আব্দুল্লাহ আল মোমিন |
ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ চৌরাস্তা এলাকায় ছাপরা মসজিদের পাশে জনবসতিপূর্ণ স্থানে একটি ফার্নিচার কারখানায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রশিদ নামে এক ব্যক্তি পরিচালিত ওই কারখানায় ফার্নিচার তৈরি ও পলিশের কাজে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটি মসজিদের সীমানা ঘেঁষে এবং আবাসিক এলাকার মধ্যে হওয়ায় রাসায়নিকের গন্ধ, ধোঁয়া ও বর্জ্য নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, ফার্নিচারে রং ও পলিশের কাজে থিনার, স্পিরিট, টারপিন, ইউরিয়া-ফরমালডিহাইডযুক্ত আঠা এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক রং ব্যবহার করা হয়। এসব পদার্থ যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া ব্যবহৃত হলে বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কারখানার আশপাশে দীর্ঘ সময় ধরে রাসায়নিকের গন্ধ ও ধোঁয়া অনুভূত হয়। এতে চোখ জ্বালাপোড়া, কাশি, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে এসব স্বাস্থ্যগত অভিযোগের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা প্রয়োজন।
মালিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও অভিযোগঃ
এদিকে কারখানার মালিক রশিদের ব্যক্তিগত আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে একটি বাসা থেকে সন্দেহজনক অবস্থায় বের হতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা ওই বাসায় থাকা এক নারীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান।
তবে ওই ঘটনার সত্যতা ও এর সঙ্গে কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কারখানা পরিচালনা ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মালিক রশিদের বক্তব্যও প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও মসজিদের পাশে কারখানাটি পরিচালনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না—তা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: জাকির হোসেন মোল্লা, নির্বাহী সম্পাদক : এনামুল হক মামুন, ৫২/৪ ছায়ানীড়, নিউ ইস্কাটন রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা। ফোন : ০২-৪৮৩১০৭৮১, মোবাইল : ০১৬১১৬২০০০০, ই-মেইল : khaborbangladesh@gmail.com
© All rights reserved 2018-2026 khoborbangladesh.com