ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিএনপির সাইনবোর্ডে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স দখলে নিয়েছে খিলগাঁও সাব-রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন তৃণমূলের ক্ষুদ্র উদ্যোগেই গড়ে উঠবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী গাজীপুরে ৯০ স্টল নিয়ে ৭দিনের বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলার উদ্বোধন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ঘটনা এক, ব্যাখ্যা ভিন্ন: শরীয়তপুরে জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের সংবাদ সম্মেলন পঞ্চগড়ে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহায়তা প্রদান বান্দরবানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শুরু সাংগ্রাই উৎসব কুমিল্লার মুরাদনগরে কৃষক মাওলা হত্যা: খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন প্রাণের উৎসব বৈসাবিকে ঘিরে বিশ্বশান্তি কামনায় আনন্দে ভাসছে পাহাড় সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে হামসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিএনপির সাইনবোর্ডে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স দখলে নিয়েছে খিলগাঁও সাব-রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে আসিফ নজরুলের শতকোটি টাকা দুর্নীতির মূল সহযোগী খিলগাঁও এর সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন । তিনি অত্যন্ত ধুরন্ধর এবং ধান্দাবাজ সুবিধাভোগি । আওয়ামী লীগ আমলে একচেটিয়া বদলি বাণিজ্য করে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আস্থাভাজন ছিলেন । পরবর্তীতে আসিফ নজরুলের গৃহপালিত ক্যাশিয়ার হিসেবে কয়েকশ কোটি টাকা বাণিজ্য করেছেন । অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুস লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে বদলির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে ছয়-সাত মাসের মধ্যে তিন-চার বার বদলি করা হয়েছে।

আট মাসে (অক্টোবর-২৪ থেকে এপ্রিল-২৫ পর্যন্ত) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে পছন্দের অফিসে বদলির আদেশ পেয়েছেন তারা। অতীতে কখনো মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির ঘটনা ঘটেনি।
ঢাকার গুলশানের গ্লোরিয়া জিন্স রেস্তোরাঁসহ বেশ কটি নামিদামি হোটেলে চলতো বদলি বাণিজ্যের দরকষাকষি । টাকার দফারফা করতেন সাব রেজিস্ট্রার মাইকেল নিজেই ।দিন শেষে টাকার বড় অংক চলে যেত আসিফ নজরুলের ঘরে । সারা দেশের সাব রেজিস্ট্রারদের গডফাদার হিসেবে নিজেকে জাহির করেন এই মাইকেল। এমনকি বদলির পরে জায়গা ধরে রাখতে নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয় মাইকেলকে। মাসিক ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকা না দিলে পদায়ন টিকবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় সাব রেজিস্টারদের ।
কয়েকজন সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ নিয়ে যখন দেশ তোলপাড় তখন নেপথ্য নায়ক হিসেবে মাইকেল মহিউদ্দিনের চক্রের নাম এসেছে ।
বিগত ৪০ বছরেও মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লার মতো এমন দুর্নীতিবাজ সাব -রেজিষ্টার দেখেননি ভুক্তভোগিরা। এখন তিনি বিএনপির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রকাশ্যে তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করছেন ।তিনি যেনো সরকারি কর্মকর্তা নন তিনি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় । তিনি বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একের পর এক গণবিরোধী কর্মকান্ডে যুক্ত হচ্ছেন । তাই অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা ।
সবাই জানেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আশীর্বাদপুষ্ট সাব- রেজিস্ট্রার মাইকেলের নেতৃত্বে একটি চক্র গড়ে উঠেছে। যাদের কাজ হলো- সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে হয়রানি ও নানা কৌশলে ঘুষ আদায় করা। এই মাইকেল সাবেক ছাত্রদল নেতার পরিচয় দিয়ে প্রতিদিন ১০/১২ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করছেন বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।
