এইচ এম আব্দুল কুদ্দুস খোকন, ঝালকাঠি |
ঝালকাঠি শহরের টিএনটি রোড এলাকায় চুরির উদ্দেশ্যে বাসায় ঢুকে গৃহবধূ মলিনা রায় (৫০)কে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই আসামিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী (মাস্টারমাইন্ড) হিসেবে অভিযুক্ত জুয়েল ওরফে নয়ন ডাকুয়া (২৫)কে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮ ও র্যাব-১০। এর আগে প্রধান আসামি রিতোষ রায়কে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে তার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সূত্র ধরেই নয়ন ডাকুয়ার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান। র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে র্যাব-৮ বরিশালের একটি গোয়েন্দা দল এবং র্যাব-১০-এর একটি গোয়েন্দা দল যৌথ অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলী-শ্যামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসার তৃতীয় তলা থেকে নয়ন ডাকুয়াকে আটক করে। তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৪ নম্বর শেখেরহাট ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের নান্নু ডাকুয়ার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি রিতোষ রায় ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের গরংগল গ্রামের হিরণ রায়ের ছেলে। তিনি স্ত্রী পল্লবী রায় ও এক সন্তানকে নিয়ে ঘটনাস্থল ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। অপর আসামি জুয়েল ওরফে নয়ন ডাকুয়া সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
তদন্তে উঠে এসেছে, গত ১৭ জুলাই রথযাত্রা উপলক্ষে ভবনের অধিকাংশ বাসিন্দা কীর্তিপাশা ও ভিমরুলী এলাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাইরে গেলে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রিতোষ তার সহযোগী নয়ন ডাকুয়াকে নিয়ে ভবনের দ্বিতীয় তলায় মালিক তপন রায়ের বাসায় চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। দরজা ভাঙার শব্দে গৃহবধূ মলিনা রায় জেগে ওঠেন এবং একই ভবনের ভাড়াটিয়া রিতোষকে চিনে ফেলেন। ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুই আসামি তার মুখ চেপে ধরে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে মুখে একটি বাজারের ব্যাগ গুঁজে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটিকে সাধারণ চুরির ঘটনা হিসেবে দেখানোর জন্য প্রধান আসামি রিতোষ নিজের ভাড়া বাসাটিও এলোমেলো করে রাখেন, যাতে সেটিও চুরির শিকার হয়েছে বলে ধারণা সৃষ্টি হয়। এরপর দুই আসামি বাড়ির পেছনের দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনা করে প্রধান আসামি রিতোষ রায়কে শনাক্ত ও গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের সহায়তা চাওয়া হলে র্যাব-৮ ও র্যাব-১০ যৌথ অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে দ্বিতীয় আসামি জুয়েল ওরফে নয়ন ডাকুয়াকে গ্রেফতার করে।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, “গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মামলার দুই আসামিকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।”
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই রাতে ঝালকাঠি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টিএনটি রোড এলাকার একটি তিনতলা ভবনে চুরি ও হত্যার এ ঘটনা ঘটে। রাতে বাসিন্দারা বাড়িতে ফিরে নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত একাধিক ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে নিহতের মেয়ে পূজা রায় বাসার ভেতরে ঢুকে মাকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে বস্তা পরানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মলিনা রায় ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া ও রতন রায়ের স্ত্রী। রতন রায় কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনার সময় মলিনা রায় বাসায় একাই ছিলেন। মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: জাকির হোসেন মোল্লা, নির্বাহী সম্পাদক : এনামুল হক মামুন, ৫২/৪ ছায়ানীড়, নিউ ইস্কাটন রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা। ফোন : ০২-৪৮৩১০৭৮১, মোবাইল : ০১৬১১৬২০০০০, ই-মেইল : khaborbangladesh@gmail.com
© All rights reserved 2018-2026 khoborbangladesh.com