ঢাকা ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জিসিসির মাসব্যাপী ‘ভোটের গাড়ি, প্রচারণায় তোড়জোড় জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ লক্ষ ৯৭ হাজার ১১৭ জন দায়িত্ব পালন করবে- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা টঙ্গীবাড়ীতে গভীর রাতে বসতঘরে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা: অল্পের জন্য রক্ষা পেল ৭ বসতঘর সিরাজদিখানে ৫ বছরের শিশুসন্তান সহ মা কে জবাই করে হত্যা, স্বামীসহ দুইজন পলাতক রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ভোটের মাঠে টিকছেন ২২৬৭ প্রার্থী ১২৫ কোটি টাকা মূল্যের ১১৮.৬ কেজি ওজনের বিরল কষ্টি পাথরের মূর্তি উদ্ধার গ্রেপ্তার-১  মির্জাগঞ্জে সরকারি কর্ম দিবসে যুব উন্নয়ন কার্যালয়ে ঝুলছে তালা জনতা হ্যাঁ ভোট, জুলাই সনদ ও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে- স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা জিসিসির ড্রাইভার-মেকানিক্যাল/ইলেকট্রিক্যাল পদে লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন

ছেলে ওসি সেই প্রভাবে আওয়ামীলীগ নেতা সরকারি খাল দখল করে মৎস খামার করার অভিযোগ!

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সরকারি খাল দখল করে মৎস্য খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় লাহুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি সালাম সিকদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে দলীয় প্রভাব খাটানোর পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) ছেলের দাপটও দেখিয়েছেন তিনি। এছাড়াও সাংবাদিকদের কে জীবন নাশের হুমকি দিয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা সালাম শিকদার ও পুলিশের ওসি আশরাফুল ইসলাম নয়ন। একদিকে নিজে আওয়ামীলীগের সভাপতি, অন্যদিকে ছেলে আশরাফুল ইসলাম নয়ন পুলিশ ইন্সপেক্টর—এই দ্বৈত প্রভাব খাটিয়ে সর্বত্র আধিপত্য বিস্তার করতেন সালাম সিকদার। ছেলে কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের ওসির ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোর করে সরকারি খাল দখল, নিয়োগ বাণিজ্যসহ অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সাহস পেতেন না।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ইছামতি বিল এলাকায় লাহুড়িয়া বাজার থেকে মিঠাপুর বাজার সংলগ্ন পাকা সড়কের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরকারি খালের জায়গা দখল করে মৎস্য খামার গড়ে তুলেছেন সালাম সিকদার। ইছামতি বিলের ৩ নম্বর সিটের ৩৩২২ দাগভুক্ত সরকারি এক একর জমি দখল করে তিনি এ খামার স্থাপন করেন। শুধু তাই নয়, খাল দখলের পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়ে কৌশলে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্রে আরও জানা যায়, গরীব কৃষক পরিবারের সন্তান এসএসসি পাশ করে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করলেও দলীয় এবং পুলিশ কর্মকর্তা পুত্র আশরাফুল ইসলাম নয়নের দাপটে বিগত ১৬ বছরে শহরে বাড়িসহ বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হয়ে গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইছামতি বিলের কয়েকজন জমির মালিক ও এলাকার বেশ কিছু কৃষকরা জানান, সালাম সিকদারের মৎস্য খামার আমাদের জমির চারদিকে বিস্তৃত থাকায় জমিতে যাতায়াত ও চাষাবাদ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জমি জবর দখলের এমন নীল নকশা থেকে রেহাই পেতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, সালাম সিকদারের মৎস্য খামারের পাড়ে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় মাদকের রমরমা আড্ডা ও মাদক ব্যবসা। উল্লেখ্য, নড়াইল সদর থানায় এজাহারকৃত একটি নাশকতা মামলায় বর্তমানে জামিনে রয়েছেন সালাম সিকদার। ইতিমধ্যে জাতীয় দৈনিক সকালের সময়, দৈনিক খবরপত্র, আঞ্চলিক দৈনিক যশোর বার্তা, বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

জিসিসির মাসব্যাপী ‘ভোটের গাড়ি, প্রচারণায় তোড়জোড়

ছেলে ওসি সেই প্রভাবে আওয়ামীলীগ নেতা সরকারি খাল দখল করে মৎস খামার করার অভিযোগ!

আপডেট টাইম : ০২:১২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সরকারি খাল দখল করে মৎস্য খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় লাহুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি সালাম সিকদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে দলীয় প্রভাব খাটানোর পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) ছেলের দাপটও দেখিয়েছেন তিনি। এছাড়াও সাংবাদিকদের কে জীবন নাশের হুমকি দিয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা সালাম শিকদার ও পুলিশের ওসি আশরাফুল ইসলাম নয়ন। একদিকে নিজে আওয়ামীলীগের সভাপতি, অন্যদিকে ছেলে আশরাফুল ইসলাম নয়ন পুলিশ ইন্সপেক্টর—এই দ্বৈত প্রভাব খাটিয়ে সর্বত্র আধিপত্য বিস্তার করতেন সালাম সিকদার। ছেলে কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের ওসির ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোর করে সরকারি খাল দখল, নিয়োগ বাণিজ্যসহ অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সাহস পেতেন না।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ইছামতি বিল এলাকায় লাহুড়িয়া বাজার থেকে মিঠাপুর বাজার সংলগ্ন পাকা সড়কের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরকারি খালের জায়গা দখল করে মৎস্য খামার গড়ে তুলেছেন সালাম সিকদার। ইছামতি বিলের ৩ নম্বর সিটের ৩৩২২ দাগভুক্ত সরকারি এক একর জমি দখল করে তিনি এ খামার স্থাপন করেন। শুধু তাই নয়, খাল দখলের পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়ে কৌশলে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি নামমাত্র মূল্যে ক্রয় করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সূত্রে আরও জানা যায়, গরীব কৃষক পরিবারের সন্তান এসএসসি পাশ করে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করলেও দলীয় এবং পুলিশ কর্মকর্তা পুত্র আশরাফুল ইসলাম নয়নের দাপটে বিগত ১৬ বছরে শহরে বাড়িসহ বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হয়ে গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইছামতি বিলের কয়েকজন জমির মালিক ও এলাকার বেশ কিছু কৃষকরা জানান, সালাম সিকদারের মৎস্য খামার আমাদের জমির চারদিকে বিস্তৃত থাকায় জমিতে যাতায়াত ও চাষাবাদ প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জমি জবর দখলের এমন নীল নকশা থেকে রেহাই পেতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, সালাম সিকদারের মৎস্য খামারের পাড়ে সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় মাদকের রমরমা আড্ডা ও মাদক ব্যবসা। উল্লেখ্য, নড়াইল সদর থানায় এজাহারকৃত একটি নাশকতা মামলায় বর্তমানে জামিনে রয়েছেন সালাম সিকদার। ইতিমধ্যে জাতীয় দৈনিক সকালের সময়, দৈনিক খবরপত্র, আঞ্চলিক দৈনিক যশোর বার্তা, বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।