্ষিণের এই নগরপিতাদ্বয়। চার বছর পর সেসব প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, কতটা হয়নি- এমন প্রশ্নে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেই তুলনায় বাস্তবায়ন হয়েছে খুবই কম। ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা নগরীর উন্নয়নে যে প্রত্যাশা ছিল, সেই তুলনায় প্রাপ্তি তেমন নেই বলেই মনে করছেন অধিকাংশ অধিবাসীও।

এদিকে দুই মেয়রই বলছেন, প্রতিশ্রুতি পূরণে তাদের চেষ্টার কমতি ছিল না। কিন্তু করোনার অভিঘাত ছাড়াও নানারকম সীমাবদ্ধতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক কিছুই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। প্রসঙ্গত, চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ সোমবার ডিএনসিসি নগর ভবনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

দুই মেয়রের প্রতিশ্রুতিতেই প্রাধান্য পেয়েছিল সচল ঢাকা। অর্থাৎ যানজটের স্থবিরতা থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করে সচল ঢাকা উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা।

দুজনের প্রতিশ্রুতিতে আরেকটি সাদৃশ্য ছিল সুন্দর ঢাকা উপহার দেওয়ার।

ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাধান্য পেয়েছিল সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা। অন্যদিকে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের ইশতেহারে প্রাধান্য পেয়েছিল ঐতিহ্যের ঢাকা; সুন্দর, সচল, সুশাসিত ও উন্নত ঢাকা। ইশতেহার ঘোষণার সময় দুই মেয়রই তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখাও তুলে ধরেছিলেন।

দায়িত্ব গ্রহণের চার বছরে এসে দেখা যাচ্ছে, ‘সচল ঢাকা’ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উভয়েই ব্যর্থ হয়েছেন। ঢাকায় যানজট কমেনি বরং বেড়েছে। এর নেপথ্যে অবশ্য কিছু কারণও রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ঢাকায় এলিভেটেড এক্সেপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেলের নির্মাণযজ্ঞের কারণে দুই সিটির অনেক সড়কেই চলে কাটাছেঁড়া। এ কারণেই যানজট আরও বেড়ে যায়। তবে মেট্রোরেল চালু হওয়ায় গণপরিবহনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বিশ্লেষকরা অবশ্য এটিও বলছেন যে, মেট্রোরেল প্রকল্পে দুই সিটির কোনো ভূমিকা নেই।

সুন্দর ও আধুনিক ঢাকা গড়ার ক্ষেত্রে দুই মেয়র অনেকটাই সফল হলেও এর সুফল নগরবাসী কতটুকু পাচ্ছে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। দুই সিটিই অত্যাধুনিক কমান্ড সেন্টার স্থাপন করেছে। তাই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার সব তথ্যাদি ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির কন্ট্রোলরুম থেকে নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা ও আলোক স্বল্পতা চিহ্নিতকরণ, মশককর্মীদের কার্যক্রম মনিটরিং, আবহাওয়া পরিস্থিতি ও এআই প্রযুক্তির মাধমে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি। অবশ্য এসব বিষয় এখনো শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

ডিএনসিসি মেয়র সুস্থ ঢাকা গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এর কিছুটা বাস্তবায়ন হলেও এখনো অনেকটাই অধরা। বস্তিবাসীর নাগরিক সুবিধা বাড়েনি বরং বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। জলাশয় দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান। সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকায় নারীবান্ধব স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেয়র, সেটি এখনো হয়নি। মিরপুরে করপোরেশনের জমিতে বৃক্ষ ক্লিনিক ও পোষা প্রাণীর জন্য ক্লিনিক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেটি এখনো হয়নি। তবে প্রকল্প হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আধুনিক পশু জবাইকেন্দ্র স্থাপন হয়নি, যেগুলো ছিল তাও বন্ধ হয়ে গেছে। ডিএনসিসি এলাকায় প্রতিটি স্থাপনায় মাতৃদুগ্ধ পানের আলাদা কক্ষ তৈরি শতভাগ হয়নি। প্রতিটি ওয়ার্ডে নানান সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ওয়ার্ড কমপ্লেক্স তৈরি করার কথা ছিল, হয়নি। ঢাকা বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন চালু হলেও বিফলে গেছে। পথচারী পারাপারের জন্য ঢাকায় জেব্রা ক্রসিংগুলোতে ডিজিটাল পুশ বাটন সিগন্যাল স্থাপন করলেও ধরে রাখা যায়নি। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা সম্ভব হয়নি। স্মার্ট বাসস্টপ ও বাস-ট্রাক টার্নিমাল তৈরির বিষয়টি এখনো পরিকল্পনাধীন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের জন্য গণস্থাপনা ও গণপরিবহন নিশ্চিত করা যায়নি। ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে বহুদল ও আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং কমপ্লেক্স তৈরির প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি।

দক্ষিণের মেয়র ঐতিহ্যের ঢাকা গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন আছে। তিনি পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছেন। সেগুলো বাস্তবায়নের কাজও চলমান। তবে ঢাকাবাসী এখনো এর সুফল পায়নি। ঐতিহ্য ফেরাতে তিনি প্রতিবছর সাকরাইন উৎসবের আয়োজন করেন। তিনি সুশাসিত ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় নিজেকে সফলও দাবি করেছেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তি স্বরূপ চাকরিচ্যুত করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।

সিটি করপোরেশনের কাছে নগরবাসীর সর্বাধিক প্রত্যাশা- মশামুক্ত পরিচ্ছন্ন নগরী। এ কাজে দুই সিটি করপোরেশনেরই দৃশ্যমান কোনো সফলতা নেই। এখনো সিটির অধিকাংশ এলাকা ময়লা আবর্জনায় ভরে থাকে। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু আর জলাবদ্ধতার ভয়। জলাধার উদ্ধার বা রক্ষা করতে না পারায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পর সমালোচনায়ও বিদ্ধ হতে হয়েছে মেয়রদের।

দুই নগরপিতার দায়িত্বগ্রহণের চার বছরে এসে সফলতা-ব্যর্থতার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ধরিত্রি রক্ষায় আমরা’র (ধরা) সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, আমরা সবসময়ই দেখে আসছি, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন, সেগুলো সাধারণত লোকদেখানো। প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা তারা বিবেচনায় রাখেন না। ঢাকার দুই মেয়রের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। মশক নিধন, জলাবদ্ধতা নিরসন, যানজট থেকে মুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ প্রধান সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণে দুজনের কাউকেই সফল বলা যাবে না। যদিও আমাদের বলা হয়েছে, এ সংক্রান্ত কর্মযজ্ঞ চলছে। ভবিষ্যতই বলতে পারবে তারা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা সফল হয়েছেন।

এ ছাড়া বিশিষ্ট এক নগরপরিকল্পনাবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সত্য বলা কঠিন। প্রকৃত অর্থে, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুই নগরপিতারই ব্যর্থতার পাল্লা ভারি। সফলতা নেই বললেই চলে।