ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
লালনের তিরোধান দিবস জাতীয় দিবস ঘোষণায় কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের অভিনন্দন বাউফলে মাদ্রাসার তালা ভেঙ্গে চেয়ার ও কাগজপত্র তছনছসহ লাঞ্ছিতের অভিযোগ কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় গাজীপুর কালীগঞ্জে ট্রেন-অটোরিকশা সংঘর্ষ জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দিয়ামনি ই – কমিউনিকেশন স্টার এ্যাওয়ার্ড নৌ-অধিদপ্তরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন গিয়াসের নামে দুদকের মামলার অনুমোদন মাদারীপুরে সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করে সমাজ সেবা কর্মকর্তা ও তার বেকার স্বামীর দাদাগিরি! মির্জাগঞ্জে গণ অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচনী কর্মী সমাবেশ ফরিদপুরে সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা মুন্সি আকতার হোসেনের সংবাদ সম্মেলন

মেজর জেনারেল (অবঃ) প্রফেসর ডা. আজিজুল ইসলাম এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফিরে পাচ্ছে তার হারানো ঐতিহ্য

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আর্ত মানবতার সেবাই নিয়োজিত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এটি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহায়কি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। বন্যা, সাইক্লোন, ঘুর্ণিঝড়সহ যেকোন দুর্যোগে সবার আগে সরকারের সাথে মিলেমিশে কাজ করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল ইসলাম চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জাতীয় সদর দপ্তরে সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ১৪ তলা ফাউন্ডেশনের ১০ তলা বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছি।

ইতোমধ্যে প্রথম তলার ছাদ ঢালায়ের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১ বছরের মধ্যে ১০ তলা ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে সকলে আশা করছেন। খুলনা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য জমি নিয়ে ঝামেলা ছিল।চেয়ারম্যান মহোদয় দায়িত্ব নেওয়ার পরে সেই জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের পথে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ লালদিয়ার চরে অবস্থিত চট্টগ্রামের বেস ডিপোতে ১২,৯০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ওয়ার হাউজ নির্মাণ কাজ চলমান। যাহা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ শেষ হবে বলে আশা করছি।
স্বাস্থ্য বিভাগের আন্ডারে ৫৬ টি মাতৃসদন সেন্টারে সেবার মান উন্নতিকরণের ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। ০৫ টা মাতৃসদনের মেরামত কাজ চলমান।
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, চট্টগ্রামের জেমিসন হাসপাতাল, বরিশাল রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল সহ ব্লাড সেন্টারের সেবার মান উন্নতি করা হয়েছে। রোগী বৃদ্ধির জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ, রক্ত ডোনেশন, ব্লাড সেন্টারের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ, পরিবারের সাথে যোগাযোগ করায়ে দেওয়াসহ অন্যান্য কাজ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মহোদয় সহ কর্মকর্তা কর্মচারী এবং যুব স্বেচ্ছাসেবক রা করেন। আহতদের জন্য ঔষধ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।
২০২৪ এ জুলাই আহত ছাত্রদের সুচিকিৎসা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য P2H প্রোজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের সকল হাসপাতালে জুলাই শহীদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসার দার খোলা আছে।
তিনি বলেন যে সকল সংস্কার এবং উন্নয়নমুকল কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে তাতে আগামী ৫/৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে আমুল পরিবর্তন আসবে। এখানে একটা সিন্ডিকেট ছিল। আমি সিন্ডিকেট অকার্যকর করতে স্বক্ষম হয়েছি। অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট মুক্ত ক্লিন ইমেজের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গড়ে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক ইমাম জাফর শিকদারের অন্তহীন দুর্নীতি:
সোসাইটির যুব স্বেচ্ছাসেবক প্রোগ্রামের পরিচালক থাকা অবস্থায় ইমাম জাফর শিকদার কোন ধরনের কর্মসূচির আয়োজন না করেই যুব ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মিথ্যা তথ্য দেখিয়ে অবৈধভাবে সহশিক্ষার টাকা উত্তোলন করেন। শুধু তাই নয়, নিজে ফেঁসে যাবেন বুঝতে পেরে ইমাম জাফর শিকদার বাকি ১২ হাসপাতালের তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করেন। সোসাইটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে এত অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণের পরও ইমাম জাফর শিকদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

টেন্ডার বাণিজ্য:
রেড ক্রিসেন্টে ইমাম জাফর শিকদার যোগদানের পর থেকে বেনামে ৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডার বাণিজ্য করে আসছেন। এস আলম প্রগ্রেসিভ এবং ফারহান ইঞ্জিনিয়ারিং নামের বেনামি তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি কাজ বাগিয়ে নিতেন। কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের জন্য ১৯০০ শেল্টারের কাজ তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাগিয়ে নেয়। সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে সহশিক্ষা কার্যক্রমের অর্থ দিয়ে প্রথম পর্যায়ে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ট্রেনিং সেন্টার করার জন্য নামফলক উদ্বোধন করা হয়। পরে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার বাজেট পরিবর্তন করে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ট্রেনিং সেন্টার করার জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

