জয়পুরহাট প্রতিনিধি |
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নে মাদক উদ্ধারসংক্রান্ত ঘটনায় জব্দকৃত গাঁজা গায়েব হওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আপডেট রাজ্জাক-কে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে আটকে রেখে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সচেতন মহল।
গতকাল সোমবার দুপুরে জনতার হাতে আটক দুই মাদক কারবারিকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে সোপর্দ করার পর জব্দকৃত গাঁজার একটি অংশ রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যায়। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রতিবাদ জানাতে গেলে বড়তারা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ একটি মহল সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাককে আটকে রেখে হেনস্তা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গাঁজা গায়েবের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বড়তারা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী সাদ্দাম হোসেন, তার অনুসারী মুকুল ও শাহিন। অভিযোগ রয়েছে, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মুকুল ১৭ হাজার টাকা এবং শাহিন ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, মাদক কারবারিসহ বস্তাভর্তি গাঁজা ইউপি কার্যালয়ে আনার পর সাদ্দাম হোসেন, মুকুল ও শাহিন গাঁজার বস্তা খুলে গাঁজার টোপলা আলাদা করে সরিয়ে রাখেন। স্থানীয়দের চাপের মুখে তারা কয়েকটি টোপলা বের করে দিলেও পুরো গাঁজা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ, স্থানীয় সাংবাদিক ও জনতার সামনে মাদক কারবারিরা স্বীকার করেন যে বস্তায় ৩৪ কেজি গাঁজা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ওজন করে পাওয়া যায় মাত্র ২৭ কেজি। অবশিষ্ট গাঁজা ও মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ উদ্ধার করা যায়নি। ঘটনার পর থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী সাদ্দাম হোসেন এবং তার অনুসারী মুকুল ও শাহিনকে আর ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে মব জাস্টিস
একপর্যায়ে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক তার মোবাইল ফোন থেকে ফেসবুক পোস্ট মুছে ফেলা হয় এবং প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের প্রশংসামূলক পোস্ট দিতে বাধ্য করা হয়।
এছাড়া পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয় যে সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতেই এই মব সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম অতীতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হিসেবে দায়িত্ব পান। টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারতের ছবিও রয়েছে তার। আবার কোনো একসময় তিনি ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্য ছিলেন বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সচেতন মহলের দাবি, সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সত্য উদঘাটনের জন্য। গাঁজা গায়েবের ঘটনায় প্রতিবাদ করাই তার ‘অপরাধ’ হিসেবে দাঁড় করানো হয়। এ ঘটনার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অনিয়ম আড়াল করার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: জাকির হোসেন মোল্লা, নির্বাহী সম্পাদক : এনামুল হক মামুন, ৫২/৪ ছায়ানীড়, নিউ ইস্কাটন রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা। ফোন : ০২-৪৮৩১০৭৮১, মোবাইল : ০১৬১১৬২০০০০, ই-মেইল : khaborbangladesh@gmail.com
© All rights reserved 2018-2026 khoborbangladesh.com