বিগত সরকারের সময় লোভনীয় পদায়নে নিয়েছেন মাইকেল, ঢাকার সাভার, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, টঙ্গি, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের সব জায়গায়। সাব রেজিস্ট্রারদের ভাষায়, সেই পদায়ন নিতে অন্তত চার পাঁচ কোটি টাকা খরচ করতে হয়, যা অনায়াসেই লুফে নিয়েছেন মাইকেল। এসব জায়গায় দায়িত্ব পালনের সময় নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে নিয়মিত পত্রিকার শিরোনাম হলেও তাকে নড়াচরা করার সাহস হতো না কারও ।সরকার পতনের পর পর আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে শতকোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করেন আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে। মাইকেলের হাতে সিন্ডিকেটের ক্ষমতা ।
মাইকেল নিয়েছেন ঢাকার লোভনীয় খিলগাঁওয়ের সাব রেজিস্ট্রার । মাইকেল সাব রেজিস্ট্রার বদলির নতুন সিন্ডিকেটের বস বনে যাওয়া নতুন কমিটিতে যাদের রেখেছেন, তাদের কাছ থেকে কমপক্ষে ২ থেকে ৫ কোটি টাকা করে নিয়েছেন মাইকেল । সেই টাকার ভাগ চলে যায় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের হাতে। যার কারণে কমিটির সব সদস্যই তাদের পদায়নের পূর্ণ মেয়াদ তো দূরের কথা নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর থাকলে ১মাসের মাথায় নতুন পদায়ন নিতে দেখা যায়। এভাবেই চলতে থাকে আসিফ নজরুল ও মাইকেল চক্রের বদলি বাণিজ্য।
সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের বদৌলতে ও প্রভাব বিস্তার করে রেজিষ্ট্রেশন সার্ভিসেস এসোসিয়েশনের মহাসচিব হয়েছেন মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ ।অন‍্যদিকে লোভনীয় পোষ্টিং খিলগাঁও এর সাব রেজিষ্ট্রার হয়েছেন জিয়ার সৈনিক হিসেবে।
সবাই জানেন যে ফ‍্যাসিষ্ট আইন মন্ত্রীর ক‍্যাশিয়ার হিসেবে তিনি ব‍্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। যেসব জায়গায় তিনি বদলি হয়েছেন সেসব জায়গায় কখনোই তিনি ডিসি ইউএনওদের পাত্তা দিতেন না। বরং প্রচার করতেন তিনি আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের খাস লোক। রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সসহ সারাদেশে সাব-রেজিষ্ট্রার বদলি বাণিজ্য এবং মাসে মাসে মোটা অংকের চাঁদাবাজি করতেন আইন মন্ত্রীর নাম ভাংগিয়ে।
তিনি ফ‍্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে দুর্নীতি অনিয়ম লুটপাটের শিরোমনি ছিলেন ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে রেজিষ্ট্রী অফিস দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। এখনো তিনি সে কাজটিই করেছেন ।রাতারাতি বনে গেছেন বিএনপির কর্মী হিসেবে ।সরকারী চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে বিএনপি দলীয় নানা কর্মকান্ডে শরিক হচ্ছেন মাইকেল মহিউদ্দিন ।বিগত আওয়ামী শাসনামলে তার মাস্তানী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি ছিলো লাগামহীন। সেকথা কেউ ভোলেননি ।অথচ মাইকেল সাবেক আইন উপদেষ্টার আলোচিত বদলি কর্মকান্ডের অন্যতম হোতা । তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে । যারা মাইকেলের কারণে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে চাকরি ক্ষেত্রে নির্যাতন সহ্য করেছিলেন তারাও আজ অবহেলিত । মাইকেল মহিউদ্দিন ২৪ এর ৫ আগষ্ট বিপ্লবের পর হয়ে গেছেন পুরো তেজগাঁ রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সের গড ফাদার। সরকারী চাকরি করে তিনি ২০-৩০ জনের মাস্তান বাহিনী নিয়ে প্রকাশ‍্যে তেজগাঁও কমপ্লেক্স দাপিয়ে বেড়ান। মাস্তানবেষ্টিত এই সাব-রেজিষ্ট্রার মাইকেলকে দেখে সবাই পল্টিবাজ হিসেবে হাসাহাসি করে। তিনি পূর্বে ছিলেন দাপুটে আওয়ামী ফ‍্যাসিষ্ট। জুলাই আগষ্ট বিপ্লবের পর হলেন জিয়ার সৈনিক। বর্তমানে সাব- রেজিষ্ট্রার বদলি বাণিজ‍্য থেকে শুরু করে একজন দলীয় নেতার ভূমিকায় তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করছেন। অনেকেই মন্তব‍্য করেছেন পুরণো বোতলে নতুন মদ।এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। অথচ এইসব সুবিধাবাদিরা তো বিতাড়িত হননি বরং বহাল তবিয়তে রাজত্ব করছেন। অনেকেই বলেছেন অবিলম্বে ফ‍্যাসিষ্ট আওয়ামী দালাল সাব – রেজিষ্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক ।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির সাইনবোর্ডে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স দখলে নিয়েছে খিলগাঁও সাব-রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন

