ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভোটের প্রচারণায় বান্দরবানে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান মহার্ঘ ভাতা নয়, পে স্কেল বাস্তবায়নের দিকে এগুচ্ছে বর্তমান সরকার- অর্থ উপদেষ্টা দায়িত্বশীল উদ্যোক্তাই গড়বে আস্থাভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ– ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে, হ্যাঁ ভোট দিতে হবে- উপদেষ্টা আদিলুর চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি শিক্ষক লে. অধ্যাপক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিসীম- প্রিন্সিপাল ইকবাল সিরাজদিখানে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদারের আহ্বান উত্তরায় সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় পশ্চিম থানায় এজাহার দাখিল

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরি করে জাহিদুল পেয়েছে আলাদিনের চেরাগ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো.জাহিদুল ইসলাম জাহিদ চাকুরি করেই গড়েছেন অঢেল সম্পদ।গ্রামে টিনশেড বাড়ি,পঞ্চগড় পৌরশহরের রওশনাবাগ ভুতের ডাঙ্গা এলাকায় জমি ক্রয় করে বাড়ি, রংপুর শহরে জমি কিনে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ফ্লাট বাড়ি, কিনেছেন গাড়ী, গ্রামে বিঘা বিঘা জমি। ব্যাংকে জমিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।দুই ছেলেকে পড়ালেখা করাচ্ছেন বুয়েট ও রুয়েটে।সামান্য চাকুরি করেই কিভাবে এত সম্পদ গড়েছেন।তার অবৈধ এ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়,মো.জাহিদুল ইসলাম নামের এ কর্মকর্তা পঞ্চগড় সদর উপজেলা চাকলাহাট ইউনিয়নের মালিরডাঙ্গা এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে। তারা পাঁচ ভাই, তিন বোন।তার বাবা টুনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিনা বেতনের শিক্ষক ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

কয়েক বিঘা জমি ছিল সামসুল হকের।বলায় যায় নুন আনতে পানতা ফুরাতো সামসুল হকের।প্রায় ১৮ বছর আগে জাহিদুল এইচ এসসি পাশ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পায়।পর্যায়ক্রমে পদন্নোতি পেয়ে হয়েছেন পরিদর্শক।আছেন ঢাকা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে।তবে চাকুরি জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে তার রংপুরে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,তার গ্রামের বাড়ি চাকলাহাট মালিরডাঙ্গা এলাকায়।সেখানে টিনশেডের বাড়ি,আরাজি বেরুবাড়ি,কাজলদিঘী ও কাজলদিঘী পুরানিগ্রাম মৌজা সহ কয়েকটি মৌজায় ৫০-৬০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন।পঞ্চগড় পৌরশহরের রওশনাবাগ ভুতের ডাঙ্গায় ৮ শতক জমি ক্রয় করে গড়েছেন কোটি টাকা দামের বাড়ি। রংপুর মহানগর সর্দারপাড়া রোড, হাজী পাড়া মোড়ে পাঁচ শতক জমি ক্রয় করে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের চার ও পাঁচ তলার কাজ চলমান।সেখানকার স্থানীয় আব্দুল মতিন বলেন,জমির দাম এখানে প্রতি শতক ৩০ লাখ টাকা। সে হিসেবে ৫ শতক জমির দাম দেড় কোটি, সাথে বাড়ি নির্মাণ খরচ প্রায় আরো এক কোটি টাকা।জাহিদুল ১৭ তম গ্রেড দিয়ে চাকুরি শুরু করে বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে পর্যায়ক্রমে ৯ ম গ্রেডের বেতন পান।সে হিসেবে তার ১৮ বছরে বেতন পায় ৫০-৬৫ লাখ টাকা।সেখান থেকে তার পাঁচ সদস্যের পরিবার, বাবা-মা সাথে সন্তাদির লেখাপড়ার খরচ, চালিয়ে কিভাবে এতো টাকার সম্পত্তি করেন ভাবনা স্থানীয়দের।

চাকলা হাট এলাকার স্থানীয় মোজাম্মেল হক বলেন,এলাকায় কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে।বাজার দরের চাইতে বেশি দামে জাহিদুল ক্রয় করেন।অন্য কারো নেওয়ার কোন সুযোগ নাই।কিভাবে এতাে অর্থের মালিক হলেন তিনি। চাকলার হাট মালির ডাঙ্গা এলাকায় জমি ১২/১৫ লাখ টাকা বিঘা কিন্তু মাদকদ্রব্যের এই কর্মকর্তা ওই এলাকার জমির দাম ২০ লাখে পৌঁছে দিয়েছে।

অভিযুক্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ,এর কাছে মুঠোফোনে সংবাদকর্মীর পরিচয় দিয়ে, অঢেল সম্পত্তির বিষয়টি জানতে চাইলে কলটি কেটে দেন তিনি।পরে বার বার ফোন দিয়েও আর ধরেননি।

