ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মির্জাগঞ্জে অক্সফোর্ড কে,জি স্কুলে নানান আয়োজনে ক্লাস পার্টি অনুষ্ঠিত মাগুরা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ছাই কিন্ডারগার্টেনের জন্য সরকারি নীতিমালার আশ্বাস আমিনুল হকের মিরপুরে লাজফার্মার সাইনবোর্ডের আড়ালে নকল ওষুধ বিক্রয়ের অভিযোগ! সুয়ালক দারুস সুন্নাহ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় ফলাফল প্রকাশ ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে কিছু দল: আমিনুল হক ‎নওগাঁয় সদর-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন জাহিদুল ইসলাম ধলু বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় উত্তর সাকুচিয়া যুবদলের উদ্যোগে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত খালেদা জিয়া ঐক্যের প্রতীক: আমিনুল হক খালেদা জিয়া ঐক্যের প্রতীক: আমিনুল হক

আবু সাঈদের ধারণা ছিলো পুলিশ আমাকে গুলি করবে না

রংপুর প্রতিনিধি :
রংপুরে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ (২৩) ছিলেন পরিবারের সবার ছোট। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আবু সাঈদের শিক্ষাজীবন ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল।
সাঈদের এক ভাই উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন, অন্যরা পড়েছেন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যন্ত। তাই পুরো পরিবারের স্বপ্ন ছিল আবু সাঈদকে ঘিরে। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আবু সাঈদ ছিল সবচেয়ে মেধাবী। তাই পরিবারের সবার উপার্জন দিয়ে তাকে এতদূর পর্যন্ত পড়ালেখা চালিয়ে নিয়ে এসেছেন তার পরিবার।
কোটা আন্দোলনে আবু সাঈদ পুলিশের সামনে বুক পেতে দেয়, তবু পুলিশ তার উপর নির্দয় গুলি চালায়। কিন্তু সাঈদের ধারণা ছিলো পুলিশ আমার উপর গুলি চালাবে না।

জানা গেছে, সাঈদ খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। রংপুর সরকারি কলেজ থেকে একই ফলাফল নিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন সাঈদ।

সিটি কলেজ এলাকায় সংঘর্ষে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছেসিটি কলেজ এলাকায় সংঘর্ষে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে
আজ আদরের ছোট ভাইকে হারিয়ে হতভম্ব বড় ভাই রমজান। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মকবুল হোসেন শারীরিক অসুস্থতায় শয্যাশায়ী। পরিবারের সবার উপার্জন দিয়ে তাকে এতদূর পর্যন্ত পড়ালেখা চালিয়ে নিয়ে এসেছি। একদিন সে অনেক বড় হবে, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে সে আশা ছিল।’

নিহতের ছোট বোন সুমির আর্তনাদে আকাশ বাতাশ ভারী হয়েছে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, হামার ভাইকে ওরা মেরে ফেলল ক্যান? হামার ভাই বেঁচে থাকলে হামার স্বপ্ন পূরণ হতো।
কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ৬কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ৬
সাঈদের মা মনোয়ারা নির্বাক হয়ে ফ্যালফ্যাল করে সবার দিয়ে তাকিয়ে আছেন। মাঝে মাঝে বাবা বাবা বলে ডাকছেন তিনি।
তার বাবা মকবুল হোসেনের কণ্ঠে কোনো কথা নেই । তিনিও সবার মুখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।
আবু সাঈদ কোটা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলনে বেরোবি ক্যাম্পাসের সমন্বয়কদের একজন ছিলেন তিনি। তার শরীর গুলিবিদ্ধ এবং দেহে ছররা গুলির অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জাগঞ্জে অক্সফোর্ড কে,জি স্কুলে নানান আয়োজনে ক্লাস পার্টি অনুষ্ঠিত

আবু সাঈদের ধারণা ছিলো পুলিশ আমাকে গুলি করবে না

আপডেট টাইম : ০৫:১২:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪

রংপুর প্রতিনিধি :
রংপুরে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ (২৩) ছিলেন পরিবারের সবার ছোট। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আবু সাঈদের শিক্ষাজীবন ছিল সবচেয়ে উজ্জ্বল।
সাঈদের এক ভাই উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন, অন্যরা পড়েছেন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যন্ত। তাই পুরো পরিবারের স্বপ্ন ছিল আবু সাঈদকে ঘিরে। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আবু সাঈদ ছিল সবচেয়ে মেধাবী। তাই পরিবারের সবার উপার্জন দিয়ে তাকে এতদূর পর্যন্ত পড়ালেখা চালিয়ে নিয়ে এসেছেন তার পরিবার।
কোটা আন্দোলনে আবু সাঈদ পুলিশের সামনে বুক পেতে দেয়, তবু পুলিশ তার উপর নির্দয় গুলি চালায়। কিন্তু সাঈদের ধারণা ছিলো পুলিশ আমার উপর গুলি চালাবে না।

জানা গেছে, সাঈদ খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। রংপুর সরকারি কলেজ থেকে একই ফলাফল নিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন সাঈদ।

সিটি কলেজ এলাকায় সংঘর্ষে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছেসিটি কলেজ এলাকায় সংঘর্ষে নিহত যুবকের পরিচয় মিলেছে
আজ আদরের ছোট ভাইকে হারিয়ে হতভম্ব বড় ভাই রমজান। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মকবুল হোসেন শারীরিক অসুস্থতায় শয্যাশায়ী। পরিবারের সবার উপার্জন দিয়ে তাকে এতদূর পর্যন্ত পড়ালেখা চালিয়ে নিয়ে এসেছি। একদিন সে অনেক বড় হবে, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে সে আশা ছিল।’

নিহতের ছোট বোন সুমির আর্তনাদে আকাশ বাতাশ ভারী হয়েছে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, হামার ভাইকে ওরা মেরে ফেলল ক্যান? হামার ভাই বেঁচে থাকলে হামার স্বপ্ন পূরণ হতো।
কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ৬কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ৬
সাঈদের মা মনোয়ারা নির্বাক হয়ে ফ্যালফ্যাল করে সবার দিয়ে তাকিয়ে আছেন। মাঝে মাঝে বাবা বাবা বলে ডাকছেন তিনি।
তার বাবা মকবুল হোসেনের কণ্ঠে কোনো কথা নেই । তিনিও সবার মুখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।
আবু সাঈদ কোটা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলনে বেরোবি ক্যাম্পাসের সমন্বয়কদের একজন ছিলেন তিনি। তার শরীর গুলিবিদ্ধ এবং দেহে ছররা গুলির অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে।