ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে- প্রশাসক শওকত হোসেন খালেদা জিয়ার বাড়ী ভাংগা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে বাফার ৫টি গুদাম নির্মাণের ৩০০ কোটি টাকার কাজ! কাঁঠালিয়ায় ইয়াবা কারবারি যুবলীগের সদস্যের কামড়ে এসআই আহত, আটক ১ রাজাপুরে ইয়াবা ও গাঁজা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক দুই জামায়াতের দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজাপুরে তিন নারীকে পিটিয়ে আহত নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রীর সাথে জাইকার প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রীর ভিশন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই- মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ধর্মমন্ত্রীর সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরো ১২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তোমরা কেহ মেয়েদের পাল্লায় পরোনা’ ফেসবুকে পোস্ট করে যুবকের আত্মহত্যা

শেবাচিমকে আধুনিকায়ন, নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ডাঃ বাবলুর অঙ্গীকার

সুৃমন দেবনাথ, বরিশাল প্রতিনিধি-

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) বাংলাদেশের তথা দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রধান সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এটি ১৯৬৪ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৯৬৮ সালে কার্যক্রম শুরু করে, যা প্রথমে ‘বরিশাল মেডিকেল কলেজ’ নামে পরিচিত ছিল এবং পরে ১৯৭৭ সালে বাংলার বাঘ খ্যাত শের-ই এ.কে. ফজলুল হকের নামে নামকরণ করা হয়। যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এবং বর্তমানে একটি ১০০০ শয্যার হাসপাতাল ও অত্যাধুনিক শিক্ষা সুবিধা নিয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের এই স্বনামধন্য হাসপাতালের অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অত্র মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক শিক্ষার্থী অধ্যাপক ডাঃ আনোয়ার হোসাইন বাবলু। উপাধ্যক্ষ থেকে পদন্নোতি পেয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করায় তাকে হাসপাতাল কতৃপক্ষ, কর্মকর্তা, কর্মচারী সহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।

এদিকে নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ডাঃ বাবলু জানান, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আধুনিক ও উন্নত সেবা সংবলিত হাসপাতালে পরিণত করতে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।দালালমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শেবাচিমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন শেবাচিম শুধু একটি হাসপাতাল নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এ পরিণত করতে চাই।

শিক্ষা, প্রশাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার, নতুন ভবন নির্মাণ, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সহ রোগীদের জন্য উন্নত ও সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করতে চাই। সাবেক ছাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা থাকায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে কলেজ ও হাসপাতালের বিদ্যমান বহু সমস্যার দৃশ্যমান সমাধান করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

আগামী এক মাসের মধ্যে ১৫ তলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ শুরু হবে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শেবাচিমকে শিক্ষা ও প্রশাসনিকভাবে দেশের একটি ভালো মেডিকেল কলেজে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’ মেডিকেলে দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা শিক্ষক সংকট দূর হয়েছে ‘আমাদের এখানে এখন আর শিক্ষক সংকট নেই।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি এই মেডিকেল কলেজের একজন প্রাক্তন ছাত্র, বর্তমানে এখানে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি, খুব ভালো লাগছে। আমি চেষ্টা করবো, আমাদের যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে।’

এর আগে ২১ ডিসেম্বর রবিবার অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেনকে শেবাচিমের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

তিনি এই মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের পারসোনেল-১ শাখার উপসচিব দুর-রে শাহ্ওয়াজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার নামের পার্শ্বে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে পদায়ন করা হলো।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘বদলি/পদায়নকৃত কর্মকর্তা আগামী ২৪.১২.২০২৫ খ্রি. তারিখের মধ্যে বদলি/পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন। যোগদানপত্র স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পার-১ শাখার ই-মেইল perl@mefwd.gov.bd এ প্রেরণ করবেন।’

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

কথাপ্রসঙ্গে ডাঃ আনোয়ার হোসাইন বাবলুর সহধর্মিণী অত্র হাসপাতালের রেডিওলজি এন্ড ইমাজিং ডিপার্টমেন্টের ডাঃ সামস ই জাহান সোনিয়া বলেন, তার এই অভূতপূর্ব সাফল্যে আমি এবং আমার পরিবার গর্বিত। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে তার মেধা, শ্রম, প্রজ্ঞা দিয়ে এই হাসপাতালের আমূল পরিবর্তনে গৌরবোজ্জ্বল ভুমিকা পালন করবেন এই প্রত্যাশা করি এবং স্বাস্থ্য খাতে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফলতা কামনা করি।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে- প্রশাসক শওকত হোসেন