বিএনপির সাইনবোর্ডে রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স দখলে নিয়েছে খিলগাঁও সাব-রেজিষ্টার মাইকেল মহিউদ্দিন

আপডেট টাইম : ০১:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে আসিফ নজরুলের শতকোটি টাকা দুর্নীতির মূল সহযোগী খিলগাঁও এর সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন । তিনি অত্যন্ত ধুরন্ধর এবং ধান্দাবাজ সুবিধাভোগি । আওয়ামী লীগ আমলে একচেটিয়া বদলি বাণিজ্য করে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আস্থাভাজন ছিলেন । পরবর্তীতে আসিফ নজরুলের গৃহপালিত ক্যাশিয়ার হিসেবে কয়েকশ কোটি টাকা বাণিজ্য করেছেন । অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ে শুধু সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতেই ঘুস লেনদেন হয়েছে শতকোটি টাকা। তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের আমলে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা মানা হয়নি। ঘুষের বিনিময়ে বদলির ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত টাকা পরিশোধ না করায় বদলির আদেশ স্থগিত করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে ছয়-সাত মাসের মধ্যে তিন-চার বার বদলি করা হয়েছে।

আট মাসে (অক্টোবর-২৪ থেকে এপ্রিল-২৫ পর্যন্ত) নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে কমপক্ষে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি বাগিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে পছন্দের অফিসে বদলির আদেশ পেয়েছেন তারা। অতীতে কখনো মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির ঘটনা ঘটেনি।
ঢাকার গুলশানের গ্লোরিয়া জিন্স রেস্তোরাঁসহ বেশ কটি নামিদামি হোটেলে চলতো বদলি বাণিজ্যের দরকষাকষি । টাকার দফারফা করতেন সাব রেজিস্ট্রার মাইকেল নিজেই ।দিন শেষে টাকার বড় অংক চলে যেত আসিফ নজরুলের ঘরে । সারা দেশের সাব রেজিস্ট্রারদের গডফাদার হিসেবে নিজেকে জাহির করেন এই মাইকেল। এমনকি বদলির পরে জায়গা ধরে রাখতে নিয়মিত মাসোহারা দিতে হয় মাইকেলকে। মাসিক ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকা না দিলে পদায়ন টিকবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় সাব রেজিস্টারদের ।
কয়েকজন সাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ নিয়ে যখন দেশ তোলপাড় তখন নেপথ্য নায়ক হিসেবে মাইকেল মহিউদ্দিনের চক্রের নাম এসেছে ।
বিগত ৪০ বছরেও মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লার মতো এমন দুর্নীতিবাজ সাব -রেজিষ্টার দেখেননি ভুক্তভোগিরা। এখন তিনি বিএনপির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রকাশ্যে তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করছেন ।তিনি যেনো সরকারি কর্মকর্তা নন তিনি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় । তিনি বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একের পর এক গণবিরোধী কর্মকান্ডে যুক্ত হচ্ছেন । তাই অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ বরখাস্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা ।
সবাই জানেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আশীর্বাদপুষ্ট সাব- রেজিস্ট্রার মাইকেলের নেতৃত্বে একটি চক্র গড়ে উঠেছে। যাদের কাজ হলো- সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে হয়রানি ও নানা কৌশলে ঘুষ আদায় করা। এই মাইকেল সাবেক ছাত্রদল নেতার পরিচয় দিয়ে প্রতিদিন ১০/১২ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করছেন বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।