নিয়োগ বাণিজ্য:
রেড ক্রিসেন্টে যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়োগ বাণিজ্য করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সিভি পাঠানোর পর যার সঙ্গে তার বেশি টাকার চুক্তি হয়, তাকেই তিনি নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজে ভর্তি এবং হলি ফ্যামিলি হাসপাতালসহ রেড ক্রিসেন্টের সব অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও ভর্তি নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

অবৈধভাবে আত্মীয়-স্বজনকে নিয়োগ:
ইমাম জাফর শিকদার সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তার ফুপাতো ভাই এ এস এম জাহিদুর রহমানকে সোসাইটির প্রশিক্ষণ বিভাগের উপসহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেন। আরেক ফুপাতো ভাই সাইদুর রহমান সোহানকে কোস্টাল ডিআরআর প্রকল্পে প্রোজেক্ট অফিসার পদে নিয়োগ দেন। এ ছাড়া সাইদুর রহমানের স্ত্রী হামিদা বানুকে ডিসিআরএম বিভাগের স্লিপ প্রকল্পে কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই ফাইন্যান্স অফিসার পদে নিয়োগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস:
গ্রিপ প্রকল্পের স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা পদে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার সরাসরি জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে গত বছরের ১৪ মে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সব বোর্ড সদস্যকে ম্যানেজ করে সেই যাত্রায় পার পেয়ে যান।

যুব ও স্বেচ্ছাসেবক প্রকল্পে দুর্নীতি:
ইমাম জাফর শিকদার যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগে যোগদানের পর থেকে দুর্নীতির যেন মহোৎসব শুরু করেন। দীর্ঘদিন যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগে জাপান রেড ক্রসের অর্থায়নে জাপান ফ্রেন্ডশিপ প্রকল্প চলমান ছিল। প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় ২৫ জেলায় রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট পরিচালিত হতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ট্রেনিং না করেই লাখ লাখ টাকার ভুয়া বিল বা ভাউচার দাখিল করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

পরিচালকের দুর্নীতির দুই প্রধান সহযোগী:
ইমাম জাফর শিকদারের দুর্নীতির সব কাজের সহযোগী অফিস সহায়ক সুমন মিয়া। সুমনকে তিনি যে বিভাগে বদলি হয়ে যান সেখানে নিয়ে যান। এ ছাড়া গাড়িচালক সোহরাব চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন দুই বছর আগে। ইমাম জাফর শিকদার তার অবৈধ কাজে সহযোগিতার জন্য বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে ৬৫ হাজার টাকা বেতনে ড্রাইভার সোহরাবকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়।

অবৈধ সম্পদের পাহাড়:
ইমাম জাফর শিদকার সোসাইটিতে যোগদানের পর অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকায় ৩ হাজার স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট, যার দাম প্রায় ৩ কোটি টাকা, কক্সবাজারে হোটেলের শেয়ার ও ১টি ফ্ল্যাট, পুলিশ প্লাজায় ১টি ফ্ল্যাট, উত্তরার দিয়াবাড়ীতে ১টি ফ্ল্যাট এবং রেড ক্রিসেন্ট সুরমা ভবনে রয়েছে ১টি ফ্ল্যাট। এ ছাড়া রয়েছে বরিশাল, পটুয়াখালীতে জমি-বাড়ি, বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা ও ব্যক্তিগত ২টি গাড়ি।

ইমাম জাফর শিকদারের সাম্প্রতিক ততপরতা:
একাধিক সুত্রে জানা গেছে, ৫ আগষ্ট গণঅভ্যত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক স্বরাট্র মন্ত্রী মো: আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে আত্মীয় দাবী করে রেডক্রিসেন্ট সদর, বেতনভুক্ত কোন স্টাফ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে পারেন না।

জানাগেছে, ৫ আগষ্ট গণঅভ্যত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক স্বরাট্র মন্ত্রী মো: আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে আত্মীয় দাবী করে রেডক্রিসেন্ট সদর দপ্তরে ত্রাসের সৃষ্টি করেছেন। তিনি এই মর্মে হুমকি দিয়েছেন যে, বর্তমান চেয়ারম্যান ও পরিষদের মাত্র ১০ দিন মেয়াদ আছে। এরপর তিনিই চেয়ারম্যান হবেন। চেয়ারম্যান হতে পারলে তিনি কারো কারো বদলি বা চাকুরীচ্যুত করবেন। তার এ ধরনের কর্মকান্ডে রেড ক্রিসেন্ট সদর দপ্তরে মব আতংক দেখা দিয়েছে। তবে তিনি হয়তো জানেন না যে, আইন বা বিধি মোতাবেক সোসাইটির বেতনভুক্ত কোন কর্মকর্তা চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে পারেন না।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

