
ঢাকার রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়া মৌজায় অবস্থিত আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফ স্টেটের ভূমিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশ কার্যকর থাকা সত্ত্বেও সেখানে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ড্যাফোডিল মান্নানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও ওয়াকফ স্টেটের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, আদালতের আদেশ অনুযায়ী উক্ত ভূমিতে কোনো ধরনের নির্মাণ বা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি নেই। এরপরও ড্যাফোডিল মান্নান প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি আদালতের আদেশের তোয়াক্কা না করে ওয়াকফ স্টেটের সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দপত্র বা আবেদনকে ভিত্তি করে কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে উক্ত ভূমি দখলের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় কিছু কথিত সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন তারা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নির্মাণকাজ পরিচালনার সময় সেখানে কিছু লোককে পাহারায় রাখা হয় এবং শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা হয় না। গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঘটনাস্থলে গিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা।
আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেছা ওয়াকফ স্টেটের সদস্যরা বলেন, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্য করে যদি প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চলতে থাকে, তবে তা আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। তারা ড্যাফোডিল মান্নানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে, ৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক সুমন তানভীরের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে এলাকাবাসী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, আদালতের নথি ও প্রকৃত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে তারা সাংবাদিকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান এবং প্রয়োজনে মানহানির মামলা দায়েরের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিক সুমন তানভীর বা ৭১ টেলিভিশনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এলাকাবাসী আরও বলেন, বিচারাধীন ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ, নথিপত্র এবং প্রকৃত তথ্য যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ যেন কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। বিচারাধীন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: জাকির হোসেন মোল্লা, নির্বাহী সম্পাদক : এনামুল হক মামুন, ৫২/৪ ছায়ানীড়, নিউ ইস্কাটন রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা। ফোন : ০২-৪৮৩১০৭৮১, মোবাইল : ০১৬১১৬২০০০০, ই-মেইল : khaborbangladesh@gmail.com
© All rights reserved 2018-2026 khoborbangladesh.com