ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ৩ দিন যাতায়াত বন্ধ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশের প্রকৌশল বিভাগের উন্নয়ন সংক্রান্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যকর মাধ্যম- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ ইতালির সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক বনায়নের গাছ না কেটে বেড়িবাঁধ সংস্কারের অভিযোগ কুমিল্লা মুরাদনগরে বাবাকে মারধরের অপরাধে ছেলেকে কারাদণ্ড বিসিক এর জিএম/পিডি মোঃ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? চেয়ারম্যান,এমডি কারাগারে: মব গোষ্ঠির দখলে মোহনা টিভি! বান্দরবানে পার্বত্য জেলা পরিষদ টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন সুয়ালক সুপার স্টার যুব স্পোর্টিং ক্লাব গুজবে কান দেবেন না, সন্তানকে টিকা দিন- পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
নামজারি প্রতি নায়েব সুরাইয়াকে দিতে হয় পাঁচ হাজার টাকা!

থামছে না নগরঘাটা ভূমি অফিসের ঘুষ বাণিজ্য

ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব সুরাইয়া পারভীন। ঘুষ নেওয়া তার কাছে যেন বৈধতায় রূপ নিয়েছে। নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি করতে গেলেই নায়েব সুরাইয়া পারভীনকে দেওয়া লাগে পাঁচ হাজার টাকা। এছাড়া জমির খাজনা দিতে গেলে নামমাত্র টাকার রশিদ ধরিয়ে দিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে অবৈধ লেনদেন ছাড়া কেউ সুফল পায়নি বলে দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরঘাটা এলাকার জনৈক বাসিন্দা জানান, সম্প্রতি তিনি ৯ কাঠা জমির খাজনা দাখিলা কাটতে নায়েব সুরাইয়ার কাছে যান। জমিটি বিলান শ্রেণিভুক্ত হলেও দুই বছরের খাজনা বাবদ তার কাছে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন নায়েব সুরাইয়া। পরবর্তীতে কাউকে না জানানোর শর্তে ২ হাজার টাকা দিয়ে খাজনা দাখিলা কাটা হয়। কিন্ত সেই টাকার কোন রশিদ তাকে দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
না প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর ভুক্তভোগী জানান, ‘সম্প্রতি তিনি পাঁচ শতক জমি কিনেছেন। জমিটি নিজের নামে নামজারি করবেন বলে গিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। সেখানে গিয়ে অফিস সহকারীর সাথে প্রথমে কথা হয়। তিনি জানান নামজারি করতে হলে আগে নায়েব ম্যাডামের সাথে কথা বলেন। তিনিইতো নামজারি করে দেবেন। এরপর নায়েব ম্যাডামের সাথে কথা বললে তিনি জানান নামজারি করা যাবে। তবে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হবে’। ওই ভুক্তভোগী আরো জানান, “তারপর আমি খরচ কম নেওয়ার অনুরোধ করলে নায়েব আপা জানায়, ‘খরচ কম দিলে হয় না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে জমি কিনতে পারেন, মাত্র পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে নামজারি করতে কষ্ট হয়। এটাই আপনাদের সমস্যা। টাকা খরচ করা লাগবে না। ওই অবস্থায় থাকুক, খাস খতিয়ানে চলে গেলে তখন বুঝতে পারবেন’। এমন কথা শোনার পর তিনি সেই পাঁচ হাজার টাকাতেই নামজারি করতে রাজি হই। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ভুক্তভোগীকে পাঁচ হাজার টাকা লেনদেনের বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করা হয়। বলা হয় কাউকে জানালে নামজারি আটকে যাবে। পরে অনেক ঝামেলা হবে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে নগরঘাটা ভূমি অফিসের নায়েব সুরাইয়া পারভীন বলেন,আমি হাতে করে কোনো টাকা নেই না এবিষয়ে ছোট নায়েব এর সাথে কথা বলেন।

ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ৩ দিন যাতায়াত বন্ধ

নামজারি প্রতি নায়েব সুরাইয়াকে দিতে হয় পাঁচ হাজার টাকা!

থামছে না নগরঘাটা ভূমি অফিসের ঘুষ বাণিজ্য

আপডেট টাইম : ০৮:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব সুরাইয়া পারভীন। ঘুষ নেওয়া তার কাছে যেন বৈধতায় রূপ নিয়েছে। নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নামজারি করতে গেলেই নায়েব সুরাইয়া পারভীনকে দেওয়া লাগে পাঁচ হাজার টাকা। এছাড়া জমির খাজনা দিতে গেলে নামমাত্র টাকার রশিদ ধরিয়ে দিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে অবৈধ লেনদেন ছাড়া কেউ সুফল পায়নি বলে দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরঘাটা এলাকার জনৈক বাসিন্দা জানান, সম্প্রতি তিনি ৯ কাঠা জমির খাজনা দাখিলা কাটতে নায়েব সুরাইয়ার কাছে যান। জমিটি বিলান শ্রেণিভুক্ত হলেও দুই বছরের খাজনা বাবদ তার কাছে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন নায়েব সুরাইয়া। পরবর্তীতে কাউকে না জানানোর শর্তে ২ হাজার টাকা দিয়ে খাজনা দাখিলা কাটা হয়। কিন্ত সেই টাকার কোন রশিদ তাকে দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
না প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর ভুক্তভোগী জানান, ‘সম্প্রতি তিনি পাঁচ শতক জমি কিনেছেন। জমিটি নিজের নামে নামজারি করবেন বলে গিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। সেখানে গিয়ে অফিস সহকারীর সাথে প্রথমে কথা হয়। তিনি জানান নামজারি করতে হলে আগে নায়েব ম্যাডামের সাথে কথা বলেন। তিনিইতো নামজারি করে দেবেন। এরপর নায়েব ম্যাডামের সাথে কথা বললে তিনি জানান নামজারি করা যাবে। তবে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হবে’। ওই ভুক্তভোগী আরো জানান, “তারপর আমি খরচ কম নেওয়ার অনুরোধ করলে নায়েব আপা জানায়, ‘খরচ কম দিলে হয় না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে জমি কিনতে পারেন, মাত্র পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে নামজারি করতে কষ্ট হয়। এটাই আপনাদের সমস্যা। টাকা খরচ করা লাগবে না। ওই অবস্থায় থাকুক, খাস খতিয়ানে চলে গেলে তখন বুঝতে পারবেন’। এমন কথা শোনার পর তিনি সেই পাঁচ হাজার টাকাতেই নামজারি করতে রাজি হই। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ভুক্তভোগীকে পাঁচ হাজার টাকা লেনদেনের বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করা হয়। বলা হয় কাউকে জানালে নামজারি আটকে যাবে। পরে অনেক ঝামেলা হবে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে নগরঘাটা ভূমি অফিসের নায়েব সুরাইয়া পারভীন বলেন,আমি হাতে করে কোনো টাকা নেই না এবিষয়ে ছোট নায়েব এর সাথে কথা বলেন।