মো. সুমন, বান্দরবান প্রতিনিধি-
গণভোটের প্রচারণা জোরদার ও ভোটারদের সচেতন করতে বান্দরবানে আয়োজিত সভা ও উঠান বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট এবং কুহালং ইউনিয়নের চড়ুই পাড়া এলাকায় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই?” তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে এবং ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। ভবিষ্যতে যেন আর কখনো গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড না ঘটে এবং ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে—এই লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সারাদেশে যে অন্যায় ও অবিচার হয়েছে, তা আর হতে দেওয়া হবে না। গণ-অভ্যুত্থানের সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জুলাই সনদ কার্যকর করা হয়েছে এবং জনগণের সম্মতি গ্রহণের জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
উপদেষ্টা বলেন, একটি ভোট আগামী পাঁচ বছরের জন্য পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি করবে, আরেকটি ভোট আগামী একশ বছরের জন্য দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তাই গণভোটে সবাইকে সচেতনভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দেশের শিক্ষক, ধর্মীয় গুরু ও সমাজের সচেতন মানুষের এগিয়ে আসার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, যারা জুলাই আন্দোলনের পক্ষে, তারা সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকবে এবং যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে, তারা ‘না’ বলবে। সকল ধর্মীয় গোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রচারণা সভায় জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী এবং বান্দরবান পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রহমান।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিভিন্ন গ্রামের কার্বারী (গ্রামপ্রধান)রা উপস্থিত ছিলেন।
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 





















