এইচ এম আব্দুল কুদ্দুস খোকন, ঝালকাঠি |
দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ২২ হাজার মিটার অবৈধ মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বাসন্ডা নদীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেগুফতা মেহনাজ এবং সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইয়্যেদা। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নৌ পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অভিযানে নদী থেকে প্রায় ৪ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের ১০টি নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ জাল এবং ১৮ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের ২টি ‘বাঁধা জাল’ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পরে জব্দ করা জালগুলো ঝালকাঠি শহরের গুরুধাম এলাকায় নিয়ে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়, যাতে এগুলো পুনরায় ব্যবহার করা না যায়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ বলেন, “দেশীয় মাছের প্রজনন, জলজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ক্ষতিকর অবৈধ জালের ব্যবহার কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের ‘মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ’ কর্মসূচির আওতায় জেলার নদ-নদী ও জলাশয়ে অবৈধ জাল, নিষিদ্ধ মাছ শিকার এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: এনামুল হক জানান, নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারী’ ও ‘বাঁধা জাল’ ব্যবহারের ফলে মাছের ডিম, পোনা ও ছোট মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জলজ পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। এ কারণে এসব জালের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: জাকির হোসেন মোল্লা, নির্বাহী সম্পাদক : এনামুল হক মামুন, ৫২/৪ ছায়ানীড়, নিউ ইস্কাটন রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা। ফোন : ০২-৪৮৩১০৭৮১, মোবাইল : ০১৬১১৬২০০০০, ই-মেইল : khaborbangladesh@gmail.com
© All rights reserved 2018-2026 khoborbangladesh.com