শেবাচিমকে আধুনিকায়ন, নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ডাঃ বাবলুর অঙ্গীকার

আপডেট টাইম : ০৩:৩৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

সুৃমন দেবনাথ, বরিশাল প্রতিনিধি-

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) বাংলাদেশের তথা দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রধান সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এটি ১৯৬৪ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৯৬৮ সালে কার্যক্রম শুরু করে, যা প্রথমে ‘বরিশাল মেডিকেল কলেজ’ নামে পরিচিত ছিল এবং পরে ১৯৭৭ সালে বাংলার বাঘ খ্যাত শের-ই এ.কে. ফজলুল হকের নামে নামকরণ করা হয়। যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এবং বর্তমানে একটি ১০০০ শয্যার হাসপাতাল ও অত্যাধুনিক শিক্ষা সুবিধা নিয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের এই স্বনামধন্য হাসপাতালের অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অত্র মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক শিক্ষার্থী অধ্যাপক ডাঃ আনোয়ার হোসাইন বাবলু। উপাধ্যক্ষ থেকে পদন্নোতি পেয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করায় তাকে হাসপাতাল কতৃপক্ষ, কর্মকর্তা, কর্মচারী সহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।

এদিকে নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ডাঃ বাবলু জানান, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আধুনিক ও উন্নত সেবা সংবলিত হাসপাতালে পরিণত করতে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ।দালালমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক শেবাচিমে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন শেবাচিম শুধু একটি হাসপাতাল নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এ পরিণত করতে চাই।

শিক্ষা, প্রশাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার, নতুন ভবন নির্মাণ, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সহ রোগীদের জন্য উন্নত ও সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করতে চাই। সাবেক ছাত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা থাকায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে কলেজ ও হাসপাতালের বিদ্যমান বহু সমস্যার দৃশ্যমান সমাধান করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

আগামী এক মাসের মধ্যে ১৫ তলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রাবাস নির্মাণের কাজ শুরু হবে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শেবাচিমকে শিক্ষা ও প্রশাসনিকভাবে দেশের একটি ভালো মেডিকেল কলেজে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’ মেডিকেলে দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা শিক্ষক সংকট দূর হয়েছে ‘আমাদের এখানে এখন আর শিক্ষক সংকট নেই।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি এই মেডিকেল কলেজের একজন প্রাক্তন ছাত্র, বর্তমানে এখানে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি, খুব ভালো লাগছে। আমি চেষ্টা করবো, আমাদের যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে।’

এর আগে ২১ ডিসেম্বর রবিবার অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেনকে শেবাচিমের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

তিনি এই মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের পারসোনেল-১ শাখার উপসচিব দুর-রে শাহ্ওয়াজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার নামের পার্শ্বে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে পদায়ন করা হলো।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘বদলি/পদায়নকৃত কর্মকর্তা আগামী ২৪.১২.২০২৫ খ্রি. তারিখের মধ্যে বদলি/পদায়নকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন। যোগদানপত্র স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পার-১ শাখার ই-মেইল perl@mefwd.gov.bd এ প্রেরণ করবেন।’

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

কথাপ্রসঙ্গে ডাঃ আনোয়ার হোসাইন বাবলুর সহধর্মিণী অত্র হাসপাতালের রেডিওলজি এন্ড ইমাজিং ডিপার্টমেন্টের ডাঃ সামস ই জাহান সোনিয়া বলেন, তার এই অভূতপূর্ব সাফল্যে আমি এবং আমার পরিবার গর্বিত। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে তার মেধা, শ্রম, প্রজ্ঞা দিয়ে এই হাসপাতালের আমূল পরিবর্তনে গৌরবোজ্জ্বল ভুমিকা পালন করবেন এই প্রত্যাশা করি এবং স্বাস্থ্য খাতে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সফলতা কামনা করি।