নাদিম হায়দার, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি-
জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের ৬ টি উপজেলায় প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষক ও সুপারভাইজার আউট অব স্কুল চিলড্রেন শিক্ষা কর্মসূচিতে ১২ মাস চাকরি করে একটাকাও বেতন ভাতা পাননি এখনো। এই ১২ মাসে কোনো বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি পিইডিপি-৪ এর আউট অব স্কুল চিলড্রেন শিক্ষা কর্মসূচির মুন্সীগঞ্জ জেলায় কর্মরত ৪ শতাধিক শিক্ষক ও সুপারভাইজার।
জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহযোগিতায় পিইডিপি-৪ এর সাব- কম্পোনেন্ট ২.৫ আউট অব স্কুল চিলড্রেন শিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। দেশের শতভাগ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচিতে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী, ঝড়ে পড়া কিংবা কখনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি এমন শিশুদের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা চক্রে ভর্তি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, আমরা ৫ হাজার টাকা বেতন, ভাতায় এই চাকরি করি, তবুও আমাদের এই বেতন, ভাতা সময় মত পাচ্ছি না। ১২ মাস শেষে আমরা এখনো এক মাসের টাকাও পেলাম না। আমাদের বেতনের সাথে আমাদের ঘর ভাড়াও দিচ্ছে না। ১২ মাসের ঘর ভাড়ার মধ্যে মাত্র ৩ মাসের ভাড়া দিয়েছে, এখন ঘর মালিকদের থেকে নানান কথা শুনতে হচ্ছে। তারা যেখানে পাচ্ছে অপমান করে টাকা চাচ্ছে।
আমাদের সেই জুন মাস থেকে শুধু আশা দিয়ে রাখছে যে, সামনের মাসে টাকা পাবো। বলতে বলতে বছর শেষ হয়ে গেলো এখনো সেই সামনের মাস আর আসলো না। সব কিছুই তো ঠিকমত চলছে, তবে আমাদের ৫ হাজার টাকার বেতন কেন মাসের পর মাস আটকে রাখছে? সেই প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছি না কোথাও! আমরা শিক্ষকরা যে কি কষ্টে জীবন কাটাচ্ছি তা দেখার কেও নেই।
আরেক শিক্ষক বলেন, আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, এই চাকরি করে ভেবেছিলাম পরিবারের চাহিদা কিছুটা মেটাতে পারবো সেই স্বপ্ন নিয়েই এই চাকরিতে আসি। কিন্তু এখন এই চাকরি করে পরিবারের চাহিদা মেটানো তো দূরেই থাক আরো লজ্জিত আর অপমানিত হচ্ছি। কারণ ১২ মাসের কোনো বেতন ভাতা তো আমাদের এখনো দেয়নি ঘর ভাড়াও দিচ্ছে না। মাত্র ৩ মাসের ভাড়া দিয়েছে এখন প্রকল্প শেষ ঘর মালিকরা আমাদের যা ইচ্ছে তাই বলছে আমরা রাস্তায় বের হতে পারছি না, এমন কি আমাদের বাড়িতে এসেও টাকা চেয়ে অনেক আজে বাজে কথা বলে যায়। ১২ মাস বেতন ছাড়া মানুষ কিভাবে সংসার চালায়? আমাদের শুধু আশা দিয়ে যাচ্ছে যে এই মাসে পাবেন এই সাপ্তায় পাবেন। কিন্তু আমাদের প্রতিবারই নিরাশ করে দেয়। আমাদের বলছে যে টাকা চলে আসছে আপনারা এই সপ্তাহতেই টাকা পাবেন কিন্তু সপ্তাহ শেষে আবার নতুন অজুহাত বের করছে। এখন আমাদের টাকা কবে পাবো সেটাই আমাদের প্রশ্ন!
জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক আব্দুল আলীম বলেন, আমরা বার বার বেতন দেওয়ার কথা দিয়েও আমরা সেই কথা রাখতে পারিনি। তবে আমাদের রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) এর কাছে টাকা চলে আসছে কিন্ত ব্যুরো অফ নন ফরমাল এডুকেশন (বিএনএফই) আমাদের বেতন ছাড়করণ করার অনুমতি দিচ্ছে না তারা আমাদের অনুমতি দিলেই আমরা বেতন ছাড়করণ করতে পারি। আমরা তাদের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি। তবে আশা করছি ২০ জানুয়ারির মধ্যেই আমরা বেতন ও ঘর ভাড়া দিতে পারবো।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: জাকির হোসেন মোল্লা, নির্বাহী সম্পাদক : এনামুল হক মামুন, ৫২/৪ ছায়ানীড়, নিউ ইস্কাটন রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা। ফোন : ০২-৪৮৩১০৭৮১, মোবাইল : ০১৬১১৬২০০০০, ই-মেইল : khaborbangladesh@gmail.com
© All rights reserved 2018-2026 khoborbangladesh.com