মোঃ শাফায়েত হোসেন সুজন মুন্সী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) |
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ‘আহমেদ প্রাইভেট ক্লিনিক’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের (অস্ত্রোপচার) পর এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার মৃত্যুর পর হাসপাতালে ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা।
সর্বশেষ রোববার (৫ এপ্রিল) রাকিবা আক্তার নামে ওই প্রসূতির মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে ‘আহমেদ প্রাইভেট ক্লিনিকে’ অপারেশনের পর রাকিবার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
রাকিবা প্রবাসী শফিকুল ইসলামের স্ত্রী, তার বাড়ি নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামে। নবজাতক ছেলে শিশুটি বর্তমানে স্বজনদের কাছে সুস্থ রয়েছে।
রাকিবার স্বজন, স্থানীয় ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে প্রসব ব্যথা উঠলে রাকিবাকে নবীনগর উপজেলা সদরের আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দায়িত্বরত একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং একটি পুত্র সন্তান প্রসব করে। অপারেশনের কিছুক্ষণ পর (রাত -২. ৩০ মিনিটে) প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এরপর তার মৃত্যু হয়। প্রসূতির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই ক্লিনিকে ভাঙচুর চালান স্বজনরা এবং চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যান। পরে রোববার সকালে হাসপাতালে ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধরা।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অদক্ষ ডাক্তার দিয়ে সিজার করতে গিয়ে রাকিবার মৃত্যু হয়।
রাকিবার মা রেহেনা আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়েকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় সন্দেহ হলে কাছে গিয়ে দেখি, তার কোনো শ্বাস-প্রশ্বাস নেই। তখনই বুঝতে পারি, অপারেশনের পরই তার মৃত্যু হয়েছে। আমার মেয়ের সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। গর্ভবতীর মায়ের যে ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা ও চেকআপ করা প্রয়োজন সবগুলো করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অদক্ষ ডাক্তার দ্বারা অপারেশন করিয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদে মোবাইলে একাধিক কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠালেও কোনো জবাব দেননি।
তবে প্রতিষ্ঠানের শাহাদাত হোসেন নামে একজন কর্মচারী বলেন, এই ঘটনার পর রাতেও স্বজনরা হাসপাতালে হামলা চালায়। সকালে একজনের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা চলছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ মৃতের স্বজনরা হাসপাতালের ইসিজি রুম ও চিকিৎসকদের কক্ষসহ ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
নবীনগর থানার ওসি রাজিব কান্তি নাথ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ অদক্ষ ডাক্তার ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এই মৃত্যু ঘটে। হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। কর্তব্যরত কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর তারা সবাই পলাতক রয়েছে।
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 









