মো রাসেল মিয়া, গাজীপুর |
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ এবং এরপর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে সিফাত আব্দুল্লাহ। আলোচনার কেন্দ্রে থাকা সেই বিদ্যুৎ বিলের হিসাব নিয়ে এবার সামনে এসেছে ভিন্ন তথ্য। সিফাত আব্দুল্লাহ তার ভিডিও বার্তায় দাবি করেছিলেন, দুই মাসে তার বিদ্যুৎ বিল প্রায় ১০ হাজার টাকা এসেছে। তবে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর তদন্ত প্রতিবেদন ও তার বাসার গ্রাহক কপি বলছে নতুন কথা। তার গ্রাহক কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুই মাসে বিলের পরিমাণ ১০ হাজার ৬৮১ টাকা। তবে এটি কোনো একটি মিটারের বিল নয়। তার পরিবারের ব্যবহৃত তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটারের জুলাই ও আগস্ট মাসের সম্মিলিত বিল এটি।
অর্থাৎ, সিফাতের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে বিলের অঙ্কে বড় ধরনের অমিল পাওয়া যায়নি। বরং তিনটি মিটার মিলিয়ে দুই মাসে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬৮১ টাকা।
সিফাত আব্দুল্লাহদের বাড়িতে থাকা মিটার তিনটির নম্বর হলো— S0004337, S0002185 এবং S000424*7।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আহসান কবীরের স্বাক্ষর করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিফাত আব্দুল্লাহর পিতার নাম মো. সেকান্দার আলী। গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের দোতলা বাড়িতে তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, S000433*7 নম্বর মিটারে মে মাসে ৪৫ ইউনিট ব্যবহারে বিল ছিল ৩১৭ টাকা। জুনে ৫০ ইউনিটে ৩৪২ টাকা, জুলাইয়ে ১৫০ ইউনিটে ১ হাজার ১৮২ টাকা এবং আগস্টে ৭৫ ইউনিটে ৫১৩ টাকা বিল আসে। চার মাসে এ মিটারে মোট ৩২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল হয়েছে ২ হাজার ৩৫৪ টাকা।
দ্বিতীয় মিটার S000218*5-এ মে মাসে ২৫০ ইউনিটের বিল ছিল ১ হাজার ৮১২ টাকা। জুনে ২০০ ইউনিটে ১ হাজার ৫৮৪ টাকা, জুলাইয়ে ৪০০ ইউনিটে ৩ হাজার ৫৯৪ টাকা এবং আগস্টে ২৮৫ ইউনিটে ২ হাজার ৩৯৭ টাকা বিল এসেছে। চার মাসে এই মিটারে মোট ১ হাজার ১৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়েছে এবং বিল হয়েছে ৯ হাজার ৩৮৭ টাকা।
তৃতীয় মিটার S000424*7-এর হিসাবে মে মাসে ১২৫ ইউনিটের বিল ছিল ৮৪৭ টাকা, জুনে ১২০ ইউনিটে ৬৯০ টাকা, জুলাইয়ে ২০৫ ইউনিটে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং আগস্টে ১৭৫ ইউনিটে ১ হাজার ৩৬২ টাকা। চার মাসে এই মিটারে মোট ৬২৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে বিল এসেছে ৪ হাজার ৫৩২ টাকা।
তবে চার মাসের হিসাব একসঙ্গে উপস্থাপনের কারণে বিল নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কারণ, সিফাত তাঁর বক্তব্যে যে দুই মাসের কথা বলেছেন, সেই জুলাই ও আগস্টের গ্রাহক কপি এবং পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে পাওয়া হিসাব পাশাপাশি পর্যালোচনা করলে অঙ্কে মিল পাওয়া যায়।
তিনটি মিটারের জুলাই-আগস্টের বিল যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬৮১ টাকা।
এ বিষয়ে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ড বাজার জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আহসান কবীর বলেন, তারা সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তার দাবি, সিফাতের বাসায় বিল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম কিংবা অতিরিক্ত বিল করার ঘটনা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান বলেন, সিফাতের কাছে থাকা গ্রাহক কপি এবং পল্লী বিদ্যুতের হিসাব সঠিক রয়েছে। তার অভিযোগ, জুলাই ও আগস্টের পরিবর্তে চার মাসের হিসাব প্রকাশ করায় বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে আবারও সিফাতের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, অসহনীয় লোডশেডিং ও কথিত ‘ভৌতিক’ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সরকারপ্রধানকে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন সিফাত আব্দুল্লাহ। তার বিদ্যুৎ বিলকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে উঠে এসেছে—দুই মাসের ১০ হাজার ৬৮১ টাকার বিলটি আসলে তিনটি আবাসিক মিটারের সম্মিলিত হিসাব।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: জাকির হোসেন মোল্লা, নির্বাহী সম্পাদক : এনামুল হক মামুন, ৫২/৪ ছায়ানীড়, নিউ ইস্কাটন রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা। ফোন : ০২-৪৮৩১০৭৮১, মোবাইল : ০১৬১১৬২০০০০, ই-মেইল : khaborbangladesh@gmail.com
© All rights reserved 2018-2026 khoborbangladesh.com