ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভোটের প্রচারণায় বান্দরবানে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান মহার্ঘ ভাতা নয়, পে স্কেল বাস্তবায়নের দিকে এগুচ্ছে বর্তমান সরকার- অর্থ উপদেষ্টা দায়িত্বশীল উদ্যোক্তাই গড়বে আস্থাভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ– ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে, হ্যাঁ ভোট দিতে হবে- উপদেষ্টা আদিলুর চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি শিক্ষক লে. অধ্যাপক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম দিয়ামনি ই কমিউনিকশনের আয়োজনে সাভারে স্টল ফ্রী মেলায় স্থান পেলো ২৫ জন উদ্যোক্তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিসীম- প্রিন্সিপাল ইকবাল সিরাজদিখানে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদারের আহ্বান উত্তরায় সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় পশ্চিম থানায় এজাহার দাখিল

মিরপুরে লাজফার্মার সাইনবোর্ডের আড়ালে নকল ওষুধ বিক্রয়ের অভিযোগ!

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর শাহআলী থানা এলাকা চিড়িয়াখানা রোড রাইনখোলার মোড়ে অবস্থিত দেশের সুনামধণ্য ফার্মেসী লাজফার্মা, তাদের বিরুদ্ধে নকল ওষুধ বিক্রয়ের অভিযোগ করছেন ভুক্তভুগীর পরিবার। সুত্রে জানা যায় ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে লাজফার্মার সাইনবোর্ডের আড়ালে তারা দিনের পর দিন নকল ওষুধ বিক্রয় করছেন তারা। চিড়িয়াখানার পাশে অবস্থিত কামাল হাউজিংয়ের বাসিন্ধা খালেদা আক্তার রিনা গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ ক্রয় করতে যান ওই ফার্মেসীতে। ডাক্তারি প্রেসক্রিপশনে ছিলো মেথোফ্লেক্স ৫০০ এমজি আর লাজফার্মা দিয়ে ছিলেন মিথোট্রেক্স ১০ এমজি একপাতা অর্থাৎ ১০টি ট্যাবলেট। মেথোফ্লেক্স আর মিথোট্রেক্স দুইটায় ভিন্ন গ্রুপের ঔষধ। লাজফার্মার ১০ এমজি মিথোট্রেক্স ওষুধ খেয়ে তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়েন এবং শরীরের অবনতি দেখা দিলে তার পরিবারের লোকজন দ্রুত ১ নভেম্বর ইং তারিখে ধানমন্ডী গ্রীন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই হাসপাতালে দীর্ঘ ২২ দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন খালেদা আক্তার রিনা।
আইসিইউতে থাকার খবর পেয়ে লাজফার্মার ম্যানেজার মোঃ ওবাদুল গ্রীনলাইফ হাসপাতালে বেশ কয়েকবার দেখতে যান এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চিকিৎসাবাবদ দেন এবং চিকিৎসাবাবদ যতো টাকা লাগবে তার সব টাকা দেয়ার প্রশ্রুতিদেন লাজফার্মার ম্যানেজার মোঃ ওবাদুল রহমান।
খালেদা আক্তার ১ নভেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত আইসিইউতি ছিলেন এবং ৬ই নভেম্বর কেবিনে আনেন। জানা যায় লাজফার্মার নকল ওষুধ মিথোট্রেক্স ১০ এমজি ঔষধ খাওয়ার কারণে খালেদা আক্তারের শরীরে ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় কিডনি ও লিভার ড্যামেজ হয়ে গেছে এবং মাথার চুল ভ্রু উঠে যায়। এরপর থেকে লাজফার্মার কেহর কোন খোজ না পেয়ে খালেদা আক্তারের স্বামী আব্দুর রহিম ও তার ছেলে-মেয়ে ১১ নভেম্বের মিরপুর রাইন খোলার মোড়ে অবস্থিত লাজফার্মায় চিকিৎসার টাকার জন্য যান। সেখানে গেলে ম্যানেজার ওবায়দুল ও পরিচালক বেলালের ছোট ভাই জিলাল তাদের সাথে মারমুকী হন এবং চিকিৎসাবাবদ কোন টাকা দিবেনা বলে জানান। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা হাজির হন লাজফার্মায় তখন পরিচালক আকবর ও বেলাল চিকিৎসাবাদ যে টাকা লাগবে সেই টাকা দিবেন বলে জানান।
১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ফেয়ারপ্লাজার ১০ম তলায় এক ডেভেলপারের অফিসে বসে মিমাংশা করেন এবং চিকিৎসা বাবদ আর চার লাখ টাকা দিবে এবং সাদা কাগজে খসড়া লিখিত করেন ও উপস্থিত সবার স্বাক্ষর নেন, এরপরও সেই টাকা পরিশোধ করেননি লাজফার্মা।
এখন টাকাতো দুরের কথা উল্টো রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে শাহআলী থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ করে বসে আছেন লাজফার্মার ম্যানেজার মোঃ ওবায়দুল। অভিযোগটি এসআই রুবেল তদন্ত করছেন।
সুত্রে জানা যায়, মিরপুর রাইণখোলার মোড়ে কিছু আওয়ামীলীগের দোসরদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সাইনবোর্ড বিক্রি করেছেন মূল মালিক উদ্যোক্তা লুৎফর রহমান। সাইনবোর্ড ক্রেতাকে চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা দিতে হয় মূল মালিককে এবং এককালিন ৬০ লাখ টাকা ৫ বছরের জন্য দিতে হয় আর প্রতিমাসে দিতে হয় ১ লাখ টাকা। কিন্তু ওষুধ, প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্যের মান নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই প্রতিষ্ঠানটির। আর আগেও লাজফার্মার আন্য শাখায় নকল ওষুধ বিক্রিরদায়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে অভিযোগ আছে, মান নিয়ন্ত্রণ, সেবা নিশ্চিতের বিপরীতে গত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করছে ওই আওয়ামী দোসররা। এ নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগেরও শেষ নেই। বিভিন্ন সময় ভোক্তারা হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার ও অসহযোগিতা করেন বলে জানান ভোক্তারা। এসব অভিযোগের কোনো প্রতিকার নেই।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের প্রচারণায় বান্দরবানে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান

মিরপুরে লাজফার্মার সাইনবোর্ডের আড়ালে নকল ওষুধ বিক্রয়ের অভিযোগ!

আপডেট টাইম : ০৩:২৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর শাহআলী থানা এলাকা চিড়িয়াখানা রোড রাইনখোলার মোড়ে অবস্থিত দেশের সুনামধণ্য ফার্মেসী লাজফার্মা, তাদের বিরুদ্ধে নকল ওষুধ বিক্রয়ের অভিযোগ করছেন ভুক্তভুগীর পরিবার। সুত্রে জানা যায় ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে লাজফার্মার সাইনবোর্ডের আড়ালে তারা দিনের পর দিন নকল ওষুধ বিক্রয় করছেন তারা। চিড়িয়াখানার পাশে অবস্থিত কামাল হাউজিংয়ের বাসিন্ধা খালেদা আক্তার রিনা গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ ক্রয় করতে যান ওই ফার্মেসীতে। ডাক্তারি প্রেসক্রিপশনে ছিলো মেথোফ্লেক্স ৫০০ এমজি আর লাজফার্মা দিয়ে ছিলেন মিথোট্রেক্স ১০ এমজি একপাতা অর্থাৎ ১০টি ট্যাবলেট। মেথোফ্লেক্স আর মিথোট্রেক্স দুইটায় ভিন্ন গ্রুপের ঔষধ। লাজফার্মার ১০ এমজি মিথোট্রেক্স ওষুধ খেয়ে তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়েন এবং শরীরের অবনতি দেখা দিলে তার পরিবারের লোকজন দ্রুত ১ নভেম্বর ইং তারিখে ধানমন্ডী গ্রীন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ওই হাসপাতালে দীর্ঘ ২২ দিন ধরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন খালেদা আক্তার রিনা।
