অনিয়ন্ত্রিত সূর্যের আগুন আর জলবায়ুর বিরূপ পরিবর্তনে কাঁপছে পৃথিবী। মানব সভ্যতার বিকাশের ইতিহাসে রয়েছে মূলত শক্তি। আগুনের ব্যবহার কয়লা নির্ভর শিল্পযুগ তেল গ্যাস ভিত্তিক আধুনিকতা আর পরমাণু ফিশন প্রতি নতুন শক্তির উৎস মানবজাতিকে নিয়ে গেছে এক নতুন দিগন্তে।
এক বিংশ শতাব্দীতে পৃথিবীর শক্তির চাহিদার তুলনায় পড়ে গেছে এক অস্বস্তিকর সংকটে। জীবাশ্ম জ্বালানি ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং এর অনিয়ন্তিত ব্যবহারে পরিবেশে তৈরি হচ্ছে এক ভয়ংকর রূপ। জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এ যেন এক চরম অশনি সংকেত।
সূর্যের ভেতরে থাকা অপরিমেও শক্তির ফিউশনকেই বিজ্ঞানীরা দেখছেন ভবিষ্যতের সমাধান হিসেবে। ফিউশনে হাইড্রোজোনের দুইটি আইসোটোপ একিভূত হয়ে শক্তি তৈরী করে। আর তাহলো ডিউটেরিয়াম ট্রিটিয়াম। এই বিক্রিয়ায় কোন কার্বন নিঃসরণ হয় না, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য প্রায় নেই। আর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ডিউটেরিয়ামের অসীম ভান্ডার হল সমুদ্রের জল। মাত্র ১ লিটার সমুদ্রের পানিতে থাকা ডিউটেরিয়াম থেকে উৎপন্ন শক্তি একজন মানুষের সারা জীবনের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে পারে।
কিন্তু সীমাবদ্ধতাও অনেক। সূর্যের ভেতরে থাকা তাপমাত্রা অর্থাৎ ১.৫ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস, তা পৃথিবীতে ফিউশন ঘটাতে পারে না। গবেষণাগারে ফিউশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। অর্থাৎ সূর্যের চেয়ে সাত আট গুণ বেশি উত্তাপ।
এ অবস্থায় পদার্থের চতুর্থ অবস্থা যাকে আমরা প্লাজমা বলি। কোন ধাতব পাত্রেএমন প্লাজমা রাখা সম্ভব নয়। ছােয়া মাত্র সেটি গলে যায় যা বাম্প হয়ে যায়।
তাই বিজ্ঞানীরা প্লাজমা ধরে রাখতে বেছে নিয়েছে চৌম্বক ক্ষেত্রে। এই চৌম্বক ক্ষেত্রের মধ্যে প্লাজমাকে ডোনাটাকার একটি চেম্বারে আটকে রাখা হয়। যাতে তা দেয়ালে স্পর্শ না করে শূন্যে ভেসে স্থিরভাবে ঘুরতে পারে এই চেম্বারটির নাম টোকামাক।
টোকামাকের দুইটি প্রধান চৌম্বক ক্ষেত্র টরয়ডাল ও পোলয়ডাল একসাথে কাজ করে স্ক্রুর মত প্যাচানো আকৃতির বলয় তৈরি করে।এই বলয়ের মধ্যে প্লাজমা ঘুরতে থাকে। আর বাইরে শক্তি দিয়ে তাকে উত্তপ্ত করা হয়।
বাংলাদেশের মত শক্তি সংকটাপন্না দেশগুলোর জন্য এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
প্লাজমা ও টোকামাক
মোঃ নিজাম উদ্দিন
সি, শিক্ষক (জীববিজ্ঞান)
সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়.
মোঃ নিজাম উদ্দিন : 




















