আব্দুল্লাহ আল শাফী-
জামায়াতে ইসলামীকে আমি কোন রাজনৈতিক দল মনে করিনা। এই দেশে তাদের অবদান কি এবং কি করতে চাচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।
ঢাকা ১০ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণাকালে গণসংযোগ অনুষ্ঠানে বিএনপি’র প্রার্থী শেখ রবিউল আলম এ মন্তব্য করেন।
জামায়াত ইসলামী দলের আমীর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, আমি জামাতের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না। তবে তাদেরকে আমি কোন রাজনৈতিক দলই মনে করি না। মানুষের অতীত, বর্তমান, ও ভবিষ্যৎ মুখ থেকেই বেরিয়ে আসে। যে দল মনের সুপ্ত বাসনা পূরণের জন্য রাজনীতি করে, যারা বিদ্বেষ সৃষ্টির জন্য রাজনীতি করে, যারা এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় যাদের অঙ্গীকার নেই, যে দলের মূলনীতি ও ঘোষণাপত্রে কখনো শরিয়া আইনের কথা বলে, আবার কখনো বলে আমরা শরিয়া আইন করবো না, এটা তাদের দ্বিচারিতা বললে ভুল হবে এটা আসলে তাদের বিভিন্নচারিতা। তাদের এই রাজনীতিকে প্রতারণার রাজনীতি বললেও ভুল হবে না। আমি জামাতকে কোন রাজনৈতিক দলই মনে করি না। আমার কাছে মনে হয় কিছু উল্লেখ সংখ্যক মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ব্যক্তিস্বার্থ, গুষ্টিগত স্বার্থ এবং ব্যক্তি ক্ষমতায়নের জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাজনীতি করা তাদের মূল্য। তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তার সবকিছুই জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ভুল করলে জনগণ তার বিচার করবে, ভালো করলেও জনগণ তার পুরস্কার দেবে।
জামায়াত ইসলামী নামক দলটি এ দেশের জন্য কি করেছে অথবা অতীতে কি করেছে তা অস্পষ্ট। ৪৭ থেকে বর্তমান পর্যন্ত তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য বারবার ক্ষমা চেয়েছে। যে দল তার কর্মের জন্য বারবার ক্ষমা চাইতে হয়, সেই দল কি রাজনীতি করার অধিকার রাখে ? কোন মুখে উনারা রাজনীতি করবেন আর কোন মুখে মানুষের সমর্থন চাইবেন। সমস্ত কর্মের জন্য যদি ক্ষমা চাইতে হয়, তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি উনারা যা কিছু করেছেন সবই ভুল। যে দল সর্বদাই ভুল করে থাকে তারা দেশের জনগণের জন্য কতটুকু উপকার করতে পারবে তা আমার মাথায় আসেনা। যাদের কর্মের জন্য ক্ষমা চাইতে হয় সেখানে জনগণের আস্থা অর্জন করবেন কিভাবে আর জনগণের ভোট পাবেন সেই সুযোগ কোথায় ? এদেশের জনগণও জামাতে ইসলামকে কোন রাজনৈতিক দল মনে করে না, তারা গোষ্ঠীগত স্বার্থ উদ্ধারে কিছু সংখ্যক মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে, শ্রেণী ভুক্ত হয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায়নের একটি অংশ হতে চাই। যেখান থেকে তারা সুযোগ সুবিধা ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের ভাগ নেওয়া ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে চাই এবং তারা অতীতেও এই করে এসেছে।
ঢাকা ১০ আসনে নাগরিকের সুযোগ-সুবিধার প্রশ্নে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম বলেন, আমার মনে হয় নাগরিক সেবা খাত গুলি ঠিকমতো ফাংশন করছে না। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, তিতাস, আমি এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে বলবো আরো বেশি তৎপর হওয়ার জন্য এবং নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য। আমি নির্বাচিত হলে এই বিষয়ে যথেষ্ট যত্নবান ও সতর্ক ও তৎপর থাকবো। জনগণ ভালো থাকলে আমি ভালো থাকবো, জনগণ খারাপ থাকলে আমি খারাপ থাকবো। রাজনীতি যেহেতু জনগণের জন্যই করি সেক্ষেত্রে জনগণের সুযোগ সুবিধা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এসময় তিনি স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সেখানে আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়াটা বেশ কঠিন। দেশে যুব সমাজের বেকারত্বের কথা বিবেচনা করে আমার দল বিএনপি বলেছে, আমরা নির্বাচিত হতে পারলে দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে। আমি মনে করি দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খ্যাতে যে বরাদ্দ রয়েছে, তার উপর ৫% জিডিপি বরাদ্দ বাড়িয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কিলবেজ শিক্ষা ব্যবস্থা করতে পারি এবং নতুন প্রজন্মকে স্কিলবেজ করে গড়ে তুলতে পারলে সেখান থেকেই নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।
প্রান্তিক ভোটারদের উদ্দেশ্যে জাতীয়তাবাদী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বলেন, নাগরিকের জন্য দেশে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এই খ্যাতে এর আগের সরকার খরচ করছে ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা কিন্তু তারা তা দলীয় বিবেচনায় ব্যবহার করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষার যে বাজেট রয়েছে, সেই বাজেট আমরা দলীয় বিবেচনায় না নিয়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে হত দরিদ্রদের মাঝে ন্যায্যতার ভিত্তিতে বন্টন করব। বাংলাদেশে এখনো অনেক পরিবার আছে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে অনেক কষ্ট হয় আমরা তাদেরকে এই বাজেট থেকে সুরক্ষা দেয়ার চেষ্টা করব।
দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ রবিউল আলম বলেন, যার যার অবস্থান থেকে আপনারা সতর্ক থাকবেন, কোন গোষ্ঠী যেন ভোট নিয়ে অপু তৎপরতা না করতে পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন এবং ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে আসবেন।
বিএনপির চেয়ারপার্সনের কাছে আপনি ঢাকা-১০ নিয়ে স্পেশাল ভাবে কিছু চেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, এখনো চাওয়ার মত সুযোগ হয়নি, তিনি শুধু বলছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি’র পক্ষে ভোট চেয়ে ঢাকা ১০ আসনে ” ধানের শীষের “বিজয় দেখতে চাই।
তবে আমি বিশ্বাস করি ঢাকা ১০ আসনের জনগণ বিএনপিকে এখানে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। এই বিজয় হবে ঢাকা ১০-বাসীর। আমি বিজয়ী হলে এই এলাকা জনগণের চাওয়া পাওয়ার প্রতিফলন ঘটবে ইনশাল্লাহ।
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 


