আইসিইউতে থাকার খবর পেয়ে লাজফার্মার ম্যানেজার মোঃ ওবাদুল গ্রীনলাইফ হাসপাতালে বেশ কয়েকবার দেখতে যান এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চিকিৎসাবাবদ দেন এবং চিকিৎসাবাবদ যতো টাকা লাগবে তার সব টাকা দেয়ার প্রশ্রুতিদেন লাজফার্মার ম্যানেজার মোঃ ওবাদুল রহমান।
খালেদা আক্তার ১ নভেম্বর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত আইসিইউতি ছিলেন এবং ৬ই নভেম্বর কেবিনে আনেন। জানা যায় লাজফার্মার নকল ওষুধ মিথোট্রেক্স ১০ এমজি ঔষধ খাওয়ার কারণে খালেদা আক্তারের শরীরে ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় কিডনি ও লিভার ড্যামেজ হয়ে গেছে এবং মাথার চুল ভ্রু উঠে যায়। এরপর থেকে লাজফার্মার কেহর কোন খোজ না পেয়ে খালেদা আক্তারের স্বামী আব্দুর রহিম ও তার ছেলে-মেয়ে ১১ নভেম্বের মিরপুর রাইন খোলার মোড়ে অবস্থিত লাজফার্মায় চিকিৎসার টাকার জন্য যান। সেখানে গেলে ম্যানেজার ওবায়দুল ও পরিচালক বেলালের ছোট ভাই জিলাল তাদের সাথে মারমুকী হন এবং চিকিৎসাবাবদ কোন টাকা দিবেনা বলে জানান। খবর পেয়ে সাংবাদিকরা হাজির হন লাজফার্মায় তখন পরিচালক আকবর ও বেলাল চিকিৎসাবাদ যে টাকা লাগবে সেই টাকা দিবেন বলে জানান।
১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় ফেয়ারপ্লাজার ১০ম তলায় এক ডেভেলপারের অফিসে বসে মিমাংশা করেন এবং চিকিৎসা বাবদ আর চার লাখ টাকা দিবে এবং সাদা কাগজে খসড়া লিখিত করেন ও উপস্থিত সবার স্বাক্ষর নেন, এরপরও সেই টাকা পরিশোধ করেননি লাজফার্মা।
এখন টাকাতো দুরের কথা উল্টো রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে শাহআলী থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ করে বসে আছেন লাজফার্মার ম্যানেজার মোঃ ওবায়দুল। অভিযোগটি এসআই রুবেল তদন্ত করছেন।
সুত্রে জানা যায়, মিরপুর রাইণখোলার মোড়ে কিছু আওয়ামীলীগের দোসরদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সাইনবোর্ড বিক্রি করেছেন মূল মালিক উদ্যোক্তা লুৎফর রহমান। সাইনবোর্ড ক্রেতাকে চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা দিতে হয় মূল মালিককে এবং এককালিন ৬০ লাখ টাকা ৫ বছরের জন্য দিতে হয় আর প্রতিমাসে দিতে হয় ১ লাখ টাকা। কিন্তু ওষুধ, প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্যের মান নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই প্রতিষ্ঠানটির। আর আগেও লাজফার্মার আন্য শাখায় নকল ওষুধ বিক্রিরদায়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে অভিযোগ আছে, মান নিয়ন্ত্রণ, সেবা নিশ্চিতের বিপরীতে গত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করছে ওই আওয়ামী দোসররা। এ নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগেরও শেষ নেই। বিভিন্ন সময় ভোক্তারা হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা প্রতিনিয়ত দুর্ব্যবহার ও অসহযোগিতা করেন বলে জানান ভোক্তারা। এসব অভিযোগের কোনো প্রতিকার নেই।