লালনের তিরোধান দিবস জাতীয় দিবস ঘোষণায় কেন্দ্রীয় সাধুসংঘের অভিনন্দন

মেজর জেনারেল (অবঃ) প্রফেসর ডা. আজিজুল ইসলাম এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফিরে পাচ্ছে তার হারানো ঐতিহ্য

আপডেট টাইম : ০১:০১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আর্ত মানবতার সেবাই নিয়োজিত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এটি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহায়কি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। বন্যা, সাইক্লোন, ঘুর্ণিঝড়সহ যেকোন দুর্যোগে সবার আগে সরকারের সাথে মিলেমিশে কাজ করে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. আজিজুল ইসলাম চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জাতীয় সদর দপ্তরে সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ১৪ তলা ফাউন্ডেশনের ১০ তলা বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছি।

ইতোমধ্যে প্রথম তলার ছাদ ঢালায়ের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১ বছরের মধ্যে ১০ তলা ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে সকলে আশা করছেন। খুলনা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য জমি নিয়ে ঝামেলা ছিল।চেয়ারম্যান মহোদয় দায়িত্ব নেওয়ার পরে সেই জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের পথে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গাস্থ লালদিয়ার চরে অবস্থিত চট্টগ্রামের বেস ডিপোতে ১২,৯০০ বর্গফুট বিশিষ্ট ওয়ার হাউজ নির্মাণ কাজ চলমান। যাহা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ শেষ হবে বলে আশা করছি।
স্বাস্থ্য বিভাগের আন্ডারে ৫৬ টি মাতৃসদন সেন্টারে সেবার মান উন্নতিকরণের ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। ০৫ টা মাতৃসদনের মেরামত কাজ চলমান।
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, চট্টগ্রামের জেমিসন হাসপাতাল, বরিশাল রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল সহ ব্লাড সেন্টারের সেবার মান উন্নতি করা হয়েছে। রোগী বৃদ্ধির জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজ, রক্ত ডোনেশন, ব্লাড সেন্টারের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ, পরিবারের সাথে যোগাযোগ করায়ে দেওয়াসহ অন্যান্য কাজ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মহোদয় সহ কর্মকর্তা কর্মচারী এবং যুব স্বেচ্ছাসেবক রা করেন। আহতদের জন্য ঔষধ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।
২০২৪ এ জুলাই আহত ছাত্রদের সুচিকিৎসা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য P2H প্রোজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের সকল হাসপাতালে জুলাই শহীদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসার দার খোলা আছে।
তিনি বলেন যে সকল সংস্কার এবং উন্নয়নমুকল কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে তাতে আগামী ৫/৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে আমুল পরিবর্তন আসবে। এখানে একটা সিন্ডিকেট ছিল। আমি সিন্ডিকেট অকার্যকর করতে স্বক্ষম হয়েছি। অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট মুক্ত ক্লিন ইমেজের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি গড়ে তুলতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক ইমাম জাফর শিকদারের অন্তহীন দুর্নীতি:
সোসাইটির যুব স্বেচ্ছাসেবক প্রোগ্রামের পরিচালক থাকা অবস্থায় ইমাম জাফর শিকদার কোন ধরনের কর্মসূচির আয়োজন না করেই যুব ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মিথ্যা তথ্য দেখিয়ে অবৈধভাবে সহশিক্ষার টাকা উত্তোলন করেন। শুধু তাই নয়, নিজে ফেঁসে যাবেন বুঝতে পেরে ইমাম জাফর শিকদার বাকি ১২ হাসপাতালের তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করেন। সোসাইটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে এত অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণের পরও ইমাম জাফর শিকদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

টেন্ডার বাণিজ্য:
রেড ক্রিসেন্টে ইমাম জাফর শিকদার যোগদানের পর থেকে বেনামে ৩টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডার বাণিজ্য করে আসছেন। এস আলম প্রগ্রেসিভ এবং ফারহান ইঞ্জিনিয়ারিং নামের বেনামি তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি কাজ বাগিয়ে নিতেন। কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের জন্য ১৯০০ শেল্টারের কাজ তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাগিয়ে নেয়। সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে সহশিক্ষা কার্যক্রমের অর্থ দিয়ে প্রথম পর্যায়ে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ট্রেনিং সেন্টার করার জন্য নামফলক উদ্বোধন করা হয়। পরে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার বাজেট পরিবর্তন করে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ট্রেনিং সেন্টার করার জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

