সালমান রানা-
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। আজ পাবনা শহরের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ইশতেহার তুলে ধরেন।
ইশতেহারে তিনি চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধ পাবনা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
ইশতেহারের প্রধান দিকসমূহ:
১. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার: প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন তাঁর ইশতেহারে মানসম্মত শিক্ষা এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি পাবনায় উচ্চ শিক্ষার প্রসার এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
২. অবকাঠামো ও যোগাযোগ উন্নয়ন: সদর এলাকার যানজট নিরসন এবং গ্রামীণ সড়কগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তিনি। একইসাথে দীর্ঘদিনের ‘পাবনা-ঢাকা’ সরাসরি ট্রেন যোগাযোগসহ রেলওয়ের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার কথা বলেন।
৩. কৃষি ও শ্রমিক কল্যাণ: কৃষি প্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ সরবরাহ এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন।
৪. আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন: পাবনা সদরকে অপরাধমুক্ত এবং একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ব্যাপারে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন।
৫. নারী, শিশু ও যুব উন্নয়ন: নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা ইশতেহারে রয়েছে। যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আইটি পার্ক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
৬. জলাবদ্ধতা ও সৌন্দর্য বর্ধন: শহরের দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা দূরীকরণে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ইছামতী নদী খনন ও সৌন্দর্য বর্ধনের মাধ্যমে পাবনাকে একটি পর্যটনবান্ধব আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
৭. ক্রীড়া ও সংস্কৃতি: মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে তরুণ সমাজকে বাঁচাতে নিয়মিত খেলাধুলা ও সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বৃদ্ধির ওপর তিনি জোর দেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, “আমরা চব্বিশের বিপ্লবের শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। তাদের সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আমি নির্বাচিত হলে পাবনা সদর হবে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং আদর্শ নির্বাচনী এলাকা।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। ইশতেহার ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং আগামী নির্বাচনে সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটারদের কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান।
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 

