বিগত সরকারের সময় লোভনীয় পদায়নে নিয়েছেন মাইকেল, ঢাকার সাভার, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, টঙ্গি, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের সব জায়গায়। সাব রেজিস্ট্রারদের ভাষায়, সেই পদায়ন নিতে অন্তত চার পাঁচ কোটি টাকা খরচ করতে হয়, যা অনায়াসেই লুফে নিয়েছেন মাইকেল। এসব জায়গায় দায়িত্ব পালনের সময় নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে নিয়মিত পত্রিকার শিরোনাম হলেও তাকে নড়াচরা করার সাহস হতো না কারও ।সরকার পতনের পর পর আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে শতকোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করেন আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে। মাইকেলের হাতে সিন্ডিকেটের ক্ষমতা ।
মাইকেল নিয়েছেন ঢাকার লোভনীয় খিলগাঁওয়ের সাব রেজিস্ট্রার । মাইকেল সাব রেজিস্ট্রার বদলির নতুন সিন্ডিকেটের বস বনে যাওয়া নতুন কমিটিতে যাদের রেখেছেন, তাদের কাছ থেকে কমপক্ষে ২ থেকে ৫ কোটি টাকা করে নিয়েছেন মাইকেল । সেই টাকার ভাগ চলে যায় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের হাতে। যার কারণে কমিটির সব সদস্যই তাদের পদায়নের পূর্ণ মেয়াদ তো দূরের কথা নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর থাকলে ১মাসের মাথায় নতুন পদায়ন নিতে দেখা যায়। এভাবেই চলতে থাকে আসিফ নজরুল ও মাইকেল চক্রের বদলি বাণিজ্য।
সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের বদৌলতে ও প্রভাব বিস্তার করে রেজিষ্ট্রেশন সার্ভিসেস এসোসিয়েশনের মহাসচিব হয়েছেন মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ ।অন‍্যদিকে লোভনীয় পোষ্টিং খিলগাঁও এর সাব রেজিষ্ট্রার হয়েছেন জিয়ার সৈনিক হিসেবে।
সবাই জানেন যে ফ‍্যাসিষ্ট আইন মন্ত্রীর ক‍্যাশিয়ার হিসেবে তিনি ব‍্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। যেসব জায়গায় তিনি বদলি হয়েছেন সেসব জায়গায় কখনোই তিনি ডিসি ইউএনওদের পাত্তা দিতেন না। বরং প্রচার করতেন তিনি আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের খাস লোক। রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সসহ সারাদেশে সাব-রেজিষ্ট্রার বদলি বাণিজ্য এবং মাসে মাসে মোটা অংকের চাঁদাবাজি করতেন আইন মন্ত্রীর নাম ভাংগিয়ে।
তিনি ফ‍্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে দুর্নীতি অনিয়ম লুটপাটের শিরোমনি ছিলেন ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে রেজিষ্ট্রী অফিস দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। এখনো তিনি সে কাজটিই করেছেন ।রাতারাতি বনে গেছেন বিএনপির কর্মী হিসেবে ।সরকারী চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে বিএনপি দলীয় নানা কর্মকান্ডে শরিক হচ্ছেন মাইকেল মহিউদ্দিন ।বিগত আওয়ামী শাসনামলে তার মাস্তানী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি ছিলো লাগামহীন। সেকথা কেউ ভোলেননি ।অথচ মাইকেল সাবেক আইন উপদেষ্টার আলোচিত বদলি কর্মকান্ডের অন্যতম হোতা । তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে । যারা মাইকেলের কারণে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে চাকরি ক্ষেত্রে নির্যাতন সহ্য করেছিলেন তারাও আজ অবহেলিত । মাইকেল মহিউদ্দিন ২৪ এর ৫ আগষ্ট বিপ্লবের পর হয়ে গেছেন পুরো তেজগাঁ রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সের গড ফাদার। সরকারী চাকরি করে তিনি ২০-৩০ জনের মাস্তান বাহিনী নিয়ে প্রকাশ‍্যে তেজগাঁও কমপ্লেক্স দাপিয়ে বেড়ান। মাস্তানবেষ্টিত এই সাব-রেজিষ্ট্রার মাইকেলকে দেখে সবাই পল্টিবাজ হিসেবে হাসাহাসি করে। তিনি পূর্বে ছিলেন দাপুটে আওয়ামী ফ‍্যাসিষ্ট। জুলাই আগষ্ট বিপ্লবের পর হলেন জিয়ার সৈনিক। বর্তমানে সাব- রেজিষ্ট্রার বদলি বাণিজ‍্য থেকে শুরু করে একজন দলীয় নেতার ভূমিকায় তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করছেন। অনেকেই মন্তব‍্য করেছেন পুরণো বোতলে নতুন মদ।এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। অথচ এইসব সুবিধাবাদিরা তো বিতাড়িত হননি বরং বহাল তবিয়তে রাজত্ব করছেন। অনেকেই বলেছেন অবিলম্বে ফ‍্যাসিষ্ট আওয়ামী দালাল সাব – রেজিষ্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক ।