গাজীপুর প্রতিনিধি |
গাজীপুরের মৌচাক এলাকার ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক খরচের জন্য বহন করা নগদ ১ কোটি টাকা লুটের চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল অভিযুক্তসহ তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২। এ সময় লুট হওয়া মোট ১ কোটি টাকার মধ্যে ৯৭ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া লুটের টাকায় কেনা নতুন আসবাবপত্র ও একটি দামি মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন কারখানার চীনা নাগরিক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শ্রমিকদের বেতন ও কারখানার বিভিন্ন খরচের উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত নগদ ১ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তার নিজস্ব গাড়িচালক জাহিদ হাসান। রাজেন্দ্রপুর কারখানা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল ক্যাডেট ক্লাবের সামনে গাড়ি থামিয়ে যাত্রাবিরতিকালে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
চাঞ্চল্যকর এই কাণ্ড ঘটিয়ে অভিযুক্ত চালক জাহিদ তার মালিককে মোবাইলে একটি অনুশোচনামূলক খুদে বার্তা (SMS) পাঠিয়ে দ্রুত আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনাটি দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে কারখানাটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর আওতাধীন থাকায় তারা ঘটনাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে নিজস্ব ছায়াতদন্ত শুরু করে।
ঘটনার পর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর একটি চৌকস দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানে নামে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের নিবিড় নেতৃত্বে এবং ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের ডিবি দলের সহযোগিতায় ঢাকা, গাজীপুর ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন সম্ভাব্য আস্তানায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
এই ধারাবাহিক অভিযানে চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল অভিযুক্ত চালক জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ঝিনাইদহের নিজ বাসা থেকে নগদ ৮৬ লাখ টাকা, তার মামা আক্তারুজ্জামানের কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী নাসিমা আক্তারের টঙ্গীর বাসা থেকে আরও ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে লুটের মোট ১ কোটি টাকার মধ্যে ৯৭ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ পুলিশকে জানায় যে, সে চুরির টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে নতুন বাসা ভাড়া নিয়েছে, বাসার জন্য বেশ কিছু নতুন আসবাবপত্র কিনেছে এবং একটি নতুন মোবাইল ফোন ক্রয় করেছে। পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চোরাই টাকায় কেনা সেই আসবাবপত্র ও নতুন মোবাইল ফোনটিও জব্দ করে। এই ঘটনার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং সিংহভাগ অর্থ উদ্ধারে অনন্য সফলতা অর্জন করায় প্রশংসিত হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ঘটনায় অন্য কারও কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারের পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: জাকির হোসেন মোল্লা, নির্বাহী সম্পাদক : এনামুল হক মামুন, ৫২/৪ ছায়ানীড়, নিউ ইস্কাটন রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা। ফোন : ০২-৪৮৩১০৭৮১, মোবাইল : ০১৬১১৬২০০০০, ই-মেইল : khaborbangladesh@gmail.com
© All rights reserved 2018-2026 khoborbangladesh.com