বিষয়টি সম্পর্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক উর্মি দে’র কাছে কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জাহিদের বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলেও তিনি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, অঢেল সম্পত্তির বিষয়টি তার ব্যক্তিগত বিষয়।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের প্রচারণায় বান্দরবানে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরি করে জাহিদুল পেয়েছে আলাদিনের চেরাগ

আপডেট টাইম : ০২:০৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো.জাহিদুল ইসলাম জাহিদ চাকুরি করেই গড়েছেন অঢেল সম্পদ।গ্রামে টিনশেড বাড়ি,পঞ্চগড় পৌরশহরের রওশনাবাগ ভুতের ডাঙ্গা এলাকায় জমি ক্রয় করে বাড়ি, রংপুর শহরে জমি কিনে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ফ্লাট বাড়ি, কিনেছেন গাড়ী, গ্রামে বিঘা বিঘা জমি। ব্যাংকে জমিয়েছেন মোটা অঙ্কের টাকা।দুই ছেলেকে পড়ালেখা করাচ্ছেন বুয়েট ও রুয়েটে।সামান্য চাকুরি করেই কিভাবে এত সম্পদ গড়েছেন।তার অবৈধ এ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়,মো.জাহিদুল ইসলাম নামের এ কর্মকর্তা পঞ্চগড় সদর উপজেলা চাকলাহাট ইউনিয়নের মালিরডাঙ্গা এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে। তারা পাঁচ ভাই, তিন বোন।তার বাবা টুনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিনা বেতনের শিক্ষক ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।

কয়েক বিঘা জমি ছিল সামসুল হকের।বলায় যায় নুন আনতে পানতা ফুরাতো সামসুল হকের।প্রায় ১৮ বছর আগে জাহিদুল এইচ এসসি পাশ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পায়।পর্যায়ক্রমে পদন্নোতি পেয়ে হয়েছেন পরিদর্শক।আছেন ঢাকা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে।তবে চাকুরি জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে তার রংপুরে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,তার গ্রামের বাড়ি চাকলাহাট মালিরডাঙ্গা এলাকায়।সেখানে টিনশেডের বাড়ি,আরাজি বেরুবাড়ি,কাজলদিঘী ও কাজলদিঘী পুরানিগ্রাম মৌজা সহ কয়েকটি মৌজায় ৫০-৬০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন।পঞ্চগড় পৌরশহরের রওশনাবাগ ভুতের ডাঙ্গায় ৮ শতক জমি ক্রয় করে গড়েছেন কোটি টাকা দামের বাড়ি। রংপুর মহানগর সর্দারপাড়া রোড, হাজী পাড়া মোড়ে পাঁচ শতক জমি ক্রয় করে ১০ তলা ফাউন্ডেশনের চার ও পাঁচ তলার কাজ চলমান।সেখানকার স্থানীয় আব্দুল মতিন বলেন,জমির দাম এখানে প্রতি শতক ৩০ লাখ টাকা। সে হিসেবে ৫ শতক জমির দাম দেড় কোটি, সাথে বাড়ি নির্মাণ খরচ প্রায় আরো এক কোটি টাকা।জাহিদুল ১৭ তম গ্রেড দিয়ে চাকুরি শুরু করে বর্তমানে পদোন্নতি পেয়ে পর্যায়ক্রমে ৯ ম গ্রেডের বেতন পান।সে হিসেবে তার ১৮ বছরে বেতন পায় ৫০-৬৫ লাখ টাকা।সেখান থেকে তার পাঁচ সদস্যের পরিবার, বাবা-মা সাথে সন্তাদির লেখাপড়ার খরচ, চালিয়ে কিভাবে এতো টাকার সম্পত্তি করেন ভাবনা স্থানীয়দের।

চাকলা হাট এলাকার স্থানীয় মোজাম্মেল হক বলেন,এলাকায় কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে।বাজার দরের চাইতে বেশি দামে জাহিদুল ক্রয় করেন।অন্য কারো নেওয়ার কোন সুযোগ নাই।কিভাবে এতাে অর্থের মালিক হলেন তিনি। চাকলার হাট মালির ডাঙ্গা এলাকায় জমি ১২/১৫ লাখ টাকা বিঘা কিন্তু মাদকদ্রব্যের এই কর্মকর্তা ওই এলাকার জমির দাম ২০ লাখে পৌঁছে দিয়েছে।

অভিযুক্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ,এর কাছে মুঠোফোনে সংবাদকর্মীর পরিচয় দিয়ে, অঢেল সম্পত্তির বিষয়টি জানতে চাইলে কলটি কেটে দেন তিনি।পরে বার বার ফোন দিয়েও আর ধরেননি।

বিষয়টি সম্পর্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক উর্মি দে’র কাছে কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জাহিদের বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলেও তিনি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, অঢেল সম্পত্তির বিষয়টি তার ব্যক্তিগত বিষয়।