মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি |
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দেদারসে চলছে ড্রেজিং। কৃষি ও ফসলি জমি থেকে মাটি উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের লক্ষণ দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ- রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের সাথে সখ্যতা করে দীর্ঘদিন এসব ড্রেজিং কার্যক্রম চলে আসছে। আগেও পতিত আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের আধিপত্য ছিল ড্রেজার ব্যবসায়ীদের এখন বিভিন্ন পক্ষকে ম্যানেজ করে ড্রেজিং পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডে মাটি ভরাটের জন্য প্রায় ২০ লাখ ফুট মাটি প্রয়োজন। ঠিকাদার মোমেন মিয়া কাজটি পেয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, সোনাকান্দা গ্রামের ড্রেজিং ব্যবসায়ী কাইয়ূমের মাধ্যমে শ্রীকাইল ও পীর কাশিমপুর মৌজার বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি উত্তোলনের কাজটি করছেন।
ড্রেজিং ব্যবসায়ী কাইয়ূম জানান- জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের কাগজপত্র আছে। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই ড্রেজিং করে শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের মাটি ভরাটের কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মোমেন ঠিকাদার গ্যাস ফিল্ডে মাটি ভরাটের কাজ পায়। মাটি দেওয়ার চুক্তি হয় আমার সাথে।
কাইয়ূম মিয়া দাবি করেন - নিজস্ব জায়গায় ড্রেজিং করেই মাটি দিচ্ছেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাইয়ূম দীর্ঘ দিন ধরে শ্রীকাইল ও কাশিমপুর মৌজার কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজিং করে মাটি উত্তোলন করছেন। এতে কৃষি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে কৃষি জমি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের ভূমিকা নেই বলে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকরা।
এদিকে ইউনিয়নের রোয়াচালা চকের কৃষিজমি থেকেও মাটি কাটার অভিযোগ রয়েছে ওই এলাকায় মঙ্গল মিয়া, ফখরুল, মালু ও মোস্তফা মাস্টারসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে ।
একই ইউনিয়নের সাহেদাগোপ গ্রামে দীর্ঘদিন ড্রেজিং করার অভিযোগ উঠেছে ইসলাম মেম্বারের বিরুদ্ধে। মোহাম্মদপুর গ্রামের খলিল মেম্বারের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ
করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া উত্তর পেন্নাই ও চন্দনাইল, বড়ইয়াচড়াসহ এলাকার বিভিন্ন বিল থেকে মাটি উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, “আমাদের আশা ছিল রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ড্রেজিং বন্ধ হবে এবং কৃষিজমি রক্ষা পাবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। আগের মতোই বিভিন্ন এলাকায় মাটি কাটা চলছে।”
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে সঙ্গে রেখে ড্রেজার ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন- “এই জমিই আমাদের একমাত্র সম্বল। জমির ফসল পরিবারের জীবিকার মাধ্যম। এভাবে মাটি কেটে নিলে একসময় জমিগুলো আর চাষের উপযোগী থাকবে না। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খাঁন পাপ্পু বলেন, ড্রেজিংয়ের কারণে প্রতিবছরই কমছে কৃষি জমি! “ড্রেজিংয়ের কারণে কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীকাইল ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ পাটোয়ারী বলেন- ড্রেজিংয়ের তথ্য আসলেই এসিল্যান্ড স্যারকে অবগত করছি৷ কোথাও ড্রেজিং হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।
মুরাদনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাকিব হাসান খান বলেন- " অবৈধ উপায়ে মাটি কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে ৫টি ড্রেজার ও ৩ হাজার ৫০ ফুট পাইপ অপসারণসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: জাকির হোসেন মোল্লা, নির্বাহী সম্পাদক : এনামুল হক মামুন, ৫২/৪ ছায়ানীড়, নিউ ইস্কাটন রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা। ফোন : ০২-৪৮৩১০৭৮১, মোবাইল : ০১৬১১৬২০০০০, ই-মেইল : khaborbangladesh@gmail.com
© All rights reserved 2018-2026 khoborbangladesh.com