মো: সুমন, বান্দরবান প্রতিনিধি |
বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কদুখোলা গ্রামে গড়ে উঠেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— কদুখোলা নূরানী তালিমুল কোরআন হেফজখানা ও এতিমখানা। একসময় যেখানে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কথা কল্পনাও করা হতো না, সেখানে আজ এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের উদ্যোগ ও শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে এখানে মাত্র ৯ মাস ১৫ দিনে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করার বিরল নজির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থী হাফেজ
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে মোট ২৩ জন হাফেজ ও কারী রয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন এতিম এবং ১৫ জন দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী, যাদের জন্য আবাসন ও পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, মসজিদে আলী (রা.)-এর মোতোয়াল্লি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যেই এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে বান্দরবান জেলার অন্যতম আদর্শ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে ইফতার ও ঈসালে সওয়াব দোয়া মাহফিল–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন মাস্টার মোঃ নজরুল ইসলাম এবং উপস্থাপনা করেন মাস্টার আমান শরীফ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুয়ালক ইউনিয়নের সম্মানিত চেয়ারম্যান উক্যনু মামা, বান্দরবান জেলা শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আজম খান, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মাসুম, সরকারি কর্মচারী কর্মকর্তা ইউনিয়নের সভাপতি নূর হোসেন, সাতকানিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তিনবারের উপজেলা শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মাস্টার জালাল উদ্দিন, কদুখোলা এলাকার ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য নুরুল আলম, বাজারিয়া ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা ও সমাজকর্মী ইউনুস নূরি, বিশিষ্ট সাংবাদিক মোঃ সুমন, কদুখোলা ইয়াংস্টার সমিতির সভাপতি আজিজুল হক এবং ভাগ্যকুল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হারুন অর রশিদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে রোজার ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন বাজালিয়া হেদায়েতুল ইসলামী সিনিয়র মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক ও মনেয়াবাদ মসজিদের খতিব মাওলানা ইদ্রিস।
পরে তিনি দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
বক্তারা বলেন, কদুখোলা নূরানী তালিমুল কোরআন হেফজখানা ও এতিমখানা শুধু দ্বীনি শিক্ষার প্রসারই নয়, বরং এলাকার সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এলাকাবাসীর আশা, ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানটি বান্দরবান জেলার মধ্যে একটি আদর্শ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
খবর বাংলাদেশ ডেস্ক : 



