নিয়োগ বাণিজ্য:
রেড ক্রিসেন্টে যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়োগ বাণিজ্য করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সিভি পাঠানোর পর যার সঙ্গে তার বেশি টাকার চুক্তি হয়, তাকেই তিনি নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজে ভর্তি এবং হলি ফ্যামিলি হাসপাতালসহ রেড ক্রিসেন্টের সব অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও ভর্তি নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।

অবৈধভাবে আত্মীয়-স্বজনকে নিয়োগ:
ইমাম জাফর শিকদার সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তার ফুপাতো ভাই এ এস এম জাহিদুর রহমানকে সোসাইটির প্রশিক্ষণ বিভাগের উপসহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ দেন। আরেক ফুপাতো ভাই সাইদুর রহমান সোহানকে কোস্টাল ডিআরআর প্রকল্পে প্রোজেক্ট অফিসার পদে নিয়োগ দেন। এ ছাড়া সাইদুর রহমানের স্ত্রী হামিদা বানুকে ডিসিআরএম বিভাগের স্লিপ প্রকল্পে কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই ফাইন্যান্স অফিসার পদে নিয়োগ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস:
গ্রিপ প্রকল্পের স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা পদে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার সরাসরি জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে গত বছরের ১৪ মে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সব বোর্ড সদস্যকে ম্যানেজ করে সেই যাত্রায় পার পেয়ে যান।

যুব ও স্বেচ্ছাসেবক প্রকল্পে দুর্নীতি:
ইমাম জাফর শিকদার যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগে যোগদানের পর থেকে দুর্নীতির যেন মহোৎসব শুরু করেন। দীর্ঘদিন যুব ও স্বেচ্ছাসেবক বিভাগে জাপান রেড ক্রসের অর্থায়নে জাপান ফ্রেন্ডশিপ প্রকল্প চলমান ছিল। প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় ২৫ জেলায় রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট পরিচালিত হতো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ট্রেনিং না করেই লাখ লাখ টাকার ভুয়া বিল বা ভাউচার দাখিল করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

পরিচালকের দুর্নীতির দুই প্রধান সহযোগী:
ইমাম জাফর শিকদারের দুর্নীতির সব কাজের সহযোগী অফিস সহায়ক সুমন মিয়া। সুমনকে তিনি যে বিভাগে বদলি হয়ে যান সেখানে নিয়ে যান। এ ছাড়া গাড়িচালক সোহরাব চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন দুই বছর আগে। ইমাম জাফর শিকদার তার অবৈধ কাজে সহযোগিতার জন্য বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে ৬৫ হাজার টাকা বেতনে ড্রাইভার সোহরাবকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়।

অবৈধ সম্পদের পাহাড়:
ইমাম জাফর শিদকার সোসাইটিতে যোগদানের পর অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং তার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকায় ৩ হাজার স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট, যার দাম প্রায় ৩ কোটি টাকা, কক্সবাজারে হোটেলের শেয়ার ও ১টি ফ্ল্যাট, পুলিশ প্লাজায় ১টি ফ্ল্যাট, উত্তরার দিয়াবাড়ীতে ১টি ফ্ল্যাট এবং রেড ক্রিসেন্ট সুরমা ভবনে রয়েছে ১টি ফ্ল্যাট। এ ছাড়া রয়েছে বরিশাল, পটুয়াখালীতে জমি-বাড়ি, বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা ও ব্যক্তিগত ২টি গাড়ি।

ইমাম জাফর শিকদারের সাম্প্রতিক ততপরতা:
একাধিক সুত্রে জানা গেছে, ৫ আগষ্ট গণঅভ্যত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক স্বরাট্র মন্ত্রী মো: আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে আত্মীয় দাবী করে রেডক্রিসেন্ট সদর, বেতনভুক্ত কোন স্টাফ চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে পারেন না।

জানাগেছে, ৫ আগষ্ট গণঅভ্যত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক স্বরাট্র মন্ত্রী মো: আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে আত্মীয় দাবী করে রেডক্রিসেন্ট সদর দপ্তরে ত্রাসের সৃষ্টি করেছেন। তিনি এই মর্মে হুমকি দিয়েছেন যে, বর্তমান চেয়ারম্যান ও পরিষদের মাত্র ১০ দিন মেয়াদ আছে। এরপর তিনিই চেয়ারম্যান হবেন। চেয়ারম্যান হতে পারলে তিনি কারো কারো বদলি বা চাকুরীচ্যুত করবেন। তার এ ধরনের কর্মকান্ডে রেড ক্রিসেন্ট সদর দপ্তরে মব আতংক দেখা দিয়েছে। তবে তিনি হয়তো জানেন না যে, আইন বা বিধি মোতাবেক সোসাইটির বেতনভুক্ত কোন কর্মকর্তা চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে পারেন না।