
মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার কুমরুল এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গ্রাম্য সালিশ শেষ হতে না হতেই একটি বাড়িঘরে ভাংচুর-লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ আপন ভাই নজরুল ইসলাম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, কুমরুল এলাকায় শহিদুল ইসলাম ও তার আপন ভাই নজরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমাজমি নিয়ে বিরোধ চলছিল । বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বেশ কয়েকদফা সালিশ বৈঠকে কোন আপস বা ফায়সালা না হওয়ায় পূনরায় বুধবার গ্রাম্য মেম্বার ও মাতবরদের উপস্থিতিতেই এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশে সমাধান না হওয়ায় মাতবররা সামনে শুক্রবার সালিশের পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করে দিয়ে চলে যায়। এর পর ভাংচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন শহিদুল ইসলাম।
শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার পিতার সম্পত্তির ভাগ পাবে আমার আরেক ভাই নজরুল ইসলাম । আমরা ৪ ভাই এখানে বসবাস করলে ও ওই ভাই অন্যত্র বসবাস করিয়া আসছে। তার দাবিকৃত জমি আমরা দিতে চাই তবে বাড়ির ভিটার কোন স্থান থেকে দিব বা সে নিবে এটা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। কয়েকদফা সালিশে আপোষ না হওয়ার কারনেই আপোষের জন্য পূনরায় ১৩ই মে বুধবার বিকালে গ্রাম্য মাতবর ও সাধারন লোকজনদের নিয়ে একটি সালিশ বৈঠকে বসা হয়। সেখানে সমাধান না হওয়ায় সালিশের লোকজন আগামী শুক্রবার ফের বসার তারিখ নির্ধারন করে সকলেই স্থান ত্যাগ করেন। কিছু সময় পর আমার ভাই অন্য এলাকার লোকজনদের সাথে নিয়ে এসে আমার পরিবারের উপর হামলা ও ঘরে ভাংচুর চালায়। এসময় আমার ছোট সন্তান আহত হয় এবং আমার গলায় ছোরা ধরে আমার কাছ থেকে আলমারির চাবি নিয়ে আলমারিতে থাকা দেড় লক্ষ টাকা ও দেড় ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় । আমরা পুলিশের সহায়ক নম্বর ৯৯৯ এ কল দিয়ে অবহিত করলেও পুলিশ ঘটনাস্থানে আসেনী এবং আমার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের কোন খোজ খবরই নেয়নি। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি । এমন ন্যাক্করজনক ঘটনার সঠিক তদন্ত , সুষ্ঠ বিচার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তার জোর দাবী জানাচ্ছি পুলিশ প্রশাসনের নিকট ।
ঘটনার সময় উপস্থি মো: শাহাজান মিয়া বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা নিজের ভাইকে শায়েস্তা করতে লোক ভাড়া করে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে নজরুল। ঘটনার সময় যেভাবে ইট মারা হচ্ছিল ছোট ছেলেটি আহত হলেও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছে।
গ্রাম্য সালিশে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বর) আনিস ও আলম মাস্টার বলেন, ওই পরিবারের লোকজন কেহই সালিশ মানেনা । আমরা কয়েকবার চেষ্টা করেছি বিষয়টি নিষ্পত্তি করার কিন্ত আমরা বারবারই ব্যার্থ হয়েছি।
অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম বলেন, বাড়ির জমির ঝামেলা নিরসনের জন্য ইউএনও মহোদয় মাপামাপি করে সমাধানের জন্য একটি টিম গঠন করে দেন । সেই মোতাবেক মাপামাপি চলছিল দুপুর বেলা খাবারজন্য সাময়িক মাতবররা মাপার কাজ স্থগিত করে চলে গেছিল এসময় আমার ৪ ভাই আমি বাড়ি ফেরার সময় আমার দুই সহযোগীকে ধাওয়া দিয়ে মারধর করে এবং আমার বাড়িতে হামলা করে। আমি বা আমার কোন লোকজনই কারো বাড়িঘরে হামলা করিনাই এবং কোন লুটপাটই করিনাই ।
হামলা ভাংচুরের বিষয়ে উভয়পক্ষই পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য প্রদান করেন।
মহম্মদপুর থানার ওসি মো: আশরাফুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেহ কোন প্রকার অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: জাকির হোসেন মোল্লা, নির্বাহী সম্পাদক : এনামুল হক মামুন, ৫২/৪ ছায়ানীড়, নিউ ইস্কাটন রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা। ফোন : ০২-৪৮৩১০৭৮১, মোবাইল : ০১৬১১৬২০০০০, ই-মেইল : khaborbangladesh@gmail.com
© All rights reserved 2018-2026 khoborbangladesh.com