নাদিম হায়দার, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি-
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় নব্য হাইব্রিড এক যুবদল নেতার ধমক ও বাকবিতণ্ডার ঘটনায় বিএনপির এক ওয়ার্ড সভাপতি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহত বাবুল শেখ (৫৫) সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। ঘটনাটি ঘটে গত ১২ জানুয়ারি (শনিবার) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জৈনসার ইউনিয়নের একটি মেলা বসানোকে কেন্দ্র করে একই এলাকার লোকমান বেপারীর ছেলে সাবেক যুবলীগ নেতা ও বর্তমানে যুবদলে যোগ দেওয়া রুবেল বেপারীর সঙ্গে বাবুল শেখের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রুবেল বেপারী উচ্চস্বরে ধমক ও অশ্লীল ভাষায় কথা বললে বাবুল শেখ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরে তাকে বাড়িতে নেওয়া হলে বমি শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন প্রথমে ইছাপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঢাকায় নেওয়ার পর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতের ছেলে নাফিজ বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি বাবা বেঞ্চে মাথা নিচু করে বসে আছেন। পাশেই রুবেল অশ্লীল ভাষায় বাবাকে বকাবকি করছিলেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন লোক ছিল। এরপর বাবার শরীর খারাপ হলে আমরা তাকে বাসায় নিয়ে যাই। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ঢাকায় মারা যান। আমরা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগ বা মামলা করব।”
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, রুবেল বেপারী আগে আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জৈনসার ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি যুবদলে যোগ দিয়ে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই বাইরের লোকজন নিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।
স্থানীয়দের দাবি, বাবুল শেখ ছিলেন একজন ত্যাগী ও প্রকৃত বিএনপি নেতা এবং এলাকায় সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তারা এই মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুবেল বেপারী বলেন,
“আমার সঙ্গে তার তর্ক হয়েছে ঠিক, কিন্তু আমার ধমকের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে—এটা ঠিক না। তার আগেও তিনি দু’বার স্ট্রোক করেছিলেন। আর ৫০ টাকা দিয়ে কাগজে নাম লিখে দিলেই আমি আওয়ামী লীগের লোক হয়ে যাই না। আমি খবর পেয়ে তাকে দেখতে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তখন শুনি তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এম এ হান্নান বলেন, গতকাল এমন একটি ঘটনা শুনেছি। এ বিষয়ে সিরাজদিখান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল বেপারী পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 



















